সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের: মাউশি

সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং নতুন সাইবার সুরক্ষা আইন বা অধ্যাদেশ কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

বুধবার (২২ অক্টোবর) অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে মাউশি জানিয়েছে, তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের অবশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার এবং সাইবার স্পেসে আচরণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এই নীতিমালাগুলো অমান্য করলে তা সরকারি কর্মচারীর 'আচরণবিধি লঙ্ঘনের' শামিল হবে। এর পাশাপাশি এটি অনেক ক্ষেত্রে 'জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি' এবং 'শাস্তিযোগ্য অপরাধ' হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।

এক্ষেত্রে 'সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা, ২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)' এবং 'সাইবার সুরক্ষা আইন/অধ্যাদেশ, ২০২৫ (২৫ নং অধ্যাদেশ)'-এর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিজ্ঞপ্তিটি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সব আঞ্চলিক পরিচালক, সরকারি ও বেসরকারি কলেজ, মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বিজয়া দশমীতে ছাত্রদল নেতা তারিকের ভিন্নধর্মী কর্মসূচি

হিন্দুদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজার শেষ দিন ‘বিজয়া দশমী’ উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচির আয়োজন করেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম তারিক।

বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে তিনি ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীকে নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে ঐতিহ্যবাহী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন হল শাখা ছাত্রদলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্রদল নেতা তারিক পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে জগন্নাথ হলের প্রভোস্ট, আবাসিক শিক্ষক, হল সংসদের নির্বাচিত প্রতিনিধিসহ উপস্থিত সব সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছাত্রদলের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমানের পক্ষে হাতের লেখা চিঠির মাধ্যমে শুভেচ্ছা বার্তা ও গোলাপ ফুল প্রদান করেন।

শুভেচ্ছা বার্তায় লেখা রয়েছে- ‘শারদীয় দুর্গোৎসব আমাদের সংস্কৃতির যৌথ আনন্দের উৎস। ধর্মের ভিন্নতা থাকলেও হৃদয়ের বন্ধনে আমরা এক। আসুন মুসলিম-হিন্দু মিলেই তৈরি করি সম্প্রীতির সেই রঙিন দেশ। সবার আগে বাংলাদেশ।

 

এসময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তরিকুল ইসলাম তারিক বলেন, আমাদের সাংগঠনিক অভিভাবক তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম যার যার, বাংলাদেশ সবার। আমরা সেই আদর্শ ও নীতিতে বিশ্বাসী। তাই আমরা সবসময় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশে ছিলাম, এখনও আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব।

তিনি বলেন, আজ দুর্গাপূজার শেষ দিন তথা বিজয়া দশমীতে ঝড়-বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়া সত্বেও পূজামণ্ডপে গিয়ে আমরা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছি। এজন্য আমাদের সনাতনী ভাইবোনেরা আমাদেরকে স্বাগত জানিয়েছেন।

এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কাসেম প্রধান, রাকিব হোসেন, জুল হোসেন, সদস্য সাব্বির হোসেন, সূর্যসেন হল ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন ও তরিকুল ইসলাম তারেক, শেখ মুজিবুর রহমান হলের সদস্য তাহমিদ হুমায়ুন তানিম, ঢাবি ছাত্রদল কর্মী রুহুল আমিন, রাকিব হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় ও হল শাখার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সদস্য নূর হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের ফজলে রাব্বি রাদ, মুজতবা তাহমিদ মুবিন, মো. নাজমুল হক, মো. তানভিরুল ইসলাম, মহানগর দক্ষিণের মো. জুবায়ের হোসেন ও মো. ফাহাদ হোসেন, মহানগর পূর্বের মো. জাহিদ হাসান, মো. সোয়াইবুল ইসলাম রেম্পি, মুন্তাসির হাসনাত, মহানগর পশ্চিমের মো. মাহমুদুল হাসান এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আরাফাত হোসেন, ওসমান খান, ইউসুফ আহমেদ অপু, জামাল খান, আবদুল্লাহ আহমেদ তোফায়েল সহ অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

প্রক্সি দিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা, পিএসসিতে এসে ধরা যুবক

প্রক্সি পরীক্ষার্থী দিয়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করার অভিযোগে মো. রিপন হোসেন নামে এক যুবককে আটক করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)। তিনি মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অফিস সহায়ক পদে চাকরিতে যোগ দিতে পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হলে তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হয়। পরে পরিচয় যাচাই ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর তাকে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিএসসি।

