Home মতামত প্রচলিত সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা প্রয়োজন

প্রচলিত সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতি বাতিল করা প্রয়োজন

93
0


বিদ্যুৎ কুমার রায়

বাংলাদেশই পারবে সমগ্র বিশ্বের জন্য অনুকরণীয় শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে। আপনাদের কাছে এই কথাগুলো নতুন বা হাস্যকর মনে হলেও বাস্তবে কিন্তু এটা করা সম্ভব । সারা বিশ্বে এমন কোন আইডিয়াল শিক্ষা ব্যবস্থা নাই যে শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের সকল দেশ অনুসরণ করতে পারে বা অনুসরণ করে । বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা আমরা এমনভাবে আধুনিক করতে পারি যাতে আমেরিকা, কানাডা, জাপান বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ফলো করতে পারে। তবে এই রকম একটি আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করার জন্য আগে জানতে হবে বর্তমানের বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কি কি সমস্যা রয়েছে ? এবং এই সকল সমস্যা সমাধানের জন্য কি কি পদক্ষেপ গ্রহণ করা দরকার ।

বাংলাদেশের বর্তমান বেসিক এডুকেশনের শিক্ষা ব্যবস্থায় ছাত্র ছাত্রীরা কোচিং এর কোন নির্ভর বাংলাদেশের ছাত্র ছাত্রীদের যদি কোচিং করতে না হয় , গাইড পড়তে না হয় , ছাত্র ছাত্রীদের যদি প্রাইভেট পড়তে না হয় ,ছাত্র ছাত্রীরা ‍যদি কেবলমাত্র টেক্সটবুকবোর্ড বোর্ড কর্তৃক প্রদত্ত পাঠ্যবই পড়েই জেএসসি, এসএসসি, এইচ এসসি পরীক্ষার সকল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে তাহলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশ্বের জন্য অনুকরনীয় মডেল হতে পারবে

শিক্ষার এই উন্নয়ন হলে অভিভাবকেরা শুধু তাদের সন্তানদের ক্লাসে পাঠাবে আর তাদের সন্তানদের জন্য একস্ট্রা কোন প্রাইভেটের চিন্তা করতে হবে না , গাইড কেনার চিন্তা করতে হবে না , কোচিং করার চিন্তা করতে হবে না ।

প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীদের জন্য টেক্সটবুক বোর্ড বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরন করে কিন্তু একাদশ এবং দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য টেক্সটবুক বোর্ড বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরন করে না। একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের এই পাঠ্যবই কিনে পড়ালেখা করতে হয়। যেহেতু টেক্সটবুক বোর্ড একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কোন বই সরবরাহ করে না। তাই দরিদ্র মানুষের একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির একসেট বই কিনতে অনেক টাকা দরকার হয়। এটা দরিদ্র মানুষের জন্য অনেক কস্টের। তাই টেক্সটবুক বোর্ড কর্তৃক প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের মত একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের পাঠ্যবই তৈরি করে ছাত্র ছাত্রীদের ফ্রি দেওয়া উচিত।

1000182_373825796050832_406737251_n

এছড়া এমনিতেই টেক্সটবুক বোর্ড একাদশ দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্র ছাত্রীদের জন্য বিনামুল্যে কোন বই বিতরণের ব্যবস্থা করে না তারপরেও টেক্সটবুক বোর্ড যদি কোন একটি সাবজেক্টের পাঠ্যবই পড়ার জন্য অনেকগুলো বই অনুমোদন দেয় তাহলে ছাত্র ছাত্রীদের অনেকগুলো বই কিনতে অনেক টাকা খরচ হয় এজন্য তারা অনেক সমস্যায় পড়ে। যেমন টেক্সটবুক বোর্ড এইচ এস সি ক্লাসের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য রসায়নের ১২টি বই অনুমোদন দিয়েছে। ছাত্র ছাত্রীরা যখন একটি বইই কিনতে পারে না তখন তাদের পক্ষে শুধুমাত্র রসায়নের জন্য ১২ টি বই কেনা অনেক কস্টের। কোন শিক্ষক যদি একজন লেখকের বই থেকে একসেট এম সি কিউ প্রশ্ন করেন তাহলে কোন ছাত্র বা ছাত্রী যদি সেই লেখকের বই না পড়ে আরেকজন লেখকের বই পড়ে তাহলে সেই ছাত্র বা ছাত্রী সেই এম সি কিউ সেটের সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না । এজন্য পাঠ্যপুস্তক বোর্ড বা এনসিটিবি এর উচিত প্রত্যেক বিষয়ের জন্য একজন লেখকের বই অনুমোদন দেওয়া । এনসিটিবি বা টেক্সটবুক বোর্ড কর্তৃক পাঠ্যবইগুলোকে এমনভাবে তৈরি করতে হবে যাতে সেই বইগুলোই হবে গাইডের মত। কিন্তু লক্ষ্য রাখতে হবে ছাত্র ছাত্রীদের যেন অন্য কোন বই বা গাইড কিনতে না হয়।

