Home অন্যান্য খবর শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিদেশি কর্মী

শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতায় বাড়ছে বিদেশি কর্মী

40
0

বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা এ দেশের শিল্পকারখানার কর্মী চাহিদা পূরণ করতে পারছে না। প্রযুক্তি ও ব্যবস্থাপনায় উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর অভাবে প্রতিবেশী ভারত ও শ্রীলঙ্কাসহ বিদেশি কর্মী নিয়োগে বাধ্য হচ্ছে দেশীয় শিল্পকারখানা। এতে শুধু ভারতেই বছরে কষ্টার্জিত বৈদেশিক মুদ্রার ১০ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে। বিপরীতে দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। দেশের মোট বেকারের ৪৬ শতাংশ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী।

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় : শিক্ষা খাতের ভূমিকা’ শীর্ষক ওয়েবিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা। বক্তারা আরও বলেন, প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থা বেকার তৈরি করছে বেশি। তাই দ্রুত এ ধারা থেকে বের হতে হবে। দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের চাহিদা জানাতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জানতে হবে, দেশের প্রয়োজন কী। যুগ ও দেশের চাহিদাকে সামনে রেখে এখনই শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে হবে। এ জন্য বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা এবং সরকারের সমন্বয় দরকার।

ওয়েবিনারে অংশ নেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) উপ-উপাচার্য এম আবুল কাসেম মজুমদার, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের (এআইইউবি) উপাচার্য ড. কারম্যান জেড লামাগনা এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) বিশেষ উপদেষ্টা ও ডিন প্রফেসর ইমরান রহমান প্রমুখ।

স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি রিজওয়ান রাহমান বলেন, দেশের প্রথাগত শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠদান শেষে শিল্প খাতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকার কারণে তরুণ সমাজের সবাই কর্মসংস্থানে প্রবেশ করতে পারছে না। শিল্প খাতে বিশেষ করে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার জন্য বিদেশি নাগরিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নির্ভরশীলতা বাড়ছে। ফলে শুধু ভারতে প্রতি বছর ১০ বিলিয়ন ডলার চলে যাচ্ছে।

ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু শিক্ষাদান হয় না, সেখানে গবেষণা হয়। সময়ের চাহিদার বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়ায় করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সব দেশের জন্য সহজলভ্য টিকা তারাই প্রথম উদ্ভাবন করেছে। সময়ের চাহিদাভিত্তিক শিক্ষা ও গবেষণায় বাংলাদেশ অনেক পিছিয়ে। ফলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় বিনিয়োগ আকর্ষণ ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। শিক্ষা খাতের গবেষণা কার্যক্রমের জন্য শিল্প খাতের আর্থিক সহায়তাকে কর অব্যাহতি প্রদানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক সত্য প্রসাদ মজুমদার বলেন, বিশ্বের উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর শিল্পায়ন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে শিক্ষা ও শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম আর্থিক সহায়তা প্রদানে সরকার ও বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ট্রেনিং’ কার্যক্রম চালুর প্রস্তাব করেন।

ড. কারম্যান জেড লামাগনা বলেন, প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাবে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ হচ্ছে না। এ জন্য তিনি শিক্ষা কারিকুলাম যুগোপযোগীকরণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। শিল্প ও শিক্ষা খাতের বিদ্যমান দূরত্ব কমাতে প্রশিক্ষণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

এম আবুল কাসেম মজুমদার বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয়ের বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করতে হবে। বিশেষ করে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচনে শিল্প খাতের প্রতিনিধি রাখার প্রস্তাব করেন।

প্রফেসর ইমরান রহমান বলেন, শিল্প ও শিক্ষা খাতের সমন্বয় এখন সময়ের দাবি, সবাই এ কথাটি যে বুঝতে পারছে, যা ইতিবাচক বিষয়।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here