বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ : অক্টোবর ১৮, ২০২৫
অনলাইন সংস্করণ

দেশের প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বার্ষিক ছুটি কমছে: প্রস্তাব ৫৫-৬০ দিনে নামিয়ে আনার

শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি কমাতে এবং নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে দেশের সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ছুটি কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বর্তমানে বছরে গড়ে ৭৫ দিন ছুটি দেওয়া হলেও, তা কমিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে কিছু দাবি মেনে নেওয়ার শর্তে নতুন ছুটির সিদ্ধান্ত মানার কথা জানানো হয়েছে।

ছুটি কমানোর পরিকল্পনা: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ২০২৫ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার জানান যে, বর্তমানে বছরে মাত্র ১৮০ দিন স্কুল খোলা থাকছে। বিভিন্ন আন্দোলন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে অতিরিক্ত ছুটি যুক্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিখন ঘাটতি বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বার্ষিক ছুটির সংখ্যা ১৬ থেকে ২০ দিন কমিয়ে ৫৫ থেকে ৬০ দিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অধ্যাপক পোদ্দার আরও জানান, এই কাজ বাস্তবায়নে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবে।

শিক্ষকদের জন্য উদ্যোগ: শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে পর্যাপ্ত সময় নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, শিক্ষকদের শিক্ষাবহির্ভূত কাজ থেকে বিরত রাখার উদ্যোগও নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিনই থাকবে; এই ছুটি অন্যভাবে সমন্বয় করা হবে।

উচ্চপর্যায়ের আলোচনা: এর আগে গত মাসে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক যৌথ সভায় ছুটি কমানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ছুটি কমানোর প্রস্তাব উত্থাপন করা হলেও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) এখনো তাতে সম্মতি জানায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন, শিক্ষার মান ও ধারাবাহিকতা রক্ষায় ছুটি কমিয়ে শিক্ষার সময় বাড়ানো প্রয়োজন।

সিদ্ধান্তের প্রাথমিক পর্যায়: যদিও বিষয়টি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রস্তাবটি বর্তমানে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে পর্যালোচনাধীন আছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

শিক্ষকদের শর্ত: এদিকে, প্রাথমিক শিক্ষকরা ছুটি কমানোর এই সিদ্ধান্ত মানতে আপত্তি জানিয়েছেন, যতক্ষণ না তাঁদের পূর্বের দাবিগুলো পূরণ করা হয়। প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক শামসুদ্দিন মাসুদ রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ছুটি কমানোর আগে প্রাথমিক বিভাগকে 'নন-ভ্যাকেশনাল' (non-vacational) ঘোষণা করতে হবে। এটি হলে অবসরের পর শিক্ষকরা কিছু অতিরিক্ত সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনও মেনে নিতে হবে বলে তিনি জানান। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জাতীয় দিবস ও প্রধান শিক্ষকের হাতে থাকা সংরক্ষিত ছুটিসহ ৭-৮ দিনের ছুটি শিক্ষকরা কখনোই ভোগ করতে পারেন না।

বিশ্লেষকদের অভিমত: শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা মনে করেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে নিয়মিত পাঠদান অত্যন্ত জরুরি। তবে ছুটি কমানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মতামত এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত।

মন্তব্য করুন

বেতন–পদোন্নতির দাবিতে রাস্তায় শিক্ষকরা, ক্লাস বন্ধ এক কোটি শিক্ষার্থীর

সারাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

বেতন বৃদ্ধি ও পদোন্নতির দাবিতে আজ রোববার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এতে দেশের সাড়ে ৬৫ হাজারের বেশি বিদ্যালয়ের প্রায় এক কোটি শিশু শিক্ষার্থী পাঠচ্যুত হয়েছে।

বিদ্যালয়ে এলেও শিক্ষকরা পাঠদান না করায় শিক্ষার্থীদের ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে।

