• চাকরির খবর
  • শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতিতে আটক ৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড

শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতিতে আটক ৪২ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে দন্ড

সরকারি প্রাথমিক শিক্ষক পরীক্ষায় জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তীর্ন হতে চাওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এদের কাউকে বিভিন্ন মেয়াদের দন্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়, কাউকে দেয়া হয় আর্থিক দন্ড। গতকাল দ্বিতীয় ধাপের পরীক্ষা খুলনা, রাজশাহী, ময়নমনসিংহ বিভাগের ২২ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০ টা থেকে ১১ টা পর্যন্ত ১ ঘন্টার এ পরীক্ষা চলে।

এর আগে প্রথম পর্বের পরীক্ষা নেয়া হয়েছিল বরিশাল, সিলেট, রংপুর বিভাগে। গত ৮ ডিসেম্বর এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এই পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে ১২৪ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করে বিভিন্ন মেয়াদের দন্ড দেয়া হয়েছিল।  

বগুড়ায় শিক নিয়োগ পরীক্ষায় ১৯ জন আটক
বগুড়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক নিয়োগ পরীায় অনিয়মের অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করে পুলিশ। বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে মোবাইল ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহারসহ বিভিন্ন অপরাধে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, পরীক্ষা শুরুর পর কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১৯ জনকে ডিজিটাল ডিভাইস এবং মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে আটক করেন। পরে তাদেরকে সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটকদের মধ্যে এপিবিন স্কুল পাবলিক এন্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে ১ জন, সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে ৪ জন, বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ৩ জন, বগুড়া সিটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৩ জন, পুলিশ লাইন স্কুল এন্ড কলেজ থেকে ১ জন, বগুড়া টেকনিক্যাল  ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে ১ জন, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ থেকে ১ জন, বগুড়া সরকারি কলেজ থেকে ১ জন এবং বগুড়া পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে ৪ জনকে আটক করা হয়েছে।
পরীক্ষার্থীরা মোবাইল ও কানে ছোট ডিভাইস ব্যবহার করে পরীক্ষা দেওয়ার সময় তাদের সন্দেহজনক হিসেবে চিহ্নিত করেন বিয়াম মডেল স্কুল এন্ড কলেজ এর ক পরিদর্শক মোঃ আবু সুফিয়ান। এসময় তাদেরকে কর্তব্যরত এডিসি শিা ও আইসিটি নিলুফা ইয়াসমিনের উপস্থিতিতে দেহ তল্লাশি করে আনোয়ার ও আসাদুজ্জামানের কানে ও হাতে ডিভাইস এবং জাকিরুলের হাতে পরিহিত পোশাকের ভিতর মোবাইল পাওয়া যায়।

নওগাঁয় ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড
নওগাঁয় জালিয়াতির অভিযোগে ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে। জরিমানা করা হয়েছে দুজনকে। নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে মান্দা উপজেলার মমিন শাহানা সরকারি ডিগ্রি কলেজ কেন্দ্রে তিনজন চাকরিপ্রত্যাশীর কাছে ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায়। এ অপরাধে মিঠুনকে একমাস, সুলতানকে একমাস এবং রবিউল ইসলামকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেওয়া হয়। একই উপজেলার শহীদ কামারুজ্জামান টেক্সটাইল ইনস্টিটিউট কেন্দ্র থেকে আটক নাইমুর রহমান ও মোস্তাফিজুর বিন আমিনকে কারাদন্ড দেওয়া হয়েছে।
মান্দা থানা আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে আরও পাঁচজনকে আটক করা হয়। সেখানে জারজিস আলমকে ১০ দিন, ফজলে রাব্বি মন্ডল, নুর আলম, জামাল উদ্দিন এবং আব্দুল্লাহ সাইরাফিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এছাড়া অন্যান্য স্কুলে আরো কয়েকজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দেয়া হয়। এছাড়া দুই জনকে আর্থিক দন্ড দেয়া হয়।
জয়পুরহাটে আটক  ৩ পরীক্ষার্থী
জয়পুরহাটে প্রাথমিক শিক নিয়োগ পরীক্ষা চলার সময় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার অপরাধে তিন পরীক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশ। আটক পরিক্ষর্থীরা হলেন পাঁচবিবি উপজেলার তাজপুর গ্রামের রিয়াজুল ইসলামের ছেলে মোস্তাকিম হোসেন, বাঁশখুর গ্রামের মাজেদের ছেলে মাহমুদুল হাসান ও আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান লিয়নের মেয়ে সানজিদা বেগম।

কুষ্টিয়ায় কারাদন্ড এক পরীক্ষার্থীর
কুষ্টিয়ায় শিক নিয়োগ পরীায় শিট পরিবর্তন করার অভিযোগে সুমন নামে এক পরীার্থীকে সাত দিনের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে শিটের নিচের অংশ পূরণ না করায় পাঁচ পরীার্থীকে বহিষ্কারের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

পরীক্ষার আগে গ্রেফতার আরো তিন জন
এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি ‘টিকিয়ে দেবার প্রলোভন’ দেখানোর অভিযোগে এক কলেজ অধ্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে  জয়পুরহাট জেলা পুলিশ।  গ্রেপ্তাররা হলেন- জয়পুরহাটের পাঁচবিবি কৃষি কলেজের অধ্য মো. রুস্তম আলী, মো. ইশান ইমতিয়াজ, গোকুল, বগুড়া সদর এবং কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের রোকনুজ্জামান।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়, ওই ‘জালিয়াত চক্রের’ সদস্যরা ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে প্রার্থীদের ‘টিকিয়ে দেবার নিশ্চয়তা’ দিচ্ছিল। গ্রেপ্তার করার পর জয়পুরহাটের পাঁচবিবি থানায় মামলা দায়ের করে তাদের তিনজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।