বগুড়ায় আরও এক বেসরকারি স্কুল সরকারি, বদলেছে নাম

বগুড়ার গাবতলী উপজেলার গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারি করা হয়েছে। সরকারি হওয়ার পর বিদ্যালয়টির নাম পরিবর্তন করে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলাধীন গাবতলী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়টি ২৭ আগস্ট ২০২৬ থেকে ‘গাবতলী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো। প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে।

তবে আত্তীকৃত শিক্ষক ও কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে, গত ২৫ আগস্ট বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’কেও সরকারি করা হয়। ওই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ করা হয়েছে।

২৫ আগস্ট জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ বা ২৫ আগস্ট ২০২৬ থেকে বিদ্যালয়টি ‘শিবগঞ্জ সরকারি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়’ নামে সরকারি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী বিদ্যালয়টির শিক্ষক ও কর্মচারীদের আত্তীকরণ করা হবে। তবে আত্তীকৃত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি বদলিযোগ্য হবে না।

মন্তব্য করুন

আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

অবসরভাতা না পেয়ে অনিশ্চয়তায় ৮৮ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী

অবসরে যাওয়া শিক্ষক
অবসরে যাওয়া শিক্ষক

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৮ হাজার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী চার বছর ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধা পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। নিয়মিত চাঁদা দেওয়া সত্ত্বেও অবসরের পর তারা প্রাপ্য অর্থ পাচ্ছেন না। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী অবসরের ছয় মাসের মধ্যে ভাতা পরিশোধ করার কথা থাকলেও পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় তা বাস্তবায়ন করতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্ট জানিয়েছে, জমে থাকা আবেদন নিষ্পত্তিতে এখনই প্রয়োজন প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু সম্প্রতি সরকার দিয়েছে মাত্র ২ হাজার ২০০ কোটি টাকা—যার মধ্যে ২ হাজার কোটি টাকা বন্ড আকারে অবসর সুবিধা বোর্ডে এবং ২০০ কোটি টাকা অনুদান হিসেবে কল্যাণ ট্রাস্টে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই টাকায় পরিস্থিতি সাময়িকভাবে সামাল দেওয়া সম্ভব হলেও সংকট নিরসন হবে না। বর্তমানে একটি আবেদন নিষ্পন্ন হতে গড়ে আড়াই বছর সময় লেগে যাচ্ছে।

এদিকে, আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে চিকিৎসা ব্যয়, সন্তানদের লেখাপড়া, বিয়ে বা হজ-ওমরাহর খরচ জোগাতে হিমশিম খাচ্ছেন। কেউ কেউ ধারদেনা করে চলছেন, আবার অনেকে টাকা না পেয়ে মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা প্রাপ্য পাওয়ার জন্য ছুটছেন।

শিক্ষাবিদরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন না হলে শিক্ষকদের পেশাদারিত্ব ও সমাজে তাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। তরুণ প্রজন্মও শিক্ষা পেশায় আগ্রহ হারাতে পারে। তাদের মতে, শিক্ষা খাতকে অগ্রাধিকার না দিয়ে অন্যান্য খাতে অতিরিক্ত ব্যয় করাতেই এই সংকট তৈরি হয়েছে।

অবসর সুবিধা বোর্ডের হিসাবে, বর্তমানে ৪৫ হাজার আবেদন অনিষ্পন্ন, যার জন্য প্রয়োজন ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। অন্যদিকে, কল্যাণ ট্রাস্টে ৪২ হাজার ৬০০ আবেদন জমে আছে, যা নিষ্পত্তি করতে লাগবে প্রায় ৩ হাজার ৯৩০ কোটি টাকা। অথচ বোর্ডের মাসিক চাহিদা ৬৫ কোটি টাকা হলেও জমা হয় মাত্র ৫৫ কোটি টাকা, ফলে প্রতিবছর প্রায় ১২০ কোটি টাকার ঘাটতি তৈরি হচ্ছে।

চাকরিকালে কাটা টাকা

অবসর সুবিধার জন্য শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতনের ৬% এবং কল্যাণ সুবিধার জন্য ৪% টাকা কেটে রাখা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকেও বছরে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে—এর মধ্যে ৭০ টাকা অবসরের জন্য ও ৩০ টাকা কল্যাণের জন্য। অর্থাৎ, চাকরিকালে নিজেদের জমানো টাকা ফেরত পেতে এখন বছরের পর বছর ধরনা দিতে হচ্ছে শিক্ষকদের।

