Home মাধ্যমিক পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা!

পিছিয়ে যাচ্ছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা!

1010
0

করোনাভাইরাসের কারণে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসিসহ সমমানের পরীক্ষা পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে গত ১০ বছরের ধারাবাহিকতায় ফেব্রম্নয়ারিতে এসএসসি এবং এপ্রিলে এইচএসসিতে পরীক্ষা হচ্ছে না। শীতের করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চলতি বছর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হচ্ছে না বলেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে। তবে কতদিন পিছাবে এবং সিলেবাস কতটুকু কমবে, এ ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৭ নভেম্বর ২০২০, সোমবার এমনই একটি সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে জাতীয় দৈনিক যায় যায় দিনে। প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন নুর মোহাম্মদ ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সুপারিশের প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত হবে- এমনটি শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। গতকাল একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে এমন ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, নভেম্বর যদি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারতাম, তবে সঠিক সময় আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হতো। যেহেতু খোলা যায়নি, তাই অন্যান্য বছরের মতো আগামী বছর ফেব্রম্নয়ারি ও এপ্রিলে এই দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হবে না।

তবে কতদিন পিছাবে, এ ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেননি মন্ত্রী। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চলতি মাসের ১৪ তারিখের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সীমিত পরিসরে খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও করোনা পরিস্থিতি হঠাৎ অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে সরে আসা হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত মৌখিক কিছু ক্লাস ও প্র্যাকটিক্যাল ক্লাসগুলো নিতে পারলে সিলেবাস না কমিয়েও পূর্ণ নম্বরের পরীক্ষা নেওয়া যেত। কিন্তু সরকারের উচ্চমহল থেকে আপাতত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান না খোলার সিদ্ধান্ত এসেছে। এতে আগামী বছরের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা পিছানোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ব্যাপারে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, গত ১০ বছর ধরে এসএসসি এবং এইচএসসি পরীক্ষা যথাসময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। লাগাতার হরতাল, অবরোধের মধ্যেও এর ব্যতয় হয়নি। কিন্তু এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন।

যথাসময় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে কিনা, তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, এটি সরকারের উচ্চমহল এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। জানা গেছে, প্রতিবছর সাধারণত জুলাইয়ে দশম শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী ও অক্টোবরে নির্বাচনী পরীক্ষা হয়। দ্বাদশ শ্রেণির অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা জুলাই-আগস্টে ও ডিসেম্বরে নির্বাচনী পরীক্ষা হয়। আর নভেম্বরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণ ও ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে এইচএসসির ফরম পূরণ করা হয়। ইতোমধ্যে উভয় শ্রেণির প্রাক-নির্বাচনী পরীক্ষা বাতিল হয়ে গেছে। এ ছাড়া একাদশ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষাও হয়নি। একাদশ শ্রেণিতে কলেজপর্যায়ের বিভিন্ন ক্লাস টেস্ট আর অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় ‘অটোপাস’ দেওয়া হয়েছে। এ অবস্থায় তাদের আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষা আরও পিছিয়ে যাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের মতে, এসএসসি দুই বছরের প্রোগ্রাম হলেও ২৫ মাস পর পরীক্ষা হয়। বাস্তবে শিক্ষার্থীরা ১৭-১৮ মাস পাঠদান পায়। আর এইচএসসি দুই বছরের প্রোগ্রাম হলেও পাঠদান হয় ১৬ মাসের মতো। সেই হিসাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আগামী বছরের এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। সে জন্য অভিভাবকরা ইতোমধ্যে দাবি তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া করিয়ে পরীক্ষা দুটি নেওয়ার।

কারণ, এর সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকপর্যায়ে উচ্চশিক্ষারও সম্পর্ক রয়েছে। আমরা সেটি এনসিটিবিকে জানিয়েছি। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। করোনার কারণে শিক্ষাবর্ষে প্রায় এক বছরের গ্যাপ তৈরি হয়েছে। এখন সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা নিতে হলেও কমপক্ষে তিন মাস শিক্ষার্থীদের ক্লাস করাতে হবে। চলতি বছর যেহেতু প্রতিষ্ঠান খোলা সম্ভব হয়নি, তাই আপাতত তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ার চিন্তা করা হয়েছে। তবে জানুয়ারির মাঝামাঝিতে শীতের প্রকোপটা কমতে শুরু করে। ওই সময়ের করোনা পরিস্থিতির সব কিছুই নির্ভর করবে আগামী পরীক্ষা কোন মাসে হবে। বোর্ড চেয়ারম্যানরা বলছেন, ২০২১ সালে যারা এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা দিবেন, তারা এক বছর ক্লাস করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। যদিও তারা অনলাইনে ক্লাস করেছেন। কিন্তু বিজ্ঞান বিষয়ের প্র্যাকটিক্যালসহ আরও কিছু বিষয় থাকে, যেটা তারা পাননি।

সে জন্য শিক্ষার্থীদের কমপক্ষে হলেও তিন মাস সরাসরি ক্লাস করার সুযোগ দিতে হবে। এর মধ্যে নির্বাচনী পরীক্ষা, ফরম পূরণসহ আরও কিছু আনুসঙ্গিক বিষয়াদি সারতে হয়। এ ব্যাপারে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের চেয়ারম্যান জিয়াউল কবীর দুলু বলেন, এবার এইচএসসিতে অটোপাস দেওয়ায় আমরা ক্ষুব্ধ। তাই আগামীতে এসএসসি ও এইচএসসি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যক্রম শেষ করেই পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাব। প্রয়োজনে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হউক।

শিক্ষার নির্ভুল সংবাদ সবার আগে জানতে এডুকেশন বাংলার সাথে থাকুন। যুক্ত থাকুন ফেসবুক, টু্‌ইটারে। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল। যেখানে শিক্ষার সব ভিডিও পাওয়া যাবে।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here