Home কলেজ এমপিও নীতিমালা ২০২১:কঠিন হয়ে গেল নতুন কলেজ এমপিওভুক্তি

এমপিও নীতিমালা ২০২১:কঠিন হয়ে গেল নতুন কলেজ এমপিওভুক্তি

2202
0
চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী জানুয়ারির প্রথম দিকে এমপিওভুক্তির অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

শরীফুল আলম সুমন

দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল ও কলেজ) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ জারি করা হয়েছে। গত সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে এই নীতিমালা জারি করা হয়। তিন বছরের ব্যবধানে আরেকটি এমপিও নীতিমালা পেল বেসরকারি এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে কিছু বড় পরিবর্তন দেখা গেছে।

পরিবর্তনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, নতুন এই নীতিমালায় বিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি সহজ করা হলেও কলেজ পর্যায়ে কঠিন করা হয়েছে। এ ছাড়া উচ্চ মাধ্যমিকে জ্যেষ্ঠ প্রভাষকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে। এ পর্যায়ে এর ওপর আর কোনো পদোন্নতি নেই। গ্রন্থাগারিক ও সহকারী গ্রন্থাগারিকদের দেওয়া হয়েছে শিক্ষকের মর্যাদা।

এ ছাড়া নীতিমালায় পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার সুযোগ সৃষ্টি এবং আরেকটি নীতিমালা প্রণয়ন সাপেক্ষে বদলির সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগের অভিজ্ঞতা তিন বছর বাড়িয়ে ১৫ বছর করা হয়েছে।

এর আগের নীতিমালাটি করা হয়েছিল ২০১৮ সালে। তার আগেরটি করা হয় ২০১২ সালে। কয়েক বছর ধরে শিক্ষকরা এমপিও নীতিমালা আরো সহজ করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তাঁদের মূল দাবি ছিল, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত (সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত) করতে হবে, কিন্তু তাঁদের সেই দাবির প্রতিফলন নতুন নীতিমালায় দেখা যায়নি বলে কোনো কোনো শিক্ষক বলছেন।

তবে স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের (স্বাশিপ) সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলম সাজু বলেন, ‘নতুন নীতিমালায় বেসরকারি শিক্ষকদের পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতা ও বদলির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এত দিন কোথাও এসব বিষয় উল্লেখ ছিল না। ফলে আমি মনে করি, মুজিববর্ষে এটা শিক্ষকদের অন্যতম অর্জন। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানাই। তবে আমাদের প্রধান দাবি, শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণ। আশা করি, শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির মাধ্যমে সে পথেই অগ্রসর হবে সরকার।’

বেতন-ভাতার ব্যাপারে ৪৪ পৃষ্ঠার নীতিমালার ১১.৭-এর (ঙ) উপধারায় বলা হয়েছে, শিক্ষক-কর্মচারীদের মূল বেতন ও বোনাসের নির্ধারিত অংশ, উৎসব ভাতার নির্ধারিত অংশ, বৈশাখী ভাতার নির্ধারিত অংশ সরকারের জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অথবা সরকারের সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেলের সঙ্গে অথবা সরকারের নির্দেশনার সঙ্গে মিল রেখে করতে হবে।

শিক্ষক-কর্মচারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের ব্যাপারে ১২.২ উপধারায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক, প্রদর্শক ও প্রভাষকদের কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে সমপদে ও সমস্কেলে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তনের জন্য মন্ত্রণালয় নীতিমালা প্রণয়ন করে জনস্বার্থে আদেশ জারি করতে পারবে।

বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকারের সর্বশেষ বেতন স্কেল অনুযায়ী মূল বেতন পেয়ে থাকেন। তবে শিক্ষকরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ এবং কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ উৎসব বোনাস পান। তাঁরা শতভাগ বোনাস পেতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন। এ ছাড়া তাঁদের কোনো বদলির সুযোগ নেই। তবে নতুন নীতিমালা অনুযায়ী শতভাগ উৎসব বোনাস ও বদলির সুযোগ সৃষ্টি হলো।

২০১৮ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পেতে নিম্ন মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০ জন শিক্ষার্থী, মাধ্যমিকে শহরে ৩০০ ও মফস্বলে ২০০, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪৫০ ও মফস্বলে ৩২০, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০ এবং ডিগ্রি (স্নাতক পাস) কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২০০ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। আর পাসের হার হতে হবে ৭০ শতাংশ।

তবে ২০২১ সালের নীতিমালা অনুযায়ী, নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তি পেতে নিম্ন মাধ্যমিকে শহরে ১২০ ও মফস্বলে ৯০, মাধ্যমিকে শহরে ২০০ ও মফস্বলে ১৫০, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে শহরে ৪২০ ও মফস্বলে ৩২০, উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে শহরে ২৫০ ও মফস্বলে ২২০ এবং ডিগ্রি কলেজে স্নাতকে শহরে ৪৯০ ও মফস্বলে ৪২৫ জন শিক্ষার্থী থাকতে হবে। পাসের হার স্তরভেদে সর্বনিম্ন ৪৫ শতাংশ থেকে সর্বোচ্চ ৭০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া নতুন এমপিও পেতে মোট ১০০ নম্বরের মধ্যে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৩০ এবং পাসের হারে ৪০ নম্বর রাখা হয়েছে।

কলেজে কর্মরত প্রভাষকদের অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে ডিগ্রি পর্যায়ের কলেজের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হলেও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রভাষকদের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক পদে পদোন্নতির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ প্রভাষক চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে পদোন্নতি পাবেন। একইভাবে ডিগ্রি কলেজের প্রভাষকরা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পাবেন। ১০০ নম্বরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পদোন্নতি পাবেন তাঁরা। উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে সহকারী অধ্যাপক বলে কোনো পদ থাকবে না বলেও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন নীতিমালা অনুযায়ী, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও উচ্চ মাধ্যমিক কলেজে কর্মরত ‘সহকারী গ্রন্থাগারিক কাম ক্যাটালগার’রা ‘সহকারী শিক্ষক (গ্রন্থাগার ও তথ্য বিজ্ঞান)’-এর মর্যাদা পাচ্ছেন। আর ডিগ্রি কলেজে ‘গ্রন্থাগারিক’ হিসেবে যাঁরা কর্মরত তাঁদের পদবি ‘গ্রন্থাগার প্রভাষক’ হিসেবে পরিবর্তিত হবে। তবে বেতন-ভাতাদি ও সুযোগ-সুবিধা এবং বেতন স্কেল আগের মতোই বহাল থাকবে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here