বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি এবং কেন?

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড
ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড

“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)

কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়?

সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়—

১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence)

অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

  • চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত।

গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে।

২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality)

অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত—

  • তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়।

  • অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন।

  • শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই।

এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।

৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook)

অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।

  •  বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি.  আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প

এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে।

উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation)

অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়—

প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে

বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে।

৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy)

অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)।
এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে—

  • প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে।

কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন?

কারণ—

  • প্রত্যেকটি র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে

  • ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে

  • এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম

তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।

মন্তব্য করুন

এফএইচ হলের প্রভোস্টকে হেয় করার প্রতিবাদে ঢাবি ফার্মেসি শিক্ষকদের ক্ষোভ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফার্মেসি অনুষদের ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের শিক্ষক ও ফজলুল হক মুসলিম (এফএইচ) হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস আল-মামুনকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনুষদের শিক্ষকরা। এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলামের কাছে চিঠি দিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দেওয়া চিঠিতে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, এফএইচ হলে সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে যে টানাপোড়েন ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা উদ্বেগজনক।

চিঠিতে তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি, অভিযোগ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একইভাবে শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং নির্বিঘ্নে দায়িত্ব পালনের অধিকারও নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

শিক্ষকরা আরও বলেন, এফএইচ হলে সংঘটিত ঘটনাকে ঘিরে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ ও যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিচার চাওয়া সবার অধিকার হলেও চাপ প্রয়োগ কিংবা মব সৃষ্টির মাধ্যমে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে দায়ী করা গ্রহণযোগ্য নয়। তদন্ত শেষে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যবস্থা নেওয়াই সমীচীন।

চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে একাডেমিক এলাকায় ব্যানার-পোস্টার এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষক অধ্যাপক ড. ইলিয়াস আল-মামুনকে হেয় করার মতো প্রচারণা চালানো হচ্ছে। এতে তিনি ছাড়াও ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা মর্মাহত হয়েছেন এবং এর প্রভাব অনুষদের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমে পড়ছে।

শিক্ষকদের ভাষ্য, কোনো বিষয় তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আক্রমণ, বিকৃত ছবি ব্যবহার, ব্যানার-পোস্টারিং ও ধারাবাহিক প্রচারণার মাধ্যমে কাউকে তদন্তের ফল প্রকাশের আগেই দায়ী করা তদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। একই সঙ্গে এ ধরনের প্রচারণা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সামাজিক, পারিবারিক ও ব্যক্তিগতভাবে হেয় করার শামিল।

ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত প্রচারণা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তারা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ, অডিও-ভিডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট পোস্ট, ব্যানার-পোস্টার এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যসহ সব ধরনের প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। অসম্পূর্ণ তথ্য বা ধারণার ভিত্তিতে নয়, বরং প্রমাণ ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে দায় নির্ধারণ করা উচিত।

শিক্ষকদের মতে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনো শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সামাজিকভাবে দোষী সাব্যস্ত বা হেয় করা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি কোনো যৌক্তিক অভিযোগকেও খাটো বা উপেক্ষা করা উচিত নয়। এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যা শিক্ষক-শিক্ষার্থীর দীর্ঘদিনের পারস্পরিক আস্থার সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চিঠির শেষে ফার্মেসি অনুষদের শিক্ষকরা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যুক্তি, সংলাপ, সহনশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা চর্চার বিদ্যাপীঠ। তাই মব-চাপ কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্ত, তথ্য-প্রমাণের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমস্যার ন্যায়সংগত সমাধান করা প্রয়োজন।

একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম ও দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

মন্তব্য করুন

ঢাকায় ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঘিরে অনলাইন ক্লাস

আওয়ামী লীগের বৃহস্পতিবারের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জনমনে তৈরি হওয়া আশঙ্কার মধ্যে কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুল অনলাইনে ক্লাস নেওয়া বা ক্লাস স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বুধবার ও বৃহস্পতিবার ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি প্রথমে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানালেও পরে তা প্রত্যাহার করে নিয়মিত ক্লাস চালুর কথা জানিয়েছে।

শান্ত-মারিয়াম ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি মঙ্গলবার এক জরুরি নোটিশে জানিয়েছে, ১২ ও ১৩ নভেম্বরের সব ক্লাস অনিবার্য কারণে স্থগিত থাকবে, তবে পরীক্ষা চলবে। পরবর্তী দিনের (১৪ নভেম্বর) কার্যক্রম সম্পর্কে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জানানো হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বাস ও শাটল সার্ভিস আপাতত বন্ধ থাকলেও প্রশাসনিক দপ্তর সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

