মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির নতুন উপাচার্য রিয়ার অ্যাডমিরাল নিয়ামত এলাহি

বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির (বিএমইউ) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি আইন, ২০১৩-এর ১২(১) ধারা অনুযায়ী রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ষষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

চার বছরের জন্য নিয়োগ

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তাঁর অবসর গ্রহণের তারিখ—যেটি আগে ঘটে—পর্যন্ত এ নিয়োগ কার্যকর থাকবে।

উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি মূল পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতাদি পাবেন। পাশাপাশি প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও ভোগ করবেন।

সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে থাকতে হবে

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর প্রয়োজন মনে করলে যেকোনো সময় তাঁর নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন।

রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. নিয়ামত এলাহি বর্তমানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীতে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর নিয়োগের বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর এবং বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটিকে অবহিত করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

এগ্রিরোভার্সের নতুন নেতৃত্বে সিফাত, সাহিদ, সুস্মিতা ও প্রভা

তারুণ্যের দীপ্তিতে মুখরিত শেকৃবি রোভার স্কাউট গ্রুপ

নতুন নেতৃত্ব ও তারুণ্যের উদ্দীপনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের (এগ্রিরোভার্স) নতুন ক্রু কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভার স্কাউট কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে আগামী ছয় মাসের জন্য চারটি দলের রোভার ও গার্ল ইন রোভারদের সমন্বয়ে ৩২ সদস্যের এ কাউন্সিল গঠন করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সংগঠনটির সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাহিদ জেবা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে নতুন কমিটির অনুমোদন দেওয়া হয়।

নবগঠিত কাউন্সিলে সিনিয়র রোভারমেট হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ৩৯তম দলের রোভার সাহিদ সুলতান সবুজ, ৩৫তম দলের রোভার সিফাত মাহমুদ, ৯৯তম দলের গার্ল ইন রোভার সুস্মিতা দাস এবং ৯৯তম ‘খ’ দলের গার্ল ইন রোভার তাসনীম তাবাসসুম প্রভা।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন কাউন্সিলের নেতৃত্বে সংগঠনের নিয়মিত কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। পাশাপাশি নবীন সদস্যদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি, দায়িত্ববোধ ও সেবার মানসিকতা বিকাশে এ কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ ও বেগবান হবে বলে মনে করছেন তারা।

উল্লেখ্য, ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এগ্রিরোভার্স বিভিন্ন সামাজিক, মানবিক ও সেবামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিঃস্বার্থ সেবার মানসিকতা তৈরি, নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ এবং ভবিষ্যতে দেশের দায়িত্বশীল ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সংগঠনটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

ঢাকা জেলা রোভারের আওতাভুক্ত এ গৌরবোজ্জ্বল ইউনিটের পাঁচজন সদস্য ইতোমধ্যে দেশের মর্যাদাপূর্ণ ‘প্রেসিডেন্ট’স রোভার স্কাউট অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করেছেন।

মন্তব্য করুন

বালতি সরানো নিয়ে বিরোধ, যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান।

কী ঘটেছিল

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার দুপুরে গোসল করতে ওয়াশরুমে গিয়ে একটি বালতি দেখতে পান তিনি। বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক ওয়াশরুমের দরজায় বারবার টোকা দেন। পরে বের হলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

জুয়েলের অভিযোগ, এরপর তানভীর তাঁর রুমে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে তাঁকে ক্যাম্পাসের একটি চায়ের দোকানে ডাকা হয়। সেখানে তানভীর, কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েলের দাবি, সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দেন। এতে তিনি টেবিল থেকে পড়ে যান। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। পরে বন্ধুরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।

কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত

যবিপ্রবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কানে রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে তিনি সুপারিশ করেছেন।

পরীক্ষা সম্পন্ন হলে কানের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। দরজায় নক করে বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় দুজনের বন্ধুরা মিলে বসেন। তাঁর দাবি, কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন।

তানভীর বলেন, বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় পরে জুয়েলকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁর কানে গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শনিবার সকালে জানতে পারেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তানভীর জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারেন। পরে তাঁরা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, সকালে চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, হলের বাইরে আমতলায় বিষয়টি সমাধানের সময় তানভীর জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেন। এতে তাঁর শ্রবণ সমস্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

মন্তব্য করুন

ইবিতে দুই শিক্ষার্থী আটক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের উদ্যোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের একটি নির্জন এলাকা থেকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদসংলগ্ন একটি কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, আটক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তরুণী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি মেসে থাকেন।

পরে তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা জানান এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করার কথা রয়েছে।

আটক শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। আমি তাকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্জন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করার পর শুক্রবার তাদের আটক করে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মতি জানান। তাদের বাবা-মাকে ডাকা হবে। এরপর বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই ছাত্রী যে মেসে থাকেন, সেটির মালিককেও তলব করা হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য করুন

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুই বিষয়ে ভর্তি, থাকছে ৪০টি করে আসন

নতুন দুটি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি বিষয়। নতুন বিষয়গুলোর পাঠদান পরিচালনার জন্য অ্যাকাডেমিক ভবন প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নতুন চালু হতে যাওয়া ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়েও ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আধুনিক সুবিধা যুক্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসে

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন শহরের বাইপাস সড়কসংলগ্ন বরুনকান্দি এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শহরের যানজট ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কম্পিউটার ল্যাব, ওয়াই-ফাই, সাধারণ লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় পুরো দেশের সম্পদ’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নওগাঁর  নয়, এটি পুরো দেশের সম্পদ। নওগাঁর সংসদ সদস্য, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।তিনি আরও বলেন, উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে নওগাঁকে দেশ-বিদেশে নতুনভাবে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

