শিক্ষার আকাশে মাইলস্টোন কলেজের উজ্জ্বল নক্ষত্র: এইচএসসিতে রেকর্ড সাফল্য, শোকের মাঝেও দীপ্তি

শিক্ষার মান ও সফলতার দীর্ঘ যাত্রায় আরও একটি গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক স্থাপন করল ঢাকার উত্তরা মডেল টাউনে অবস্থিত মাইলস্টোন কলেজ। সদ্য প্রকাশিত এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় শতভাগ পাসের ধারা অক্ষুণ্ণ রেখে আবারো নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছে।

চলতি বছর মাইলস্টোন কলেজ থেকে বাংলা মাধ্যম ও ইংরেজি ভার্সনে মোট ২ হাজার ৯৮১ জন কৃতী শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন। এদের মধ্যে ৯৯ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিক্ষার্থীই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। মেধার সর্বোচ্চ স্বীকৃতি জিপিএ-৫ অর্জন করেছেন ৭৯১ জন শিক্ষার্থী, যা কলেজের সামগ্রিক ফলাফলে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

বিশেষ করে, কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের ফলাফল ঈর্ষণীয়। এ বিভাগ থেকে ২ হাজার ৩৭৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ হাজার ৩৭০ জন। এখানে পাসের হার ৯৯ দশমিক ৮৭ শতাংশ, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক উঁচুতে। বিজ্ঞান বিভাগ থেকেই সর্বোচ্চ ৭৪৮ জন শিক্ষার্থী পূর্ণ জিপিএ-৫ অর্জন করে প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করেছেন।

 

সাফল্যের নেপথ্যে: ঐকান্তিকতা ও কঠোর পরিশ্রম

নিয়মিতভাবে এমন চমৎকার ফলাফলের ধারা অব্যাহত রাখার রহস্য উন্মোচন করে মাইলস্টোন কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলম বলেন, "এই সাফল্য কোনো একক ব্যক্তির কৃতিত্ব নয়। এটি শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত অবদানের ফল। কলেজ প্রশাসনের সঠিক তদারকি, শিক্ষকদের একনিষ্ঠ প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম, ছাত্রছাত্রীদের একাগ্রতা এবং অভিভাবকদের সহযোগিতার কারণে প্রতি বছর আমাদের শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে সক্ষম হচ্ছে।"

অধ্যক্ষ আরও জোর দিয়ে বলেন, "আমরা শুধু নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ শিক্ষাতেই সীমাবদ্ধ থাকি না, বরং সহপাঠ্যক্রমিক কার্যক্রমের মাধ্যমেও শিক্ষার্থীদের জন্য গুণগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত করি। এটিই ভালো ফলাফল অর্জনের প্রধান নিয়ামক।" তিনি উত্তীর্ণ সব ছাত্রছাত্রীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে ভবিষ্যৎ জীবনে আরও সফল হওয়ার এবং দেশ সেবায় আত্মনিয়োগ করার আশা প্রকাশ করেন।

 

শোককে শক্তিতে রূপান্তর: মর্মাহত অধ্যক্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলি

তবে এই বিশাল আনন্দক্ষণেও অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জিয়াউল আলমের কণ্ঠে ছিল শোকের ছায়া। তিনি এই ফলাফলের মহতী সাফল্য গত ২১ জুলাই এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করার ঘোষণা দেন।

স্মরণ করা যেতে পারে, গত ২১ জুলাই মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ ক্যাম্পাসের কাছে এক ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বিমানের পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলামসহ মোট ৩৪ জন জীবন হারান এবং অনেকে আহত হন। নিহতদের মধ্যে ২৭ জনই ছিলেন মাইলস্টোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উজ্জ্বল শিক্ষার্থী।

এই শোকাবহ ঘটনায় বিধ্বস্ত হলেও, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিজেদের লক্ষ্যে অবিচল থেকে যে ফলাফল অর্জন করেছে, তা শোককে শক্তিতে পরিণত করার এক অনন্য উদাহরণ। মাইলস্টোন কলেজ প্রমাণ করল, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও শিক্ষার আলোকবর্তিকা নিভিয়ে দেওয়া যায় না।

