কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর গাজা’: ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতির পদযাত্রা

২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি
২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ ফর গাজা’ করে গাজার নিরীহ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে।

  • শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পদযাত্রা শুরু করে। পদযাত্রা শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

  • শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, মসজিদুল আকসা রক্ষা করার জন্য তারা লড়াই করবে এবং মসজিদটি ছাড়বে না।

  • জামিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার স্থানীয় নেতা সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, বিশ্বের নানা মহলে বিরোধ থাকলেও তাওহিদ ও শিরক নিয়ে বড় লড়াই চলছে; ভবিষ্যতে তাওহিদ বিজয়ী হবে—এমন ভাবনা জানান।

  • আরো পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

  • তানভীর মণ্ডল বলেন, আল আকসা মুসলমানদের প্রথম কিবলা; ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও আবেগ আমাদের সবার সঙ্গে জড়িত। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

  • শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলের হাতে প্রায় ৬৬,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন। সাম্প্রতিক মানবিক নৌবহরে হামলারও কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন করেন।

  • মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ফিলিস্তিনিদের কষ্টে যদি আমরা অনাসক্ত থাকি, তাহলে আমাদের ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে; প্রয়োজনে রক্ত ও জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতে হবে—এমন বক্তব্য দেন।

Tags

#MarchForGaza-#SavePalestine-#AlAqsa-#FreeGaza-#StopGenocide-#IslamicUniversity-#VoiceForPalestine
মন্তব্য করুন

ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে ১৮ কোটি মানুষ: ভিপি সাদিক

ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ১১ জন না, ১৮ কোটি মানুষ খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাবি মহসিন হলের মাঠে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাদিক বলেন, আমরা এতদিন ভারতের আধিপত্যের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে সে আধিপত্য ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি আজকে জিতব।

তিনি বলেন, আজকে শুধু মাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ১১ জন খেলছে না, খেলছে ১৮ কোটি মানুষ।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স চতুর্থ বর্ষের খাতা পুনর্মূল্যায়ন শুরু হচ্ছে

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪ সালের অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের আবেদন শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) অথবা আগামীকাল শুক্রবার থেকে এ আবেদন শুরু হতে পারে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আজই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. এনামুল করিম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, অনার্স চতুর্থ বর্ষ পরীক্ষায় ফেল করা শিক্ষার্থীদের ফল পুনর্মূল্যায়নের আবেদন এক-দুই দিনের মধ্যেই শুরু হবে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করে তাদের উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ পাবেন।

যেভাবে আবেদন ও ফি জমা দিতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রথমে অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করতে হবে। আবেদন শেষে সিস্টেম থেকে পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে।

পে-স্লিপের মাধ্যমে নিকটস্থ সোনালী ব্যাংকের শাখায় গিয়ে ফি পরিশোধ করা যাবে। পাশাপাশি সোনালী ব্যাংকের Online Payment Gateway ব্যবহার করেও ফি জমা দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

অনলাইনে ফি পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ, বিকাশ, রকেটসহ বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবা ব্যবহার করা যাবে। এ ছাড়া AMERICAN EXPRESS, VISA, DBBL, NEXUS ও MASTER CARD-এর মাধ্যমেও ফি দেওয়া যাবে। সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টধারীরা অনলাইন ট্রান্সফারের মাধ্যমেও ফি পরিশোধ করতে পারবেন।

ফি পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে বলে গণ্য হবে।

সময়সীমা মেনে আবেদন করতে হবে

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে আবেদন ফরম পূরণ করা যাবে না। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের আগে বা পরে পে-স্লিপ ডাউনলোড কিংবা ফি জমা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য হবে না।

ব্যাংকের প্রচলিত অন্য কোনো ফরম ব্যবহার করে ফি জমা দিলে পরবর্তী সময়ে কোনো জটিলতা তৈরি হলে এর দায়ভার বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নেবে না।

আবেদন ফরম বা পে-স্লিপের কোনো কপি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানোর প্রয়োজন হবে না।

এবার উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি পত্রে ১ হাজার ২০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তিতে চূড়ান্ত তথ্য জানানো হবে।

মন্তব্য করুন

ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন বাস্তবায়নের দাবিতে সাত কলেজ শিক্ষার্থীদের লং মার্চ ঘোষণা

‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী সোমবার (১৩ অক্টোবর) শিক্ষার্থীরা শিক্ষাভবন অভিমুখে লং মার্চ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“আমরা এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে এক কদম পিছিয়ে আসা মানে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা আশা ও আত্মত্যাগকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া।”

তারা আরও হুঁশিয়ারি দেন, বহু প্রতীক্ষিত এই অধ্যাদেশ অবিলম্বে জারি না হলে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করবে।

বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা বলেন,“এই আন্দোলন শুধু দাবি নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের লড়াই। রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের ইতিহাসে এত সুশৃঙ্খল, পরিকল্পিত ও পরিণত আন্দোলন আগে দেখা যায়নি। আমরা আমাদের শেষ পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত।”