স্কুলগুলোর মধ্যেও অনলাইন ক্লাস ও বন্ধের সিদ্ধান্ত দেখা গেছে। মোহাম্মদপুরের সেন্ট যোসেফ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয় বৃহস্পতিবার অনলাইনে ক্লাস নেবে এবং সময়সূচি ঘোষণা করেছে। নিউ ইস্কাটনের এজি চার্চ স্কুল নিরাপত্তাজনিত কারণে বৃহস্পতিবার ছুটি ঘোষণা করেছে। ইংরেজি মাধ্যম স্কুল সানিডেইল ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল আজ ও আগামীকাল অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

সব প্রতিষ্ঠানই জানিয়েছে, সিদ্ধান্তগুলো ‘অনিবার্য কারণে’ নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যুতে উত্তেজনা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার-রাকসু জিএসের তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডা

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার রুমে সালাহউদ্দিন আম্মারের বাগ্‌বিতণ্ডা

রবিবার (৯ নভেম্বর) দুপুর ২টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মারের মধ্যে তীব্র বাগ্‌বিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সময় রেজিস্ট্রারের কক্ষে রাজশাহী মহানগর এনসিপির নেতাকর্মীরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করছিলেন।

ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আম্মার রেজিস্ট্রারের সাথে কথোপকথন শুরু করেন এবং জানতে চান তিনি কি ভিতরে প্রবেশ করতে পারবেন। রেজিস্ট্রার তাকে ১০ মিনিট বাইরে অপেক্ষা করতে বলেন। এ সময় আম্মার অভিযোগ করেন, রেজিস্ট্রার ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ সংক্রান্ত চিঠি আটকে রেখেছেন। রেজিস্ট্রার উত্তরে বলেন, তিনি চিঠি আটকে রাখেননি। এর পরে দু’জনের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যালাপ শুরু হয়।

রেজিস্ট্রার সিপিএসের উপস্থিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে বলেন, “তোমরা কারা?” শিক্ষার্থীরা জানান, তারা ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের ছাত্র-ছাত্রী। রেজিস্ট্রার তাঁদের অফিসে আসার অনুমতি দেন, কিন্তু আম্মার বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি, আমাদেরও কথা বলার অধিকার আছে।”

রেজিস্ট্রার তখন আম্মারকে তর্ক করেন কেন তিনি অনুমতি না নিয়ে ভিতরে ঢুকেছেন এবং বলেন, গেট আউট। আম্মার তার শিক্ষার্থীর অধিকারকে সামনে রেখে ভিতরে থাকতে চান। এ সময় এনসিপির নেতারা নিশ্চিত করেন, তারা বিএনপির কেউ নন, বরং এনসিপির নেতাকর্মী।

ঘটনার পেছনের কারণ হিসেবে আম্মার উল্লেখ করেন, ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ আন্দোলন ২৩ দিন ধরে চলছিল। উপাচার্য বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) চেয়ারম্যানকে অপসারণের চিঠিতে স্বাক্ষর করেন, যা রবিবার পর্যন্ত রেজিস্ট্রারের অফিসে আটকে থাকে। এতে ছাত্রদের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। তিনি দাবি করেন, এই জরুরি বিষয় দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন ছিল।

অন্যদিকে রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসউদ বলেন, তিনি সকাল থেকেই চিঠি ইস্যুর জন্য আইনগত ও প্রশাসনিক বিষয়গুলো যাচাই করছিলেন। এরপর অফিসিয়াল প্রক্রিয়ার কারণে কিছু কাজ শেষ করা বাকি ছিল। ছাত্ররা যখন এল, তখনও তিনি ভদ্রভাবে পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, আম্মারের উপস্থিতি বা রাজনীতি এতে কোনো প্রভাব রাখেনি। এছাড়াও রেজিস্ট্রার স্পষ্ট করেছেন, রুমে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন না। এনসিপির নেতাকর্মীদেরকে ভুলক্রমে বিএনপি মনে হওয়ায় এই ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়।

উভয় পক্ষের বিবরণে দেখা যায়, এই উত্তেজনা মূলত ক্লিনিক্যাল সাইকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অপসারণ ইস্যু, প্রশাসনিক ফর্মালিটি এবং দপ্তরে অননুমোদিত প্রবেশের কারণে ঘটে।

মন্তব্য করুন

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন: ট্রাস্টি বোর্ডে একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি নয়

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে সরকার নতুনভাবে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন–২০২৫ (সংশোধিত)’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ইতোমধ্যে এর খসড়া তৈরি করেছে। নতুন খসড়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ড গঠন, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং পরিচালনা প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খসড়া আইনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—একই পরিবারের পাঁচজনের বেশি সদস্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডে থাকতে পারবেন না। এর মাধ্যমে বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব সীমিত করা এবং স্বার্থের সংঘাত রোধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বোর্ডে সদস্য সংখ্যা সর্বনিম্ন ৯ জন এবং সর্বোচ্চ ১৫ জন হতে হবে। ইউজিসির ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বোর্ডে বৈচিত্র্য, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেই এই বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এক পরিবারের অতিরিক্ত সদস্য থাকলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি তৈরি হয়, যা এই নতুন বিধান দ্বারা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

