জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এমফিল-পিএইচডিতে ভর্তি, আবেদন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন গবেষক ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর রাত ১২টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত ৩ সেপ্টেম্বর থেকে এসব প্রোগ্রামে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে।

আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন গেটওয়ে অথবা পে-স্লিপ ডাউনলোড করে নির্ধারিত প্রাথমিক আবেদন ফি জমা দিতে হবে। আবেদনকারীদের অনলাইন থেকে প্রাথমিক আবেদন ফরমের প্রিন্ট কপি আগামী ১১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে সংগ্রহ করতে হবে।

এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য নির্ধারিত বিষয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, আবেদন পদ্ধতি এবং অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-বিষয়ক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ নৃবিজ্ঞান সিম্পোজিয়াম ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের অডি-৮০১-এ আয়োজিত এ সিম্পোজিয়ামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন পলিটিক্যাল সায়েন্স অ্যান্ড সোসিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক রিজওয়ান খায়ের। তিনি সাধারণ শিক্ষা (জেনারেল এডুকেশন) কোর্স দিয়ে বিভাগের যাত্রা শুরু থেকে ধীরে ধীরে অ্যানথ্রোপলজিতে ব্যাচেলর অব সোশ্যাল সায়েন্স (বিএসএস) প্রোগ্রাম চালুর পথচিত্র তুলে ধরেন।

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেসের ডিন অধ্যাপক রিজওয়ানুল ইসলাম বলেন, সামাজিক পরিবর্তন বোঝা এবং মানবজাতির ভবিষ্যৎ গঠনে সমালোচনামূলক চিন্তা (ক্রিটিক্যাল থিংকিং) গুরুত্বপূর্ণ বুদ্ধিবৃত্তিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক পড়াশোনার পাশাপাশি সমাজকে গভীরভাবে বোঝার আহ্বান জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুর রব খান। তিনি বলেন, সমাজ ও মানুষের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তৃত করার ক্ষেত্রে অ্যানথ্রোপলজির বিশেষ সম্ভাবনা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে মূল বক্তা অধ্যাপক এস এম নুরুল আলমের একাডেমিক জীবন ও বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার বিকাশে তার অবদান তুলে ধরেন এনএসইউর কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ও অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের শিক্ষক অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী।

মূল বক্তব্যে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যানথ্রোপলজির সাবেক অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম তার দীর্ঘ একাডেমিক জীবনের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশে অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষার শুরুর দিকের নানা বিষয় তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের লক্ষ্য শুধু ভালো সিজিপিএ অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়। অ্যানথ্রোপলজিকে জীবন, সমাজ ও মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক বোঝার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

অ্যানথ্রোপলজির পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞানের মধ্যে ভারসাম্য রাখার জন্য এনএসইউর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান অধ্যাপক এস এম নুরুল আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলো সবসময় শুধু তাত্ত্বিক জ্ঞানের মাধ্যমে বোঝা বা সমাধান করা সম্ভব নয়। তাই অ্যানথ্রোপলজি শিক্ষায় ধারণাগত জ্ঞানের সঙ্গে মানুষের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার যোগসূত্র থাকা প্রয়োজন।

ইউনিভার্সিটির কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামে এনএসইউর অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রাম ও চীনের ইউনান ইউনিভার্সিটির অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের মধ্যে একাডেমিক বিনিময় কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনার কথা জানানো হয়।

প্রস্তাবিত এ কার্যক্রমের আওতায় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা ইউনান ইউনিভার্সিটিতে একটি পূর্ণ শিক্ষাবর্ষ পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক একাডেমিক অভিজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ফল ২০২৬ সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া। একাডেমিক পর্ব শেষে অ্যানথ্রোপলজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের আয়োজনে ও পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মোহাম্মদ হোসেন। এ সময় অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ড. মোহাম্মদ আবদুল বাতেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অ্যানথ্রোপলজি প্রোগ্রামের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাহমা রাইসা ও নাজহাত নাহিয়ান তাইমুর।

মন্তব্য করুন

এফএইচ হলের প্রভোস্টকে হেয় করার প্রতিবাদে ঢাবি ফার্মেসি শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষদের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া চিঠিতে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, এফএইচ হলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

চিঠিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, এফএইচ হলে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চাওয়া সবার অধিকার হলেও চাপ প্রয়োগ কিংবা মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়াই সমীচীন।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার-পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে হেয় করার মতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ছাড়াও ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা মর্মাহত হয়েছেন এবং এর প্রভাব অনুষদের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে পড়ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো বিষয় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি ব্যবহার, ব্যানার-পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে তদন্তের ফল প্রকাশের আগেই দায়ী করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার শামিল।

ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ব্যানার-পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা উচিত।

শিক্ষকদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত বা হেয় করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিঠির শেষে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

শতবর্ষী এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ নিয়ে যা বললেন সংসদ সদস্য

শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা করা হয়েছে এবং তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত জাতীয়করণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার হোমনা উপজেলার দুলালপুর চন্দ্রমণি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের প্রত্যাশা রয়েছে। এ বিষয়ে ২০২৫ সালে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত একটি সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে একটি হিসাব তুলে দেওয়া হয়েছিল। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামীকাল (রোববার) আরও একটি হিসাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার কথা জানান তিনি।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণে আগের তুলনায় বেশি অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫ সালের হিসাবে এ জন্য প্রায় ২০০ কোটি টাকা প্রয়োজন ছিল। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা, শিক্ষক ও কর্মচারীর সংখ্যা বাড়ায় প্রয়োজনীয় অর্থের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘এটার রিপোর্ট আগামীকাল প্রধানমন্ত্রীকে দেব। যেন খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশের শিক্ষকদের এই চাকরি জাতীয়করণের যে প্রত্যাশা, সে প্রত্যাশা যাতে তিনি পূরণ করেন।’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রতিটি উপজেলায় শিক্ষকদের অনুষ্ঠানের আয়োজন করার কথাও জানান সংসদ সদস্য। এসব আয়োজনে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘আমরা আশাবাদী, এই সরকার শিক্ষকদের চাকরি জাতীয়করণ করবে।’

তবে তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শতবর্ষী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জাতীয়করণের বিষয়ে সরকারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা প্রজ্ঞাপন এখনো প্রকাশিত হয়েছে কি না, তা তিনি উল্লেখ করেননি।

মন্তব্য করুন

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যুতে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার-রাকসু জিএসের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা

রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আম্মার রেজিস্ট্রারের সাথে কথোপকথন শুরু করেন এবং জানতে চান তিনি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। রেজিস্ট্রার তাকে ১০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় আম্মার অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি আটকে রেখেছেন। রেজিস্ট্রার উত্তরে বলেন, তিনি চিঠি আটকে রাখেননি। এর পরে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যালাপ শুরু হয়।

রেজিস্ট্রার সিপিএসের উপস্থিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা কারা?” শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। রেজিস্ট্রার তাঁদের অফিসে আসার অনুমতি দেন, কিন্তু আম্মার বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, আমাদেরও কথা বলার অধিকার আছে।”

রেজিস্ট্রার তখন আম্মারকে তর্ক করেন কেন তিনি অনুমতি না নিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন এবং বলেন, গেট আউট। আম্মার তার শিক্ষার্থীর অধিকারকে সামনে রেখে ভিতরে থাকতে চান। এ সময় এনসিপির নেতারা নিশ্চিত করেন, তারা বিএনপির কেউ নন, বরং এনসিপির নেতাকর্মী।

ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে আম্মার উল্লেখ করেন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ আন্দোলন ২৩ দিন ধরে চলছিল। উপাচার্য বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, যা রবিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের অফিসে আটকে থাকে। এতে ছাত্রদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, এই জরুরি বিষয় দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তিনি সকাল থেকেই চিঠি ইস্যুর জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো যাচাই করছিলেন। এরপর অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার কারণে কিছু কাজ শেষ করা বাকি ছিল। ছাত্ররা যখন এল, তখনও তিনি ভদ্রভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আম্মারের উপস্থিতি বা রাজনীতি এতে কোনো প্রভাব রাখেনি। এছাড়াও রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন, রুমে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এনসিপির নেতাকর্মীদেরকে ভুলক্রমে বিএনপি মনে হওয়ায় এই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।

উভয় পক্ষের বিবরণে দেখা যায়, এই উত্তেজনা মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যু, প্রশাসনিক ফর্মালিটি এবং দপ্তরে অননুমোদিত প্রবেশের কারণে ঘটে।

মন্তব্য করুন

৩ জানুয়ারি কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা

৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি
৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি


২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন।

তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সব সমন্বয় করবে গাকৃবি। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ACAS–এর অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, আসন বিন্যাস এবং প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষি গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন

ডাকসু নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ, পুনর্মূল্যায়নের ইঙ্গিত ছাত্রদল প্রার্থীর

আবিদুল ইসলাম খান

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে পরাজিত সহ-সভাপতি (ভিপি) প্রার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান বলেছেন, নির্বাচনের সময় ছাত্রদল রাষ্ট্রের স্বার্থে ধৈর্য ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “ভোটার ও প্রার্থীদের অভিযোগের যথাযথ জবাবদিহি করতে যদি প্রশাসন ব্যর্থ হয়, তবে ডাকসু নির্বাচন পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ থেকেই যায়।

” শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে “মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা ও শিক্ষাঙ্গন” বিষয়ে আয়োজিত তারুণ্যের রাষ্ট্রচিন্তা শীর্ষক সংলাপের তৃতীয় অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। আবিদ জানান, খুব শিগগিরই ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এখনও আলোচনা হয়।

এবারকার নির্বাচনও সদ্য শেষ হয়েছে, যেখানে নানা অভিযোগ উঠেছে। যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন এসব অভিযোগের জবাবদিহি করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নতুন করে নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠতে পারে। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর আমরা পূর্বের মতো সংঘাতের পথে হাঁটিনি, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করিনি। ধৈর্যের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলা করেছি। নতুন বাংলাদেশের নতুন ছাত্ররাজনীতির প্রচলনে ভূমিকা রাখতে চেয়েছি। ভোটে নানা অনিয়মের ফাঁদ পাতা হয়েছিল, সেখানে আমাকে ভিলেন বানানোর চেষ্টা করা হয়েছে।” ভিপি পদে হারের বিষয়ে আবিদুল ইসলাম বলেন, “এটিকে আমরা সরলভাবে পরাজয় বলতে চাই না। এর মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি অদৃশ্য রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব বিস্তার করছে।”

উল্লেখ্য, গত ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে বিজয়ী হন সাদিক কায়েম এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে নির্বাচিত হন ফরহাদ হোসেন। তারা দুজনই ছাত্রশিবির-সমর্থিত প্যানেলের প্রার্থী ছিলেন। ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনে নির্বাচন কমিশন চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করে।

মন্তব্য করুন
×