গোবিপ্রবির নতুন ভিসির বিরুদ্ধে ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) নবনিযুক্ত উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম ও অর্থ দাবির অভিযোগ আড়াল করতে ইউজিসির একটি চিঠির আদলে ভুয়া নথি তৈরি করে তা সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানকে চার বছরের জন্য গোবিপ্রবির ভিসি হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর আগে ২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর তাকে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি হিসেবে চার বছরের জন্য নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। প্রায় ২০ মাস প্রো-ভিসির দায়িত্ব পালনের পর তিনি ভিসির দায়িত্ব নেন।

ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার দিনই বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে সাংবাদিকদের কাছে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়। এতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসে প্রকাশিত ‘২০ লাখ টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বানাতে চাওয়া সেই অধ্যাপককে এবার ভিসি নিয়োগ দেওয়া হলো’ শীর্ষক প্রতিবেদনকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিবেদনটি প্রত্যাহারের অনুরোধ জানানো হয়।

প্রতিবাদলিপির সঙ্গে ইউজিসির একটি চিঠিও পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে দাবি করা হয়, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং নিয়োগ কার্যক্রম নিয়ম অনুযায়ী চলমান রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করে ওই চিঠির সত্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।

ইউজিসির চিঠি ‘ফেইক’, বললেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা

প্রতিবাদলিপি ও চিঠিটি সাংবাদিকদের হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানোর পাশাপাশি ফোনও করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম। এ সময় তিনি দাবি করেন, শিক্ষক নিয়োগসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে এবং এ ঘটনায় ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তবে চিঠিটি পর্যালোচনা করে এবং ইউজিসির সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। ইউজিসির পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ জামিনুর রহমান জানান, সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো চিঠিটি ‘ফেইক’।

তিনি একই তারিখ ও স্মারক নম্বরের একটি প্রকৃত চিঠি পাঠান। সেখানে বলা হয়েছে, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ দেওয়ার জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ইউজিসির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগের পর তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তদন্ত শেষে সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ দিতে বলা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্ত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য গত ৪ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে চিঠি পাঠায় ইউজিসি।

অভিযোগ উঠেছে, ইউজিসির তদন্ত কমিটি গঠনের ওই চিঠির একই তারিখ ও স্মারক নম্বর ব্যবহার করে একটি ভুয়া চিঠি তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের কাছে পাঠানো হয়।

২০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ

গোবিপ্রবির শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগটি করেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী মো. সিফাত হোসেন। গত ৫ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে তিনি তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বিরুদ্ধে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ তোলেন।

অভিযোগপত্রে সিফাত উল্লেখ করেন, তিনি গোবিপ্রবির পরিসংখ্যান বিভাগে প্রভাষক পদে আবেদন করেছিলেন। নিয়োগ পরীক্ষার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন প্রো-ভিসির সঙ্গে তার একাডেমিক পরিচয়ের সূত্রে যোগাযোগ হয়। পরে তাকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

সিফাতের অভিযোগ, ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে তোফায়েল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি নিজেকে ভিসির পিএস পরিচয় দেন। তিনি চাকরি পেতে হলে ‘খুশি’ করার কথা বলেন এবং প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ওই অর্থের অর্ধেক নিয়োগের আগে এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগপত্র পাওয়ার পর দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য সতর্ক করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এ ছাড়া নিয়োগ পরীক্ষার পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিফাত। তার দাবি, আগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে লিখিত পরীক্ষা থাকলেও এবার লিখিত পরীক্ষা বাতিল করে শুধু মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।

অভিযোগ তুলে নেওয়ার চাপের অভিযোগ

অভিযোগপত্রে সিফাত আরও দাবি করেন, অভিযোগটি ইউজিসিতে জমা দেওয়ার পর তা কোনোভাবে তৎকালীন প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের হাতে চলে যায়। এরপর তাকে এবং তার পরিবার ও কর্মস্থলে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ৬ ফেব্রুয়ারি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন করেন সিফাত। তবে পরে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি জানান, অভিযোগ প্রত্যাহারের চিঠিটি তিনি নিজে লেখেননি; শুধু তাতে স্বাক্ষর করেছিলেন। চিঠিতে ব্যবহৃত তারিখও ব্যাকডেটেড ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে, অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, অভিযোগটি মিথ্যা এবং তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। ওই প্রার্থী ভুল স্বীকার করে লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে যা বলছে বিশ্ববিদ্যালয়

