Home লিড 1 মাধ্যমিকে অ্যাসাইনমেন্ট—মূল্যায়ন, নাকি বিড়ম্বনা

মাধ্যমিকে অ্যাসাইনমেন্ট—মূল্যায়ন, নাকি বিড়ম্বনা

3670
0

রেজাউল ইসলাম রেজা

করোনার বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনাসাপেক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে। এর আগে এইচএসসি পরীক্ষার পর মাধ্যমিকের জেএসসি ও সমমান পরীক্ষাও বাতিল করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা বিবেচনা করে সরকার প্রথাগতভাবে মাধ্যমিকে বার্ষিক পরীক্ষা না নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মাধ্যমিকের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে নবম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের অ্যাসাইনমেন্ট নিয়ে মূল্যায়ন করতে প্রজ্ঞাপন জারি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। নির্দেশনায় বলা হয়, নির্ধারিত বিষয়গুলোর প্রস্তাবিত অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়া, মূল্যায়ন করা, পরীক্ষকের মন্তব্যসহ শিক্ষার্থীদের তা দেখানো এবং প্রতিষ্ঠানে সেটি সংরক্ষণ করার কাজ আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। তাছাড়া ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সপ্তাহে তিনটি করে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে অ্যাসাইনমেন্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। অ্যাসাইনমেন্টের আওতায় ব্যাখ্যামূলক প্রশ্ন, সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন, সৃজনশীল প্রশ্ন, প্রতিবেদন প্রণয়ন ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাদা কাগজে নিজের হাতে লেখা অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে হবে; কিন্তু এই অ্যাসাইনমেন্ট পদ্ধতিতে ছাত্রছাত্রীদের মূল্যায়ন কতটা যথার্থ হবে, তা নিয়ে বেড়েছে আশঙ্কা।

দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, সব পর্যায়ের প্রায় ৬ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতির সম্মুখীন। যদিও এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে ছিল বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টেলিভিশন, কিশোর বাতায়নের মতো কিছু প্ল্যাটফরমে ডিজিটাল ক্লাসগুলোকে এমনভাবে আপলোড করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশের যে কোনো জায়গা থেকে ক্লাসগুলো দেখতে পায়; কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্যতা, নেটওয়ার্ক দুর্বলতাসহ নানা কারণে অনেকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত

বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা অ্যাসাইমেন্টের সঙ্গে পরিচিত থাকলেও, মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের কাছে এটা অপরিচিত একটি শব্দ। তাদের কাছে এটা একেবারেই নতুন। এ কারণে অনেক শিক্ষার্থীই তাদের টিউশন শিক্ষক বা বড়দের সাহায্য নিচ্ছেন। আবার হাতের মুঠোয় প্রযুক্তির সেবা থাকার কারণে একই অ্যাসাইনমেন্ট চলে যাচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থীর কাছে। মেসেন্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে তারা একই অ্যাসাইনমেন্ট একে অপরে আদানপ্রদান করছে। কেউবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিচ্ছে এই অ্যাসাইনমেন্ট। কিছু অসদুপায় ব্যক্তির কাছে এই মূল্যায়ন আশীর্বাদ মনে হলেও, অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়নের মূল যে উদ্দেশ্য তা ব্যাহত হচ্ছে। অনেক শিক্ষাবিদই এর বিপক্ষে মত দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যাসাইনমেন্ট মূল্যায়ন পদ্ধতি কেবল নামকাওয়াস্ত। তাদের মতে, শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো শেখানো। কোনো মতে মূল্যায়ন নিয়ে ওপরের ক্লাসে ওঠানো দায়সারা মনোভাব ছাড়া আর কিছু নয়। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় একটা লার্নিং গ্যাপ তৈরি হবে। এটা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের জন্য হুমকিস্বরূপ।

দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায়, সব পর্যায়ের প্রায় ৬ কোটি শিক্ষার্থী ক্ষতির সম্মুখীন। যদিও এই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের পক্ষ থেকে ছিল বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা। প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ টেলিভিশন, কিশোর বাতায়নের মতো কিছু প্ল্যাটফরমে ডিজিটাল ক্লাসগুলোকে এমনভাবে আপলোড করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা দেশের যে কোনো জায়গা থেকে ক্লাসগুলো দেখতে পায়; কিন্তু প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, দারিদ্র্যতা, নেটওয়ার্ক দুর্বলতাসহ নানা কারণে অনেকে এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত। এ কারণে তাদের পাঠ্যসূচি পুনর্বিন্যাস ও অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়নের ব্যবস্থা করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অর্জিত শিখনফলের দুর্বলতা চিহ্নিত করে পরবর্তী শ্রেণিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশা করলেও, এই মূল্যায়নের প্রকৃত উদ্দেশ্য কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। শিক্ষক—যিনি মানুষ গড়ার কারিগর, তিনিই যদি এরকম অনৈতিক কাজে শিক্ষার্থীদের উদ্বুদ্ধ করেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতাবোধ লোপ পাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। অপরদিকে সন্তানের সহজে ভালো ফলাফলের জন্য, অভিভাবকবৃন্দও এই নেতিবাচক কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। যা কখনোই কাম্য নয়।

লেখক :শিক্ষার্থী, কৃষি অনুষদ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here