Home মাধ্যমিক মাধ্যমিকের গ্রেডেশন তালিকা: ২৮ বছর চাকরি করেও পদোন্নতির অযোগ্য!

মাধ্যমিকের গ্রেডেশন তালিকা: ২৮ বছর চাকরি করেও পদোন্নতির অযোগ্য!

5719
0
আগামী শিক্ষাবর্ষে টিউশন ফি কি কমবে ?

মো. মনোয়ারুল ইকবাল। তিনি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান করেন ১৯৯২সালে। বর্তমানে ধানমণ্ডি গভ.বয়েজ স্কুল ঢাকায় কর্মরত। শিক্ষকতা পেশায় তার চাকরির বয়স ২৮ বছর। ২০১৮ সালে সিনিয়র শিক্ষক পদ সোপান সৃষ্টির পর আশায় ছিলেন তিনিও একটি পদোন্নতি পাবেন। কিন্তু ১ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির লক্ষ্যে প্রকাশিত খসড়া গ্রেডেশন তালিকায় তার নাম নেই। তালিকায় নাম না থাকায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

অপরদিকে গ্রেডেশন তালিকায় দেখা যায়, মো.এনামুল হক নামের একজন শিক্ষক সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান করেন ২০১০ সালে । তিনি বর্তমানে বান্দরবান সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত । তার চাকরির বয়স ১০। প্রকাশিত খসড়াগ্রেডেশন তালিকায় তার নাম আছে। অর্থাৎ তিনি সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে পদোন্নতি পাচ্ছেন।

এখন প্রশ্ন উঠেছে মো. এনামুল হক ২০১০ সালে যোগদান করেও তিনি সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে পদোন্নতি পাচ্ছেন অথচ মো. মনোয়ারুল ইকবাল ১৯৯২ সালে চাকরিতে যোগদান করেও পদোন্নতি পাচ্ছেন না!

গ্রেডেশন তালিকা প্রকাশিত হবার পর এরকম অসংখ্য অসঙ্গতি শিক্ষকদের চোখে ধরা পরে।

গ্রেডেশন তালিকা তৈরির কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন মো. মনোয়ারুল ইকবাল নিয়োগের শর্তে থাকা ৫ বছরের মধ্যে বিএড কোর্স সম্পন্ন না করায় তিনি সিনিয়র শিক্ষক হিসাবে পদোন্নতির অযোগ্য।

বিএড কোর্স সঠিক সময়ে সম্পন্ন করতে না পারা এবং তালিকায় না আসা শিক্ষকরা বলছেন বিএড কোর্সে ভর্তি এবং সম্পন্ন করার বিষয়টি সম্পূর্ণ নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের উপর নির্ভর করে। যেখানে একজন শিক্ষককে প্রেষণে ছুটি অনুমোদনের মাধ্যমে কোর্সে ভর্তি হতে হয়। কর্তৃপক্ষ যখন আদেশ জারি করেন তখনই শিক্ষকরা বিএড কোর্সে ভর্তি হন। শিক্ষকদের উপর দায় দিয়ে সিনিয়রটি থেকে বঞ্চিত করা সম্পূর্ণ অমানবিক ।

এসম্পর্কে ধানমণ্ডি গভ.বয়েজ স্কুলের সহকারি শিক্ষক দাউদুর রহমান তালুকদার বলেন, বিএড জটিলতার কারণে ১৯৯২ সালে চাকরিতে যোগদান করেও সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতির তালিকায় তার নাম নেই। তিনি দাবি করেন জ্যেষ্ঠতার বিষয়টি যোগদানের তারিখ থেকে ধরলে এ সমস্যা হতো না। দূর্বল শর্তগুলোকে সামনে এনে জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ করলে সিনিয়র শিক্ষক পদে পদোন্নতি আরও জটিলতর হবে। তিনি বলেন, আমরা চাই যোগদানের বিষয়টিকেই প্রধান ধরে সিনিয়রটি নির্ধারণ হোক। এতে সব শিক্ষকই উপকৃত হবেন।