শাহবাগে হামলার পর কর্মসূচি এগিয়ে আনলেন শিক্ষকরা : ‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মবিরতি শুরু হয়। মূলত ১৫ নভেম্বরের পর কর্মবিরতির পরিকল্পনা থাকলেও, শনিবার (৮ নভেম্বর) শাহবাগে ‘কলম সমর্পণ’ কর্মসূচিতে পুলিশের হামলার পরই শিক্ষকরা তা আগাম শুরু করেন।

সংগঠনের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বলেন,

“আমাদের ওপর হামলায় বহু শিক্ষক আহত হয়েছেন, কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে হাসপাতালে আছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশের শিক্ষকরা একযোগে ক্লাস বর্জন করেছেন। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।”

তিনি আরও জানান, তারা ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন এবং প্রয়োজনে “স্কুলে তালা ঝুলিয়ে” দেওয়ারও হুঁশিয়ারি দেন।

বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে অভিভাবকদের উদ্বেগ

আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু পরীক্ষার তিন সপ্তাহ আগে শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে যাওয়ায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।

মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা রজব আলী বলেন,

“আমার মেয়ে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে, এবার বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেবে। এখন ক্লাস বন্ধ থাকায় তার প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। এতে ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

এক বছরে দ্বিতীয় দফা আন্দোলন

চলতি বছর এ নিয়ে দ্বিতীয়বার কর্মবিরতিতে গেলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। এর আগে মে মাসে তারা ধাপে ধাপে এক ঘণ্টা, দুই ঘণ্টা এবং আধাবেলা কর্মবিরতি পালনের পর ২৬ মে থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিতে যান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দারের আশ্বাসে ১ জুন তারা ক্লাসে ফেরেন। তবে শিক্ষকদের অভিযোগ—প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়নি।


১১তম গ্রেডের আশ্বাস, শিক্ষকদের দাবি ১০ম গ্রেড

‘প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদ’-এর নেতা আবুল কাশেম জানান, দীর্ঘদিন ধরে সহকারী শিক্ষকরা ১১তম গ্রেডের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এখন নতুন পে-কমিশনের আলোকে তারা ১০ম গ্রেডের দাবি তুলেছেন।

“সরকার বলছে ১১তম গ্রেড দেবে, কিন্তু এখনো অনুমোদন দেয়নি। তাই আমরা দশম গ্রেডের দাবি নিয়ে রাস্তায় নেমেছি,” বলেন তিনি।


‘দশম গ্রেড যৌক্তিক নয়’—অভিযোগ উপদেষ্টার

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন,

“প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন, তাই সহকারী শিক্ষকদের এক লাফে ১৩ থেকে ১০ম গ্রেডে আনা সম্ভব নয়। আমরা ১১তম গ্রেডের বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) আবু নূর মো. শামসুজ্জামানও জানান,

“সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডের জন্য আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করেছি। অনুমোদন পেলেই তা কার্যকর হবে।”


শিখন ঘাটতি বাড়ার আশঙ্কা

তিনি আরও বলেন,

“বার্ষিক পরীক্ষার আগে এ কর্মবিরতি শিক্ষার্থীদের ভয়াবহ ক্ষতির মুখে ফেলবে। বই পেতে দেরি, আগের কর্মবিরতি—সব মিলিয়ে শিখন ঘাটতি অনেক বেড়েছে।”

মন্তব্য করুন

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়নে রোববার থেকে প্রাথমিক শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন ও পুলিশের হামলার প্রতিবাদে রোববার (৯ নভেম্বর) থেকে সারাদেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেন প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক সংগঠন ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি শামসুদ্দিন মাসুদ।

তিনি বলেন, “দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (রোববার) থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি চলবে। একই সঙ্গে সারাদেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করা হবে।”

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে কর্মরত আছেন ৩ লাখ ৮৪ হাজারেরও বেশি শিক্ষক, আর শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় এক কোটি

এদিকে আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষকদের এই কর্মবিরতি ও আন্দোলনের কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা।

