আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।

বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

এর আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

মন্তব্য করুন

জবির নতুন সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) নতুন সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইউট্যাবের মহাসচিব ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০৫-এর সংশ্লিষ্ট ধারার অধীনে শিক্ষা ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ক্যাটাগরিতে অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তিনি আগামী দুই বছর সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

অধ্যাপক মোর্শেদ হাসান খান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সাদা দলের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর মহাসচিবের দায়িত্বেও রয়েছেন।

এ ছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী দুই বছর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান।

মন্তব্য করুন

জাবিতে শিক্ষকদের মূল্যায়নে জাকসুর ওয়েবসাইট, এখনই ব্যবহার করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা

শিক্ষকদের পাঠদান, আচরণ, সময়ানুবর্তিতা ও একাডেমিক কার্যক্রম মূল্যায়নের লক্ষ্যে ওয়েবসাইট তৈরি করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)। তবে ওয়েবসাইটটি আপাতত শিক্ষার্থীদের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি নিয়ে গঠিত কমিটির কাছে এটি হস্তান্তর করবে জাকসু।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় জাকসু ভবনে ওয়েবসাইটটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান উপস্থিত ছিলেন।

জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালুর দাবি দীর্ঘদিনের। সর্বশেষ একাডেমিক কাউন্সিল বিষয়টি গ্রহণ করলেও এটি এখনো কমিটির পর্যায়ে রয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে জাকসু নিজেদের উদ্যোগে ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, ‘সদিচ্ছা থাকলে শিক্ষক মূল্যায়নের মতো একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব—আমরা সেটিই দেখিয়ে দিতে চাই। আশা করি, সংশ্লিষ্ট কমিটি ওয়েবসাইটটি পর্যালোচনা করে তাদের প্রস্তাবনায় বিষয়টি বিবেচনা করবে।’

জাকসু জানিয়েছে, ওয়েবসাইটে শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত শিক্ষার্থীরা তাঁদের অফিসিয়াল ই-মেইল ব্যবহার করে প্রবেশ করতে পারবেন। একজন শিক্ষার্থী কেবল নিজের বিভাগের এবং যে শিক্ষকের কোর্স করেছেন, সেই শিক্ষককে মূল্যায়ন করতে পারবেন। ফলে সংশ্লিষ্ট কোর্স না করা শিক্ষক কিংবা বিভাগের বাইরের কোনো শিক্ষককে মূল্যায়নের সুযোগ থাকবে না।

ওয়েবসাইটটির ডেভেলপার ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজির (আইআইটি) ৫০তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সালমান আহমেদ বলেন, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দেওয়া অফিসিয়াল ই-মেইল ছাড়া কেউ সিস্টেমে প্রবেশ করতে পারবেন না। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় পক্ষের তথ্যের গোপনীয়তা এবং মূল্যায়নের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।’

প্রশাসনের দায়িত্ব, বললেন উপাচার্য

জাকসুর উদ্যোগকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না প্রশাসন। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, শিক্ষক মূল্যায়নসহ জাকসুর কয়েকটি দাবির বিষয়ে কাজ করতে বিশ্ববিদ্যালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর এখতিয়ার জাকসুর নয়; এটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়িত্ব।

তবে জাকসুর তৈরি ওয়েবসাইটটিকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন উপাচার্য। তিনি বলেন, ‘জাকসুকে ধন্যবাদ জানাই। তারা একটি নমুনা তৈরি করে দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কমিটি এটি বিশ্লেষণ করে কীভাবে শিক্ষক মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালু করা যায় এবং এতে কোনো সংকট বা সীমাবদ্ধতা রয়েছে কি না, তা বিবেচনা করতে পারবে। এ ধরনের একটি উদ্যোগ অবশ্যই মূল্য সংযোজন করবে।’

ঢাবিতেও চালু হয়েছে শিক্ষক মূল্যায়ন

এর আগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করে। ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মে উসওয়াতুন রাফিয়ার উদ্যোগে duevaluation.com ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এ কার্যক্রম শুরু হয়। ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম ওয়েব অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।

মন্তব্য করুন

শাবিপ্রবির হলে হাই ভোল্টেজ, পুড়েছে ফ্যান-লাইট-চার্জার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছেলেদের আবাসিক শাহপরান হলে হঠাৎ অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক ভোল্টেজের কারণে বৈদ্যুতিক লাইনে ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এতে হলের বিভিন্ন কক্ষের ফ্যান, লাইট, মোবাইল চার্জার, মাল্টিপ্লাগসহ বেশ কিছু ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। হলের ডাইনিংয়ের ওভেনও নষ্ট হয়েছে বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে কোনো অগ্নিকাণ্ড বা হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও শিক্ষার্থীদের বেশ কিছু মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, হঠাৎ বৈদ্যুতিক লাইনে অতিরিক্ত ভোল্টেজ চলে আসার পর হলের কয়েকটি ব্লকের কক্ষে একে একে ইলেকট্রনিক সামগ্রী পুড়ে যেতে থাকে। সকেটে থাকা মাল্টিপ্লাগ, মোবাইল চার্জার, লাইট ও ফ্যান মুহূর্তের মধ্যেই বিকল হয়ে যায়।

ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। একই সঙ্গে দ্রুত ত্রুটি মেরামত এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শিক্ষার্থী একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছেন।

শাহপরান হলের এ ব্লকের দ্বিতীয় তলার শিক্ষার্থী সৈকত বলেন, ‘আনুমানিক ৩টার দিকে আমি শুয়েছিলাম। হঠাৎ কারেন্ট চলে যাওয়ার পর প্রায় ২০ মিনিট পর আবার আসে। এরপর আমার ফ্যান অন্যদিনের তুলনায় বেশি গতিতে চলছিল। ফ্যানের গতিনিয়ন্ত্রক চাকা ঘুরিয়েও কোনো কাজ হচ্ছিল না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আমার টেবিলের লাইট পুড়ে ল্যাপটপের ওপর পড়ে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের রুমের পাশের ওয়াশরুমের লাইট বিকট শব্দে ফুটে যায়। এ ধরনের সমস্যা আশপাশের প্রায় সবার রুমেই হয়েছে। আমাদের এসব ক্ষতিপূরণ কে দেবে?’

কারণ এখনো নিশ্চিত নয়

ঘটনার কারণ সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী হেলাল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘কোন কারণে এমন হয়েছে এখনো বলতে পারছি না। তবে হঠাৎ হয়তো ভোল্টেজ বেড়ে যাওয়ার কারণে এই সমস্যাটা হয়েছে।’

শাহপরান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘আজ বৈদ্যুতিক লাইনগুলোর মেরামতের কাজ চলছে। তবে এরকম দুর্ঘটনা ঘটে থাকলে খুবই দুঃখজনক। আমি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে দেখছি কেন এমনটা হলো।’

ঘটনার পর হলের বৈদ্যুতিক লাইন পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জবির ২৯ শিক্ষার্থী প্রাথমিকভাবে মনোনীত

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদকের জন্য জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) বিভিন্ন বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের ২৯ শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চার বছরের জন্য পৃথক তালিকায় এসব শিক্ষার্থীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০২২ ও ২০২৩ সালের জন্য সাতজন করে, ২০২৪ সালের জন্য সাতজন এবং ২০২৫ সালের জন্য আটজন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীত শিক্ষার্থীদের আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬ অফিস চলাকালীন সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে জমা দিতে হবে।

যেসব কাগজপত্র জমা দিতে হবে

মনোনয়ন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক মনোনয়ন ফরম অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তির সঙ্গে সংযুক্ত ফরম নির্দেশনা অনুযায়ী পূরণ করতে হবে। পূরণ করা ফরমের দুই সেট হার্ডকপি জমা দিতে হবে।

এর সঙ্গে শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরযুক্ত প্রত্যয়নপত্র, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, সব শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, মার্কশিট, ট্রান্সক্রিপ্ট বা গ্রেডশিটের কপি এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি জমা দিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, জমা দেওয়া সব কাগজপত্র যথাযথভাবে সত্যায়িত হতে হবে। সংশ্লিষ্ট ইনস্টিটিউটের পরিচালক অথবা বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে এসব কাগজপত্রের হার্ডকপি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দিতে হবে।

হার্ডকপির পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সফটকপি পিডিএফ আকারে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ই-মেইল ঠিকানায় পাঠাতে হবে। এ জন্য darainju@gmail.com ঠিকানা ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।

২০২২ সালের মনোনীতরা

সাদ্দাম হোসাইন, রুমানা সিদ্দিকা মারুফা, আয়েশা আক্তার, রোকেয়া পারভিন, মো. বিল্লাল হোসেন, জান্নাতুল ফেরদৌস প্রোমা ও মুজতানিবা জাহান মাশরাকা।

২০২৩ সালের মনোনীতরা

মো. আনোয়ার শাহ, সারমিন আক্তার, সাদিয়া জান্নাত মিতু, জয় পাল, মোছা. শুমোনা আক্তার, তানজুম আহমেদ নূদী ও তাসনিমা আক্তার।