মন্তব্য করুন

এমপিও শিক্ষকদের বদলি আবেদনে জটিলতা, সময় বাড়ছে না; বৃহস্পতিবার মাউশির বৈঠক

বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনে বিভিন্ন ধরনের কারিগরি ও তথ্যগত জটিলতা দেখা দিয়েছে। এতে অনেক শিক্ষক আবেদন করতে পারছেন না। সমস্যার সমাধানে আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানালেও আপাতত তা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আলম মাহমুদ বলেন, বদলি আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত বদলি কার্যক্রম শুরু করতে কাজ করছে মাউশি।

এদিকে আবেদনসংক্রান্ত জটিলতা সমাধানে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠকে বসছে মাউশি। আগামী বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদন করতে না পেরে প্রতিদিন অনেক শিক্ষক অধিদপ্তরে এসে সমস্যার কথা জানাচ্ছেন। তাদের অধিকাংশের অভিযোগ একই ধরনের। অনেক শিক্ষকই দাবি করছেন, আবেদন করতে না পারার পেছনে তাদের কোনো ভুল নেই।

শিক্ষকদের অভিযোগগুলো মাউশির পক্ষ থেকে টেলিটককে জানানো হয়েছে। এরপর বিষয়গুলো নিয়ে সফটওয়্যার নির্মাণকারী ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা জানান, ভেন্ডর প্রতিষ্ঠানের আসিফ নামের এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার মাউশিতে এসে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া ওই বৈঠকে শিক্ষকদের আবেদনসংক্রান্ত সমস্যাগুলো তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, যেসব সমস্যা কারিগরিভাবে সমাধানযোগ্য, সেগুলো শনাক্ত করে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এর মাধ্যমে আবেদন করতে না পারা শিক্ষকদের জটিলতা নিরসনের চেষ্টা করা হবে।

এদিকে বদলি কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা থাকায় আবেদনের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি আপাতত আমলে নেওয়া হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আবেদনপ্রক্রিয়া শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

পরীক্ষার ভরা মৌসুমে কমিটি নির্বাচনের নির্দেশ: শিক্ষামহলে তীব্র উদ্বেগ

বার্ষিক ও নির্বাচনী পরীক্ষার মাঝে গভর্নিং বডি নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের চাপ বৃদ্ধি; বিঘ্নিত হতে পারে শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়ায় শিক্ষামহলে তীব্র উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণত শিক্ষাবর্ষের শুরুতে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, যখন পাঠদানের চাপ কম থাকে। কিন্তু এবার গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার সময়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছেন।

 

পরীক্ষার সময়সূচির সঙ্গে সংঘাত

মন্ত্রণালয়ের শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসটি পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল। ২০ নভেম্বর থেকে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষা চলবে। অন্যদিকে, দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষা (টেস্ট পরীক্ষা) অনুষ্ঠিত হবে ২৯ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিক্ষার্থীরা যখন চূড়ান্ত পড়াশোনা ও প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক সেই সময়ে নির্বাচনের আয়োজন করা হলে তা সরাসরি শিক্ষাব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট সকলে।

আরো পড়ুন

  1. পরের বাজেটে বাড়তে পারে শিক্ষকদের বরাদ্দ: শিক্ষা উপদেষ্টা 
  2. মাউশির ডিজি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খানের পদত্যাগ কেন ? 

শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ

শিক্ষকদের মতে, এই সময়ে তাঁরা প্রশ্নপত্র তৈরি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং পরীক্ষা পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকেন। এর সঙ্গে ভোটের প্রস্তুতি, বুথ স্থাপন ও নির্বাচন পরিচালনার বাড়তি চাপ শিক্ষকদের ওপর এসে পড়বে। অন্যদিকে, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ও পরিবেশগত কারণে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ বিঘ্নিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। অভিভাবকরাও সন্তানের পরীক্ষা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকার সময় নির্বাচনী প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়লে তার প্রভাব সন্তানের মানসিক চাপের ওপর পড়তে পারে।

 

