রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের আধুনিকায়ন, যুক্ত হলো অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড

শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও যুগোপযোগী ও প্রযুক্তি নির্ভর করার লক্ষ্যে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ভার্চুয়াল ক্লাসরুমটিকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন নেটওয়ার্ক (বিডিরেন) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের যৌথ উদ্যোগে এই ক্লাসরুমে সম্প্রতি একটি অত্যাধুনিক স্মার্টবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে।

নতুন এই প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। আধুনিক এই স্মার্টবোর্ডের মাধ্যমে এখন থেকে শিক্ষক ও গবেষকরা আরও সহজে এবং কার্যকরভাবে ইন্টারেক্টিভ ক্লাস, সেমিনার ও বিভিন্ন প্রেজেন্টেশন পরিচালনা করতে পারবেন। এর ফলে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা দূর হওয়ার পাশাপাশি পাঠদান ও তথ্য আদান-প্রদান প্রক্রিয়া আরও প্রাণবন্ত হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন যুগোপযোগী এই ক্লাসরুমটি এখন থেকে মূলত পিএইচডি (PhD) গবেষকদের ডিফেন্স এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সেমিনারের জন্য ব্যবহৃত হবে। এর মাধ্যমে দেশি-বিদেশি গবেষক ও শিক্ষাবিদদের সাথে নিরবচ্ছিন্ন ও উন্নত ভার্চুয়াল যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মানকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

শিক্ষাব্যবস্থার এই গুণগত আধুনিকায়নে সার্বিক সহযোগিতার জন্য শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহোদয় বিডিরেন (BdREN)-কে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন। সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন, এই উদ্যোগের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ আরও বেশি শিক্ষার্থীবান্ধব ও বিশ্বমানের হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

গোবিপ্রবির নতুন ভিসির বিরুদ্ধে ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ আড়াল করতে ইউজিসির একটি চিঠির আদলে ভুয়া নথি তৈরি করে তা সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে চার বছরের জন্য গোবিপ্রবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০ মাস প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালনের পর তিনি ভিসির দায়িত্ব নেন।

ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। এতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত ‘২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো’ শীর্ষক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপির সঙ্গে ইউজিসির একটি চিঠিও পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই চিঠির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

ইউজিসির চিঠি ‘ফেইক’, বললেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা

প্রতিবাদলিপি ও চিঠিটি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পাশাপাশি ফোনও করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি দাবি করেন, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে এবং এ ঘটনায় ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে চিঠিটি পর্যালোচনা করে এবং ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো চিঠিটি ‘ফেইক’।

তিনি একই তারিখ ও স্মারক নম্বরের একটি প্রকৃত চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তদন্ত শেষে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠায় ইউজিসি।

অভিযোগ উঠেছে, ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠনের ওই চিঠির একই তারিখ ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়।

২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

গোবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগপত্রে সিফাত উল্লেখ করেন, তিনি গোবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক পদে আবেদন করেছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রো-ভিসির সঙ্গে তার একাডেমিক পরিচয়ের সূত্রে যোগাযোগ হয়। পরে তাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

সিফাতের অভিযোগ, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে তোফায়েল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভিসির পিএস পরিচয় দেন। তিনি চাকরি পেতে হলে ‘খুশি’ করার কথা বলেন এবং প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই অর্থের অর্ধেক নিয়োগের আগে এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিফাত। তার দাবি, আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এবার লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে সিফাত আরও দাবি করেন, অভিযোগটি ইউজিসিতে জমা দেওয়ার পর তা কোনোভাবে তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের হাতে চলে যায়। এরপর তাকে এবং তার পরিবার ও কর্মস্থলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন সিফাত। তবে পরে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি জানান, অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠিটি তিনি নিজে লেখেননি; শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চিঠিতে ব্যবহৃত তারিখও ব্যাকডেটেড ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ওই প্রার্থী ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয়

ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ভিসির নির্দেশে তিনি সেদিন চিঠি ও প্রতিবাদলিপি সাংবাদিকদের পাঠিয়েছিলেন। পরে চিঠিটি জালিয়াতি করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি সেটি পাঠিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, ভিসি ওই দিন ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে থাকায় কথা বলতে পারছেন না।

এদিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাটি দেখবেন বলে জানান।

সরকারি চাকরি আইনে শাস্তির বিধান

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্ন পদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×