২০২৪ সালের মনোনীতরা

আরিফুল ইসলাম, আসমা আক্তার, মুহাম্মদ গোলাম রোহমান শাফি, সাদিয়া খানম, রাগিব শাহরিয়ার রাফি, জান্নাতুন নাহের উর্মি ও মো. মুহিব আহসান চৌধুরী।

২০২৫ সালের মনোনীতরা

সোমাইয়া তাবাসসুম, ফারিয়া আক্তার ইভা, শানজিদা সারমিন মৌরি, দীপান্বিতা বৈদ্য, আনিকা তাবাসসুম অন্তরা, আভা রহমান, বিদিশা অধিকারী ও মোছা. ফারিয়া ইয়াসমিন।

মন্তব্য করুন

জাবির হলে সিগারেট কেনাবেচা নিয়ে বিরোধ, দোকান বন্ধের অভিযোগ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শহীদ রফিক-জব্বার হলের অধীন ‘হাসান টি স্টোরে’ সিগারেট কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী ও দোকানদারের মধ্যে বাকবিতণ্ডার জেরে দোকানটি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে অবগত না করেই হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) শরীফুল ইসলামের চাপের মুখে দোকান বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন দোকানদার হাসান।

তবে দোকান বন্ধের বিষয়টি আগে জানতেন না বলে জানিয়েছেন হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার।

দোকানদার হাসান জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে হলের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ তার দোকানে এসে সিগারেট আছে কি না জানতে চান। দোকানে সিগারেট না থাকায় তিনি ‘সিগারেট নেই’ বলে জানান। এ নিয়ে বায়েজিদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

হাসান বলেন, ‘আমি বলেছি সিগারেট নেই। সিগারেট বিক্রি করি না—এ কথা বলিনি। বিষয়টি হয়তো বায়েজিদ হল সংসদের জিএসকে জানান। পরে হলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জহির স্যার আমাকে ডাকেন। তার সঙ্গে কথা বলার ২০ থেকে ৩০ মিনিট পর একজন গার্ড এসে জানান, হল থেকে দোকান বন্ধ করতে বলা হয়েছে।’

তবে দোকান বন্ধের সিদ্ধান্তের আগে হল প্রাধ্যক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছিল কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান।

এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী বায়েজিদ বলেন, ‘আমি হাসান ভাইকে দুইবার জিজ্ঞেস করেছিলাম। তখন আমার এক বন্ধুও সঙ্গে ছিল। পরে হলের জিএসসহ কয়েকজনকে বিষয়টি জানাই। গার্ডদেরও জানিয়েছি। তারা বলেছে, আপাতত দোকান বন্ধ থাকুক।’

দোকান বন্ধের বিষয়ে হল সংসদের জিএস শরীফুল ইসলাম বলেন, জিনিসপত্র কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে কিছুটা ঝামেলা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে হলের সবাই অবগত। আপাতত দোকানটি বন্ধ রাখা হয়েছে। ঝামেলা মিটে না যাওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। হল প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাই বিষয়টি নিয়ে অবগত আছেন। সবাই বসে আলোচনা করে আগামীকালের মধ্যে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

তবে হল প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুছ ছাত্তার বলেন, ‘ঘটনাটি আমি জানতাম না। যার সঙ্গে ঘটনা ঘটেছে, সেই শিক্ষার্থী ও দোকানদার—কেউই আমাকে আগে কিছু জানায়নি। দু’পক্ষকে ডেকে তাদের বক্তব্য শুনে বিষয়টি ফয়সালা করব।’

মন্তব্য করুন

ঢাবির জগন্নাথ হলে আত্মহত্যার চেষ্টা, টিনশেডে পড়ে বেঁচে গেলেন শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী। তবে নিচে থাকা একটি টিনশেডের ওপর পড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম বিদীপ্ত সিক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল জানান, শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজি, সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে বড় ধরনের কোনো আঘাত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় সারা রাত হাসপাতালেই ছিলাম। ছেলেটির ইসিজি, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে করানো হয়েছে। রিপোর্টে বড় ধরনের কোনো ইনজুরি বা ড্যামেজ আসেনি। এখন সে আশঙ্কামুক্ত এবং ভালো আছে। আজ সকালে ছাত্রনেতাসহ হলের শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে গিয়েছিল। তখন সবার সঙ্গে সে হাসিমুখে কথা বলেছে।’

তবে শিক্ষার্থীর শরীরে ভেতরে কোনো ছোটখাটো আঘাত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন পর আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘটনার পর ভবনের ওপরের অংশে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। নিচে টিনশেডের ওপর পড়ে যাওয়ার পর বিকট শব্দ শুনে হলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ হিসেবে প্রেমসংক্রান্ত হতাশার কথা জানিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষসহ একাধিক সূত্র। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

মন্তব্য করুন
×