জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবা নিতে গাজীপুরে আসতে হবে না শিক্ষার্থীদের

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন, কলেজ পরিবর্তন ও টিসি নেওয়ার প্রক্রিয়া আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস গাজীপুরে আসতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে ঘরে বসেই এসব সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্প্রতি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

উপাচার্য বলেন, আগে প্রফেশনাল ও ফাইনাল সার্টিফিকেট নিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে গাজীপুরে এসে আবেদন করতে হতো। বিভিন্ন পর্যায়ে হয়রানি ও মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্যেরও অভিযোগ ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব প্রক্রিয়া ডিজিটাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করবেন। সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা জমা দেবেন। এরপর অনলাইনেই আবেদনের স্ট্যাটাস দেখতে পারবেন। সাত থেকে ১০ দিনের মধ্যেই ফাইনাল সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে।’

কলেজ থেকেই মিলছে প্রভিশনাল সার্টিফিকেট

উপাচার্য জানান, প্রভিশনাল সার্টিফিকেটগুলো সংশ্লিষ্ট কলেজে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজ থেকেই তা সংগ্রহ করতে পারছেন। আর ফাইনাল সার্টিফিকেটের ক্ষেত্রে অনলাইনে প্রস্তুতির তথ্য দেখে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় তা সংগ্রহের সুযোগ রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র নিয়েও পরিবর্তনের কথা জানান তিনি। তার ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্র ছিল ছয়টি। পরে আরও ছয়টি বাড়িয়ে বর্তমানে ১২টি করা হয়েছে।

দুই জেলায় একটি আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিকল্পনা

অধ্যাপক আমানুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের মূল টার্গেট হলো প্রতি দুই জেলায় একটি করে আঞ্চলিক কেন্দ্র করে ৩২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র করা। শুধু আঞ্চলিক কেন্দ্র নয়, আট বিভাগে আটটি ক্যাম্পাস করার পরিকল্পনাও রয়েছে।’

এসব আঞ্চলিক ক্যাম্পাসে বিভিন্ন প্রফেশনাল কোর্স পরিচালনার পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর কার্যক্রমও পরিচালনা ও তদারকি করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আঞ্চলিক ক্যাম্পাসগুলো প্রতিষ্ঠা করা হলে বর্তমানে গাজীপুরে থাকা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও ফ্যাসিলিটি ধীরে ধীরে এসব ক্যাম্পাসেও নেওয়া হবে।

এক বছরের মধ্যে পেপারলেস হওয়ার লক্ষ্য

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী এক বছরের মধ্যে পেপারলেস করার লক্ষ্যেও কাজ চলছে বলে জানান উপাচার্য। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ নথি ই-নথির আওতায় এসেছে। বাকি নথিগুলোও ধাপে ধাপে ই-নথিতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাস ইতোমধ্যে ক্যাশলেস করা হয়েছে। সেখানে কোনো নগদ লেনদেন করা হয় না। বাকি ছোটখাটো কিছু ক্ষেত্রও শতভাগ ক্যাশলেস ব্যবস্থার আওতায় আনার কাজ চলছে। সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

‘ব্যক্তিগত যোগাযোগের প্রয়োজন বন্ধ করতে চাই’

শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সেবা নিতে ব্যক্তিগতভাবে কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রয়োজনীয়তা কমিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্য বলেন, ‘নাম সংশোধন, কলেজ ট্রান্সফার, টিসি নেওয়া কিংবা সার্টিফিকেট উত্তোলনের মতো কাজ এখন অনলাইনেই শেষ করা যাচ্ছে। এসব কাজের জন্য কাউকে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করতে হচ্ছে না। যে মাইন্ডসেট—আমাকে একটু যেতে হবে, একটু কথা বলতে হবে, কোনো একজন অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে হবে—সেটা আমরা বন্ধ করার চেষ্টা করছি।’

এর কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মানুষ যত বেশি সরাসরি আসবে এবং পারসন টু পারসন যোগাযোগ যত বাড়বে, ততই বিভিন্ন ধরনের মিসহ্যান্ডলিংয়ের সুযোগ থাকে। তাই সেবাগুলোকে যতটা সম্ভব অনলাইননির্ভর করার চেষ্টা চলছে।

অধ্যাপক আমানুল্লাহ আশা প্রকাশ করেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যে সার্টিফিকেট উত্তোলন, নাম সংশোধন কিংবা কলেজে টিসি নেওয়ার মতো সেবার জন্য শিক্ষার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে আসতে হবে না।