এর আগে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয় ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠনের জন্য একটি খসড়া অধ্যাদেশ প্রকাশ করে। খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত কলেজকে চারটি স্কুলে ভাগ করার পরিকল্পনা রয়েছে—

  • সায়েন্স স্কুলে থাকবে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ ও বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ

  • আর্টস অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ স্কুলে থাকবে সরকারি বাংলা কলেজ

  • বিজনেস স্কুলে অন্তর্ভুক্ত হবে সরকারি তিতুমীর কলেজ

  • ল অ্যান্ড জাস্টিস স্কুলে থাকবে কবি নজরুল সরকারি কলেজ ও সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ

প্রস্তাবিত কাঠামো অনুসারে শিক্ষার্থীরা প্রথম চার সেমিস্টারে সাধারণ নন-মেজর কোর্স করবে, এরপরের চার সেমিস্টারে নির্দিষ্ট বিষয়ে (ডিসিপ্লিনভিত্তিক) অধ্যয়ন করবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস এমন স্থানে স্থাপন করা হবে, যা সব শিক্ষার্থীর জন্য যাতায়াত-সুবিধাজনক হবে। ক্লাস নেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে দুপুর ১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

খসড়া কমিটির সদস্য তানজিমুদ্দিন খান বলেন,“আমাদের দায়িত্ব ছিল খসড়া তৈরি করা। আমরা তা সম্পন্ন করেছি, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্পূর্ণ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এখতিয়ার।”

উল্লেখ্য, সাত কলেজ আগে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল। ২০১৭ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি এগুলোকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা হয়। কিন্তু এরপর থেকেই নানা প্রশাসনিক ও একাডেমিক জটিলতা দেখা দেয়, যা নিয়ে শিক্ষার্থীরা একাধিকবার আন্দোলনে নামে। দীর্ঘদিনের সেই জটিলতার পর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দেয়, কলেজগুলোকে পুনরায় পৃথক করা হবে। পরে চলতি বছরের ১৪ আগস্ট পৃথকীকরণ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়।

মন্তব্য করুন

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যুতে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার-রাকসু জিএসের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা

রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আম্মার রেজিস্ট্রারের সাথে কথোপকথন শুরু করেন এবং জানতে চান তিনি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। রেজিস্ট্রার তাকে ১০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় আম্মার অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি আটকে রেখেছেন। রেজিস্ট্রার উত্তরে বলেন, তিনি চিঠি আটকে রাখেননি। এর পরে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যালাপ শুরু হয়।

রেজিস্ট্রার সিপিএসের উপস্থিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা কারা?” শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। রেজিস্ট্রার তাঁদের অফিসে আসার অনুমতি দেন, কিন্তু আম্মার বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, আমাদেরও কথা বলার অধিকার আছে।”

রেজিস্ট্রার তখন আম্মারকে তর্ক করেন কেন তিনি অনুমতি না নিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন এবং বলেন, গেট আউট। আম্মার তার শিক্ষার্থীর অধিকারকে সামনে রেখে ভিতরে থাকতে চান। এ সময় এনসিপির নেতারা নিশ্চিত করেন, তারা বিএনপির কেউ নন, বরং এনসিপির নেতাকর্মী।

ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে আম্মার উল্লেখ করেন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ আন্দোলন ২৩ দিন ধরে চলছিল। উপাচার্য বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, যা রবিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের অফিসে আটকে থাকে। এতে ছাত্রদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, এই জরুরি বিষয় দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তিনি সকাল থেকেই চিঠি ইস্যুর জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো যাচাই করছিলেন। এরপর অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার কারণে কিছু কাজ শেষ করা বাকি ছিল। ছাত্ররা যখন এল, তখনও তিনি ভদ্রভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আম্মারের উপস্থিতি বা রাজনীতি এতে কোনো প্রভাব রাখেনি। এছাড়াও রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন, রুমে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এনসিপির নেতাকর্মীদেরকে ভুলক্রমে বিএনপি মনে হওয়ায় এই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।

উভয় পক্ষের বিবরণে দেখা যায়, এই উত্তেজনা মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যু, প্রশাসনিক ফর্মালিটি এবং দপ্তরে অননুমোদিত প্রবেশের কারণে ঘটে।

মন্তব্য করুন

প্রশাসনিক ভবনে তালা, দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ শিক্ষক-কর্মচারীরা

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবিতে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে আন্দোলন

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে মুক্তির দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলন করছেন সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে বিক্ষোভ করেন তারা। এতে দায়িত্বপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ ১৪ জন শিক্ষক এবং ৬ থেকে ৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ভবনটির ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা বেলা ১১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন। শিক্ষকরা জানান, রোববার দুপুর থেকে তারা প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছেন।

