Home অন্যান্য খবর বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

বেসরকারি মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ আইনের খসড়া মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

32
0

মেডিক্যাল শিক্ষা খাতে আরো শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে মন্ত্রিসভা বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন, ২০২১ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে। গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে এবং মন্ত্রিসভার সদস্যগণ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ভার্চুয়ালি বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনা এবং অপারেশন গাইডলাইনস ২০১১ এবং বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ প্রতিষ্ঠা এবং অপারেশন গাইডলাইনস ২০০৯-এর অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, একটি মেডিক্যাল বা ডেন্টাল কলেজে কমপক্ষে ৫০ জন ছাত্র থাকতে হবে এবং প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী তার শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১ :১০ হতে হবে। পাশাপাশি তিনি বলেন, একটি মেডিক্যাল কলেজের যে কোনো মহানগরীতে কমপক্ষে দুই একর জমি থাকতে হবে এবং ডেন্টাল কলেজের জমি প্রয়োজন এক একর। সচিব বলেন, মহানগর অঞ্চলের বাইরের মেডিক্যাল কলেজের জন্য জমি প্রয়োজন চার একর এবং ডেন্টাল কলেজের জন্য এটি দুই একর হবে। তিনি আরো জানান, যে কোনো মেডিক্যাল কলেজকে যে কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকে সংরক্ষিত তহবিল হিসাবে ৩ কোটি টাকা এবং ডেন্টাল কলেজের জন্য ২ কোটি টাকা জমা দিতে হবে।

একাডেমিক উদ্দেশ্যে যে কোনো মেডিক্যাল কলেজে প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী ১ লাখ বর্গফুট জায়গা এবং হাসপাতালের উদ্দেশ্যে আরো ১ লাখ বর্গফুট জায়গা থাকতে হবে। এছাড়াও ডেন্টাল কলেজ এবং হাসপাতালের জন্য প্রতিটি স্থানের পরিমাণ হবে ৫০ হাজার বর্গফুট। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষ এই কলেজ এবং হাসপাতাল বিভিন্ন সময়ে তদারকি করবে।

তিনি আরো বলেন, মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজ যে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনুমোদিত হতে হবে এবং মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কলেজের একাডেমিক ফি সরকার নির্ধারণ করবে। বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ বা ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষকে সঠিক বৈজ্ঞানিক উপায়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।

আইন লঙ্ঘনে শাস্তি সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবে। এদিকে নতুন যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে এবং আইনকে যুগোপযোগীকরণে মন্ত্রিসভা টেরিটরিয়াল ওয়াটারস অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস (সংশোধন) আইন, ২০২১ এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ১৯৭৪ সালে প্রণীত পুরাতন আইনটিকে নতুন করে সংশোধিত আকারে উপস্থাপিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত সংশোধিত আইনে ২২টি নতুন সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। নতুন আইনে অঞ্চল, উচ্চ সমুদ্র অঞ্চল, নীল অর্থনীতি, সমুদ্র সহযোগিতা, গবেষণা এবং সমুদ্র দূষণের সংজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া, বাংলাদেশ গ্যাস, তেল ও খনিজসম্পদ করপোরেশন আইন-২০২১ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিসভা বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২১ সালের প্রথম ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনও এদিন মস্ত্রিসভায় উত্থাপিত হয়।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here