সমাধানের দাবি

অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টের কর্মকর্তারা বলছেন, সংকট সমাধানে প্রয়োজন এককালীন বিশেষ বরাদ্দ। নাহলে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের দুর্ভোগ দীর্ঘদিন চলতেই থাকবে।


 

মন্তব্য করুন

চীনের সঙ্গে শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ

শিক্ষা, গবেষণা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করতে চায় বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে চীনে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদার এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্ভাবন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৬ আগস্ট) চীনের গুয়াংজুতে আয়োজিত ‘চায়না-বাংলাদেশ এডুকেশন কো-অপারেশন লাঞ্চ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চীনে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যৌথ গবেষণা ও উদ্ভাবন বাড়ানো এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে কারিগরি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ সহযোগিতা জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতা বাড়াতে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় ভবিষ্যতে চীন-বাংলাদেশের শিক্ষা সহযোগিতা আরও শক্তিশালী ও কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. দাউদ মিয়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া চীনের আনহুই নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট তিয়ান শিংইউ, জিয়াংসি সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি নরমাল ইউনিভার্সিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝেং পেংউসহ দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

সফটওয়্যারে সমস্যা নেই, তবুও আটকে এমপিও শিক্ষকদের বদলির ফল

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বদলি সফটওয়্যারে জটিলতার কথা বলা হলেও বাস্তবে সফটওয়্যারে কোনো সমস্যা নেই বলে জানা গেছে। সফটওয়্যারে জটিলতা না থাকার পরও বদলির ফল প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধানে জানা গেছে, বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে বদলির আবেদন করা শিক্ষকদের আবেদন সম্পাদনার (এডিট) সুযোগ চালু, আবেদন বাতিলের সুযোগ চাওয়া এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বেশ কিছু বিষয় রয়েছে। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে শিক্ষকদের ঢাকায় বদলি হওয়ার আগ্রহই বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক সূত্র জানায়, বদলির জন্য আবেদন করা অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে আগ্রহী। তাদের কেউ কেউ স্বামী বা স্ত্রীর (স্পাউজ) কর্মস্থল ঢাকায় দেখিয়ে বদলির আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ঢাকায় চলে এলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়টিও বদলির ফল প্রকাশের ক্ষেত্রে বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বদলি কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে বলে জানা গেছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষক সম্পৃক্ত থাকেন। এ সময়ে তাদের বদলি করা হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত বদলির ফল প্রকাশে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষকদের আবেদন বাতিলের সুযোগ দেওয়া কিংবা আবেদন সম্পাদনার (এডিট) অপশন চালু করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্বের মাধ্যমে বদলির ফল প্রকাশের প্রক্রিয়াও পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না করার পেছনে একেক সময় একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা সম্ভব। তবে কেন করা হচ্ছে না, সেটি আসলে বোধগম্য নয়।”

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বদলি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা কষ্টে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত অনেক শিক্ষক ফোন করে তাদের কষ্টের কথা আমাদের জানান। আমরাও চাই দ্রুত বদলির ফল প্রকাশিত হোক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।”

এদিকে শিক্ষকদের বদলির বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে জাতীয় সংসদে সভা থাকায় তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তার মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সভায় রয়েছেন বলে জানানো হয়।

এ অবস্থায় বদলির সফটওয়্যারে কোনো জটিলতা না থাকলেও ফল প্রকাশে বিলম্বের কারণ নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে প্রশ্ন ও অসন্তোষ বাড়ছে। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে বদলির ফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

৪৯তম বিশেষ বিসিএসে ৬৫১ জনকে নিয়োগ, যোগদান ১২ অক্টোবর

৪৯তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারে ৬৫১ জনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের তারিখ ও আবাসিক ওরিয়েন্টেশন কর্মসূচির সময়সূচিও জানানো হয়েছে। আগামী ১২ অক্টোবর পূর্বাহ্নে নিয়োগপ্রাপ্তদের সশরীরে যোগদান করতে হবে। এরপর ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিনব্যাপী আবাসিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ও ৫ অক্টোবর জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনে নিয়োগ পাওয়া ৬১১ ও ৪০ জনসহ মোট ৬৫১ জনকে জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬ অনুযায়ী ৪৪,০০০ থেকে ১,০৫,৯০০ টাকা বেতনক্রমে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবর পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ায় উপস্থিত হয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর যোগদানপত্র দাখিল করতে হবে। একই স্থানে ১২ থেকে ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত আট দিনব্যাপী আবাসিক ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, প্রার্থীদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (বিপিএটিসি) অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। পরবর্তী সময়ে চাকরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে।