পিএসসির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মো. রিপন হোসেন অফিস সহায়ক পদের প্রার্থী ছিলেন। তার রোল নম্বর ২১০১১৮৭। নিয়োগ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার চাকরিতে যোগদানের জন্য তিনি পিএসসি সচিবালয়ে উপস্থিত হন।

এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তার পরিচয় যাচাই করতে প্রবেশপত্রের ছবি এবং মৌখিক পরীক্ষার দিনের সিসিটিভি ফুটেজে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তার বর্তমান চেহারা মিলিয়ে দেখেন। এতে তার পরিচয় নিয়ে গুরুতর সন্দেহ তৈরি হয়।

বিষয়টি পিএসসির উপপরিচালক শোভন সমাদ্দারকে জানানো হলে তিনি উপসচিব ওয়াসিমুল বারীকে অবহিত করেন। পরে কর্মকর্তারা সম্মিলিতভাবে যাচাই-বাছাই ও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

পিএসসি জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রিপন হোসেন নিজেই স্বীকার করেন যে তিনি ওই নিয়োগের লিখিত ও মৌখিক—কোনো পরীক্ষাতেই নিজে অংশ নেননি। তার পরিবর্তে প্রক্সি পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল।

পিএসসির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থী ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে চাকরি লাভের অপচেষ্টার অভিযোগে তাকে আটক করে শেরে-বাংলা নগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

‘হতাশা ছিল বলেই পড়াশোনা করেছি, হতাশাকে নেগেটিভলি দেখি না’

উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শেষে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিক্ষার্থীরা। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর থেকে। এ সময়ে ভর্তিচ্ছুদের প্রস্তুতি ও কৌশল নিয়ে জানার আগ্রহও বাড়ছে।

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষায় নিজের সাফল্য, প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা ও ভর্তিচ্ছুদের জন্য পরামর্শ নিয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের মুখোমুখি হয়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জান্নাতুল আদন নুসরাত। ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের (বি ইউনিট) ভর্তি পরীক্ষায় তিনি ১২১তম স্থান অর্জন করেন। একই সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগেও ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে পছন্দের বিষয় ইংরেজি বিভাগ হওয়ায় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে বেছে নেন।

তার সঙ্গে কথা বলেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক আব্দুল্লাহ আল নাঈম।

ভর্তি পরীক্ষায় আপনার সাফল্যের খবর পাওয়ার মুহূর্তটি কেমন ছিল?

বেশ ভালো লেগেছিল। কারণ আমার ইচ্ছে ছিল ইংরেজি সাহিত্যে পড়ার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির সুযোগ পেয়েছিলাম। কিন্তু পছন্দের বিষয় ইংরেজি পাইনি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পছন্দের বিষয় পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই খুশি হয়েছিলাম।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি কতদিন আগে থেকে শুরু করেছিলেন এবং কীভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন?

গুছিয়ে পড়াটা কম হয়েছে বলা যায়। আসলে সেভাবে কোনো পরিকল্পনা ছিল না। মেডিকেল অ্যাডমিশন টেস্টের পর বন্ধুদের অনেকের চান্স হয়ে যায়। তখন যখন মনে হলো, আমাকে সার্ভাইভ করতে হবে, এরপর থেকে রাতদিন টানা পড়েছি।

আমার দরকার ছিল একটা সিট। ঠিক করেছিলাম, ইংলিশে যদি একশটা সিট থাকে, একটা আমার। আবার যদি দশটা সিটও থাকে, একটা যেকোনো মূল্যে আমারই।

প্রতিদিন গড়ে কত ঘণ্টা পড়াশোনা করতেন? আপনার পড়ার রুটিনটা কেমন ছিল?

শুরু থেকে বি ইউনিটের জন্য পড়িনি, তাই পরে আমার পড়ার চাপ একটু বেশি ছিল বলা যায়। যখন থেকে সিরিয়াস হয়েছি, বেসিক কাজকর্ম বাদ দিয়ে পুরোটা সময় পড়েছি। কোনো নির্দিষ্ট রুটিন ছিল না।

তিনটায় ঘুম ভাঙলেও তাহাজ্জুদ পড়ে পড়া শুরু করেছি। দুপুরেও পড়েছি। মোটকথা, যখন সুযোগ পেয়েছি তখনই পড়েছি।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় কোন বিষয়টি আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে? সেটি কীভাবে মোকাবিলা করেছেন?

সাধারণ জ্ঞান (জিকে) কঠিন মনে হয়েছে। এজন্য আমি সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছি জিকে অংশে। বারবার পড়তাম, ভুলে যেতাম, আবার পড়তাম। মনে হতো, যেন আমি পড়ছি ভুলে যাওয়ার জন্যই।

আপনার প্রস্তুতিতে কোন পদ্ধতিটি সবচেয়ে বেশি কাজে দিয়েছে?