শাবিপ্রবির হলে হাই ভোল্টেজ, পুড়েছে ফ্যান-লাইট-চার্জার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক শাহপরান হলে হঠাৎ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে হলের বিভিন্ন কক্ষের ফ্যান, লাইট, মোবাইল চার্জার, মাল্টিপ্লাগসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হলের ডাইনিংয়ের ওভেনও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত ভোল্টেজ চলে আসার পর হলের কয়েকটি ব্লকের কক্ষে একে একে ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে যেতে থাকে। সকেটে থাকা মাল্টিপ্লাগ, মোবাইল চার্জার, লাইট ও ফ্যান মুহূর্তের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়।

ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দ্রুত ত্রুটি মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

শাহপরান হলের এ ব্লকের দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, ‘আনুমানিক ৩টার দিকে আমি শুয়েছিলাম। হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়ার পর প্রায় ২০ মিনিট পর আবার আসে। এরপর আমার ফ্যান অন্যদিনের তুলনায় বেশি গতিতে চলছিল। ফ্যানের গতিনিয়ন্ত্রক চাকা ঘুরিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার টেবিলের লাইট পুড়ে ল্যাপটপের ওপর পড়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রুমের পাশের ওয়াশরুমের লাইট বিকট শব্দে ফুটে যায়। এ ধরনের সমস্যা আশপাশের প্রায় সবার রুমেই হয়েছে। আমাদের এসব ক্ষতিপূরণ কে দেবে?’

কারণ এখনো নিশ্চিত নয়

ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কোন কারণে এমন হয়েছে এখনো বলতে পারছি না। তবে হঠাৎ হয়তো ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে।’

শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। তবে এরকম দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখছি কেন এমনটা হলো।’

ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল শিক্ষার্থীদের ১ম প্রফ দুই সপ্তাহ পেছানোর দাবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা প্রথম পেশাগত (১ম প্রফ) পরীক্ষার সময়সূচি অন্তত দুই সপ্তাহ পেছানোর দাবি জানিয়েছেন। একাডেমিক সিস্টেম লস, আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন কারণে শিক্ষাকার্যক্রমে তৈরি হওয়া ঘাটতি পূরণে পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা এ দাবি জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিভিন্ন মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের দাবির কথা জানায়।

সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা ১ম প্রফের বর্তমান সময়সূচির কারণে সৃষ্ট বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তাদের ভাষ্য, একাডেমিক সিস্টেম লস, হলের আবাসন সংকটসহ বিভিন্ন সময়ে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ থাকায় নির্ধারিত সিলেবাস শেষ করা ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

এ কারণে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ দিতে প্রথম পেশাগত পরীক্ষা অন্তত দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান তারা।

শিক্ষার্থীরা তাদের দাবির পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি ও একাডেমিক সমস্যার বিষয়গুলো ডিনের কাছে বিস্তারিত তুলে ধরেন। জবাবে অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদ জানান, বর্তমান পরীক্ষার সময়সূচি তার একক সিদ্ধান্তে নির্ধারিত হয়নি। সব ফ্যাকাল্টি সদস্যের সর্বসম্মতিক্রমে রুটিন চূড়ান্ত করা হয়েছে।

তবে সময়সূচি পরিবর্তনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষের লিখিত সম্মতি প্রয়োজন বলে তিনি শিক্ষার্থীদের জানান।

‘একাডেমিক ঘাটতি পূরণ না করে পরীক্ষা কঠিন’

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, একাডেমিক সিস্টেম লসসহ বিভিন্ন কারণে তাদের শিক্ষাকার্যক্রমে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা বিবেচনায় না নিয়ে নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা নেওয়া হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ পাওয়া কঠিন হবে।

তাদের মতে, একাডেমিক গ্যাপ পূরণ না করেই পেশাগত পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তাই পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করে অন্তত দুই সপ্তাহ সময় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

সাক্ষাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ, মুগদা মেডিকেল কলেজসহ ঢাবি অধিভুক্ত বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ক্লাস প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের এসএইচ-২০ ব্যাচের ক্লাস প্রতিনিধি জে কে এম মুবিন দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা আমাদের একাডেমিক সিস্টেম লসসহ যৌক্তিক সব কারণ সম্মানিত ডিন স্যারের সামনে তুলে ধরেছি। তিনি বিষয়গুলো অনুধাবন করলেও জানিয়েছেন, এটি তাঁর একক সিদ্ধান্তের বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মেডিকেল কলেজগুলোর অধ্যক্ষ ও বিভাগীয় প্রধানদের লিখিত সম্মতিপত্র পাঠানো হলে ডিন শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানিয়েছেন।

জে কে এম মুবিন আরও বলেন, ‘আমাদের প্রিন্সিপাল স্যার ও বিভাগীয় প্রধানরা আমাদের সর্বোচ্চ অভিভাবক। আমরা আশা করছি, সম্মানিত শিক্ষকরা আমাদের সমস্যাগুলো অনুধাবন করে বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবেন।’

এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. নাদিম আহমেদের মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

১ নভেম্বর শুরু ১ম ও চূড়ান্ত প্রফ

উল্লেখ্য, ঢাবি অধিভুক্ত মেডিকেল কলেজগুলোর এমবিবিএস কোর্সের নভেম্বরে অনুষ্ঠিতব্য চার পেশাগত লিখিত পরীক্ষার সময়সূচি গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, প্রথম ও চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষা আগামী ১ নভেম্বর শুরু হবে। দ্বিতীয় পেশাগত পরীক্ষা শুরু হবে ২ নভেম্বর এবং তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষা ৫ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন
×