Home প্রাথমিক প্রাথমিক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ

প্রাথমিক শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ

59
0

চট্টগ্রামের পটিয়ায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের কিট অ্যালাউন্স ও উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ অভিযোগে মোহাম্মদ মহিউদ্দিন (২১) নামে বিদ্যালয়ের কর্মচারীকে জেলেপাঠিয়েছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে আটক হওয়া স্কুল কর্মচারী মহিউদ্দিনকে পুলিশ আদালতে পাঠালে আদালত তাকে জেলে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মহিউদ্দিন উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের চাটারা বরিয়া শরৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাস্টাররোলে দপ্তরি কাম প্রহরী হিসেবে কর্মরত। তিনি একই ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আবুল বশর সওদাগরের বাড়ির আবুল বশরের ছেলে। এর আগে বুধবার রাতে মহিউদ্দিনকে আটকের পর স্কুল কর্তৃপক্ষ পুলিশে সোপর্দ করে। ওই দিন রাতেই প্রতারণা করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে বিদ্যালয়ের ওই দপ্তরির বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুন নাহার বাদী হয়ে পটিয়া থানায় মামলা করেন।মামলার এজাহার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে সরকার স্কুল ও কলেজ বন্ধ ঘোষণা করে। স্কুল বন্ধ থাকাকালে ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সুবিধার্থে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মতো উপজেলার ছনহরা ইউনিয়নের চাটারা বরিয়া শরৎ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনভিত্তিক ক্লাস চালু করা হয়। এ অনলাইন ক্লাস ‘গুগল মিট’ অ্যাপসের মাধ্যমে পরিচালনা করা হয়। স্কুলের অনেক ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকের অনলাইন সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তাদের গুগল মিট অ্যাপস সম্পর্কে ধারণা দিতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নির্দেশনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী স্কুলের শিক্ষকরা পালাক্রমে অভিভাবকদের গুগল অ্যাপস সম্পর্কে ধারণা দেন। দপ্তরি মহিউদ্দিনের বাড়ি বিদ্যালয়ের পাশে হওয়ায় শিক্ষকরা স্কুলে এলে মহিউদ্দিনও স্কুলে আসেন। মহিউদ্দিনও মাঝেমধ্যে ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকদের গুগল মিট অ্যাপস ডাউনলোড ও অ্যাপস সম্পর্কে ধারণা দিয়ে সহযোগিতা করে থাকেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ছাত্রছাত্রীর অভিভাবকদের মোবাইলে ‘নগদ’ অ্যাপসের মাধ্যমে বার্ষিক এক হাজার টাকা কিট অ্যালাউন্স এবং মাসিক ১৫০ টাকা করে উপবৃত্তি দেওয়া হয়। এ টাকা নগদ অ্যাপস থেকে উত্তোলনের জন্য অভিভাবকদের ব্যবহূত মোবাইলে একটি গোপন পিন কোড আসে। অভিভাবকরা গোপন পিন কোড ব্যবহার করে সরকারের দেওয়া কিট অ্যালাউন্স ও উপবৃত্তির টাকা উত্তোলন করে থাকেন। গত ২৬ জুন সকাল ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র অরিক বড়ূয়ার অভিভাবক অলকা বড়ূয়া স্কুলে এসে দপ্তরি মহিউদ্দিনের কাছে গুগল মিট অ্যাপস সম্পর্কে জানতে চান। মহিউদ্দিন ওই অভিভাবককে অ্যাপস খুলে দেওয়ার জন্য আশ্বস্ত করার পর তার ব্যবহূত মোবাইল ফোন থেকে কৌশলে গোপন পিন কোড নিয়ে নেন এবং পিন কোড ব্যবহার করে তার মোবাইল থেকে কিট অ্যালাউন্স হিসেবে প্রাপ্ত এক হাজার টাকা নগদ অ্যাপসের এজেন্ট স্থানীয় মোহাম্মদ ফরমানের মোবাইলে পাঠিয়ে দেন। একই দিন স্কুলের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র রাজেশের অভিভাবক সুচী বড়ূয়ার মোবাইল থেকে দুই হাজার ৭০০, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সপ্তশি বড়ূয়া অনির অভিভাবক নয়ন বড়ূয়ার মোবাইল থেকে দুই হাজার, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ইব্রাহিমের অভিভাবক রাশেদা বেগমের মোবাইল থেকে এক হাজার ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র তাসবিরের অভিভাবক শামীমের মোবাইল থেকে এক হাজার টাকা স্থানীয় নগদ অ্যাপসের এজেন্টের মোবাইল নম্বরে পাঠিয়ে দেন। পরে মহিউদ্দিন নগদ অ্যাপের এজেন্ট মোহাম্মদ ফরমানের কাছ থেকে মোট সাত হাজার ৭০০ টাকা টাকা নিয়ে নেন। পরে অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের কিট অ্যালাউন্স ও উপবৃত্তির টাকা উত্তোলনের জন্য নগদ এজেন্টের দোকানে গিয়ে জানতে পারেন তাদের টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। পরে অভিভাবকরা ঘটনার বিষয়টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে জানালে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতিকে জানানো হয়। প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটিসহ শিক্ষকদের নিয়ে সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিসা চাকমাকে বিষয়টি জানান।

শিক্ষার্থীর উপবৃত্তির টাকা আত্মসাৎ

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু আহমেদ বিষয়টি জানতে পেরে স্কুল পরিদর্শনে এসে বিদ্যালয়ে শিক্ষক, অভিভাবক ও দপ্তরি মহিউদ্দিনের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দপ্তরি মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে স্কুলশিক্ষক ও অভিভাবকরা মহিউদ্দিনকে পুলিশে সোপর্দ করেন।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here