সংবর্ধনা পেল ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা

দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে দক্ষ হতে হবে। এই দিকটি বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াড (আইজেএসও) ও ২৫তম আন্তর্জাতিক রোবট অলিম্পিয়াডের বিজয়ী সদস্যদের সংবর্ধনা দিয়েছে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর। গত মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের গাঙচিল মিলনায়তনে বিজয়ীদের এ সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

২০তম আইজেএসও এবং ২৫তম আইআরও বিজয়ী সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আলী হোসেন। এছাড়াও গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিকস অ্যান্ড মেকাট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল, সহযোগী অধ্যাপক ও চেয়ারপার্সন সেঁজুতি রহমান, বাংলাদেশ বিজ্ঞান জনপ্রিয়করণ সমিতির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মুনির হাসান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারসীম মান্নান মোহাম্মদীসহ আরও অনেকে। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরের মহাপরিচালক মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী।

আইজেএসও দলের বিজয়ী সদস্যরা হলো-রৌপ্যপদক জয়ী রাজশাহীর গভঃ ল্যাবরেটরী হাইস্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফায়েজ আহমেদ, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী সিরাজুস সালেকিন সামীন ও ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মনামী জামান। আর ব্রোঞ্জপদক পেয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তাসলিমা তাসনিম লামিয়া, নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী শুভাশীষ হালদার ও ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী সাবিল ইসলাম।

আর আইআরও দলের বিজয়ী সদস্যরা হলো- উইলিয়াম কেরি একাডেমির শিক্ষার্থী জাইমা যাহিন ওয়ারা, নেভি অ্যাংকরেজ স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মাহরুজ মোহামাদ আয়মান, মাস্টারমাইন্ড ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের শিক্ষার্থী নাশীতাত যাইনাহ্ রহমান ও ফাতিন আল হাবীব নাফিস, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী প্রপা হালদার, সাউথ পয়েন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মার্জিয়া আফিফা পৃথিবী, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া মেহনাজ, মাইশা সোবহান ও সাদিয়া আক্তার স্বর্ণা, চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজের শিক্ষার্থী মিসবাহ উদ্দিন ইনান, নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী মাশকুর মালিক মোস্তফা, মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজের শিক্ষার্থী মাহির তাজওয়ার চৌধুরী, ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের শিক্ষার্থী আন নাফিউ ও রুবাইয়্যাত এইচ রহমান, হার্ডকো ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী নামিয়া রউজাত নুবালা ও খন্দকার শামিল মাহাদি বিন খালিদ।

সংবর্ধনায় বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমানসহ অতিথিরা। যেসব বিজয়ী অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেনি, তাদের পক্ষ থেকে পরিবারের সদস্যরা সনদ ও ক্রেস্ট গ্রহণ করে।

এ সময় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন,  ‘বিজ্ঞানখাতে আজকে যে চাওয়া, সেটির সহযোগিতা দিতে আমরা প্রস্তুত। কিন্তু সেটা ছাড়াও তো আমাদের সন্তানরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে, তারা বিজয়ী হচ্ছে। এটা আমাদের মানসিক বল। মনোবল সবচেয়ে বড়, যেটা বাঙালিদের মাঝে সবচেয়ে বেশি রয়েছে। আমরা অনেক রক্ত, অনেক কষ্টের বদলে আবার অনেক ত্যাগের বিনিময়ে আজকে এ বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে আমাদের তরুণ প্রজন্মকে।’