সেভাবে কোচিং করা হয়নি। তবে নিজেকে যাচাই করার জন্য কোচিংয়ের মডেল টেস্ট গুরুত্বপূর্ণ। শুরুতে ব্যাখ্যাসহ বিসিএস প্রশ্নব্যাংক সমাধান করেছি। এরপর বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ববর্তী বছরের প্রশ্নব্যাংক সমাধান করেছি। এতে প্রশ্নের ধরন সম্পর্কে ভালো ধারণা হয়েছিল।

এরপর টপিকভিত্তিক পড়েছি। আগে থেকেই প্রশ্নব্যাংক সমাধান করায় বুঝতে পেরেছি কোন টপিক থেকে কেমন প্রশ্ন হয় এবং কোথায় কতটা গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নে কোন ধরনের অংশে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন এবং কীভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

আমি জিকে-তে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এটি পুরোপুরি মুখস্থনির্ভর একটি অংশ। ইংরেজি আমার জন্য প্লাস পয়েন্ট ছিল, কারণ শব্দভান্ডার ও গ্রামারে ভালো দখল ছিল। কিন্তু যখন জিকে অংশে যেতাম, তখন কিছুটা হতাশ হয়ে যেতাম। এ কারণে জিকে বেশি বেশি পড়তাম।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর জন্য কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সও পড়েছি।

পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা ও প্রশ্ন বাছাইয়ের ক্ষেত্রে আপনার কৌশল কী ছিল?

প্রথমে পুরো প্রশ্ন পড়ে গেছি। এক পলক দেখেই উত্তর করা যায়—এমন প্রশ্নগুলো আগে শেষ করেছি। যেগুলোর উত্তর সঙ্গে সঙ্গে করতে পারিনি, সেগুলোর পাশে পেন্সিল দিয়ে হালকা ডট দিয়েছি।

এরপর ডট দেওয়া প্রশ্নগুলো আবার পড়েছি এবং উত্তর করার চেষ্টা করেছি। যেগুলোর উত্তর করেছি, সেগুলোর ডট ইরেজার দিয়ে মুছে দিয়েছি। তৃতীয়বার সময় নিয়ে বাকি প্রশ্নগুলো চিন্তা করে উত্তর করেছি।

প্রস্তুতির সময় কখনো হতাশা বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতি তৈরি হয়েছিল? হলে কীভাবে নিজেকে সামলে নিয়েছেন?

পুরোটা সময়ই হতাশ ছিলাম। প্রায়ই কান্নাকাটি করতাম। তবে হতাশা ছিল বলেই আমি পড়াশোনা করেছি। তাই হতাশাকে আমি নেগেটিভভাবে দেখি না।

আপনার সাফল্যের পেছনে পরিবার, শিক্ষক বা বন্ধুদের ভূমিকা কতটা ছিল?

আব্বু-আম্মু নিয়মিত দোয়া করতেন। আম্মু কাউকে জোরে শব্দ করতে দিতেন না, যাতে আমার মনোযোগ নষ্ট না হয়। শিক্ষকদের কাছেও আমি কৃতজ্ঞ।

তবে ওই সময়টাতে বন্ধুদের সঙ্গে খুব বেশি কথা হয়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় বা বিভাগকে পছন্দ করার বিশেষ কারণ কী?

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ে সাবজেক্টকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাজবিজ্ঞান এসেছিল ডি ইউনিট থেকে। সেখানে ইংরেজি পাইনি। তাই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে চলে আসি।

বিভাগ পছন্দ করার কারণ ছিল—আমার উপন্যাস, কবিতা ও ছোটগল্প পড়তে ভালো লাগত। আউটবুক হিসেবে যেগুলো ভালো লাগে, সেগুলো একাডেমিক বই হিসেবে পড়তে আরও ভালো লাগবে—এমনটাই মনে হয়েছিল।

ভবিষ্যতে যারা ভর্তি পরীক্ষা দেবে, তাদের জন্য

মন্তব্য করুন

উপজেলা নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারিতে শিক্ষক পদায়নের দাবি

উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবনিয়োগপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষকদের পদায়নের দাবি জানিয়েছেন ২০২৫ ব্যাচের প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক। একই সঙ্গে পদায়ন প্রক্রিয়া সবার সামনে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানান শিক্ষকরা। সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া দাবিতে তারা বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন তারা। বর্তমানে বিভিন্ন জেলায় লটারির মাধ্যমে বিদ্যালয় নির্ধারণ করে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি জেলায় উপজেলাভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

