Home কলেজ শিক্ষায় প্রকল্প : সন্দেহভাজনে শাস্তি পেল, অভিযুক্ত বহাল তবিয়তে

শিক্ষায় প্রকল্প : সন্দেহভাজনে শাস্তি পেল, অভিযুক্ত বহাল তবিয়তে

64
0

বিভিন্ন কৌশলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে। তদন্তে প্রমাণও মিলেছে। কিন্তু এই প্রকল্প পরিচালক এখনো বহাল তবিয়তে রয়েছেন! প্রকল্পের মূল দায়িত্বও পালন করে যাচ্ছেন। তবে অন্য একটি প্রকল্পে ‘অনিয়ম করার সুযোগ ছিল’ এমন অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে অন্য এক প্রকল্প পরিচালককে; এখন তিনি ‘ওএসডি’। দুটি প্রকল্পে বিপরীতধর্মী ব্যবস্থা গ্রহণ করায় শিক্ষা প্রশাসনে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অভিযুক্তদের যদি স্বপদে বহাল রাখা হয় তাহলে অনিয়ম ও দুর্নীতি বাড়তেই থাকবে।

এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে দৈনিক ইত্তেফাক। আর প্রতিবেদনটি তৈরি করেছেন সিনিয়র সাংবাদিক নিজামুল হক

প্রতিবদেন বলা হয়, ঢাকা শহরের নিকটবর্তী এলাকায় ১০টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থাপনে একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। এতে ৩০০ কোটি টাকা আত্মসাত্ হয়েছে—এমন অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রতিবেদনে দেখা যায়, অর্থ আত্মসাত্ হয়নি। তবে সম্ভাব্য প্রাক্কলন অতিরিক্ত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে তদন্ত প্রতিবেদনে। আর সেই অভিযোগেই তার বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক জন অতিরিক্ত সচিবকে সভাপতি করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, যদিও টাকাটি এখনো খরচ হয়নি বা সরকারের আর্থিক কোনো ক্ষতি হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, তবে যে কোনো দুর্নীতির শুরু হয় প্রাক্কলন তৈরির সময় থেকে। অর্থাত্ সঠিকভাবে চিহ্নিত না হলে বা ধরা না পড়লে এই টাকা যে কোনো চ্যানেলে সময়ের পরিক্রমায় সিন্ডিকেট কর্তৃক আত্মসাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে আত্মসাত্ হয়নি উল্লেখ করা হলেও দুর্নীতি হতে পারত, এমন সন্দেহে প্রকল্প পরিচালককে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরো চার কর্মকর্তাকে একই কারণে দায়ী করা হয়। যদিও তাদের বিরুদ্ধেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ঐ প্রকল্প পরিচালক ড. মো আমিরুল ইসলাম বলেন, প্রকল্পের সভায় অধিগ্রহণ বাবদ সম্ভাব্য প্রাক্কলন সংবলিত ডিপিপি সংশোধনের সব কার্যক্রম স্থগিত করে। তাছাড়া ভূমি অধিগ্রহণ নীতিমালা অনুযায়ী গাছপালার মূল্য নির্ধারণ করবে বন বিভাগ এবং ঘরবাড়ি বা স্থাপনার চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণ করবে গণপূর্ত বিভাগ। অধিগ্রহণযোগ্য আটটি প্রকল্পের জমির কোনোটিই এখন পর্যন্ত মূল্য নির্ধারণ পর্যায়ে যায়নি। সেক্ষেত্রে সম্ভাব্য দুর্নীতির পরিকল্পনার বিষয়টি অযৌক্তিক।

অন্যদিকে আইসিটির মাধ্যমে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার প্রচলন (দ্বিতীয় পর্যায়) প্রকল্পে প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তা তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে। এই প্রকল্পের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে এমন প্রমাণ পেয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি তদন্তে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ) তিন সদস্যের একটি কমিটি তদন্ত করে। তদন্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রকল্পে সরকারি ও সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে প্রশিক্ষণের সময়কাল ছিল মাত্র ৭৮ দিন। প্রশিক্ষণের ব্যাচ ১ হাজার ১২১টি। প্রতি ব্যাচে প্রশিক্ষণার্থী ছিল ৩০ জন। প্রতিটি প্রশিক্ষণের স্থায়িত্বকাল ছিল ছয় দিন ও ১২ দিন। ভেন্যু ছিল সারা দেশে ২০টি। বিস্ময়করভাবে ঐসব প্রশিক্ষণেই উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মো. সবুর খান! এভাবে তিনি গ্রহণ করেছেন ১৬ লাখ ৮১ হাজার ৫০০ টাকা। অথচ একজনের পক্ষে কখনোই একই দিনে বিভিন্ন জেলায় অনুষ্ঠিত এসব প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

যদিও বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কোর্সে তার ভিন্ন ভিন্ন স্বাক্ষর পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, জাদুমন্ত্র দিয়েই এভাবে সারা দেশে একই সময়ে দেশের একাধিক স্থানে একাধিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা যায়। এই কর্মকর্তা কীভাবে প্রতিটি অনুষ্ঠানে থেকেছেন তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে প্রমাণ হয়েছে, শুধু প্রশিক্ষণের সম্মানীই নয়, নিয়ম ভেঙে ভেন্যু ভাড়া প্রদান বাবদ সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে দেখানো হয়েছে প্রায় ২ কোটি টাকা। সেই টাকা নিয়মানুযায়ী ব্যাংকেও জমা করা হয়নি। প্রায় সব অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে নিয়মকানুনের কোনো তোয়াক্কাই করেননি তিনি। ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থ ছাড় করার ক্ষমতাপ্রাপ্ত হলেও সেটাও মানেননি। প্রশিক্ষণের জন্য মালপত্র কেনার ক্ষেত্রেও নেই দরপত্রের বালাই। নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা হচ্ছে কোটি কোটি টাকার প্রশিক্ষণসামগ্রী। এমনকি প্রশিক্ষণের জন্য যেসব মালপত্র কেনার কাগজপত্র দেখানো হয়েছে, তার সব পৌঁছায়নি প্রশিক্ষণস্থলে। এসব নানা অনিয়ম তদন্তে প্রমাণ মিললেও এই পরিচালক এখনো প্রকল্পটির দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে আনা এসব অভিযোগ সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক প্রফেসর ড. মো. সবুর খান বলেন, আমি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছি যে, কাগজপত্রের সঙ্গে ঐ তদন্তের কোনো মিল নেই।

তাহলে আপনার নামে কে টাকা তুলে নিয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সেটা আমি জানি না।

শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here