Home কলেজ প্রভাষক-সহকারী অধ্যাপকের অনুপাত বাড়িয়ে ১:১ করার পরিকল্পনা

প্রভাষক-সহকারী অধ্যাপকের অনুপাত বাড়িয়ে ১:১ করার পরিকল্পনা

9527
0
আগামী শিক্ষাবর্ষে টিউশন ফি কি কমবে ?

পাবনার চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের দর্শন বিষয়ের প্রভাষক ফাহিমা খন্দকার। মেধাবী ফাহিমা পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ছাত্রী হিসেবে স্নাতক সম্মান শ্রেণিতে দর্শন বিষয়ে ১৯৯৫ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচ) প্রথম শ্রেণিতে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি মাস্টার্স শেষ করেন। ২০০১ সালের ১৮ আগস্ট যোগ দেন চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক পদে।

চলতি বছরের ১৮ আগস্ট চাকরির ২০ বছর পূর্ণ করে তিনি পা রেখেছেন ২১তম বর্ষে। অথচ আজও তিনি ‘প্রভাষক’ই রয়ে গেছেন। তার ছাত্রীরা বিসিএস দিয়ে অনেকে সরকারি কলেজের চাকরি নিয়ে সহযোগী অধ্যাপক পর্যন্ত হয়েছেন। অথচ তিনি সহকারী অধ্যাপকও হতে পারেননি।

ফাহিমা খন্দকারের সহকারী অধ্যাপক হতে না পারার মূল কারণ, সরকারের জারি করা ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা’। এ নীতিমালার কারণে বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি অনুপাত প্রথার উদ্ভব ঘটেছে, যা শিক্ষকদের মধ্যে ৫:২ হিসেবে পরিচিত। এর অর্থ, কোনো কলেজে এমপিওভুক্ত সাতজন প্রভাষক থাকলে তাদের মধ্যে মাত্র দু’জন সহকারী অধ্যাপক হতে পারবেন। বাকিরা আজীবন প্রভাষক হিসেবে থাকবেন, অর্থাৎ কোনো কলেজে মোট প্রভাষকের সংখ্যা ১৪ জন হলে, তাদের মাত্র চারজন সহকারী অধ্যাপক হবেন।

১৯৮০ সাল থেকে, অর্থাৎ ৪০ বছর ধরে এই অনুপাত প্রথাই অনুসরণ করা হচ্ছে বেসরকারি কলেজশিক্ষকদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে। চরম বৈষম্যমূলক এই নীতিমালার কারণে দেশের শত শত কলেজশিক্ষককে সারাজীবন প্রভাষক পদে থেকেই অবসর নিতে হচ্ছে। গত দুই দশকে এমপিওভুক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামোয় কয়েক দফা সংশোধন করা হলেও এই অনুপাত প্রথার কোনো বিলোপ ঘটেনি। বেসরকারি কলেজের শিক্ষকদের ‘গলার কাঁটা’য় পরিণত হয়েছে এই প্রথা।বঞ্চনার এখানেই শেষ নয়, এমপিভুক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামো অনুসারে বেসরকারি কলেজে সর্বোচ্চ পদ ‘সহকারী অধ্যাপক’। এসব কলেজের ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক পদের অস্তিত্বই রাখা হয়নি। অবশ্য রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও কলেজ ও লালমাটিয়া মহিলা কলেজসহ কয়েকটি বড় কলেজ কর্তৃপক্ষ তাদের জ্যেষ্ঠ কোনো কোনো সহকারী অধ্যাপককে ‘সহযোগী অধ্যাপক’ বা ‘অধ্যাপক’ পদমর্যাদা দিলেও বেতন দেয়নি। তবে সরকারি নথিপত্রে তারা সবাই সহকারী অধ্যাপকই।আসতে পারে ‘সিনিয়র প্রভাষক’ পদ :এদিকে, বর্তমানে এমপিওভুক্তির নীতিমালা সংশোধনের কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ। কিন্তু উচ্চ শিক্ষা বিভাগ কলেজশিক্ষকদের অনুপাত প্রথা বাতিলের এই দাবি বিবেচনায় না নিয়ে প্রভাষক-সহকারী অধ্যাপকের অনুপাত বাড়িয়ে ১:১ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে সহকারী অধ্যাপকের বদলে ‘সিনিয়র প্রভাষক’ পদ রাখার কথা ভাবা হচ্ছে। এমপিও নীতিমালা সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বেসরকারি মাধ্যমিক) মোমিনুর রশীদ আমিন বলেন, সরকার মোট প্রভাষকের অন্তত ৫০ শতাংশকে সহকারী অধ্যাপক করার চিন্তা করছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বেসরকারি কলেজ-মাদ্রাসায় সহযোগী অধ্যাপক বা অধ্যাপক পদ সৃষ্টি করা হবে কিনা, তা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে বলার জন্য উপযুক্ত লোক আমি নই।মানসিক চাপে প্রভাষকরা :বছরের পর বছর একই পদে চাকরি করে যাওয়ার গ্লানি মনে ও কাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে জানিয়ে প্রভাষক ফাহিমা খন্দকার বলেন, এই বেদনার কথা কাউকে বলে বোঝানো কঠিন। খুব বেশি খারাপ লাগে। একই সঙ্গে যোগ দিলাম, কেউ পদোন্নতি পেলেন, কেউ পেলেন না। সমান যোগ্যতা নিয়ে কম বেতনে নিম্ন পদে বছরের পর বছর যাদের কাজ করতে হয়, সেই ভুক্তভোগীরাই কেবল এ যন্ত্রণা বুঝতে পারবেন।ফাহিমার মতোই চাটমোহর মহিলা ডিগ্রি কলেজে অন্তত ২০ বছর বা তারও বেশি সময় ধরে প্রভাষক পদে চাকরি করছেন অর্থনীতির আলফাজ উদ্দিন, ইতিহাসের মোতাহেরা বানু, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের রফিকুল ইসলাম ও অর্থনীতির মাহবুবুল ইসলাম। একই কলেজে ১৯৯৬ সালে যোগ দিয়ে ২৪ বছর ধরে প্রভাষক পদে চাকরি করছেন সমাজবিজ্ঞানের ফারহানা বেগম। ১৯৯৭ সালে যোগ দিয়ে ২৩ বছর ধরে জীববিজ্ঞানে প্রভাষক পদেই আছেন জেসমিন আক্তার।ময়মনসিংহ জেলার ফুলবাড়িয়া অনার্স কলেজে টানা ৩০ বছর ‘প্রভাষক’ পদে চাকরি করে সম্প্রতি অবসরে যান মনোবিজ্ঞানের তাহেরা বেগম। একই কলেজের ইসলাম শিক্ষা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান হাফেজ মুহাম্মদ রুহুল আমিন প্রভাষক পদে আছেন টানা ২৪ বছর; ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের প্রভাষক অরুপ কুমার বসাক ও বাংলা বিভাগের সাইফুন নাহার পারুল আছেন ২০ বছরের বেশি সময় ধরে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here