২০১১ ব্যাচের মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা তাদের মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই সাপেক্ষ ২০১২ সালের জানুয়ারিতে যোগদান করেন। প্রকাশিত গ্রেডেশন তালিকায় তাদের সকলকে জ্যেষ্ঠতা দেখানো হয়েছে ১৩ নভেম্বর ২০১১ তারিখে। ফলে তাদের যোগদানের তারিখ নিয়ে শিক্ষকদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে যারা ২০১১ সালের ১৪ কিংবা ১৫ নভেম্বর চাকরিতে যোগদান করেছেন তালিকায় তাদের নাম ২০১২ সালের যোগদানকৃত শিক্ষকদের পেছনে চলে গেছে। ফলে তালিকায় পেছনে থাকা শিক্ষকদের পরবর্তিতে সকল ক্ষেত্রে সুবিধা বঞ্চিত এবং ক্ষতিগ্রস্থ হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

গ্রেডেশন তালিকায় দেখা যায়, বসুরহাট এ এইচ সি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক রিটন চন্দ্র মহাজন নামের একজন শিক্ষক তিনি পিডিএসে সরকারি মাধ্যমিকে সহকারি শিক্ষক পদে যোগদান দেখিয়েছেন ২০০১ সালে। প্রকৃতপক্ষে তিনি মাধ্যমিকে সহকারি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছেন ২০০৬ সালে। ফলে তার ব্যাচের এমনকি তার পূর্বে যোগদান করেও অনেক শিক্ষক গ্রেডেশন তালিকায় তার পেছনে চলে গেছেন। জানা যায়, এই শিক্ষক ২০০১ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরকারি শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন। তিনি মূলত প্রাথমিকের যোগদানের তারিখটিই মাধ্যমিকের যোগদানের তারিখ হিসাবে পিডিএসে উল্লেখ করেছেন। ফলে গ্রেডশেন তালিকায় তার নাম অনেক সিনিয়রদেরও আগে রয়েছে। গ্রেডেশন তালিকায় এই শিক্ষকের সিরিয়াল নম্বর ১৭৬৯। এখানে পিডিএস কোনো রকম যাচাই বাছা্ই ছাড়াই গ্রেডেশনের খসড়া তালিকা প্রকাশের বিষয়টি প্রমাণিত হয়।

এই গ্রেডেশন তালিকার অসঙ্গতির বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মো.বেলাল হোসেন এডুকেশন বাংলাকে বলেন, এই গ্রেডেশন তালিকাটি যোগদান এবং ৫ বছরের মধ্যে যে শিক্ষকগণ বিএড কোর্সে ভর্তি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাদেরকে এই তালিকায় রাখা হয়েছে। তবে ৫ বছরের পর অর্থাৎ ষষ্ঠ বছরে যারা বিএড কোর্সে অংশগ্রহণ করেছেন তাদেরকে তালিকায় রাখা হয়নি।

বাংলাদেশে সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহাব উদ্দিন মাহমুদ সালমী অবশ্য বিধিবিধান মেনে অর্থাৎ ২০১৮ খ্রিস্টাব্দে যে পদ্ধতি অনুসরণ করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে সে পদ্ধতি অনুসরণ করে পদোন্নতি দিলে কারো কোনো অভিযোগ থাকবেনা বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও তিনি পদোন্নতিতে তিনটি বিষয়কে প্রাধান্য দেয়ার দাবি করেছেন। এগুলো হলো চলতি বিধি অনুযায়ি ১) ১৯৯১ সালের পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্তদের বি এড পাশের তারিখ থেকে। ২) ১৯৯১ সালের পরে নিয়োগপ্রাপ্তদের যোগদানের তারিখ থেকে ৩) কৃষি বিষয়ের শিক্ষকদের ২৯৯/২০১৮ মামলার২২/০৫/২০০৪ রায় অনুযায়ী ।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here