Home প্রাথমিক প্রাথমিকে শিক্ষার্থী প্রমোশন কোন প্রক্রিয়ায় কেউ জানে না

প্রাথমিকে শিক্ষার্থী প্রমোশন কোন প্রক্রিয়ায় কেউ জানে না

129
1

নিজামুল হক

করোনায় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো ধরনের মূল্যায়ন ও পরীক্ষা ছাড়া ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে ৬ষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা গত মাসে এমন সিদ্ধান্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানিয়ে দেওয়া হলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রাণলয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এ কারণে শিক্ষকরা যে যার মতো করে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। আর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এনিয়ে পড়েছেন দ্বিধাদ্বন্দ্বে।

প্রাথমিকের ‘মূল্যায়ন’ নিয়ে ধোঁয়াশা, মাধ্যমিকে এলেও প্রথম থেকে ৪র্থ শ্রেণি পর্যন্ত কোন নির্দেশনা আসেনি দ্বিধাদ্বন্দ্বে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন

আগামী ১৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। এ সময়ের পরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও মাত্র ১১ দিন সময় পাবে। ফলে প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল তার একটিও বাস্তবায়নের সুযোগ থাকছে না। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা না গেলে কী হবে সে বিষয়ে কোনো নির্দেশনা আসেনি। সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন এক ভিডিওবার্তায় বলেন, ‘আমরা আগেই বলে দিয়েছি স্ব স্ব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা মূল্যায়নের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের প্রমোশন দেবে।’ আর প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রতিমন্ত্রীর এ মৌখিক নির্দেশনা লিখিত আকারে জারি না হওয়ায় মাঠ পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে একাধিক প্রাথমিক শিক্ষক জানান, তারা জানেন শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করতে হবে, কিন্তু কিভাবে করতে হবে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো নির্দেশনা আসেনি। এছাড়া শিক্ষা কর্মকর্তারাও আমাদের কিছু জানাননি।

তবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন গতকাল বলেন, এ বিষয়ে একটি নীতিমালা করেছি। যা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বদরুল আলম

বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক বদরুল আলম বলেন, এ পর্যন্ত যে মৌখিক নির্দেশনা পেয়েছি, তাতে প্রধান শিক্ষকের ওপর সব ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আমরা যেভাবে মূল্যায়ন করব সেটাই চূড়ান্ত। শিক্ষার্থীদের মৌখিক পরীক্ষাও নিতে পারি, দুই-একটি গনিতের যোগ-বিয়োগ দিয়ে তার মূল্যায়নও করতে পারি। আবার একটি কবিতাও মুখস্ত শুনতে পারি। তিনি জানান, ১৯ ডিসেম্বরের পর যদি স্কুল খুলে তাহলে এসব মূল্যায়ন করা যাবে। আর যদি না খোলে তাহলে মাধ্যমিকের মতো অটোপাসের বিকল্প থাকবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আসমা সুলতানা নামে এক অভিভাবক বলেন, সরকার প্রাথমিকের সিদ্ধান্ত নিতে দেরি করছে কেন? মাধ্যমিকের মতো আগেভাগেই সিদ্ধান্ত জানানো হলে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দুশ্চিন্তা আর থাকবে না।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (ডিপিই) মহাপরিচালক এ এম মনসুর আলম বলেন, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা না নিয়ে কোন পদ্ধতিতে পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

সূত্র : দৈনিক ইত্তেফাক

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

1 COMMENT

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here