এ ছাড়া নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ সময় সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবিশকালে কোনো প্রার্থীকে চাকরিতে বহাল থাকার অনুপযোগী মনে হলে কারণ দর্শানো ছাড়াই এবং সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।

বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ করার পর চাকরিতে স্থায়ী করা হবে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা দিতে হবে। পাশাপাশি একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড করতে হবে। শিক্ষানবিশকালে বা শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালে পাওয়া বেতন-ভাতা, অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও প্রশিক্ষণ বাবদ ব্যয়িত অর্থ ফেরত দিতে হবে।

এদিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে সম্মত নন বলে ধরে নেওয়া হবে এবং তার নিয়োগপত্র বাতিল বলে গণ্য হবে। ৪৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষা-২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে প্রচলিত সরকারি বিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করা হবে।

মন্তব্য করুন

এসএসসি ২০২৬ পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ বৃহস্পতিবার

এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় প্রকাশ করা হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশের পাশাপাশি পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানিয়ে দেওয়া হবে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, চট্টগ্রামের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬-এর পুনঃনিরীক্ষণসহ মূল্যায়নের ফল ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় স্ব স্ব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। একই সময়ে পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে এসএমএস পাঠানো হবে।

শিক্ষার্থীদের ফলাফল জানতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও বোর্ডের নিজস্ব ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ে শিক্ষার্থীরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পুনঃনিরীক্ষণের ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবেন।

ফল প্রকাশের সময়: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা
ফল পাওয়া যাবে: সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে
এসএমএস: পুনঃনিরীক্ষণের আবেদনকারীদের দেওয়া মোবাইল নম্বরে

মন্তব্য করুন

বিকেল ৩টার মধ্যে TEMIS-এ বিল সাবমিট করতে হবে, ভুল তথ্যের দায় প্রতিষ্ঠানপ্রধানের

কারিগরি শিক্ষকদের সেপ্টেম্বরের এমপিও বিল সাবমিটের শেষ সময় ১৮ সেপ্টেম্বর

এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের বেতনের বিল অনলাইনে সাবমিটের নির্দেশনা দিয়েছে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিল অনলাইনে সাবমিট করতে হবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। চিঠিটি দেশের সব কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের এমপিওর অর্থ EFT-এর মাধ্যমে পাঠানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের জন্য অনলাইনে ‘Bill Submit’ অপশন চালু করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা TEMIS সফটওয়্যারে লগইন করে আগের নিয়মে ‘Monthly Salary Submission’ অপশনে গিয়ে সেপ্টেম্বরের বিল সাবমিট করবেন।

এ ছাড়া এমপিও তালিকাভুক্ত কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর স্ট্যাটাস পরিবর্তন হলে—যেমন মৃত্যু, পদত্যাগ বা অবসর—TEMIS সফটওয়্যারের ‘Non Govt. Employee EFT Employee Status Change (iBAS++ Validated)’ অপশনে তা এন্ট্রি করতে হবে।

কোনো শিক্ষক-কর্মচারী সাময়িক বরখাস্ত, অনুমোদনহীন অনুপস্থিতি বা অন্য কোনো কারণে বিধি অনুযায়ী আংশিক কিংবা সম্পূর্ণ বেতন পাওয়ার অনুপযুক্ত হলে ‘Bill Submit’ অপশন থেকে সংশ্লিষ্ট তথ্য উল্লেখ করতে হবে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার মধ্যে এমপিওর বিল EFT-তে সাবমিট করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিল দাখিলের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিওর অর্থ EFT-তে পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের দাখিল করা তথ্যই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে। ভুল তথ্যের কারণে কোনো শিক্ষক-কর্মচারীর এমপিওর অর্থ পাঠাতে জটিলতা সৃষ্টি হলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানের ওপর বর্তাবে।

মন্তব্য করুন
×