মন্তব্য করুন

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে জাতীয় স্কুল ফিডিং কর্মসূচি

‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি
‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি

বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো, শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা এবং পুষ্টি উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে দেশের নির্বাচিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে আজ শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় ‘স্কুল ফিডিং’ কর্মসূচি। এর উদ্বোধন হবে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার খুবজীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। উদ্বোধন করবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।

‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় ২০২৭ সাল পর্যন্ত দেশের ১৫০টি উপজেলার ১৯ হাজার ৪১৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩১ লাখ ১৩ হাজার শিক্ষার্থী প্রতিদিন পুষ্টিকর খাবার পাবে। সপ্তাহের পাঁচটি স্কুল দিবসে নির্ধারিত খাবারের তালিকায় রয়েছে—

  • রবিবার: ১২০ গ্রাম বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • সোমবার: বনরুটি ও ২০০ গ্রাম ইউএইচটি দুধ

  • মঙ্গলবার: ৭৫ গ্রাম ফর্টিফাইড বিস্কুট ও কলা/মৌসুমি ফল

  • বুধবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

  • বৃহস্পতিবার: বনরুটি ও সিদ্ধ ডিম

প্রস্তাবিত খাদ্যতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন প্রয়োজনীয় মোট এনার্জির ২৫.৯%, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের ৩২.২%, প্রোটিনের ১৬.৪% এবং ফ্যাটের ২১.৭% গ্রহণ করতে পারবে—যা শিশুদের শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। পুষ্টিকর খাবার সরবরাহের মাধ্যমে শিশুদের পুষ্টির অবস্থা উন্নত করা এবং শ্রেণিকক্ষে তাদের মনোযোগ বাড়ানোও এই প্রকল্পের অংশ।

তিনি আরও বলেন, ফিডিং কর্মসূচি চালু হলে বিদ্যালয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের হার ৯০ শতাংশের বেশি হবে এবং ক্ষুধা নিবারণের ফলে শেখার পরিবেশ আরও উন্নত হবে।

মন্তব্য করুন

ডিপিএডের মানোন্নয়ন পরীক্ষা শুরু ১০ সেপ্টেম্বর, রুটিন প্রকাশ

ডিপ্লোমা ইন প্রাইমারি এডুকেশন (ডিপিএড) প্রোগ্রামের প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানোন্নয়ন (ইমপ্রুভমেন্ট) পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাও এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ১০ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়ে এ পরীক্ষা চলবে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

নেপের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রথম সেমিস্টারের ফাইনাল পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। তবে এ সুযোগ কেবল প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া এবং পরবর্তী সময়ে দ্বিতীয় সেমিস্টারে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য প্রযোজ্য।

পরীক্ষার সূচি

১০ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষা পরিচিতি ও শিক্ষাদর্শন এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিখন মূল্যায়ন ও ফলাবর্তন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৩ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে ৪টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষণ পদ্ধতি-কৌশল ও শ্রেণি ব্যবস্থাপনা এবং বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট থেকে ৫টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত শিক্ষাক্রম ও শিখন সামগ্রী পরীক্ষা নেওয়া হবে।

১৪ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত শিশুর বিকাশ ও শিখন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

১৫ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ভাষা দক্ষতা উন্নয়ন-বাংলা পরীক্ষা হবে।

১৬ সেপ্টেম্বর: দুপুর ৩টা থেকে বিকেল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত গাণিতিক দক্ষতা উন্নয়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

মানতে হবে যেসব নির্দেশনা

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শুধু প্রথম সেমিস্টারে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাই এ ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। দ্বিতীয় সেমিস্টারে ভর্তি হননি—এমন কোনো শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন না।

পরীক্ষার রুটিন প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট পিটিআইয়ের সুপারিনটেনডেন্ট নোটিশের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিষয়টি জানাবেন। প্রতিটি বিষয়ের প্রশ্নপত্র পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা আগে নির্ধারিত গোপনীয় ই-মেইলে পাঠানো হবে। পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট নিজে ই-মেইল পরিচালনা করবেন এবং প্রশ্নপত্রের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ব্যক্তিগতভাবে দায়ী থাকবেন।