তাড়াহুড়োর কারণ নিয়ে প্রশ্ন

দীর্ঘদিন ধরে দেশের বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটির নির্বাচন বকেয়া থাকলেও, পরীক্ষার ঠিক আগ মুহূর্তে এই নির্দেশ কার্যকরের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকরা। অনেকে ধারণা করছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই তড়িঘড়ি করে এই নির্বাচন এগিয়ে আনা হয়েছে।

এ বিষয়ে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, "স্কুল পরিচালনায় কমিটি জরুরি, তবে তা যেন শিক্ষার ক্ষতি করে না হয়। পরীক্ষার এই সংবেদনশীল সময়ে নির্বাচন আয়োজনের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক জানান, একই সময়ে নির্বাচন ও পরীক্ষা নিশ্চিতভাবেই শিক্ষার্থীদের অসুবিধায় ফেলবে। মন্ত্রণালয়ের উচিত— হয় নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করা, নতুবা পরীক্ষার রুটিনে পুনর্বিবেচনা করা। এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা বা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁদের কোনো সুস্পষ্ট মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

শিক্ষাবিদ ও সাধারণ অভিভাবকরা এখন জানতে চাইছেন—শিক্ষাব্যবস্থাকে ঝুঁকিতে ফেলে এই বিতর্কিত সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে কিনা।

মন্তব্য করুন

মাউশির ডিজি অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খানের পদত্যাগ: 'স্বাস্থ্যগত কারণ' নাকি 'অপমানবোধ'?

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান
অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা (মাউশি) অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান তাঁর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। গত ৭ অক্টোবর, মঙ্গলবার, তিনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে তাঁর পদত্যাগপত্র জমা দেন। যদিও পদত্যাগপত্রে 'স্বাস্থ্যগত কারণের' কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এই আকস্মিক পদত্যাগকে ঘিরে 'অপমানবোধের' একটি তীব্র গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।

অব্যাহতির আনুষ্ঠানিক কারণ: স্বাস্থ্যগত সমস্যা

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান তাঁর পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি ২০ ফেব্রুয়ারি মহাপরিচালকের পদে যোগদান করেছিলেন। কিন্তু "স্বাস্থ্যগত কারণে দায়িত্ব পালন আমার পক্ষে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তাই আমি মহাপরিচালকের দায়িত্ব হতে অব্যাহতি প্রার্থনা করছি।"

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, তিনি তাঁর আবেদনের সমর্থনে চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্রও জমা দিয়েছেন। এই আনুষ্ঠানিক কারণ অনুসারে, শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি শিক্ষা প্রশাসনের শীর্ষ এই পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

পদত্যাগের নেপথ্য কারণ: নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি বিতর্ক

অধ্যাপক ড. মুহম্মদ আজাদ খান পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাত্র একদিন আগে, ৬ অক্টোবর, সোমবার, শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশির মহাপরিচালক পদে নতুন নিয়োগের জন্য একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এই ঘটনাটিই মূলত বিতর্কের মূল কারণ।

  • নজিরবিহীন ঘটনা: মাউশির ইতিহাসে এমন নজির নেই যে, বর্তমান ডিজি দায়িত্বে থাকা অবস্থায়ই নতুন ডিজি নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

  • 'অপমানজনক' অনুভূতি: মাউশির একাধিক কর্মকর্তার নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, কর্মরত ডিজির উপস্থিতিতে এমন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করাকে অধ্যাপক ড. আজাদ খান 'অপমানজনক' বা 'অপমানিত' বোধ করেছেন। এই অপমানবোধ থেকেই তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

অর্থাৎ, যদিও পদত্যাগপত্রে স্বাস্থ্যগত কারণের কথা বলা হয়েছে, তবে ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে—নতুন ডিজি খোঁজার জন্য মন্ত্রণালয়ের 'নজিরবিহীন' বিজ্ঞপ্তিই তাঁর আকস্মিক অব্যাহতি চাওয়ার প্রধান কারণ।


 