এদিকে সোমবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনের সঙ্গে বৈঠকে বসে। বৈঠকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীও অংশ নেন।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে মুক্তির দাবি

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকায় সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির স্বকীয়তা ও পেশাগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো এবং আন্দোলন করেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো সিদ্ধান্ত না পাওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।

শিক্ষার্থীরা বলেন, প্রশাসনিক কালক্ষেপণের কারণে তাদের একাডেমিক জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে তারা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে থাকতে চান না।

তাদের একমাত্র দাবি, অবিলম্বে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনতা থেকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে মুক্ত করে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করা।

শিক্ষার্থীরা আরও জানিয়েছেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত কলেজের সব ক্লাস, পরীক্ষা, ল্যাব, একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে।

অধ্যক্ষ বদলির আদেশও প্রত্যাখ্যান

আন্দোলনের মধ্যেই রোববার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাজ্জাদ হোসেনের স্বাক্ষরে অধ্যক্ষ পদে দায়িত্ব পরিবর্তন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সহযোগী অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামানকে ফরিদপুর ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ময়মনসিংহ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের সহযোগী অধ্যাপক মো. সাহিদ ইকবালকে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবারের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।

তবে শিক্ষার্থীরা এ আদেশ প্রত্যাখ্যান করেছেন। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বদলি হওয়া অধ্যক্ষকে ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। নতুন করে যাকে অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, তাকেও ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত পুরো ক্যাম্পাস শাটডাউন থাকবে।’

‘দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ’

প্রশাসনিক ভবনে আটকা পড়া কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. খলিলুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যে দাবি, তা উচ্চতর কর্তৃপক্ষ ছাড়া সমাধান করা সম্ভব নয়। তবু তারা আমাদের আটকে রেখেছে। আমরা দুই দিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় আছি।’

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে কলেজের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা নিতে গাজীপুরে আসতে হবে না শিক্ষার্থীদের

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন, কলেজ পরিবর্তন ও টিসি নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই এসব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য বলেন, আগে প্রফেশনাল ও ফাইনাল সার্টিফিকেট নিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে গাজীপুরে এসে আবেদন করতে হতো। বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যেরও অভিযোগ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবেন। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেবেন। এরপর অনলাইনেই আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।’

কলেজ থেকেই মিলছে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট

উপাচার্য জানান, প্রভিশনাল সার্টিফিকেটগুলো সংশ্লিষ্ট কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজ থেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছেন। আর ফাইনাল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রস্তুতির তথ্য দেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র নিয়েও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র ছিল ছয়টি। পরে আরও ছয়টি বাড়িয়ে বর্তমানে ১২টি করা হয়েছে।

দুই জেলায় একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের মূল টার্গেট হলো প্রতি দুই জেলায় একটি করে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে ৩২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র করা। শুধু আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়, আট বিভাগে আটটি ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

এসব আঞ্চলিক ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর কার্যক্রমও পরিচালনা ও তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলো প্রতিষ্ঠা করা হলে বর্তমানে গাজীপুরে থাকা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ফ্যাসিলিটি ধীরে ধীরে এসব ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে।

এক বছরের মধ্যে পেপারলেস হওয়ার লক্ষ্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী এক বছরের মধ্যে পেপারলেস করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানান উপাচার্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ নথি ই-নথির আওতায় এসেছে। বাকি নথিগুলোও ধাপে ধাপে ই-নথিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে ক্যাশলেস করা হয়েছে। সেখানে কোনো নগদ লেনদেন করা হয় না। বাকি ছোটখাটো কিছু ক্ষেত্রও শতভাগ ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন বন্ধ করতে চাই’

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা নিতে ব্যক্তিগতভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য বলেন, ‘নাম সংশোধন, কলেজ ট্রান্সফার, টিসি নেওয়া কিংবা সার্টিফিকেট উত্তোলনের মতো কাজ এখন অনলাইনেই শেষ করা যাচ্ছে। এসব কাজের জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। যে মাইন্ডসেট—আমাকে একটু যেতে হবে, একটু কথা বলতে হবে, কোনো একজন অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে—সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি সরাসরি আসবে এবং পারসন টু পারসন যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই বিভিন্ন ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ থাকে। তাই সেবাগুলোকে যতটা সম্ভব অনলাইননির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন কিংবা কলেজে টিসি নেওয়ার মতো সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে আসতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রফেশনাল হোক বা ফাইনাল—কোনো ধরনের সার্টিফিকেটের জন্যই শিক্ষার্থীদের যেন ক্যাম্পাসে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এক কথায়, সারা বাংলাদেশের ছাত্র ও শিক্ষকদের শুধু মডারেশন ও প্রশ্ন করার বিষয় ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে যাতে আসতে না হয়, সেদিকে আমরা হাঁটছি।’

মন্তব্য করুন
×