Home বিশ্ববিদ্যালয় চবির ভর্তি পরীক্ষা মার্চে

চবির ভর্তি পরীক্ষা মার্চে

501
0

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে তৎপরতা শুরু করেছে। নড়েচড়ে বসেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও (চবি)। মার্চের শেষ সপ্তাহে হতে পারে চবিতে ভর্তি পরীক্ষা। আগের মতো এমসিকিউ পদ্ধতিতেই হবে ভর্তি পরীক্ষা। অবশ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো ৫০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা নেওয়ার ব্যাপারেও আলোচনা চলছে।

তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফলের মান কীভাবে যোগ হবে-না হবে সে ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। এছাড়া করোনার কারণে ঝুঁকি এড়াতে এবার ক্যাম্পাসের বাইরেও পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভায় ভর্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তাই প্রশাসন জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শিরীণ আখতার বলেন, ‘এইচএসসির ফলাফল প্রকাশের তিন মাস পরে সাধারণত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হয়। এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই সিদ্ধান্ত নিতে হচ্ছে খুব সতর্কভাবে। তবে ডিসেম্বরে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল দিলে তিন মাসের মধ্যে বা তিন মাসের পরে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা আছে। অর্থাৎ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে হতে পারে ভর্তি পরীক্ষা। তারপরও একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং হবে, ডিনদের মিটিং হবে। সরকারের ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনাও এখানে খুব জরুরি বিষয়। তবে সবকিছু সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।’

বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ভর্তি পরীক্ষা কমিটির স্থায়ী সদস্য ড. মোহাম্মদ নাসিম হাসান এ ব্যাপারে বলেন, ‘ডিসেম্বরে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল প্রকাশিত হলে মার্চের শেষ সপ্তাহ নাগাদ পরীক্ষা নেওয়ার চিন্তা করছি আমরা। এক্ষেত্রে আমাদের যে আলোচনা হয়েছে তাতে আগের পদ্ধতিতে অর্থাৎ এমসিকিউ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে বেশিরভাগ সদস্য মত দিয়েছেন। তবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের রেজল্টের যে মান আছে সেটা কীভাবে যোগ হবে সে ব্যাপারে আমাদের এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। কোথায় পরীক্ষা নেওয়া হবে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে খুব শিগগিরই সভা করা হবে। অবস্থা যা তাতে ক্যাম্পাসের বাইরেও পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। তবে ফলাফল প্রকাশের পরপরই কেন্দ্রীয় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির সভা হবে। সেখানে আরও বিস্তারিতভাবে আলাচনার পর সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হবে।’

সরাসরি ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক বলে মনে করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নিতে হলে ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্নিষ্টদের খুবই সতর্ক হতে হবে। কারণ আগের পরীক্ষাগুলোতে প্রচুর জনসমাগম হয়েছে, এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। তাই এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ক্যাম্পাস যেন লোকারণ্য না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি যাতে বজায় থাকে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

যেভাবে চলছে প্রস্তুতি :ভর্তি পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্নিষ্ট কয়েকজন শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আপাতত বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভায় এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিনরা ভর্তি পরীক্ষা কমিটির স্থায়ী সদস্য। তারা ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে নিয়মিত খেয়াল রাখছেন। এছাড়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সেগুলোও পর্যলোচনা করা হচ্ছে।

এবার ভর্তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে একদম ভিন্ন পরিস্থিতিতে। তাই এখানে প্রতিবন্ধকতাও বেশি। অন্যান্য বছরে সব পরীক্ষা ক্যাম্পাসে হয়েছে। তাতে প্রচণ্ড ভিড় হয়। তাই এবার ক্যাম্পাসে পরীক্ষা নেওয়াটা সব থেকে বেশি চ্যালেঞ্জিং। আবার ঝুঁকিপূর্ণও। ক্যাম্পাসের বাইরে পরীক্ষা নিলে প্রশ্ন ফাঁসের ঝুঁকি থাকে।

এ বিয়য়ে রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এজিএম নিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘করোনা রোগটা যেহেতু ছোঁয়াচে, সেহেতু এ থেকে নিস্তার পেতে সামাজিক দূরত্বের বিকল্প নেই। তবে এত বড় একটি পরীক্ষায় আসলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা কঠিন হবে। আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হলো, ভর্তি পরীক্ষার সময় শাটল ট্রেনে কিন্তু প্রচুর ভিড় হয়, পরীক্ষার সময় এই ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে আমি সন্দিহান।’

যেভাবে হবে পরীক্ষা :গত বছরের মতো এবারও চারটি ইউনিট ও দুটি উপ-ইউনিটের মাধ্যমে নেওয়া হবে পরীক্ষা। ‘এ’ ইউনিটের অধীনে বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ইঞ্জিনিয়ারিং ও মেরিন সায়েন্সেস অ্যান্ড ফিশারিজ এই চারটি অনুষদ। এখানে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এখানে রসায়ন, পরিসংখ্যান, গণিত, পদার্থবিদ্যা, ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ফার্মেসি, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়ো টেকনোলজি, প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ, মাইক্রো বায়োলজি, মৃত্তিকা বিজ্ঞান, উদ্ভিদবিদ্যা, প্রণিবিদ্যা, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা, মনোবিজ্ঞান, বন ও পরিবেশবিদ্যা ইনস্টিটিউট, পরিবেশ বিজ্ঞান, ফিশারিজ, ওশোনোগ্রাফি, মেরিন সায়েন্স।

‘বি’ ইউনিটে (কলা ও মানববিদ্যা) উচ্চ মাধ্যমিকে উত্তীর্ণ সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এখানে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস, দর্শন, সংস্কৃতি, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য, আধুনিক ভাষা শিক্ষা ও বাংলাদেশ স্টাডি বিভাগ রয়েছে। তবে সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলা বিভাগে ভর্তি পরীক্ষা দিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে বি-১ ইউনিটে আবেদন করতে হবে।

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদভুক্ত ‘সি’ ইউনিটে উচ্চ মাধ্যমিকের বাণিজ্য শাখার শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। এখানে অ্যাকাউন্টিং, ম্যানেজমেন্ট, ফাইন্যান্স, মার্কেটিং, হিউম্যান রিসোর্চ অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট এবং ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স। সব গ্রুপের শিক্ষার্থীরা ‘ডি’ ইউনিটে পরীক্ষা দিতে পারবেন। এখানে সমাজতত্ত্ব, রাজনীতি বিজ্ঞান, অর্থনীতি, লোকপ্রশাসন, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, নৃবিজ্ঞান, ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স ও আইন অনুষদের আইন বিভাগ, ব্যবসায় প্রশাসনের সব বিভাগ, জীববিজ্ঞান অনুষদের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা এবং মনোবিজ্ঞান বিভাগ রয়েছে।

এ ছাড়া শিক্ষা অনুষদভুক্ত ডি-১ উপ-ইউনিটে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আলাদাভাবে আবেদন করতে হবে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here