খসড়ায় আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ নিয়োগে ইউজিসির নেতৃত্বে একটি সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা ও সুনামের ভিত্তিতে প্রার্থী নির্বাচন করে ট্রাস্টি বোর্ডে সুপারিশ করবে। এর ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি বা পক্ষপাতিত্বের সুযোগ কমবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন হবে আরও নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ।

এ ছাড়া নতুন বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু নতুন শর্তও যোগ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জন্য কমপক্ষে পাঁচ একর জমি থাকতে হবে এবং টিউশন ফি নির্ধারণে ইউজিসির অনুমোদন নিতে হবে। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা ও শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার চেষ্টা করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ইউজিসির ৫৭তম সভায় এই খসড়াটি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় ট্রাস্টি বোর্ডে পারিবারিক প্রভাব কমানো, নেতৃত্বের ভারসাম্য আনা এবং প্রশাসনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। ইউজিসি মনে করে, এই সংশোধনগুলো কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সুশাসন প্রতিষ্ঠা পাবে।

বর্তমানে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ১১৬টি, যার মধ্যে ১০৫টিতে পাঠদান চলছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি। ইউজিসির আশা, নতুন আইন কার্যকর হলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রশাসন ও আর্থিক ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভারসাম্য আসবে এবং একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি ধীরে ধীরে কমে যাবে।

 

মন্তব্য করুন

কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ‘মার্চ ফর গাজা’: ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতির পদযাত্রা

২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি
২৪ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের হামলায় বিধ্বস্ত দালান থেকে মরদেহ উদ্ধার করছেন ফিলিস্তিনিরা। ছবি: এএফপি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ ফর গাজা’ করে গাজার নিরীহ মানুষের প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়েছে।

  • শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জুমার নামাজের পরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে পদযাত্রা শুরু করে। পদযাত্রা শেষে মসজিদ প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করা হয়।

  • শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, মসজিদুল আকসা রক্ষা করার জন্য তারা লড়াই করবে এবং মসজিদটি ছাড়বে না।

  • জামিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার স্থানীয় নেতা সাজ্জাতুল্লাহ শেখ বলেন, বিশ্বের নানা মহলে বিরোধ থাকলেও তাওহিদ ও শিরক নিয়ে বড় লড়াই চলছে; ভবিষ্যতে তাওহিদ বিজয়ী হবে—এমন ভাবনা জানান।

  • আরো পড়ুন : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দখলে রাজনৈতিক স্বার্থ, সতর্ক করেছেন উপদেষ্টা

  • তানভীর মণ্ডল বলেন, আল আকসা মুসলমানদের প্রথম কিবলা; ফিলিস্তিনের ইতিহাস ও আবেগ আমাদের সবার সঙ্গে জড়িত। তিনি ইসরায়েলের বিরুদ্ধে চলমান হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মুসলিম নেতাদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

  • শাখা ছাত্রশিবির সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, দুই বছরের মধ্যে ইসরায়েলের হাতে প্রায় ৬৬,০০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, অনেক নারী ও শিশু রয়েছেন। সাম্প্রতিক মানবিক নৌবহরে হামলারও কথা উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্ব মুসলিমদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আবেদন করেন।

  • মসজিদের খতিব আশরাফ উদ্দিন খান বলেন, ফিলিস্তিনিদের কষ্টে যদি আমরা অনাসক্ত থাকি, তাহলে আমাদের ইসলাম প্রশ্নবিদ্ধ হবে; প্রয়োজনে রক্ত ও জীবন দিতেও প্রস্তুত থাকতে হবে—এমন বক্তব্য দেন।

মন্তব্য করুন

৩ জানুয়ারি কৃষি গুচ্ছের ভর্তি পরীক্ষা

৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি
৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি


২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে কৃষি গুচ্ছের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে। এ বছর ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব পেয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি)।

শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হেলাল উদ্দীন।

তিনি জানান, ভর্তি পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে ৩টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার প্রযুক্তিগত ও প্রশাসনিক সব সমন্বয় করবে গাকৃবি। আগামী ২৫ নভেম্বর থেকে ACAS–এর অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, যা চলবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। পরীক্ষাসংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা, আসন বিন্যাস এবং প্রবেশপত্র ডাউনলোডের তথ্য পরে জানানো হবে।

কৃষি গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

মন্তব্য করুন
×