Home বিশ্ববিদ্যালয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে পরীক্ষার ক্ষেত্রে নানা চ্যালেঞ্জ

69
0

করোনার সংক্রমণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস বন্ধ। বন্ধ রয়েছে সব ধরনের পরীক্ষাও। ফলে সেশনজটের কবলে পড়তে যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। বর্তমানে ৪৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ থাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এমন বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পরামর্শে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। তবে অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা কতটুক—এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।শিক্ষাসংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার এই অনিশ্চয়তার মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে। এ জন্য পরীক্ষা নেওয়ার বিকল্প কী? চ্যালেঞ্জ থাকলেও পরীক্ষাগুলো অনলাইনে নেওয়া সম্ভব। এ জন্য চ্যালেঞ্জগুলোও মোকাবিলা করতে হবে। পরীক্ষা নেওয়ার আগে সব শিক্ষার্থীর অনলাইনে পরীক্ষা নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করার বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে নিশ্চিত করতে হবে।বেশির ভাগ শিক্ষার্থী তাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে উদ্বিগ্ন, যেভাবেই হোক পরীক্ষা দিতে চায় তারা। তবে অনলাইন পরীক্ষার ক্ষেত্রে পরীক্ষার ধরন, ইন্টারনেটের গতি, ডিভাইস না থাকা, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্যসহ নানা প্রতিবন্ধকতা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছে। অনেকে শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্ট আকারে পরীক্ষা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে। শিক্ষকেরাও পরীক্ষা নেওয়ার জন্য প্রস্তুত আছেন কি না, এমন প্রশ্ন শিক্ষার্থীদের।ইউজিসির সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অনলাইনে সৃজনশীল কাজ, বহুনির্বাচনি প্রশ্ন, নির্ধারিত সময় ধরে শ্রেণি পরীক্ষা (ক্লাস টেস্ট) ও মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। এসব পরীক্ষা নেওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের ডিভাইসের (ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন) ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন চালু থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো নিজেদের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় আলোচনা করে ঠিক করবে কীভাবে পরীক্ষা নেবে।যেসব ব্যবহারিক কোর্স হাতে-কলমের কাজ ছাড়া সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, তা অবশ্যই সুবিধাজনক সময়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীরে সম্পন্ন করতে হবে। মূল্যায়নের ক্ষেত্রে চলমান পদ্ধতি ও স্কেল গ্রেড দিতে হবে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ ও ইন্টারনেট সংযোগ, ইন্টারনেটের গতি, ডিজিটাল ডিভাইস, আন্তর্জাতিকভাবে ফলাফলের গ্রহণযোগ্যতা ইত্যাদি বিষয় বিবেচনা করে নীতিমালা করবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। সেটি শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে জানাতে হবে।রাজধানীর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. হানিফ বলেন, ‘আমি পিরোজপুরের একটি উপজেলায় থাকি। এখানকার নেটওয়ার্ক এতটাই দুর্বল যে মোবাইলে ইন্টারনেট ডাটা চালু করা যায় না। এসব কারণে অধিকাংশ ক্লাসে অংশ নিতে পারিনি। ক্লাসে অংশ নিতে উপজেলা শহরে যেতে হয়েছে। সেখানেও ইন্টারনেট দুর্বল। পরীক্ষা দেব কীভাবে?’অনলাইনে পরীক্ষা নিলে গ্রামের শিক্ষার্থীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মনে করে অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক। তাই বিষয়টি সমাধান করেই পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে।আজিজুল ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইনে ক্লাস হয়নি। যেখানে ক্লাস হয়েছে, সেখানে ইন্টারনেট সমস্যার কারণে ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি। না পড়িয়ে কীভাবে ক্লাস হবে? আগে কিছু ক্লাস নেওয়াও দরকার। সোহান নামে এক শিক্ষার্থী জানান, ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য, শিক্ষার্থীদের জন্য এর মূল্য কমাতে হবে বা বিনা মূল্যে দিতে হবে।রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, যেসব শিক্ষার্থী অসচ্ছল, তাদের ডিভাইস কেনার জন্য ঋণ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে পরীক্ষা নিতে আর কী কী চ্যালেঞ্জ আছে, সেগুলো খুঁজে বের করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।একই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন বলেন, শিক্ষার্থীদের অনলাইন ক্লাসে আগ্রহ ছিল না বললেই চলে। ক্লাসে হাজিরা দিয়েই সবাই উধাও হয়ে যেত। শেষ পর্যন্ত ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১০ জনও পাওয়া যেত না। পরীক্ষার সময় কী করে বলা যায় না।তিনি বলেন, অনলাইনে পরীক্ষার চেয়ে একেকটি সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের হোস্টেলে থাকার সুযোগ দিয়ে পরীক্ষা নেওয়া যেতে পারে। এদের পরীক্ষা শেষ হলে তারা হোস্টেল ছেড়ে দিত। তখন অন্য সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা এসে পরীক্ষায় অংশ নিত। দেশের ইন্টারনেটের যে অবস্থা, তাতে পরীক্ষার্থীরা কীভাবে একসঙ্গে অনলাইনে পরীক্ষায় অংশ নেবে?বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সচিব ফেরদৌস জামান বলেন, ৪১ হাজার শিক্ষার্থীকে মোবাইল কেনার জন্য ৮ হাজার টাকা করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন থেকে ঋণ দেওয়া হয়েছে। এতে ৪২ কোটিরও বেশি টাকা দিতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা ও উত্সাহ জোগাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ৮ হাজার টাকায় যে মোবাইল পাওয়া যায়, তার ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার উপযোগী নয়। যারা এই ঋণ নেয়নি, তাদের মোবাইল ডিভাইসও তত উপযোগী নয়। আবার অনেক শিক্ষার্থী আবেদন করেও মোবাইল ফেরত দেওয়ার শর্ত থাকায় ফোন নেয়নি।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here