তিনি বলেন, ‘প্রফেশনাল হোক বা ফাইনাল—কোনো ধরনের সার্টিফিকেটের জন্যই শিক্ষার্থীদের যেন ক্যাম্পাসে আসতে না হয়, সে লক্ষ্যেই কাজ চলছে। এক কথায়, সারা বাংলাদেশের ছাত্র ও শিক্ষকদের শুধু মডারেশন ও প্রশ্ন করার বিষয় ছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের গাজীপুর ক্যাম্পাসে যাতে আসতে না হয়, সেদিকে আমরা হাঁটছি।’

মন্তব্য করুন

শতবর্ষী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে যা বললেন সংসদ সদস্য

শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত জাতীয়করণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দুলালপুর চন্দ্রমণি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি হিসাব তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামীকাল (রোববার) আরও একটি হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের হিসাবে এ জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটার রিপোর্ট আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীকে দেব। যেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের শিক্ষকদের এই চাকরি জাতীয়করণের যে প্রত্যাশা, সে প্রত্যাশা যাতে তিনি পূরণ করেন।’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষকদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথাও জানান সংসদ সদস্য। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এই সরকার শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করবে।’

তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

মন্তব্য করুন

ভারতের বিরুদ্ধে খেলছে ১৮ কোটি মানুষ: ভিপি সাদিক

ভারতের বিরুদ্ধে শুধু ১১ জন না, ১৮ কোটি মানুষ খেলছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি আবু সাদিক কায়েম।

বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ঢাবি মহসিন হলের মাঠে বাংলাদেশ বনাম ভারতের ম্যাচ দেখতে এসে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সাদিক বলেন, আমরা এতদিন ভারতের আধিপত্যের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে সে আধিপত্য ধ্বংস হয়ে গেছে। আমরা বিশ্বাস করি আজকে জিতব।

তিনি বলেন, আজকে শুধু মাত্র ভারতের বিরুদ্ধে ১১ জন খেলছে না, খেলছে ১৮ কোটি মানুষ।

মন্তব্য করুন

ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ড. জসীম উদ্দিন

শরীয়তপুর: জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ZHSUST) পেল নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (উপ-উপাচার্য)। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বেসরকারি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।

৯ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।

 

নিয়োগের বিস্তারিত

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০-এর ধারা ৩১ (১) এবং ধারা ৩২(১) অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

  • নিয়োগের মেয়াদ: যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী চার বছরের জন্য তিনি এই দায়িত্ব পালন করবেন।

  • পূর্ববর্তী পদ: ড. জসীম উদ্দিন পূর্বে রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)-এর উদ্যানতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

  • বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান: জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়টি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জ উপজেলার কার্তিকপুর ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামে অবস্থিত। বিশ্ববিদ্যালয়টি ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, নিয়োগপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অধীনে তার দায়িত্ব পালন করবেন এবং আইন অনুযায়ী তার কার্য সম্পাদন করবেন। তবে প্রয়োজন অনুসারে রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর যেকোনো সময় এই নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

নতুন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিনের যোগদান জেড এইচ শিকদার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি আনবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল আশা করছে।

মন্তব্য করুন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ আয়োজিত এ সিম্পোজিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিজওয়ান খায়ের। তিনি সাধারণ শিক্ষা (জেনারেল এডুকেশন) কোর্স দিয়ে বিভাগের যাত্রা শুরু থেকে ধীরে ধীরে অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) প্রোগ্রাম চালুর পথচিত্র তুলে ধরেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সামাজিক পরিবর্তন বোঝা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ গঠনে সমালোচনামূলক চিন্তা (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বোঝার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান। তিনি বলেন, সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রোপলজির বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা অধ্যাপক এস এম নুরুল আলমের একাডেমিক জীবন ও বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার বিকাশে তার অবদান তুলে ধরেন এনএসইউর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের শিক্ষক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।

মূল বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপলজির সাবেক অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম তার দীর্ঘ একাডেমিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার শুরুর দিকের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লক্ষ্য শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। অ্যানথ্রোপলজিকে জীবন, সমাজ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যানথ্রোপলজির পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য এনএসইউর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা বা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষায় ধারণাগত জ্ঞানের সঙ্গে মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার যোগসূত্র থাকা প্রয়োজন।

ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামে এনএসইউর অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রাম ও চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের মধ্যে একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

প্রস্তাবিত এ কার্যক্রমের আওতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ইউনান ইউনিভার্সিটিতে একটি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফল ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া। একাডেমিক পর্ব শেষে অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ও পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোহাম্মদ হোসেন। এ সময় অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহমা রাইসা ও নাজহাত নাহিয়ান তাইমুর।