পরীক্ষার হলে বই, খাতা, মোবাইল ফোন, স্মার্ট ঘড়ি, ল্যাপটপসহ কোনো ধরনের ইলেকট্রনিক ডিভাইস নেওয়া যাবে না।

প্রতিটি পরীক্ষা শেষে নেপ থেকে পাঠানো কোড নম্বর ব্যবহার করে উত্তরপত্র কোডিং করতে হবে। এরপর পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতিসংক্রান্ত ইউনিটভিত্তিক উত্তরপত্র মিলিয়ে প্রতি পরীক্ষার্থীর জন্য ২০০ টাকা বীমাকৃত পার্সেলের মাধ্যমে উত্তরপত্র পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে পাঠাতে হবে।

নির্ধারিত সময়ের পর কোনো অনুত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রথম সেমিস্টারের মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কোনো শিক্ষার্থী আবারও অনুত্তীর্ণ হলে ভবিষ্যতে তাকে আর মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না। অন্যদিকে, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের মানোন্নয়ন পরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়নি।

এ ছাড়া পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বন, অনিয়ম বা শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা ঘটলে ডিপিএড নীতিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে নারীদের বিশেষ কোটা বাতিল: নতুন বিধিমালায় ৭ শতাংশ কোটা ও নতুন পদ সৃষ্টি

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে নতুন বিধিমালা প্রকাশ করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই নতুন বিধিমালায় সহকারী শিক্ষক পদে নারীদের জন্য নির্ধারিত বিশেষ ৬০ শতাংশ কোটা বাতিল করা হয়েছে। এর পরিবর্তে মুক্তিযোদ্ধা ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ অন্যান্যদের জন্য ৭ শতাংশ কোটা রেখে অবশিষ্ট ৯৩ শতাংশ পদ মেধাভিত্তিক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা ও কোটা পরিবর্তন: ২৮ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০২৫' নামে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।

নতুন বিধিমালার অধীনে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরাসরি নিয়োগযোগ্য পদের ৯৩ শতাংশ হবে মেধাভিত্তিক। বাকি ৭ শতাংশ পদ নিম্নলিখিত কোটার আওতায় রাখা হয়েছে:

  • মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনার সন্তানদের জন্য: ৫ শতাংশ

  • ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রার্থীদের জন্য: ১ শতাংশ

  • শারীরিক প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের প্রার্থীদের জন্য: ১ শতাংশ

তবে কোটার আওতায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া না গেলে সেই শূন্য পদগুলো মেধার ভিত্তিতেই পূরণ করা হবে।

আগের কোটা বাতিল: স্মরণীয় যে, ২০১৯ সালের বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে নারীদের জন্য ৬০ শতাংশ কোটা সংরক্ষিত ছিল। বাকি ৪০ শতাংশের মধ্যে ২০ শতাংশ ছিল পুরুষদের জন্য এবং ২০ শতাংশ ছিল পোষ্য কোটা। নতুন বিধিমালা কার্যকর হওয়ার ফলে 'সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা, ২০১৯' রহিত বলে বিবেচিত হবে।

অন্যান্য পরিবর্তন:

  • নিয়োগ পদ্ধতি: সরাসরি নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগের সুযোগ থাকছে।

  • নিয়োগের স্থান: নিয়োগ প্রক্রিয়া উপজেলা ও ক্ষেত্রবিশেষে থানাভিত্তিক হবে।

  • বিষয়ভিত্তিক সংরক্ষণ: বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ২০ শতাংশ পদ এবং অন্যান্য বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীদের জন্য ৮০ শতাংশ পদ সংরক্ষিত থাকবে।

  • নতুন পদ সৃষ্টি: সংগীত ও শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রথমবারের মতো আলাদা পদ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।  মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

মন্তব্য করুন
×