ফেইসবুকে সাবেক ডিজির মন্তব্য

পদত্যাগের পরদিন, অধ্যাপক ড. আজাদ খান তাঁর ব্যক্তিগত ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে একটি স্ট্যাটাস দেন, যা আরও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও স্ট্যাটাসটি সরাসরি পদত্যাগ বা মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে ছিল না, তবে তাঁর একটি মন্তব্যে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, "জনবিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীর অনেককে (যারা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে) ভোগ করতে হবে।" এই ধরনের মন্তব্য তাঁর পদত্যাগের পেছনে প্রশাসনের সাথে অসন্তোষ বা বিরোধের আভাস দিচ্ছে।

বর্তমানে পদটি শূন্য হওয়ায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে নতুন মহাপরিচালক নিয়োগের মাধ্যমে মাউশির প্রশাসনিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ নেবে বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রম গতিশীল করার সাত দফা নির্দেশনা

 

 

ভূমিকা: শিক্ষার্থীদের মধ্যে সেবা, নেতৃত্ব ও সুনাগরিকত্বের গুণাবলী বিকাশে দেশের সকল মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কার্যক্রমকে আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সম্প্রতি সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে। গত সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) জারি করা এই অফিস আদেশে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের এই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাউশির সাত দফা নির্দেশনা:

গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রমের মানোন্নয়ন ও সঠিক পরিচালনা নিশ্চিত করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের জন্য নিম্নোক্ত সাতটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে:

১. ইউনিট গঠন ও নিয়মিত কার্যক্রম: প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার ইউনিট গঠন নিশ্চিত করতে হবে। ইউনিটগুলোকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, সেবামূলক কার্যক্রম এবং সভার আয়োজন করতে হবে।

২. বার্ষিক রিপোর্ট দাখিল: গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রমের বার্ষিক রিপোর্ট প্রতি বছর ৩১ জানুয়ারির মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক অফিসে এবং ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে মাউশিতে আবশ্যিকভাবে প্রেরণ করতে হবে।

৩. ত্রৈমাসিক রিপোর্ট দাখিল প্রক্রিয়া: প্রতি ত্রৈমাসিকের রিপোর্ট পরবর্তী মাসের ৫ তারিখের মধ্যে আঞ্চলিক অফিসে জমা দিতে হবে। আঞ্চলিক অফিসগুলো আবার এসব রিপোর্ট ১০ অক্টোবরের মধ্যে অধিদপ্তরের নির্ধারিত ই-মেইল (girlguides2025@gmail.com) ঠিকানায় পাঠাবে।

৪. প্রতিষ্ঠান প্রধানের দায়িত্ব: প্রতিষ্ঠান প্রধানকে নিয়মিতভাবে ইউনিট গঠন, প্রশিক্ষণ ও সেবামূলক কার্যক্রমের সভা আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রৈমাসিক ও বার্ষিক রিপোর্টগুলো নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে জমা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে।

৫. তহবিলের সঠিক ব্যবহার ও পরিশোধ: গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার, গার্ল ইন স্কাউট এর তহবিলে আদায়কৃত ফি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার গাইডারের যৌথ স্বাক্ষরে উত্তোলন করতে হবে এবং এই অর্থ কেবল গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার কার্যক্রমেই ব্যয় করা যাবে। এছাড়া, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত ফি সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট উপজেলা ও জেলা গার্ল গাইডস ও রেঞ্জারে নিয়মিত পরিশোধ করা আবশ্যক।

৬. কার্যক্রম পরিকল্পনা ও মনিটরিং: গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার গাইডারকে এক বছরের জন্য কার্যক্রমের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা তৈরি করে গ্রুপ কমিটির অনুমোদন নিতে হবে এবং সে অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। প্রতিষ্ঠান প্রধান এই কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কিনা তা নিয়মিত তদারকি করবেন।

৭. গাইডার নিয়োগ ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে সম্পৃক্ততা: যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার গাইডার নেই, প্রতিষ্ঠান প্রধান অতি দ্রুত সংশ্লিষ্ট জেলা বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে গাইডার নিয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। এছাড়াও, শিক্ষাঙ্গনে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার কাজে গার্ল গাইডস ও রেঞ্জার সদস্যদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সম্পৃক্ত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিক শিক্ষকদের ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ শুরু শনিবার

লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের ৪২ দিনব্যাপী ‘প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং’-এর তৃতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু হচ্ছে আগামী শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর)। দেশের ১৪টি সরকারি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে (টিটিসি) বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

