Home কলেজ এমপিও পেতে সারাদেশের আট হাজারের বেশি আবেদন

এমপিও পেতে সারাদেশের আট হাজারের বেশি আবেদন

538
0
চলতি মাসের শেষে অথবা আগামী জানুয়ারির প্রথম দিকে এমপিওভুক্তির অনলাইন আবেদন কার্যক্রম শুরু হতে পারে।

এমপিওভুক্ত (মান্থলি পেমেন্ট অর্ডার বা এমপিও) করতে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন চাওয়া হয়েছিল। ১০ অক্টোবর থেকে অনলাইনে আবেদন শুরু হয়ে ৩১ অক্টোবর তা শেষ হয়। এবার সরকারি এমপিও পেতে সারাদেশের আট হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে। এর মধ্যে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অন্তত সাড়ে ছয় হাজার। বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো স্তর পরিবর্তনের আবেদন করেছে। এখন চলছে আবেদন যাচাই-বাছাই। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, এ মুহূর্তে এমপিওভুক্তির যোগ্য সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সারাদেশে সাড়ে আট হাজারের বেশি। এসব বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮৭ হাজার শিক্ষক ও কর্মচারী নতুন এমপিওভুক্তির আশায় বুক বেঁধেছেন। এমপিওভুক্ত হওয়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে মাসে বেতনের মূল অংশ ও এক হাজার টাকা বাড়ি ভাড়া আর ৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা পেয়ে থাকেন। এর বাইরে দুই ঈদে শিক্ষকরা মূল বেতনের ২৫ শতাংশ আর কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পান। আবেদন নেওয়ার জন্য এরই মধ্যে তিন ক্যাটাগরিতে আবেদন বাছাই শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এ-সংক্রান্ত কমিটি। ১৫ নভেম্বর কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিটির আহ্বায়ক মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফৌজিয়া জাফরীন এনডিসি মঙ্গলবার বলেন, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির নীতিমালা ও জনবল কাঠামো-২০২১ অনুসারে প্রাপ্ত আবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। তিন প্রধান মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে আমরা দেখেছি, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে, যা দুঃখজনক। কতটি আবেদন জমা পড়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কতটি আবেদন জমা পড়েছে তারও চেয়ে গুরত্বপূর্ণ হলো কতটি প্রতিষ্ঠানকে এমপিও দেওয়া হবে। এটি বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভর করছে। সরকার চাইলে বাজেট বাড়াতেও পারে। আমরা কমিটি থেকে যোগ্য প্রতিষ্ঠান বাছাই করে সরকারের কাছে জমা দেব। সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

জানা যায়, কমপক্ষে দুটি যোগ্যতা থাকলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে পারে। একটি হলো সরকারি স্বীকৃতি, অন্যটি প্রতিষ্ঠানের নিজ জমিতে নিজস্ব অবকাঠামো থাকা। অথচ স্বীকৃতিবিহীন বহু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবার এমপিওভুক্ত হতে আবেদন করেছে। এ নিয়ে বাছাই কমিটির সদস্যরাও বিব্রত। কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ওইসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে রয়েছেন। হয়তো তারা মনে করেছেন, রাজনৈতিক তদবির করে প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করিয়ে নেবেন। অথচ এবার সে সুযোগ নেই।

তিন মানদণ্ডে, ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন :শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, এবারও গতবারের মতো বিশেষায়িত অটোমেটেড সফটওয়্যারে এমপিওর আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিদ্যালয়ের (বুয়েট) তৈরি করা এই বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে সারাদেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির আবেদন নেওয়া হয়েছে ও বাছাই চলছে। প্রধান তিনটি মানদণ্ডে ১০০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। তিন ক্যাটাগরিতে মোট ১০০ নম্বরের ভিত্তিতে এ গ্রেডিং হবে। মানদণ্ডগুলো হলো- শিক্ষার্থীর সংখ্যা (৩০ নম্বর), পরীক্ষার্থীর সংখ্যা (৩০ নম্বর) এবং পাবলিক পরীক্ষায় পাসের হার (৪০ নম্বর)।

এমপিও নীতিমালা-২০২১-এ এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচটি স্তর নির্ধারণ করা হয়েছে। স্তরগুলো হলো- নিম্ন মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম), মাধ্যমিক (৯ম থেকে ১০ম), উচ্চ মাধ্যমিক (৬ষ্ঠ থেকে ১২তম), কলেজ (১১তম থেকে ১২তম), স্নাতক (পাস) তথা ডিগ্রি কলেজ (১১তম থেকে ১৫তম)।

এমপিও পেতে আবেদন করা স্কুল-কলেজগুলো বাছাইয়ে ৯ সদস্যের কমিটি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

Print Friendly, PDF & Email
শেয়ার করুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here