শিরোনাম
  • মেলায় যাই রে...গানটি বিটিভির ‘আনন্দ মেলা’ অনুষ্ঠানে প্রথম উপস্থাপন  ইসরাইলে হামলায় যেসব ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে ইরান পঞ্চম গণবিজ্ঞপ্তিতে আবেদন শুরু বুধবার চলবে ৯ মে রাত ১২টা পর্যন্ত  আলপনার রঙে রাঙানো হচ্ছে হাওরের ১৪ কিলোমিটার সড়ক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাংলা নববর্ষ উদযাপনের নির্দেশনায় যা আছে সপ্তম শ্রেণির ‌‌বিতর্কিত 'শরীফার গল্প' সংশোধন কতদূর? বাংলা বর্ষপঞ্জিতে যুক্ত হলো নতুন বর্ষ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ: পহেলা বৈশাখ আজ মুক্তিপণ দিয়েই জিম্মি থাকা ২৩ নাবিক ও এমভি আবদুল্লাহ জাহাজ মুক্ত পূর্ণাঙ্গ উৎসব ভাতার দাবিতে পতাকা হাতে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বিক্ষোভ ১০ দেশে অল্প খরচে পড়তে পারেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা
    • মাদ্রাসা
    • কওমি মাদরাসা বাংলাদেশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে- শিক্ষামন্ত্রী

    কওমি মাদরাসা বাংলাদেশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে- শিক্ষামন্ত্রী

    কওমি মাদরাসা বন্ধ সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য দেননি জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেছেন, কওমি মাদরাসা বাংলাদেশে আছে, ভবিষ্যতেও থাকবে।

    মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মন্ত্রী। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

    চলমান জেলাপ্রশাসক সম্মেলনের প্রথম দিন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ সম্পর্কিত কার্য অধিবেশন শেষে কওমি মাদরাসা নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। সেই বক্তব্য কয়েকটি গণমাধ্যমে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয় বলে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘জেলা প্রশাসকদের থেকে একটি জেলা থেকে একটি আলোচনা এসেছিল যে অনিবন্ধিত নাম-পরিচয়হীন কিছু প্রতিষ্ঠান নূরানী মাদরাসা হিসেবে গড়ে উঠছে। সেগুলো নিবন্ধনের প্রক্রিয়া কী। সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমি মন্তব্য করেছিলাম যে, যেসব নূরানী মাদরাসা গড়ে উঠছে সেগুলো যদি কওমি মাদরাসার বোর্ড থেকে নিবন্ধিত হয়ে থাকলে তাদের সঙ্গে কাজ করে, যথাযথ নিবন্ধন তাদের কাছে আছে কিনা, সেগুলোতে কীভাবে শিক্ষাক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সেটা কীভাবে আমাদের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয় সে ধরনের বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব, কীভাবে সেটা ইউনিফরমিটির মধ্যে আনা যায়।’

    তাঁর বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে দাবি করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সোমবার একটি রাজনৈতিক দল এবং রাজনৈতিক নামধারী কিছু সংগঠন থেকে বলা হয়েছে, আমি বলেছি যে নূরানী বা কওমি মাদরাসার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে এবং সেগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

    মন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কার করে বলছি যে, এ আলোচনা এসেছে জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে যে অনিবন্ধিত অনেক প্রতিষ্ঠান চলছে, সেগুলোর নিয়ন্ত্রক কারা। এ ধরনের মন্তব্য (কওমি মাদরাসা বন্ধ) আমি করিনি। এ আলোচনা সৃষ্টি করে একটা গুজব রটাচ্ছে, অপপ্রচার চালাচ্ছে। আমার বক্তব্য ভিডিওসহ আছে। গুজব রটিয়ে কওমি মাদরাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে এক ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টির অপচেষ্টা করছে।’

    মহিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘তারা এ অপরাজনীতি প্রাক্কালে আরও অনেক ধরনের মানহানিকর এবং আপত্তিকর কথা বলছে। এরমধ্যে একটি ছিল যে, আমি ইসকন নামের একটি সংগঠনের সদস্য এবং ইসকনের সদস্য হয়ে আমি ভিন্ন সংস্কৃতি শিক্ষাক্রমে ঢোকানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত আছি। আমার বক্তব্য হচ্ছে এটা একেবারে আপত্তিকর, মানহানিকর এবং ষড়যন্ত্রমূলক।’

    ‘আমি ইসকনের সদস্য বলে প্রচার করছে। আমি ইসকনের সদস্য না। একজন অসাম্প্রদায়িদক মানুষ হিসেবে আমার বাবা বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের তীর্থ কেন্দ্রে, পর্যটন কেন্দ্রে পর্যটক হিসেবে আমাকে নিয়ে গিয়েছিলেন। ইসকনের একটি অনুষ্ঠানে যাওয়া মানে এ নয় যে আমি ইসকনের সদস্য। ইসকনের সদস্য হিসেবে আমাকে প্রচার করা হচ্ছে, আমি এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বার বার বলছি যে কওমি মাদরাসা বাংলাদেশে আছে, অবশ্যই থাকবে। কারণ আমরা আইন দ্বারা কওমি মাদরাসা শিক্ষাকে স্বীকৃতি দিয়েছি। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কওমি মাদরাসা শিক্ষা সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স স্বীকৃতি দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘তবে সেখানকার শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও ন্যূনতম লিটারিসির কথা বলছি, তারা যাতে কর্মসংস্থান পায় সেসব বিষয় নিশ্চিত করার জন্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একসঙ্গ কাজ করতে চাচ্ছি, আগামীতেও কাজ করব। তাদের বার বার আমন্ত্রণও জানিয়েছি। এখানে মাদরাসা বন্ধ করে দেওয়ার মতো কথা কেউ কখনো বলেনি।’

    ‘একটি পরিকল্পনার মধ্যে থেকে, নিবন্ধনের মধ্য থেকে, কী পড়ানো হচ্ছে সেসব প্রতিষ্ঠানের উপরে নজর রেখে, আমাদের এ প্রজন্ম কী পড়াচ্ছি সেটা জাতীয় শিক্ষাক্রম হোক, কওমি মাদরাসা হোক বা ইংরেজি মাধ্যমে হোক সেটার ওপর রাষ্ট্রের নজর তো অবশ্যই থাকতে হবে।’ যোগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।

    মন্ত্রী বলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী কোনো কিছু যদি পড়ানো হয় সেটা যেকোনো প্রতিষ্ঠানে হোক, আমরা দেখেছি অনেক পাবলিশিং হাউজের নাম করে উসকানি দেওয়ার জন্য বই ছাপানো হয়েছে এবং পড়ানো হচ্ছে, সেগুলো আমাদের অবশ্যই দেখতে হবে এবং ব্যবস্থা নিতে হবে।’