এ ব্যাচে চারটি বিষয়ের প্রতিটিতে ৪০ জন করে মোট ১৬০ জন শিক্ষক প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন। প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রকল্প দপ্তর থেকে সরবরাহ করা তালিকা অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের আমন্ত্রণপত্র পাঠানোর পাশাপাশি টেলিফোনে যোগাযোগ করে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রশিক্ষণ শুরুর আগের দিন শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার মধ্যে প্রশিক্ষণকেন্দ্রে রিপোর্ট করতে হবে প্রশিক্ষণার্থীদের।

রিপোর্টিংয়ের সময় কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে আনতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে—বয়স যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, চাকরিতে প্রথম যোগদানের কপি, বেসরকারি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমপিও প্রাপ্তির আদেশের কপি অথবা সর্বশেষ মাসের আইবাস জেনারেটেড বেতন বিলের কপি এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানের দেওয়া প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের ছাড়পত্র। এসব কাগজপত্র ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্রে সংরক্ষণ করা হবে।

পুরোটা আবাসিক প্রশিক্ষণ

মাউশি জানিয়েছে, ৪২ দিনের এ কর্মসূচি সম্পূর্ণ আবাসিক। ফলে প্রশিক্ষণের পুরো সময় প্রশিক্ষণার্থীদের নির্ধারিত আবাসিক ব্যবস্থায় থেকে অংশ নিতে হবে। বিষয়টি প্রশিক্ষণার্থীদের আগেই জানিয়ে দিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রশিক্ষণের প্রথম এক সপ্তাহের খাবার ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নগদ অর্থ সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিতে বলা হয়েছে।

থাকবে কো-অর্ডিনেশন কমিটি

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থী গ্রুপের বিপরীতে একটি করে কো-অর্ডিনেশন কমিটি গঠন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রুপের প্রশিক্ষণ বাস্তবায়ন ও সমন্বয়ের মূল দায়িত্ব পালন করবে এই কমিটি।

সংশ্লিষ্ট টিটিসির মাস্টার ট্রেইনারদের মধ্য থেকে পর্যায়ক্রমে কমিটির সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ আয়োজন ও বাস্তবায়নে টিটিসির অন্যান্য অনুষদ সদস্য ও কর্মচারীদেরও কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, অনুমোদিত বাজেটের বিস্তারিত বিভাজন ও ব্যয় নীতিমালা অনুসরণ করেই প্রশিক্ষণের সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বাজেট অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ করতে হবে।

প্রশিক্ষণ শুরুর প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সব প্রশিক্ষণার্থীর হাতে প্রশিক্ষণ ম্যানুয়ালের কপি পৌঁছে দিতে হবে। একই সঙ্গে অনুমোদিত বাজেট অনুযায়ী প্রশিক্ষণার্থীদের আবাসন ও খাবারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট টিটিসিগুলোকে নির্দেশ দিয়েছে মাউশি।

মন্তব্য করুন

দারুল ইহসানের সনদধারী গ্রন্থাগার শিক্ষকদের তথ্য চাইল মাউশি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রন্থাগার ও তথ্যবিজ্ঞান বিষয়ে সনদ অর্জনকারী সহকারী শিক্ষকদের তথ্য চেয়েছে।

মাউশির সহকারী পরিচালক এস এম মোসলেম উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসের এমপিও কমিটির সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে এই তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

দারুল ইহসান থেকে সনদপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট ছক অনুযায়ী ই-মেইলের মাধ্যমে এই তথ্য মাউশিতে পাঠাতে হবে।

শিক্ষকদের যে সকল তথ্য জানাতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে:

  • জেলার নাম

  • শিক্ষকের নাম ও পদবি

  • কর্মস্থলের ঠিকানা

  • প্রতিষ্ঠানে যোগদানের তারিখ

  • দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্জিত সনদ ও ক্যাম্পাসের নাম

  • দারুল ইহসানের সনদের পরে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্য কোনো সনদ অর্জন করা হয়েছে কি না (যদি থাকে, সেই তথ্য)।

মন্তব্য করুন
×