নীতিমালা লঙ্ঘন ও রাজনৈতিক চাপের অভিযোগ ওঠার পর কুড়িগ্রাম সদর উপজেলায় ১২ প্রাথমিক শিক্ষকের বিতর্কিত বদলি আদেশ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে বদলি আদেশের ত্রুটি সংশোধনে আগামী ৫ অক্টোবর উপজেলা পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট কমিটির সভা ডাকা হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ‘উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি’র সভাপতি মাহমুদুল হাসান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও কমিটির সদস্য সচিব আবু বকর সিদ্দীক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ১২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলির আদেশ দেয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক বদলির আবেদন যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তিকরণ বিষয়ক কমিটি। আদেশ প্রকাশের পরই অভিযোগ ওঠে, রাজনৈতিক চাপ ও আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নীতিমালা লঙ্ঘন করে প্রাপ্যতা না থাকা আটজন শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর তালিকায় পরিবর্তন করে নতুন নাম যুক্ত করার অভিযোগও ওঠে। ‘চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সঠিক নয়’ সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও বেলগাছা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসে গিয়ে বদলি তালিকা পরিবর্তনে চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমি অফিসে গিয়ে ইউএনও এবং শিক্ষা অফিসারকে ধন্যবাদ দিয়ে এসেছি। আমি কোনো চাপ প্রয়োগ করিনি। যারা অভিযোগ তুলেছেন তারা সঠিক বলেননি।’ তবে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দীক বলেন, বদলির আদেশ আপাতত স্থগিত রয়েছে এবং ইউএনও তাঁকে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি চেয়েছি বদলির আদেশটি বাতিল হোক। আগামী সোমবার কমিটি আবার সভা করে বদলি আদেশ সংশোধন করবে।’ বদলি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বদলি নিয়ে যেসব অভিযোগ উঠেছে তা আমি অস্বীকার করছি না। আমি অসহায়। চাপ নিতে পারছি না। আমাকে তালিকা দিয়ে স্বাক্ষর করতে বলা হয়েছে। আমি স্বাক্ষর করতে বাধ্য হয়েছি।’ এক সপ্তাহ আগে তিনি ওই উপজেলায় যোগ দিয়েছেন জানিয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষকদের ভালোভাবে না চেনায় তালিকা যাচাই করাও তাঁর জন্য কঠিন ছিল। তাঁর দাবি, আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে তিনি জড়িত নন এবং তিনি চেয়েছেন বদলি নীতিমালা অনুযায়ী হোক। ৫ অক্টোবর ফের সভা ইউএনও মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘প্রকাশিত বদলির আদেশ স্থগিত রয়েছে। আগামী সোমবার (৫ অক্টোবর) আবার সভার আহ্বান করেছি। বদলি আদেশের ত্রুটিসমূহ দূর করা হবে।’ যেসব অনিয়মের অভিযোগ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শূন্য পদে বদলির জন্য ৪৩ জন শিক্ষক আবেদন করেছিলেন। আবেদনের শেষ সময় ছিল ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টা। বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাই করে ১২ জন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে আটজনের ক্ষেত্রে নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, শূন্য পদ নেই এমন বিদ্যালয়েও শিক্ষক বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন, আবেদন না করা শিক্ষককে বদলি এবং আবেদনের সময় শেষ হওয়ার পর তালিকায় নতুন নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। বদলি তালিকায় দেখা গেছে, দ্বিতীয় ক্রমিকে থাকা বাশিরুল মুমিন খন্দকারের ক্ষেত্রে দুইজনের, তৃতীয় ক্রমিকে থাকা রোখসানা পারভীনের ক্ষেত্রে তিনজনের, চতুর্থ ক্রমিকে থাকা পাপড়ী রানীর ক্ষেত্রে ছয়জনের এবং অষ্টম ক্রমিকে থাকা ফরিদা বেগমের ক্ষেত্রে ১০ জনের জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া ১০ নম্বর ক্রমিকে থাকা আব্দুর রহিমকে পাঁচগাছি আশরাফিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। তবে শিক্ষা অফিসের শূন্য পদের তালিকায় ওই বিদ্যালয়ের নাম ছিল না। এমনকি তাঁর পছন্দক্রমেও বিদ্যালয়টির নাম ছিল না বলে জানা গেছে। সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ১২ নম্বর ক্রমিকে থাকা মাহমুদা আক্তারের বদলি নিয়ে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রকাশিত ৪৩ জন আবেদনকারীর তালিকায় তাঁর নাম নেই। এরপরও তাঁকে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আবেদনের তালিকা পরিবর্তন করে তাঁর নাম যুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, তালিকার পঞ্চম ক্রমিকে থাকা মনিরা আক্তারের চাকরি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও তাঁকে ২০১০ সালে যোগদান দেখিয়ে বদলির সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বঞ্চিত শিক্ষকদের অভিযোগ, রাজনৈতিক চাপ ও আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এসব অনিয়ম করা হয়েছে। তারা বিতর্কিত বদলি আদেশ বাতিল করে নীতিমালা অনুসারে নতুন করে বদলি আদেশ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীরা দ্রুত নিয়োগের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে জড়ো হন নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে গিয়ে অবস্থান নেন তারা। এ সময় দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানান আন্দোলনকারীরা। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রার্থী তানভীর রহমান বাপ্পারাজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা এক সরকারের আমলে পরীক্ষা দিয়েছি। বর্তমান সরকারের সময়ে নিয়োগ হচ্ছে বলে শুধু রাজনৈতিক রেষারেষির কারণে আমাদের বাদ দেওয়া হয়েছে কি না—এই প্রশ্নের উত্তর চাই।’ তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে আসিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে জড়াতেও আসিনি। আমরা আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এসেছি। নিয়োগপত্র না নিয়ে আমরা ঢাকা ছাড়ব না।’ পুনঃভেরিফিকেশন মানবেন না প্রার্থীরা চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ জানিয়েছে, পুনরায় ভেরিফিকেশনের নামে কোনো প্রহসন তারা মেনে নেবে না। যোগ্য প্রার্থীদের দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, ফৌজদারি অপরাধ, রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ড বা সনদ জালিয়াতির সঙ্গে জড়িতদের বাদ দিয়ে বাকি সব যোগ্য প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হোক। ১৪ হাজার ৩৮৪ জন সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। তবে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পরও বিভিন্ন জেলার অনেক প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। এ অবস্থায় দ্রুত নিয়োগপত্র দেওয়ার দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় অনিশ্চয়তায় পড়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত প্রার্থী। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া, যাচাই-বাছাই ও অন্যান্য ধাপ শেষ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র হাতে না পাওয়ায় হতাশ তারা। কেন চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকার পরও নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেশের অন্তত ৬৪ জেলার সহস্রাধিক প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তবে সব জেলার তথ্য পাওয়া না যাওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে দাবি করছেন তারা। প্রার্থীদের ভাষ্য, তাদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা অপরাধের অভিযোগ নেই। অনেকেই ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং পরিবারের সদস্যদেরও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সনদ যাচাইয়ের পরই তাদের চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল। এরপরও নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে পারছেন না তারা। ‘সরকারি চাকরির বয়স শেষ, এখন কী করব’ পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার প্রার্থী কামরুন নাহার দুই সন্তান ও সংসার সামলে দীর্ঘদিন সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নিয়েছেন। শেষ পর্যন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজারের বেশি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর তালিকায় তার নাম আসে। কিন্তু নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলেও তিনি তা পাননি। দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘আমার কাগজপত্রে কোনো সমস্যা ছিল না। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আমার পরিবারের কারও সম্পৃক্ততা নেই। ফলাফলও খারাপ ছিল না। তাহলে কেন নিয়োগপত্র পেলাম না?’ তিনি বলেন, ‘আমার সরকারি চাকরির বয়স শেষ। যেদিন আমার চাকরি হয়, তখন আমার বয়স ৩১ বছর ৯ মাস। এনটিআরসিএর সপ্তম শিক্ষক নিয়োগের গণবিজ্ঞপ্তিতেও আমার চাকরি হয়েছিল। কিন্তু এখানে চাকরি হবে ভেবে সেখানে যোগ দিইনি। এখন আমাকে নেওয়া হলো না—আমি কী করব?’ কাগজপত্র যাচাইয়ের বিষয়েও তিনি বলেন, ‘ডিইপি অফিসের কর্মকর্তারা আমার আবেদনপত্র ও অন্যান্য ডকুমেন্ট একাধিকবার নিয়েছেন। কোনো কাগজে ভুল বা অসঙ্গতি থাকলে তা সংশোধন করে আবার জমা দিতে হয়েছে। ভুল কাগজপত্র থাকার কোনো সুযোগ ছিল না।’ কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি আরও বলেন, ‘আট মাস ধরে সবাই জানে আমার সরকারি চাকরি হয়েছে। এখন নিয়োগপত্র পাইনি—এ কথা কীভাবে মানুষকে বলব? আমার পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে গেছে।’ নিয়োগের বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে অধিদপ্তর থেকে যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, সেভাবেই তারা কাজ করছেন বলে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। ‘কেন বাদ পড়েছি, কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না’ পাবনার চাটমোহর উপজেলার প্রার্থী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমার এমন কোনো কারণ নেই যে আমি নিয়োগপত্র পাব না। কেন পাইনি, এর কোনো কারণই খুঁজে বের করতে পারিনি। আমি ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। আমার পরিবারেরও কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই নিরীহ কৃষক পরিবারের সন্তান। আমার ভাইয়েরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করেন। আমাদের কোনো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নেই। কখনো আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডিও হয়নি।’ পাবনার আরেক প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডোপ টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র ঠিক ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও তিনি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। নিয়োগপত্র না পাওয়ার কারণ জানতে তিনি পুলিশ ভেরিফিকেশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ডিএসবি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তার দাবি, ডিএসবি কর্মকর্তারা তাকে জানিয়েছেন, তার রিপোর্ট ‘সম্পূর্ণ পজিটিভ’ এবং পাবনা জেলায় কোনো প্রার্থীকে নেতিবাচক রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলছেন কেউ কেউ ফরিদপুরের এক প্রার্থী মনে করছেন, স্থানীয় বিরোধের কারণে তার নিয়োগ আটকে যেতে পারে। তিনি জানান, পারিবারিক জমিজমা নিয়ে স্থানীয় কিছু ব্যক্তির সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। ডিএসবি ভেরিফিকেশনে তার কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি এবং তাকে ফোন করে ইতিবাচক রিপোর্টের কথাও জানানো হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলাম না। হলে থেকেও পড়াশোনা করেছি। সরকারি চাকরির প্রস্তুতি নেওয়াই ছিল মূল চিন্তা। স্বাভাবিকভাবেই ধরে নিয়েছিলাম আমার নিয়োগপত্র আসবে। কিন্তু আসেনি।’ অন্যদিকে কক্সবাজারের প্রার্থী রিদোয়ানুল হক জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত নন। তবে তার বাবা স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং বর্তমান কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন। নিজের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডি নেই বলেও দাবি করেন তিনি। ‘আমার বাবা-চাচাদের কেউ রাজনীতিতে নেই’ নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রার্থী আইনুল ইসলাম জানান, কেন তাকে নিয়োগ থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো কোনো কারণ জানতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘আমি বা আমার বাবা-চাচাদের কেউ রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নন। আমার বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা জিডিও নেই।’ তার ভাষ্য, জেলা শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়োগপত্রের তালিকা মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। ভেরিফিকেশনের কারণে যাদের নাম তালিকায় আসেনি, তাদের নিয়োগপত্র তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কুমিল্লার প্রার্থী ফারুকও চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর নিয়োগপত্র পাননি। তিনি বলেন, প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক এসেছে। ‘আমি কোনো রাষ্ট্রবিরোধী বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। সব পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ। তারপরও কেন নিয়োগপত্র পেলাম না, বুঝতে পারছি না,’ বলেন তিনি। পাবনার আরেক প্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা বলেন, ‘ছাত্রজীবনে আমি বা আমার পরিবারের কেউ রাজনীতিতে ছিল না। কোনো পুলিশি ঝামেলাও নেই।’ নিজের শিক্ষাজীবনের ফলাফল তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই ভালো ছাত্র। প্রাথমিকে বৃত্তি পেয়েছি, এসএসসি ও এইচএসসিতে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছি। অনার্সে ফার্স্ট ক্লাস। এরপরও আমার সঙ্গে এমনটা হচ্ছে।’ ১ অক্টোবর যোগদানের কথা, অনেকের হাতে নেই নিয়োগপত্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে ১৪ হাজারের বেশি চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীর অনুকূলে গত বৃহস্পতিবার নিয়োগপত্র জারি করা হয়। সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় থেকে সরাসরি অথবা ডাকযোগে প্রার্থীদের কাছে নিয়োগপত্র পৌঁছানোর কথা। নিয়োগপত্র পাওয়া প্রার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর নিজ নিজ জেলা শিক্ষা কার্যালয়ে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর থেকে পদায়ন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিতদের একটি অংশ এখনো নিয়োগপত্র না পাওয়ায় তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রায় ১২০০ থেকে ১৫০০ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি—দাবি এদিকে ‘চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক-২০২৫’ নামের একটি প্ল্যাটফর্মের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ভেরিফিকেশন শেষে প্রায় ১২০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে প্ল্যাটফর্মটি দাবি করে, প্রশাসনিক যাচাই-বাছাই বা ভেরিফিকেশনের কথা বলে সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই অনেক যোগ্য প্রার্থীকে চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। তবে আন্দোলনকারীদের আরেক প্রতিনিধি মো. লোকমানের দাবি, সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৫০০ প্রার্থীর নিয়োগপত্র ইস্যু হয়নি। সব জেলার তথ্য পাওয়া গেলে এ সংখ্যা আড়াই থেকে তিন হাজারে পৌঁছাতে পারে বলেও তিনি ধারণা করছেন। তিনি জানান, আগামী সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে সুপারিশবঞ্চিত প্রার্থীরা জড়ো হবেন। এরপর সেখান থেকে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সরকারের কাছে পাঁচ দাবি নিয়োগবঞ্চিত প্রার্থীদের প্ল্যাটফর্ম থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— ভেরিফিকেশনে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় পুনরায় যাচাই; তথ্যগত ভুল বা অসঙ্গতির ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থন ও প্রশাসনিক আপিলের সুযোগ; প্রশাসনিক ভুল বা কর্মকর্তার গাফিলতির কারণে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে নিয়োগ নিশ্চিত করা; চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত অথচ নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের বিষয়ে দ্রুত ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া; পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কী কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এবং কী প্রক্রিয়ায় সুপারিশপ্রাপ্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রকাশ করা। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না পাওয়ায় এখন দ্রুত বিষয়টির স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও সমাধানের অপেক্ষায় রয়েছেন এসব প্রার্থী।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক সংকট নিরসনে আগামী এক বছরের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) যশোর পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়, প্রাথমিক শিক্ষা এ কর্মশালার আয়োজন করে। ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক এ কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়। ববি হাজ্জাজ বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩০ হাজারের অধিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষক সংকট দূর করার পাশাপাশি শ্রেণি কার্যক্রম আরও কার্যকর এবং প্রতিটি শিশুর জন্য মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট থাকলে শ্রেণি কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। শিশুকেন্দ্রিক হবে প্রাথমিক শিক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে শিশু ও তার শেখাকে রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শুধু বিদ্যালয়ের ভবন ও অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না। প্রতিটি শিশুর কার্যকর শেখা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং বাস্তব জীবনের উপযোগী সক্ষমতা অর্জন নিশ্চিত করতে হবে। শিশুরা কী শিখছে, কতটা শিখছে এবং শেখা বিষয় বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করতে পারছে কি না—তা নিয়মিত যাচাই ও মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়ন করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্য শুধু বই পড়ানো নয় উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, প্রতিটি শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলাই হবে মূল লক্ষ্য। চালু হবে ‘স্পিকিং টেস্ট’ শিশুদের পড়াশোনার পাশাপাশি যোগাযোগের দক্ষতা বাড়াতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিশু নিজের কথা কতটা স্পষ্টভাবে বলতে পারছে এবং যোগাযোগ করতে পারছে কি না, তা যাচাইয়ে ‘স্পিকিং টেস্ট’ চালু করা হবে। এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু বিদ্যালয়ে গিয়ে কার্যকরভাবে শিখবে, নিজের কথা বলতে পারবে এবং ভবিষ্যতের জন্য আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজের আহ্বান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিক্ষা-ভাবনা ও নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির আলোকে কার্যকর, মানসম্মত ও শিশুকেন্দ্রিক প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে বলেও জানান ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, বিশেষ করে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে যে স্বপ্ন জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, তা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যেখানে প্রতিটি শিশু শুধু বিদ্যালয়ে যাবে না, কার্যকরভাবে শিখবে। শিশুর জ্ঞান, দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠাই হবে এ কার্যক্রমের সবচেয়ে বড় অর্জন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. মতিয়ার রহমান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন এবং খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক, প্রাথমিক শিক্ষা ড. মো. শফিকুল ইসলাম। এ ছাড়া খুলনা বিভাগের সব জেলার জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তারা কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে আগামী বছর থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এর আওতায় দেশের প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ শিক্ষার্থীকে খাবার দেওয়া হবে। সোমবার (৩১ আগস্ট) দিনাজপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্প নিয়ে প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্কুল ফিডিং কর্মসূচির সাফল্য শুধু কতসংখ্যক শিশুকে খাবার দেওয়া হলো, তার ওপর নির্ভর করবে না। বরং খাবার দেওয়ার মাধ্যমে কতজন শিশু নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে, ঝরে পড়ার হার কতটা কমছে এবং শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ও শেখার আগ্রহ কতটা বাড়ছে—এসব সূচকের ভিত্তিতেই কর্মসূচির কার্যকারিতা মূল্যায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, ‘২০২৭ সাল থেকে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে।’ কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে বাস্তব ফলাফল যাচাই এবং নিয়মিত মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথাও জানান তিনি। ভুল খোঁজা নয়, সমাধান করাই লক্ষ্য ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আমরা ভুল খুঁজে কাউকে দোষারোপ করার জন্য কাজ করছি না। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, কেন হচ্ছে এবং কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, সেটি চিহ্নিত করাই আমাদের উদ্দেশ্য।’ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সুপারিশকে গুরুত্ব দিয়ে কর্মসূচির দুর্বলতা চিহ্নিত ও দূর করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে স্কুল ফিডিং কর্মসূচিকে আরও কার্যকর করতে নিয়মিত তদারকি ও মূল্যায়নের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী। বিদ্যালয়ে আসবে, থাকবে ও শিখবে প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আনা, ধরে রাখা এবং শেখার বিষয়টি একসঙ্গে নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসবে, বিদ্যালয়ে থাকবে এবং শিখবে—এই তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে।’ শুধু বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়ালেই হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, উপস্থিত শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে সত্যিকার অর্থে শিখছে কি না, সেটিও নিয়মিত যাচাই করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও কার্যকর, শিশুবান্ধব ও ফলাফলভিত্তিক করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না। বিদ্যালয়ে আসা প্রতিটি শিশু যাতে মানসম্মত শিক্ষা লাভের সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ৪৫০ প্রধান শিক্ষক দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইসরাত জাহান, স্কুল ফিডিং প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন এবং দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা। অনুষ্ঠানে দিনাজপুর জেলার প্রায় ৪৫০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকা, সরকারি দায়িত্বের পরিবর্তে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেওয়া, বিদ্যালয় পরিদর্শনে অনিয়ম এবং বিভিন্ন কাজের জন্য শিক্ষকদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিদ্যালয়ের বিভিন্ন বরাদ্দ থেকেও শতাংশ হারে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক। অভিযোগকারীদের দাবি, ফরিদগঞ্জে কর্মরত হলেও মো. শাহাদাত হোসেন নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায়। সেখানে ‘এক্সপোর্ট ফ্যাশন কর্নার’ নামে একটি পোশাকের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। কয়েকজন শিক্ষকের অভিযোগ, সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি ওই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক বলেন, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়মিত বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান না। তবে পরিদর্শনে গেলে প্রতি ভিজিটে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসাজনিত ছুটির সুপারিশের জন্য ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা এবং মাতৃত্বকালীন ছুটির সুপারিশের জন্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তাদের। শিক্ষকদের আরও অভিযোগ, বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করানোর ক্ষেত্রেও অর্থ দাবি করা হয়। হাতে নগদ টাকা না থাকলে পরে বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানোর কথা বলা হয় বলেও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেছেন। বরাদ্দের অর্থ থেকেও টাকা নেওয়ার অভিযোগ অভিযোগকারীদের দাবি, ৫ আগস্টের পর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন বিদ্যালয়ে এডহক কমিটির মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনার সময় সংশ্লিষ্ট ক্লাস্টারের উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে শাহাদাত হোসেন সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। বিদ্যালয়ের ব্যাংক হিসাব থেকে বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনে সভাপতির স্বাক্ষর প্রয়োজন হওয়ায় প্রতিটি চেকে তিনি ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নিতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া প্রাক-প্রাথমিক, রুটিন মেইনটেন্যান্স ও ওয়াশব্লক মেইনটেন্যান্সসহ বিভিন্ন খাতের বরাদ্দ থেকে তিনি ২০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দাবি করতেন বলে অভিযোগ শিক্ষকদের। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ফরিদগঞ্জ উপজেলার নয়টি বিদ্যালয় ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ পায়। অভিযোগ রয়েছে, শাহাদাত হোসেনের দায়িত্বাধীন ক্লাস্টারের বরাদ্দ পাওয়া বিদ্যালয়গুলোর কাছ থেকেও ২০ শতাংশ হারে অর্থ নেওয়া হয়েছে। এতে কেউ আপত্তি করলে তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলেও কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন। চির্কা ক্লাস্টারের কয়েকজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিভিন্ন কাজে উপজেলা শিক্ষা অফিসে গেলে অনেক সময় তারা শাহাদাত হোসেনকে পান না। তিনি রামগঞ্জে তার পরিবারের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সময় দেন বলে তারা শুনেছেন। এসিআর নিয়েও অভিযোগ শিক্ষকদের অভিযোগ, বার্ষিক গোপনীয় অনুবেদন (এসিআর) সংক্রান্ত কাজেও অর্থ নেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসিআরের প্রতিটি পাতার জন্য ১০০ টাকা করে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক আরও বলেন, শাহাদাত হোসেন এর আগে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে কিছু সময় ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা কর্মকর্তার দায়িত্বও পালন করেন তিনি। ওই সময়ও শিক্ষকদের হয়রানি এবং বিভিন্ন কাজে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বলে দাবি তাদের। যা বলছেন শাহাদাত হোসেন অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, তাদের পারিবারিক একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আগে তার বাবার নামে ছিল। গত জানুয়ারিতে তার বাবা মারা যাওয়ার পর বর্তমানে ছোট ভাইসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা সেটি দেখাশোনা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের পারিবারিক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আছে। এটি আমার বাবার নামে ছিল। বর্তমানে আমার ছোট ভাইসহ পরিবারের অন্যরা ব্যবসাটি দেখাশোনা করছে। তবে ব্যবসার অবস্থা ভালো নয়। যেকোনো সময় এটি ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। অফিস সময়ে ব্যবসাটি আমি পরিচালনা করি না।’ ঘুষ নেওয়া ও বিভিন্ন সুপারিশের বিনিময়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ঘুষ-বাণিজ্য কিংবা শিক্ষকদের বদলি ও বিভিন্ন সুপারিশের ক্ষেত্রে অর্থ নেওয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে, তার কোনো সত্যতা নেই। এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমি জড়িত নই। কর্তৃপক্ষ চাইলে বিষয়টি তদন্ত করতে পারে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।’ শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বদলির জন্য একটি কমিটি রয়েছে। সেখানে আমার কোনো সম্পৃক্ততার সুযোগ নেই। আমি এখানে যোগ দেওয়ার পর এক বছর দুই মাস হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষকের এসিআরে আমি একটি স্বাক্ষরও দিইনি।’ অভিযোগ পেলে তদন্তের কথা শিক্ষা কর্মকর্তার এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শিরিন সুলতানা বলেন, ‘সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে আমার কাছে কখনো এসব অভিযোগ কেউ দেয়নি। কোনো শিক্ষক আমাকে এ বিষয়ে বলেননি।’ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একবার এ ধরনের একটি কথা উঠেছিল। তখন জিজ্ঞেস করে জানতে পেরেছিলাম, ব্যবসাটি তার বাবার নামে।’ অফিস সময়ে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ আছে কি না জানতে চাইলে শিরিন সুলতানা বলেন, ‘অফিসে কাজের অনেক চাপ থাকে। এখানে সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকতে হয়। অফিসের দায়িত্ব রেখে অন্য কোনো কাজ করার সুযোগ থাকার কথা নয়। তবে যে ব্যবসার কথা বলা হচ্ছে, সেটি তার নিজের নামে নয়। তার বাবার নামে লাইসেন্স রয়েছে বলে জানতে পেরেছি।’ অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা হবে। কাজ করতে গেলে কারও ত্রুটি, ভুল, অন্যায় বা অনিয়ম হতেই পারে। কেউ যদি বিষয়টি আমাকে জানান, তাহলে আমি সেটি আমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে শেয়ার করব।’
দেশে নতুন কোনো শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, ২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি অনুসরণ করেই প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের জন্য পৃথক নীতিমালা প্রণয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শহীদ সাটু হলে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও ফিডিং কর্মসূচি নিয়ে আয়োজিত ওরিয়েন্টেশন সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে পৃথক ‘টিচার পলিসি’ তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে সঠিক মনিটরিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে পৃথক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও চলছে। কারিকুলামে পরিবর্তন প্রাথমিক শিক্ষার কারিকুলামে কিছু পরিবর্তন আনা হচ্ছে জানিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বাংলা ও গণিতের মতো মৌলিক বিষয়গুলোর ওপর আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে পাঠ্যক্রমে ‘সিভিক’ ও ‘অ্যাক্টিভ এডুকেশন’ যুক্ত করা হচ্ছে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমও কারিকুলামের অংশ করা হবে বলে জানান তিনি। ৬৫ হাজারের বেশি স্কুলে ফিডিং কর্মসূচি প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুকে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসা এবং তাদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের ৬৫ হাজারের বেশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিগগিরই ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচি চালু করা হবে। আগের স্কুল ফিডিং কর্মসূচির ভুলত্রুটি চিহ্নিত করে সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন কর্মসূচিকে আরও কার্যকর ও ফলপ্রসূ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোহাম্মদ মুসার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীলঙ্কা ও ভারতের তামিলনাড়ুর অভিজ্ঞতা অনুসরণ করে বাংলাদেশেও মায়েদের সম্পৃক্ততায় শিশুদের জন্য রান্না করা খাবার সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই রান্না করা খাবার সরবরাহের একটি পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। বুধবার (২৬ আগস্ট) চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহীদ সাটু হলে আয়োজিত ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ প্রকল্পের আওতায় প্রধান শিক্ষকদের ওরিয়েন্টেশন ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্থানীয় বাজার থেকে শাকসবজি, ডিম, মাছসহ প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করে মায়েদের দায়িত্বে রান্না ও সরবরাহের মাধ্যমে কার্যক্রমটি পরিচালনার সম্ভাব্য বিভিন্ন মডেল পরীক্ষা করা হবে। পদ্ধতি একাধিক হতে পারে, তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর কাছে সঠিক সময়ে নিরাপদ, মানসম্মত ও পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়া। মায়েদের নজরদারিতে কমছে অনিয়ম মিড-ডে মিল কর্মসূচি প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ বলেন, মাদারস কমিটির কার্যকর নজরদারির কারণে প্রকল্পটিতে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। স্থানীয় পর্যায়ে মায়েদের সরাসরি সম্পৃক্ততা খাবারের মান, সরবরাহ ও বিতরণে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। তিনি বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে মাদারস কমিটিকে আরও সক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। খাবারের গুণগত মান, গন্ধ, স্বাদ কিংবা সরবরাহে কোনো অসঙ্গতি দেখা গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রত্যাখ্যান করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। মায়েদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে মিড-ডে মিল কার্যক্রম আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠছে। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও নিয়োগে পরিবর্তন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দুটি প্রধান লক্ষ্য হলো—কোনো শিশু বিদ্যালয়ের বাইরে থাকবে না এবং প্রত্যেক শিশুকে মানসম্মত শিক্ষা দিতে হবে। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক ও শিক্ষা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণি কার্যক্রম, শেখার অগ্রগতি এবং শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। ববি হাজ্জাজ বলেন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়ার প্রয়োজন কমবে এবং শিক্ষক সংকটও তৈরি হবে না। পাশাপাশি মূল্যায়নভিত্তিক পদোন্নতি, নতুন বদলি নীতি এবং শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। দুর্গম এলাকার শিক্ষকদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ভিত্তিক দুর্গম ভাতা দেওয়ার বিষয়েও নতুন নীতিমালায় ব্যবস্থা রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সংকট নিরসনে শূন্য পদ পূরণ, প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিশ্চিত করার কাজ এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোতে নাইটগার্ড ও এমএলএসএসসহ প্রয়োজনীয় জনবল দেওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য স্কুল অবকাঠামো প্রাথমিক শিক্ষার অবকাঠামো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে যেসব বিদ্যালয় বারবার স্থান পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকে, সেসব এলাকায় স্থানান্তরযোগ্য অবকাঠামোর মডেল নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত বিভিন্ন মডেল পর্যালোচনা করে সরকারি ব্যবস্থায় তা প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে কারিকুলাম, শিক্ষক, মনিটরিং, অবকাঠামো ও প্রযুক্তি—এই পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে সংস্কার ও উন্নয়ন করতে হবে। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে শুধু একটি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনলেই হবে না উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, পাঠ্যক্রমকে যুগোপযোগী করা, দক্ষ ও দায়িত্বশীল শিক্ষক নিশ্চিত করা, কার্যকর মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নত করা এবং প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। এই পাঁচ ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগই প্রাথমিক শিক্ষায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তনের মূল চাবিকাঠি। অনুষ্ঠানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা জঙ্গীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. হারুনুর রশীদ ও ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক মো. আবুল আমিন। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতার অবসান হওয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজারের বেশি শূন্য প্রধান শিক্ষক পদ পূরণের পথ খুলেছে। এসব পদে কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের পদোন্নতি দিতে মাঠপর্যায়ে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। গ্রেডেশন তালিকা তৈরির পর তা প্রকাশ করে আপত্তি ও অভিযোগ জানানোর সুযোগ দেওয়া হবে। অভিযোগ থাকলে তা যাচাই-বাছাই ও নিষ্পত্তি শেষে চূড়ান্ত তালিকা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। এরপর অধিদপ্তর থেকে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তালিকা সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) পাঠানো হবে। পিএসসির অনুমোদন পাওয়া গেলে প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পরবর্তী কার্যক্রম শুরু হবে। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পলিসি অ্যান্ড অপারেশন বিভাগের পরিচালক মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি নিয়ে মামলা চলছিল। সেই আইনি জটিলতা এখন নিষ্পত্তি হয়েছে। বর্তমানে মাঠপর্যায়ে পদোন্নতির জন্য গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। তিনি বলেন, গ্রেডেশন তালিকা অনলাইনে উন্মুক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন ইউনিটে তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলছে। তালিকা তৈরির পর নোটিশ দিয়ে ৩০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ না এলে সংশ্লিষ্ট তালিকা অধিদপ্তরে পাঠানো হবে। পরে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা পিএসসিতে পাঠানো হবে। তিন মাসে প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে এই সময়ের মধ্যে পদোন্নতি কার্যকর হবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া সম্ভব নয়। মীর আব্দুল আউয়াল আল মেহেদী বলেন, সব জেলা থেকে গ্রেডেশন তালিকা আসতে হবে। সব তালিকা হাতে পাওয়ার পরই পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। তবে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। ৮০ শতাংশ পদে হবে পদোন্নতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ পূরণে পদোন্নতিকে বড় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ২০২৫ সালের সংশোধিত নিয়োগবিধিতে। বিধি অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষক পদের ৮০ শতাংশ পদ পদোন্নতির মাধ্যমে এবং বাকি ২০ শতাংশ সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে পূরণ করা হবে। পদোন্নতির জন্য সহকারী শিক্ষক পদে অন্তত ১২ বছরের চাকরির অভিজ্ঞতাসহ নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। ফলে বর্তমানে শূন্য থাকা ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক পদের বড় অংশই কর্মরত সহকারী শিক্ষকদের মধ্য থেকে পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণ করা হবে। সরকারের পক্ষ থেকেও দ্রুত পদক্ষেপ প্রধান শিক্ষক সংকট নিরসনে সরকার দ্রুত কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিপুলসংখ্যক প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এ-সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে এবং শিগগিরই পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হবে। এ ছাড়া চট্টগ্রামের প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের এক কর্মশালায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজারের বেশি প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পর সহকারী শিক্ষকের যেসব পদ শূন্য হবে, সেসব পদেও নতুন করে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি। যে আইনি জটিলতায় আটকে ছিল পদোন্নতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদ দীর্ঘদিন ধরেই শূন্য রয়েছে। তবে পদোন্নতির ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চাকরির জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নিয়ে মামলা। ২০১৩ সালে দেশের বিপুলসংখ্যক বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়। এসব বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সরকারি চাকরিতে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর তাদের আগের চাকরিকাল, জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি কীভাবে নির্ধারিত হবে—তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এ-সংক্রান্ত বিধিমালার জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতির বিধান চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা করা হয়। এর ফলে কারা জ্যেষ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হবেন এবং সেই জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে কারা প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পাবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। আটকে যায় বড় পরিসরে পদোন্নতির কার্যক্রম। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর গত ২ জুলাই আপিল বিভাগ জাতীয়করণকৃত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা ও পদোন্নতি-সংক্রান্ত বিধানের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল মঞ্জুর করেন। এর ফলে হাইকোর্টের রায়ের কারণে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান হয় এবং প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ খুলে যায়। এখন জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে গ্রেডেশন তালিকা তৈরির মাধ্যমে সেই পদোন্নতি কার্যক্রমই এগিয়ে নিচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর।
“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি. আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা। এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক। পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি। ৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।” অন্যান্য কোটাগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে— মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫% শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০% বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২% অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫% এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান। কোটা নিয়ে মতভেদ মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।” নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে মাউশির মহাপরিচালক বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”