Home কারিগরি-মাদ্রাসা কারিগরি শিক্ষা দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্পে অদক্ষতা

কারিগরি শিক্ষা দক্ষতা বৃদ্ধি প্রকল্পে অদক্ষতা

42
0

হামিদ-উজ-জামান

কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধির প্রকল্প বাস্তবায়নেই রয়েছে অদক্ষতা। ফলে গতি নেই কার্যক্রমে। শুরু থেকে সাড়ে ৩ বছরে ব্যয় হয়েছে মাত্র ৮৭ কোটি ৭৩ লাখ টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৪৯ দশমিক ১৫ শতাংশ। প্রস্তাব অনুযায়ী অবশিষ্ট আছে ১১৬ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আগামী ৭-৮ মাসে অর্থাৎ ২০২২ সালে জুনের মধ্যে এত টাকা ব্যয় করা সম্ভব কিনা-তা নিয়ে প্রশ্ন সংশ্লিষ্টদের। সেই সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা থেকে ২০১৮ সালে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও এখন কেন সংশোধন করা হচ্ছে সেটিও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। ‘স্কিলস-২১ ইমপাওয়ারিং সিটিজেনস ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেইনেবল গ্রোথ’ শীর্ষক প্রকল্পে বিরাজ করছে এমন অবস্থা। এতে বাড়ছে ব্যয় ও মেয়াদ। এটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ৯ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় এসব প্রশ্ন তোলা হয়। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন শনিবার যুগান্তরকে বলেন, এ ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়নে যে অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এটি দুঃখজনক। কেননা এক্ষেত্রে শুধু অদক্ষতাই বলা যায় না, অবহেলাও আছে। কেননা এখানে করোনা মহামারির দোহাই দিলে হবে না। ওই সময় অন্য সব কাজকর্মই চলেছে প্রযুক্তির সহায়তায়। তাহলে এ প্রকল্পের কাজ চলতে কি সমস্যা ছিল? এটিতো এমন নয় যে জটিল কোনো নকশা তৈরি কিংবা করিগরি কাজ ছিল। তাহলে বাস্তবায়নের এ অবস্থা হবে কেন? অদক্ষতা হোক আর অবহেলাই হোক এর জন্য যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।

জানতে চাইলে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান বলেন, আমি নতুন এসেছি। তাই এ প্রকল্পটির বিষয়ে কিছুই জানা নেই। এছাড়া আইন অনুযায়ী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। জানতে চাইলে একই অধিদপ্তরের অপর পরিচালক (পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন/পিআইইউ) মোশাররফ হোসেনও বলেন আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।

সূত্র জানায়, ‘স্কিলস-২১ ইমপাওয়ারিং সিটিজেনস ফর ইনক্লুসিভ অ্যান্ড সাসটেনেবল গ্রোথ’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রকল্পটির মূল অনুমোদিত ব্যয় ছিল ১৭৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। সেখান থেকে ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা বাড়িয়ে এখন প্রস্তাব করা হয়েছে ২০৪ কোটি টাকা। এছাড়া মেয়াদ ছিল ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন ৬ মাস বাড়িয়ে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। তবে এখানেই দেখা দিয়েছে প্রশ্ন। এছাড়া আরও অনেক বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।

প্রকল্পের ধীরগতি ও সংশোধনের কারণ হিসাবে বলা হয়েছে, এটির বাস্তবায়ন কার্যক্রম দেরিতে শুরু হয়েছে। এছাড়া কোভিড-১৯ মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে প্রকল্পের কাজ কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ জন্য প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অবশিষ্ট কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য উন্নয়ন সহযোগী ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) উদ্যোগ নিয়েছে। সংস্থাটির অপারেশনাল ডিউরেশন অব ফিন্যান্সিং অ্যাগ্রিমেন্টের মেয়াদ ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সংশোধন করতে হচ্ছে। এছাড়া করোনাকালীন যেসব শ্রমিক বিদেশ থেকে দেশে ফিরেছেন তাদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও সনদায়নের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন আরও অতিরিক্ত ৩ মিলিয়ন ইউরো সমপরিমাণ ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা এ প্রকল্পে অনুদান হিসাবে দেয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পের কিছু অংশের প্রাক্কলিত ব্যয় বৃদ্ধি প্রশিক্ষণের নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্তি ও মেয়াদকাল ৬ মাস বৃদ্ধিসহ প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়।

বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সাবেক সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ধীরগতির জন্য যারা দায়ী তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত। বিশেষ করে প্রকল্প পরিচালক, বাস্তবায়নকারী সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের যেসব কর্মকর্তা তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তাদেরও জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। এছাড়া অবহেলার কারণে প্রকল্প বাস্তবায়ন দেরি হওয়ায় শাস্তির কোনো নজির নেই। ফলে বারবার একই ঘটনা ঘটছে। এতে অর্থ ও সময়ের অপচয় ঘটেই চলছে। করোনাকালীন বিশ্বের সব কিছুই চলেছে তাহলে এ প্রকল্পের কাজ কেন চলল না।

পরিকল্পনা কমিশনের মতামত নিতে গিয়ে পিইসি সভার কার্যপত্রে বলা হয়, ২০১৮ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ডেলিগেশন হতে প্রাপ্ত ২৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা টপআপ মূলে পাওয়া যায়। সেটির জন্য চলতি বছরে প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০১৮ সালে প্রকল্প সংশোধন না করে কেন চলতি বছরে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিনিধির কাছে জানতে চাওয়া হয়। প্রকল্পের মিডটার্ম ইভালুয়েশন (এমটিই) অনুযায়ী আরটিএপিপিতে (সংশোধিত কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব) টিএপিপি (কারিগরি প্রকল্প প্রস্তাব) থেকে লোকাল ট্রেনিং খাতের আওতায় ইয়ুথ ট্রেনিং টার্গেট ১৭ হাজার ৫০০ জন হতে কমিয়ে ১৩ হাজার ২৫০ জন করা হয়েছে। শিক্ষক ও অন্যদের ট্রেনিং ১ হাজার ৫০০ জন থেকে বৃদ্ধি করে ৩ হাজার ২৪০ জন করা হয়েছে। এ বিষয় জানতে চাওয়া হয়। এছাড়া অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষনের ব্যয় বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু অভ্যন্তরীণ ভ্রমণের প্রাক্কলিত ব্যয় কমানো হয়েছে। সেই সঙ্গে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বা সফর এ পর্যন্ত কতটি অনুষ্ঠিত হয়েছে তার তথ্য দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি যে ৭টি মডেল ইনস্টিটিউট ভবনের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ ও মেরামত প্রস্তাব করা হয়েছে সেগুলোর তালিকা আরটিএপিপি তে সংযুক্ত আছে কিনা সেটিও জানতে চাওয়া হয়।

প্রকল্পের আওতায় যেসব কার্যক্রম হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম, অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ভ্রমণ, পরামর্শক সেবা এবং কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক উপকরণ সংগ্রহ করা। এছাড়া প্রকৌশল সরঞ্জামাদি, সভা ও ওয়ার্কশপ এবং সেমিনার কনফারেন্স আয়োজন করা।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here