মন্তব্য করুন

এইচএসসির নিম্নমুখী ফল, ভর্তিযুদ্ধে নামছে শিক্ষার্থীরা

সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৩ লাখ আসন; তবু শঙ্কা সেরা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থী কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

নিম্নমুখী এমন ফলাফলে অনেক শিক্ষার্থী মন খারাপের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির বিষয়ে শঙ্কায় পড়েছেন। কারণ, সামনে তাদের অপেক্ষা করছে কঠিন ‘ভর্তিযুদ্ধ’।

ভর্তিযুদ্ধের সামনে শিক্ষার্থীরা : দেশে সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজ মিলে উচ্চশিক্ষার স্তরে প্রায় ১৩ লাখ আসন রয়েছে। কিন্তু এবার পাস করেছেন মাত্র ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন শিক্ষার্থী। অর্থাৎ, আসন ফাঁকা থাকবে ৬ লাখেরও বেশি।

তবুও প্রতিযোগিতা থাকবে শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে। ইউজিসি সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দেশে ৫৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে; এর মধ্যে ৫৩টিতে চলছে নিয়মিত শিক্ষা কার্যক্রম। এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজার। সরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টালে আরও প্রায় ৫ হাজার আসন রয়েছে।
ফলে এই ২০-২২টি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রতিযোগিতা হবে সবচেয়ে তীব্র।

🎓 শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

শিক্ষার্থীদের প্রধান টার্গেট বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর, জগন্নাথ ও শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ শীর্ষ ২০-২২টি বিশ্ববিদ্যালয়।

নটর ডেম কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম বলেন, “প্রত্যাশা ছিল গোল্ডেন জিপিএ-৫। তা হয়নি। এখন লক্ষ্য বুয়েট— না হলে ঢাবি বা কুয়েট-চুয়েট।”

অন্যদিকে ভিকারুননিসা নূন কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী তাহমিনা সুলতানা বলেন, “ঢাকাতেই পড়তে চাই। তাই ঢাবি প্রথম টার্গেট। না হলে রাজশাহী বা জাহাঙ্গীরনগরেও চেষ্টা করবো।”

🏫 বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য বিকল্প

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি না পেলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ রয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী—প্রাইভেট মেডিকেল কলেজে আসন: ৬,৩৪০টি      প্রাইভেট ডেন্টাল কলেজে: ১,৩৫০টি        আর্মড ফোর্স মেডিকেল কলেজে: ৩৫০টি

এছাড়া শতাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স কোর্সে ১,৮৬,৮৯৯টি আসন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩,৬৩০টি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে ৮,৫৮,২৭৫টি (অনার্স ও পাস কোর্স মিলিয়ে) আসন রয়েছে।এছাড়া ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬৪,৫২৯টি, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৭,৫৯৩টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ও টেক্সটাইল কলেজে ১,৪৪০টি, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কলেজে ৫,৬০০টি আসন রয়েছে।

📊 বিশেষজ্ঞের মতামত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাফিজুর রহমান বলেন, “সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে আসন সীমিত। ফলে সবাই সুযোগ পাবে না। শিক্ষার্থীদের উচিত বিকল্প সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া। সরকারেরও উচিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মান নিয়ন্ত্রণে রাখা, যাতে সেখান থেকেও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি হয়।”

 

ধরন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা মোট আসন মন্তব্য
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ৫৩ ৫০,০০০ উচ্চ প্রতিযোগিতা
সরকারি মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৫,০০০ সীমিত আসন
প্রাইভেট মেডিকেল ও ডেন্টাল - ৭,৬৯০ বেশি খরচ
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ১০০+ ১,৮৬,৮৯৯ বিকল্প সুযোগ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ২৬৪ কলেজ ৮,৫৮,২৭৫ তুলনামূলক সহজ ভর্তি
অন্যান্য (উন্মুক্ত, নার্সিং, টেক্সটাইল, মেরিন ইত্যাদি) - ১,০০,০০০+ বিভিন্ন সুযোগ

 “ভর্তিযুদ্ধে শীর্ষ ১০ বিশ্ববিদ্যালয়”
📍বুয়েট, 📍ঢাবি, 📍রাজশাহী, 📍চট্টগ্রাম, 📍জাহাঙ্গীরনগর, 📍জগন্নাথ, 📍শাহজালাল, 📍খুলনা, 📍বরিশাল ও 📍মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান দেখানো থাকবে।

মন্তব্য করুন
×