শিক্ষকদের দাবি, উপজেলাভিত্তিক লটারির ফলে একই উপজেলার একজন শিক্ষককে নিজ বাড়ি থেকে অনেক দূরের কোনো বিদ্যালয়ে পদায়ন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। এতে যাতায়াতের সমস্যা, অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় এবং বিশেষ করে নারী শিক্ষকদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষকদেরও নানা বাস্তব জটিলতার মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তারা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষকতা পেশায় আসার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো নিজের এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাওয়া। বিশেষ করে নারী, বিবাহিত ও দুর্গম এলাকার প্রার্থীদের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পদায়ন ব্যবস্থাকে আরও মানবিক ও কার্যকর করা প্রয়োজন।

শিক্ষকদের দাবি, একটি উপজেলার সব বিদ্যালয়কে একত্রে বিবেচনা না করে ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দেওয়া হোক। এতে শিক্ষকরা তুলনামূলকভাবে নিজ এলাকার কাছাকাছি বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাবেন বলে মনে করেন তারা।

এ ছাড়া লটারি প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। কোন বিদ্যালয়ে কতটি শূন্যপদ রয়েছে, লটারি কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং কোন প্রক্রিয়ায় শিক্ষক নির্বাচন করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

লটারি প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন শিক্ষকরা। সম্ভব হলে শিক্ষক প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে সবার সামনে লটারি সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা, যাতে পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে কোনো ধরনের সংশয় বা প্রশ্নের সুযোগ না থাকে।

দুর্গম, হাওর, চর ও প্রত্যন্ত এলাকার বাস্তবতাকে পদায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়ে শিক্ষকরা বলেন, নেত্রকোণা, সুনামগঞ্জসহ হাওর ও দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষক এবং যাতায়াত-সুবিধাবঞ্চিত এলাকার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

নারী শিক্ষকদের জন্য নিরাপদ ও বাস্তবসম্মত পদায়ন নিশ্চিত করার দাবিও জানিয়েছেন তারা। দূরবর্তী বিদ্যালয়ে প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে নারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত যেসব বাস্তব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়, সেগুলো পদায়ন নীতিতে বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা বলেন, ‘আমরা কোনো অনিয়ম বা ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি করছি না; আমরা একটি স্বচ্ছ, ন্যায্য, মানবিক ও বাস্তবসম্মত পদায়ন ব্যবস্থা চাই।’

তাদের জোর দাবি, ‘উপজেলাভিত্তিক নয়, ইউনিয়ন বা ক্লাস্টারভিত্তিক লটারির মাধ্যমে পদায়ন দিতে হবে। লটারি হতে হবে সবার সামনে, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ পদ্ধতিতে।’

নবনিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বাস্তবতা ও ভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুত এ বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-২০২৫ ব্যাচের শিক্ষকরা।

মন্তব্য করুন

মেয়াদোত্তীর্ণ অ্যাডহক কমিটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সভাপতির দায়িত্ব দেবেন ইউএনও ও ডিসি — শিক্ষা মন্ত্রণালয়

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে সেই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) বা তার প্রতিনিধি পালন করবেন—এ নির্দেশনা দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

রবিবার (১৬ নভেম্বর) মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৫ নভেম্বর তারিখে স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি প্রকাশ করে।

নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়, হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং-১৬৭৫৭/২০২৫–এর প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ গত ৮ সেপ্টেম্বর যে পরিপত্র (যেখানে সংশোধিত প্রবিধানমালা-২০২৪ অনুযায়ী নিয়মিত বা অ্যাডহক কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছিল) জারি করেছিল, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত রয়েছে।

এ কারণে অন্তর্বর্তীকালীন ব্যবস্থা হিসেবে যেসব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সেখানে প্রবিধানমালা-২০২৪-এর অনুচ্ছেদ ৬৯ অনুযায়ী ইউএনও (উপজেলা পর্যায়) এবং ডিসি বা তার প্রতিনিধি (জেলা পর্যায়) সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

অফিস আদেশে দেশের ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা বাস্তবায়নের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ঘোষণা করেছিল যে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বর্তমান গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে বিলুপ্ত হবে। পরে বিষয়টি আদালতে গড়ালে সংশ্লিষ্ট পরিপত্র তিন মাসের জন্য স্থগিত হয়।

