Home বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিষ দিন অথবা পরীক্ষা নিন’

‘বিষ দিন অথবা পরীক্ষা নিন’

85
0

‘বিষ দিন অথবা পরীক্ষা নিন’- এমন প্ল্যাকার্ড হাতে চতুর্থ বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০১৬-১৭ বর্ষের শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে ‘হতাশা থেকে শিক্ষার্থীদের মুক্তি দিন’, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পরীক্ষা নিন’ লেখা প্ল্যাকার্ড ছিল শিক্ষার্থীদের হাতে।

রোববার (৩১ জানুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে দ্রুত পরীক্ষার দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের জোহা চত্বরে মানববন্ধন করেন ২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি মহিউদ্দিন মানিকের সঞ্চালনায় ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ সাকী বলেন, ‘আপনারা শিক্ষকরা প্রশাসনে থাকার পরেও আমাদের রাস্তায় নামতে হয়। এর চেয়ে দুর্ভাগ্যের কিছু নেই। আপনারা বলেন আপনারা আমাদের পিতৃতুল্য। কিন্তু আপনাদের কথার মতো কোনো কাজ আমরা দেখি না। আপনারা আমাদের নিয়ে ভাবেন না। যদি ভাবতেন তাহলে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো আমাদেরও পরীক্ষা নিতেন।’

তিনি বলেন, ‘আপনাদের নিয়োগ-বাণিজ্য তো থেমে নেই, সিনেট অধিবেশন থেমে নেই, কার্যবিধি থেমে নেই তাহলে আমার পরীক্ষা কেন থেমে আছে? আপনাদের যে সংকীর্ণতা তা পরিহার করে আমাদের কথা ভাবুন। আমরা বাঁচলে রাষ্ট্র বাঁচবে, আমরা বাঁচলে আগামী ভবিষ্যত বাঁচবে।’

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শরীফ আহমেদ বলেন, ‘সরকার বলছে, তোমরা স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়। প্রশাসন তোমাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে। আবার প্রশাসন বলছে, আমরা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছি। এই যে সরকার ও প্রশাসনের লোফালুফি খেলা—সরকার ছুড়ে দিচ্ছে প্রশাসনের দিকে, প্রশাসন ছুড়ে দিচ্ছে সরকারের দিকে। মাঝখানে পড়ে যে আমাদের হতাশা বাড়ছে, জীবনের আশার আলো স্তিমিত হয়ে যাচ্ছে, দিনশেষে এর দায়ভার কে নেবে?’

পপুলেশন সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী আবিদ হাসান বলেন, ‘সরকারি হিসাবে কওমি মাদরাসায় প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থী। মাদরাসা খোলার ৫-৬ মাস পার হয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত কোনো শিক্ষার্থীর করোনায় আক্রান্তের ঘটনা আমারা দেখিনি। কওমি মাদরাসাগুলোতে যেখানে শিক্ষার্থীরা একই রুমে গাদাগাদি করে থাকছেন, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে প্রতি রুমে ২-৪ জন শিক্ষার্থী থাকেন, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক হল খুলে দিতে সমস্যা কোথায়?’

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফিশারিজ বিভাগের শিক্ষার্থী শ্যামল অধিকারী, অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী খাইরুল ইসলাম দুখু, মেটেরিয়াল সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইবরাহিম খলিল, ফকলোর বিভাগের শিক্ষার্থী আভা প্রমুখ।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here