Home বিশ্ববিদ্যালয় অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না এশিয়ান ইউনিভার্সিটির

অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না এশিয়ান ইউনিভার্সিটির

57
0


নিজামুল হক

অনিয়ম যেন পিছু ছাড়ছে না এশিয়ান ইউনিভার্সিটির। একের পর এক আইনের ধারা লঙ্ঘন করে রাজধানীতে পরিচালিত এই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়টি নিয়েও বিপাকে পড়ছে খোদ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনও (ইউজিসি)। বিভিন্ন সময় আইন লঙ্ঘনের বিষয় সতর্ক করা হলেও তা তোয়াক্কা না করে একের পর এক অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি কমিশন কর্তৃক বিভিন্ন তদন্ত ও পরিদর্শনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রদত্ত নির্দেশনাকেও পাশ কাটিয়ে যাচ্ছে। করছে সনদ বাণিজ্যও। তাই এবার আর সতর্ক নয়, কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য শিক্ষামন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছে ইউজিসি।

ইউজিসি জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত বৈধ উপাচার্য নেই ৯ বছর ধরে। ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর নিয়োগ করা হয়নি উপউপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষ। এছাড়া প্রশাসনিক পদ পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, হিসাব পরিচালক, প্রক্টর এবং অন্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও নেই কর্মকর্তা। এছাড়া অবৈধ স্বাক্ষরে ইস্যু করা হচ্ছে সনদ। নামসর্বস্ব প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নিয়েই বছরের পর বছর চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

শিক্ষামন্ত্রণালয়ে পাঠানো ইউজিসির চিঠিতে বলা হয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কোনো উপাচার্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, সংশ্লিষ্ট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য অস্থায়ীভাবে উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন, তবে উপউপাচার্যের পদ শূন্য থাকলে কোষাধ্যক্ষ উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করবেন। সে মোতাবেক বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ২০১২ সালের পর থেকে চ্যান্সেলর কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত বৈধ কোনো কর্তৃপক্ষ নেই। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. আবুল হাসান এম সাদেক ২০১২ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টির ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্ব পালন করছেন এবং শিক্ষার্থীদের মূল সনদসহ বিভিন্ন দাপ্তরিক ও একাডেমিক দলিলে স্বাক্ষর করছেন। যা কোনোভাবেই বৈধ নয় বলে ইউজিসি জানিয়েছে।

আইনানুযায়ী আচার্য বা রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিযুক্ত উপাচার্যের স্বাক্ষরে বিশ্ববিদ্যালয় সনদ দেবে ছাত্রছাত্রীদের। কিন্তু গত ৯ বছর উপাচার্য না থাকায় অবৈধ স্বাক্ষরে সনদ দিয়ে যাচ্ছে তারা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ উপাচার্যের স্বাক্ষরে শিক্ষার্থীদের সনদ না দেওয়ায় ঐ সনদের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হবে। বিপাকে পড়তে পারে ১২ বছর ধরে সনদ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতিরও প্রমাণ মিলেছে। এ বিষয়ে ইউজিসি বলছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে সনদ জালিয়াতি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টির বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী মূল সনদে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন উপাচার্য ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এবং সাময়িক সনদে স্বাক্ষর করেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। বিশ্ববিদ্যালয়টির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের যোগসাজোশ ব্যতিরেকে শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার ফারুক আহমেদের একার পক্ষে সনদ জালিয়াতি করা সম্ভব নয়। যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়টির শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত রয়েছে।

ইউজিসি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো কারণ ব্যতিরেকে ছাঁটাই, বহিষ্কার, ইউজিসির নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও চলতি স্প্রিং সেমিস্টারের পেছনের তারিখ দিয়ে অবাধে ছাত্র ভর্তি, সনদ বাণিজ্য, জঙ্গিবাদে মদতসহ আর্থিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের মাধ্যমে এক অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে যা শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এসব কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়ছে বলে জানিয়েছেন ইউজিসির পরিচালক ওমর ফারুখ।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here