মন্তব্য করুন

ভাইভা শেষের দুই বছরের বেশি সময়েও ফল প্রকাশ হয়নি, দ্রুত নিয়োগের দাবি

মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশের দাবিতে রংপুরে চাকরিপ্রার্থীদের মানববন্ধন

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চার ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রার্থীরা।

যে চার পদের ফল আটকে

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। বিজ্ঞপ্তির আওতায় বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন।

তবে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। পদগুলো হলো—

  • প্রদর্শক—৫১৪টি

  • গবেষণা সহকারী—২১টি

  • সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার—৬৯টি

  • ল্যাবরেটরি সহকারী—৬টি

আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। কিন্তু ভাইভা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

‘আমরা অনিশ্চয়তায়’

মাউশির নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, ‘প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’

পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের ফল প্রকাশ হলেও চারটি ক্যাটাগরির ফল আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। একই নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতনীতি কেন হবে? আমাদের একবার মন্ত্রণালয়ে, আবার মাউশিতে পাঠানো হচ্ছে। আমরা যেন ফুটবলের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছি।’

চার দফা দাবি

স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—

১. অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা।
২. ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।
৩. নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া।
৪. নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা।

এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

ভাইভা শেষের দুই বছরের বেশি সময়েও ফল প্রকাশ হয়নি, দ্রুত নিয়োগের দাবি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ১০ম গ্রেডের চার ক্যাটাগরির ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ ও দ্রুত নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দাবিতে রংপুরে মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রংপুর মহানগরীর কাচারীবাজার এলাকায় শিক্ষা ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে এবং মাউশির আঞ্চলিক পরিচালকের মাধ্যমে মহাপরিচালকের কাছে স্মারকলিপি দেন চাকরিপ্রার্থীরা।

যে চার পদের ফল আটকে

চাকরিপ্রার্থীরা জানান, ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর ৪ হাজার ৩২টি পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে মাউশি। বিজ্ঞপ্তির আওতায় বিভিন্ন পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া শুরু হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪২২টি পদের নিয়োগপ্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিরা কর্মরত রয়েছেন।

তবে একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের ৬১০টি পদে এখনো চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি। পদগুলো হলো—

  • প্রদর্শক—৫১৪টি

  • গবেষণা সহকারী—২১টি

  • সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার—৬৯টি

  • ল্যাবরেটরি সহকারী—৬টি

আন্দোলনকারীদের দাবি, এসব পদের লিখিত পরীক্ষার ফল ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল প্রকাশ করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয়ে ৬ জুন শেষ হয়। কিন্তু ভাইভা শেষ হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

‘আমরা অনিশ্চয়তায়’

মাউশির নিয়োগ-২০২০ চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের সদস্য আকতারা আঁখি বলেন, ‘প্রদর্শক (উদ্ভিদবিদ্যা) পদে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার পর দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। ফলে দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ভাইভাতেও অংশ নিয়েছি। ৬১০টি পদের বিপরীতে প্রায় ৭ হাজার চাকরিপ্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এখন যদি ফল আটকে রাখা হয়, তাহলে আমাদের কী হবে? আমরা তো অন্যায্য কিছু দাবি করছি না।’

পরিষদের সভাপতি জোবায়ের আহমেদ বলেন, একই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অধিকাংশ পদের ফল প্রকাশ হলেও চারটি ক্যাটাগরির ফল আটকে রাখা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মাউশি ও মন্ত্রণালয়ে ঘুরেও তারা কোনো কার্যকর সমাধান পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমরা চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী। একই নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন দ্বৈতনীতি কেন হবে? আমাদের একবার মন্ত্রণালয়ে, আবার মাউশিতে পাঠানো হচ্ছে। আমরা যেন ফুটবলের মতো এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় ঘুরছি।’

চার দফা দাবি

স্মারকলিপিতে চাকরিপ্রার্থীরা চার দফা দাবি জানিয়েছেন। দাবিগুলো হলো—

১. অবশিষ্ট ৬১০টি পদের চূড়ান্ত ফলাফল অনতিবিলম্বে প্রকাশ করা।
২. ফল প্রকাশের পর নিয়োগসংক্রান্ত প্রশাসনিক ও অন্যান্য কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করা।
৩. নিয়োগপ্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রার্থীদের স্বচ্ছ ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়া।
৪. নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা।

এ বিষয়ে মাউশির রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের পরিচালক গোলাম মাজেদ বলেন, চাকরিপ্রার্থীরা তাদের দাবিগুলো লিখিতভাবে জানিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। পাশাপাশি মহাপরিচালকের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা করা হবে।

মন্তব্য করুন
×