Home কলেজ জাতীয়করণ ; আর কত অপেক্ষা করবেন শিক্ষক কর্মচারিরা

জাতীয়করণ ; আর কত অপেক্ষা করবেন শিক্ষক কর্মচারিরা

1111
0

২০১৬; ২০১৮ ও ২০২০ । জাতীয়করণ হতে যাওয়া শিক্ষক কর্মচারিদের জন্য তিনটি খুবই গুরুত্বপূর্ন বছর। ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সারাদেশের মোট ৩০২টি বেসরকারি কলেজ সরকারীকরণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির কথা জানিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পত্র দেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এর পর নানা প্রক্রিয়া করতেই পার হয় প্রায় দুই বছর। ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে এসব কলেজ সরকারীকরণ করা হয়। ১২ আগস্ট আদেশ জারি হলেও তা ওই বছরের ৮ আগস্ট থেকে কার্যকর ধরা হয়। ২০২০ ; সরকারীকরণের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে মূল্যবান আরও দুটি বছর। অথচ আজও এসব কলেজের সাড়ে ১২ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী সরকারি হতে পারেননি। কাগজপত্র দফায় দফায় যাচাইয়ের নামে কালক্ষেপণ করা হচ্ছে ।

৩০২টি কলেজের মধ্যে গত চার বছরে হাতে গোনা কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারি হতে পেরেছেন। বাকি প্রায় সব কলেজের জনবল সরকারীকরণের কাগজপত্র যাচাই চলছে। কয়েক দফায় এসব কাগজপত্র যাচাই করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। যাচাই শেষ করে সেগুলো মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয় মাউশি। এখন আবার শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেগুলো যাচাই করছে। মাউশির একই কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের যাচাই কাজেও অংশ নিচ্ছেন। শিক্ষকদের মন্ত্রণালয়ে ডেকে এনে কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। আর এ কাজে তাদের হয়রানি করার অভিযোগ উঠেছে মাউশি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

শিক্ষকদের অভিযোগ, জাতীয়করণের কাজে অহেতুক কালক্ষেপণ করা হচ্ছে। কখনো কখনো তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণও করা হচ্ছে। যেসব নথি শিক্ষকদের কাছে থাকার কথা নয়, সেগুলোও তাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে। নিজ হাতে গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে খালি হাতে বিদায় নিচ্ছেন কয়েক হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। সরকারীকরণের দুই বছরের অধিক সময় পার হলেও শিক্ষার্থীরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। কোনো কোনো কলেজ কর্তৃপক্ষ নন-এমপিও শিক্ষকদের কলেজ অংশের বেতন-ভাতা চালু রাখলেও করোনাকালে বেতন দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে বহু কলেজ। যার ফলে বিপাকে পড়েছেন শিক্ষকরা। সরকারীকরণ তাদের জন্য যেন এক মরণফাঁদ। একই কলেজে একই সঙ্গে চাকরি করে কেউ মাস শেষে বেতন পাচ্ছেন, আবার কেউ বিনা বেতনে কাজ করছেন। ঘর ভাড়া, যাতায়াতসহ সব খরচ শিক্ষকদের নিজেদের বহন করতে হচ্ছে। অথচ সরকারীকরণের আগে কলেজ থেকে তারা বেতন পেতেন। শিক্ষকদের মতে, একসঙ্গে সরকারি হওয়া কলেজগুলোর মধ্যে অন্তত ৪৭ শতাংশ কলেজ শিক্ষকদের বেতন বন্ধ রয়েছে।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুসারে, এসব কলেজে ডিগ্রি থাকলে প্রতিটি বিষয়ে তিনজন, অনার্স থাকলে কমপক্ষে সাতজন এবং মাস্টার্স থাকলে কমপক্ষে ১২ জন শিক্ষক থাকার কথা। এর সঙ্গে আনুষঙ্গিক কর্মচারী থাকবে। অথচ সরকারি হওয়ার পর দুই বছরে এসব কলেজের অন্তত পাঁচ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী অবসরে চলে গেছেন। খোঁজ নিয়ে এমনও দেখা গেছে, একটি বিভাগে (বিষয়ে) একজন মাত্র শিক্ষক অনার্স স্তরে পড়াচ্ছেন। এতে কলেজগুলোর একাডেমিক কার্যক্রমেও স্থবিরতা নেমে এসেছে।

সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অভিপ্রায় অনুসারে, সরকারি কলেজবিহীন প্রতি উপজেলায় একটি বেসরকারি কলেজ সরকারীকরণের আওতায় সরকারের গত মেয়াদে মোট ৩২৪টি কলেজ সরকারীকরণ করা হয়। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ১২ আগস্ট একই দিনে এক আদেশে ২৯৯টি কলেজ সরকারি হয়। এই কলেজগুলোতে সরকারিভাবে শিক্ষক-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি না হওয়ায় কর্মরতরা কেউ সরকারি চাকরিতে আত্তীকরণ হতে পারেননি। জানা গেছে, এসব কলেজের শিক্ষকের মর্যাদা এবং বদলি ও পদোন্নতি কীভাবে হবে, তা নির্ধারণ করতেই দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যায়। পরে ‘আত্তীকরণ বিধিমালা-২০১৮’ নামে নতুন বিধি প্রণয়ন করে এই ২৯৯টি কলেজ সরকারি করা হয়। ৩২৪টি কলেজের বাকি কলেজগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা ‘আত্তীকরণ বিধিমালা-২০০০’ অনুসারে সরকারি হওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে পদ সৃষ্টির জটিলতা তৈরি হয়নি।

শিক্ষকরা বলছেন, আর কত অপেক্ষা করবো। আর কত অভূক্ত থাকবো।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here