Home অন্যান্য খবর করোনায় অনিশ্চিত নতুন কারিকুলাম

করোনায় অনিশ্চিত নতুন কারিকুলাম

87
0


শরীফুল আলম সুমন

২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে নতুন কারিকুলামে বই প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয়। কিন্তু করোনার কারণে তা পিছিয়ে ২০২২ সাল থেকে নতুন কারিকুলামে বই দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুসারে কাজও শুরু করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। তবে চলতি বছর করোনার দ্বিতীয় ঢেউ আগের চেয়েও মারাত্মক আকার ধারণ করায় আগামী বছরও নতুন কারিকুলামের বই প্রণয়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সূত্র জানায়, আগামী বছর প্রাথমিকের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির বই নতুন কারিকুলাম অনুসারে দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এরপর অন্যান্য শ্রেণিতে ধাপে ধাপে নতুন কারিকুলামের বই দেওয়া হবে। একই সঙ্গে নতুন কারিকুলামের বইগুলো চার রঙে ছাপার পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছিল।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বলেন, ‘আমরা নতুন কারিকুলাম প্রণয়ন করেছি। এখন সেই কারিকুলাম অনুসারে টেক্সট বই লিখতে হবে। আমরা এপ্রিল ও মে মাসে এই টেক্সট বই লিখতে চেয়েছিলাম। এরপর জুন থেকে আগামী শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কাজ শুরু হবে। কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বগতির কারণে আমরা বই লেখার কাজ এখনো শুরুই করতে পারিনি। আবার ছাপার কাজ শুরু করতে দেরি করলে নির্দিষ্ট সময়ে বই দেওয়া যাবে না। এ জন্য আগামী বছর নতুন কারিকুলামের বই দেওয়া যাবে কি না সেটা নিয়ে অনেকটাই অনিশ্চয়তা রয়েছে।’

জানা যায়, দেশবরেণ্য শিক্ষক, শিক্ষাবিদরা সাধারণত টেক্সট বই লিখে থাকেন। যাঁদের বেশির ভাগের বয়সই ৬০ বছরের ওপরে। আর টেক্সট বইগুলো সাধারণত এনসিটিবিতে এসে লেখকদের লিখতে হয়। কারণ একটা বইতে একাধিক লেখক কাজ করেন। একসঙ্গে কাজ করলে সমন্বয়ে সুবিধা হয়। কিন্তু করোনার ঊর্ধ্বগতির মুখে এ মাসে এসব লেখককে এনসিটিবিতে আনতে সাহস পাননি কর্তৃপক্ষ। ফলে আগামী বছর নতুন কারিকুলামে বই প্রদান অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণে দরপত্র আহবান করেছে এনসিটিবি। তবে প্রাথমিকে যেহেতু প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বই নতুন কারিকুলামে হবে সে জন্য এই দুই শ্রেণির বই দরপত্রে রাখা হয়নি। বাংলাদেশ মুদ্রণ শিল্প সমিতি চলমান ‘লকডাউনে’র কারণে দরপত্রের সময়সীমা আরো বাড়ানোর দাবি তুলেছে। একই সঙ্গে ২০২১ শিক্ষাবর্ষের বকেয়া বিলও পরিশোধের দাবি জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিবছর প্রায় ৩৫ কোটি বিনা মূল্যের বই ছাপা হয়। এই বিশাল কর্মযজ্ঞে এনসিটিবি চেষ্টা করেও নিম্নমানের কাগজে বই ছাপা বন্ধ করতে পারছে না। যারা নিম্নমানের কাগজে বই ছাপে তারা শেষ সময়ে তাড়াহুড়ি করে কাজ করে। প্রতিবছর নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার কারণে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। তবে তারা নিয়মের ফাঁক গলে ঠিকই বেরিয়ে যায়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানই থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

নাম প্রকাশ না করে একজন মুদ্রাকর বলেন, ‘বড় বড় কাগজের মিলগুলো ভার্জিন পাল্প দিয়ে কাগজ তৈরি করে। তাদের মানসম্পন্ন কাগজের দাম সামান্য বেশি পড়ে। ফলে অনেকেই তাদের কাগজ কিনতে চায় না। কিন্তু কিছু মিল পাল্পের সঙ্গে রিসাইকেল কাগজের পাল্পও যুক্ত করে। এতে তাদের কাগজের দাম কম পড়ে। এই রিসাইকেল কাগজের ব্রাইটনেস ৮৪ পর্যন্ত আনা সম্ভব হয়। এনসিটিবি যেহেতু ব্রাইটনেস ৮৫ চায়, তাই ইন্সপেকশন এজেন্টের সঙ্গে কেউ কেউ সমঝোতা করে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপে।’

এই মুদ্রাকর আরো বলেন, ‘আগামী শিক্ষাবর্ষের বইয়ের স্পেসিফিকেশনে যদি ব্রাইটনেস বাড়িয়ে ৮৭ করা হতো, তাহলে ৮৪ কে ৮৭ করার সুযোগ ইন্সপেকশন এজেন্টের হাতেও থাকত না। আর সেটাও যদি সম্ভব না হয়, তাহলে ভার্জিন পাল্পের তৈরি কাগজ ব্যবহার করতে হবে উল্লেখ থাকলেও নিম্নমানের কাগজ ব্যবহারের সুযোগ থাকত না। আমরা এ ব্যাপারে এনসিটিবিকে প্রস্তাব দিলেও তাদের তেমন কোনো সদিচ্ছা দেখিনি।’

জানা গেছে, ২০২১ শিক্ষাবর্ষের বইয়ের মতোই ২০২২ শিক্ষাবর্ষের বই মুদ্রণেও প্রায় একই স্পেসিফিকেশন রেখেছে এনসিটিবি। ফলে মনিটরিং ব্যবস্থা কঠোর না হলে কিছু মুদ্রাকরের কাছ থেকে মানসম্পন্ন বই পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here