Home বিশ্ববিদ্যালয় জাবির হল খুলছে আজ, থাকছে না ‘গণরুম’

জাবির হল খুলছে আজ, থাকছে না ‘গণরুম’

11
0

করোনা ভাইরাসের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেড় বছরের বেশি সময় বন্ধের পর আজ সোমবার শর্ত সাপেক্ষে খুলছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) আবাসিক হল। বিশ্ববিদ্যালয়ে খানাখন্দে ভরা সড়ক সংস্কার ও আবাসিক হলগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রাখার জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের পরিকল্পিতভাবে উঠানো, অছাত্রদের অবস্থান নিষিদ্ধ ও ‘গণরুম’ না রাখারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ক্যাম্পাস খোলার পরও আগের মতোই বেহাল অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টার।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোর দেওয়ালে নতুন রং করা হয়েছে। এছাড়া হলের ডাইনিং, ক্যান্টিন, ক্যাফেটেরিয়া ও পাঠকক্ষগুলো পরিষ্কার করা হয়েছে। হলে নতুন করে হাত ধোয়ার বেসিন বসানোর পাশাপাশি সাবান ও স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এমনকি হলের বাগান-মাঠসহ গোটা ক্যাম্পাসে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষ হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিক্যাল সেন্টারে করোনা ভাইরাস ও ডেঙ্গুর মতো রোগে আক্রান্তদের পর্যাপ্ত জরুরি চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হয়নি। এ ছাড়া দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় বিষধর সাপের কামড়ে শিক্ষার্থীরা আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকলে মেডিক্যালে চিকিত্সার ব্যবস্থা নেই। এমন পরিস্থিতিতে ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা করোনা ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে কিংবা বিষধর সাপের কামড়ে আহত হলে তাত্ক্ষণিক চিকিত্সাসেবা অনিশ্চিত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এদিকে মেডিক্যাল সেন্টারে দীর্ঘদিন অ্যাম্বুলেন্সসংকট ছিল। তবে নতুন দুটি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ দেওয়ায় সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসেন বলেন, সবার আগে মেডিক্যাল সেন্টারের প্রস্তুতি প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা নানাভাবে অসুস্থ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিত্সাকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. শামছুর রহমান বলেন, জায়গা স্বল্পতার কারণে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করিয়ে চিকিত্সা দেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের নেই। তবে করোনা পরীক্ষার বুথ স্থাপনের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। বিষধর সাপের কামড়ে ব্যবহূত অ্যান্টিভেনম সব চিকিত্সাকেন্দ্রে ব্যবহারের অনুমতি থাকে না। তাই শিক্ষার্থীরা প্রবেশের পূর্বে হলের কর্মচারীদের কক্ষগুলো খুলে দেখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে ডেঙ্গুর চিকিত্সা চলমান রয়েছে। এ ছাড়া অ্যাম্বুলেন্স সেবা বাড়াতে জোর দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাধ্যক্ষ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক মোহা. মুজিবুর রহমান বলেন, সব হলের সংস্কার কাজ শেষ হয়েছে। হলগুলোতে শিক্ষার্থীরা উঠতে পারবেন। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য তিনটি করে মাস্ক দেওয়া হবে। তবে হলে গণরুম কিংবা মিনি গণরুম না রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে কোনো কারণে যদি গণরুম রাখতেই হয়, তাহলে সামাজিক দূরত্ব মানতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, প্রথম বর্ষের (৪৯ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের হলে উঠতে কিছুদিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হয়নি। তাদের পরীক্ষা শেষ হলেই হল ছেড়ে দিবেন। তখন প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারবেন। এছাড়া ইতিমধ্যে যাদের স্নাতকোত্তর পরীক্ষা শেষ হয়েছে তারা হলে উঠতে পারবেন না।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here