বর্তমানে দেখা যায় টেক্সটবুক বোর্ড বিনামুল্যে কোন একটা শ্রেণির জন্য একটা ইংরেজি গ্রামার বই দিল কিন্তু বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ছাত্র ছাত্রীদের অন্য একটা গ্রামার বই কিনতে বলেন। আবার একেক স্কুল বা একেক কলেজের স্যার একেক রকম ভিন্ন ভিন্ন গ্রামার বই ছাত্র ছাত্রীদের জন্য কিনতে বলেন। তাহলে শিক্ষকরা যে গ্রামার বই কিনতে বলেন সেই গ্রামার বই এর মধ্যে একটি বই সিলেক্ট করে যদি সেই বইটিকেই পাঠ্যবই হিসেবে টেক্সটবুক বোর্ড ছাত্র ছাত্রীদের জন্য ফ্রি করে দেয় তাহলে তো আলাদা গ্রামার বই ছাত্র ছাত্রীদের কেনার কোন ঝামেলা থাকবে না।

গণিতের বই সংক্রান্ত কিছু কথা । ধরা যাক সপ্তম শ্রেণিতে ষষ্ঠ অধ্যায়ের উদাহরনে ১০ টি অংক আছে। কিন্তু অনুশীলনীতে আছে ৫০ টি অংক। কিন্তু ঐ উদাহরণ এর ১০ টি অংক দেখে অনুশীলনীর দুএকটি অংক করা সম্ভব হলেও কোনভাবেই ৫০টি অংক সমাধান করা যায় না। ফলে অনুশীলনীর সবগুলো অংক করার জন্য গাইড কিনতে হয়, কোচিং করতে হয়। যদি গণিতের বইয়েই সব অংকই করে দেওয়া থাকতো তাহলে কিন্তু গাইড কেনার প্রয়োজন হতো না এবং অংক সমাধান করার জন্য কোচিং করার বা প্রাইভেট পড়ার কোনটারই প্রয়োজন হতো না।

মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে টেক্সটবুক বোর্ডের চেয়ারম্যানকে বলতে হবে একাদশ দ্বাদশ মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয়কে অবশ্যই সৃজনশীল পরীক্ষা সিস্টেম বন্ধ করতে হবে। সৃজনশীল সিস্টেম চালু করা আগে বলা হয়েছিল বাংলাদেশে এমন একটা সৃজনশীল সিস্টেম আসতেছে যে সিস্টেমে গাইড লাগবে না, কোচিং লাগবে না। কিন্তু এই সিস্টেম আসার পরে প্রথম শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রত্যেক ছাত্র ছাত্রীদের বাড়িতে গাইডে ভরপুর হয়ে গেছে। দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত বাংলাদেশে এমন কোন ছাত্র ছাত্রী পাওয়া যাবে না যাদের বাড়িতে গাইড নেই। তাই মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় এর কাছে বিনীত অনুরোধ থাকবে টেক্সটবোর্ড যে বই দিবে সেই বই থেকেই যেন পরীক্ষায় প্রশ্ন আসে এবং সকল প্রশ্নের উত্তর যেন সেই বই থেকেই পাওয়া যায় যাতে ছাত্র ছাত্রীদের যেন কোন গাইড কিনতে না হয়।

মুল সুপারিশ : মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যেন নির্দেশ দেন যে প্রশ্ন যেভাবেই হোক উত্তরটা যেন সেই ক্লাশের বইয়ের মধ্যে থাকে।

লেখক, শিক্ষা সংস্কারক ও গবেষক

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here