ইউজিসির চিঠি জালিয়াতির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মাহবুবুল আলম বলেন, ভিসির নির্দেশে তিনি সেদিন চিঠি ও প্রতিবাদলিপি সাংবাদিকদের পাঠিয়েছিলেন। পরে চিঠিটি জালিয়াতি করা হয়েছে—এমন তথ্য জানানো হলে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই তিনি সেটি পাঠিয়েছেন।

অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল ও বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। পরে জনসংযোগ দপ্তরের উপ-পরিচালক জানান, ভিসি ওই দিন ঢাকায় জাতীয় সংসদের অধিবেশনে থাকায় কথা বলতে পারছেন না।

এদিকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি ঘটনাটি দেখবেন বলে জানান।

সরকারি চাকরি আইনে শাস্তির বিধান

সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে বিভিন্ন ধরনের শাস্তির বিধান রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিম্ন পদ বা নিম্ন বেতন গ্রেডে অবনমিতকরণ, বাধ্যতামূলক অবসর এবং চাকরি থেকে বরখাস্ত।

তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

ঢাবির জগন্নাথ হলে আত্মহত্যার চেষ্টা, টিনশেডে পড়ে বেঁচে গেলেন শিক্ষার্থী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) জগন্নাথ হলের সন্তোষ চন্দ্র ভট্টাচার্য ভবন থেকে লাফ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন প্রথম বর্ষের এক শিক্ষার্থী। তবে নিচে থাকা একটি টিনশেডের ওপর পড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আঘাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শিক্ষার্থী আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম বিদীপ্ত সিক্ত। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। রোববার (৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে এ ঘটনা ঘটে।

জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল জানান, শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর ইসিজি, সিটি স্ক্যান ও এক্স-রে করানো হয়েছে। এসব পরীক্ষার রিপোর্টে বড় ধরনের কোনো আঘাত বা ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রায় সারা রাত হাসপাতালেই ছিলাম। ছেলেটির ইসিজি, সিটি স্ক্যান, এক্স-রে করানো হয়েছে। রিপোর্টে বড় ধরনের কোনো ইনজুরি বা ড্যামেজ আসেনি। এখন সে আশঙ্কামুক্ত এবং ভালো আছে। আজ সকালে ছাত্রনেতাসহ হলের শিক্ষার্থীরা তাকে দেখতে গিয়েছিল। তখন সবার সঙ্গে সে হাসিমুখে কথা বলেছে।’

তবে শিক্ষার্থীর শরীরে ভেতরে কোনো ছোটখাটো আঘাত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে কয়েক দিন পর আরও কিছু পরীক্ষা করা হবে বলেও জানান তিনি।

হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে, ঘটনার পর ভবনের ওপরের অংশে শিক্ষার্থীর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। নিচে টিনশেডের ওপর পড়ে যাওয়ার পর বিকট শব্দ শুনে হলের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। পরে দ্রুত তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এদিকে, শিক্ষার্থীর আত্মহত্যার চেষ্টার কারণ হিসেবে প্রেমসংক্রান্ত হতাশার কথা জানিয়েছেন হলের প্রাধ্যক্ষসহ একাধিক সূত্র। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে কিছু জানা যায়নি।

শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হল প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

মর্গের এক্সহস্ট ফ্যানের দূষিত বাতাস ঢুকছে একাডেমিক ভবনে, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

মর্গের দুর্গন্ধে শেকৃবিতে ক্লাসে বমি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ। তীব্র পচা গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা। এমনকি দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের বমি করা ও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান দিয়ে বের হওয়া দূষিত বাতাস সরাসরি রাস্তার অপর পাশে থাকা শেকৃবির একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মাহবুবুজ্জামান ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা করা তিনটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক আনসার সদস্য মাস্ক পরে ডিউটি করছেন। তিনি বলেন, ‘পচা গন্ধে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে ডিউটি করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পচা গন্ধে ক্লাসে টেকা যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে ক্লাসের মধ্যেই বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের শামিল।’

অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষকও

দুর্গন্ধের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মকর্তারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘মর্গের তীব্র গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের ক্লাসরুমে অবস্থান করা যাচ্ছে না। আমি নিজেও এই গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি কার্যকর সমাধান করা দরকার।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

বিষয়টি নিয়ে শেকৃবি রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম জানান, সমস্যা সমাধানে তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

‘মর্গ নির্মাণে শুরুতেই স্থাপত্যগত ভুল ছিল’

মর্গের অবকাঠামোগত ও নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডা. সোলায়মান কবীর।

তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যগত দিক থেকে শুরুতেই বড় ভুল ছিল। মর্গ কখনোই একদম রাস্তার ওপর হতে পারে না। তাছাড়া অবকাঠামোতেও কিছু ত্রুটি আছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত বাতাস পরিশোধনে বিশেষ কেমিক্যাল আনা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসবে।’

আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কমানোর পরিবর্তে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

মর্গের বাতাস নির্গমনের ব্যবস্থা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে শেকৃবি ক্যাম্পাসে দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

চুয়েটে তালা ভেঙে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যেই প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন তিনি।

পরে উপাচার্যের কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে নির্ধারিত চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সময় তাঁর কক্ষে চুয়েট শাখা ছাত্রদলের সভাপতি ওয়াসিফ রাশেদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত, সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসাইন এবং শাখা ছাত্রদলের সাবেক নেতা সোহান টিটুকে দেখা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল উপাচার্যের। এ জন্য ১০ অক্টোবর বিকেলে তাঁর ঢাকায় যাওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তাঁর অনুপস্থিতিতে ১১ ও ১২ অক্টোবরের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পূর্বঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেলেও সোমবার সকালে হঠাৎ চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় ছাত্রদলপন্থী বর্তমান ও সাবেক আট থেকে দশজন শিক্ষার্থীও তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।

উল্লেখ্য, গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্য পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এসব কর্মসূচির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

ক্যামেরার ফ্রেমে আর মঞ্চের অভিনয়ে শেকৃবিতে সমতার জয়গান

সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে শিল্প—এই বার্তারই জোরালো প্রতিধ্বনি মিলল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। লিঙ্গবৈষম্যের শেকল ভাঙার আহ্বান জানিয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী। ‘ম্যাজেন্ডা প্রজেক্ট’-এর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার।


এবারের আসরে অংশ নেয় দেশের ১০টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি প্রতিভাবান দল। লিঙ্গ সমতার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ও চিন্তাজাগানিয়া ভিডিওগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৩টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। ২৫ হাজার টাকার প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৫০ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পান যথাক্রমে ১৫ ও ১০ হাজার টাকা। পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত বিজয়ী প্রতিযোগী জারিফুল ইসলাম জিম বলেন, "সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে প্রশ্নবিদ্ধ করারই চেষ্টা ছিল আমাদের। এই স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ সৃজনশীল পথচলায় দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।"


শিল্পের পাশাপাশি কথায় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপেও ছিল সমতার স্পষ্ট অঙ্গীকার। শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের সর্বত্র নারী বা পুরুষ পরিচয়ে নয়, সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।" পাশাপাশি তিনি জানান, শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শেকৃবির ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক প্রদর্শিত ২৭টি বাছাইকৃত ভিডিওচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজের একটি হাত নিষ্ক্রিয় রেখে প্রগতির পথে হাঁটা অসম্ভব; সুন্দর সমাজ গড়তে দুই হাতকেই সমানভাবে কাজে লাগাতে হবে।


পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা শেষে সমকালীন সমাজচিত্র নির্ভর নাটক ‘বহ্নিশিখা’ মঞ্চস্থ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'কিষাণ থিয়েটার'। নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনার এই নাটকটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের সমতার চেতনায় নতুন করে আলোড়িত করে।

মন্তব্য করুন

চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আশা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চুয়েট এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বিত উদ্যোগে সংকট নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)  উপাচার্য বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাব দিচ্ছেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তিনি অনলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসকে অস্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চুয়েটের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনও। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংগঠনটি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, চুয়েটকে একটি পরিবারের মতো বিবেচনা করে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, চলমান উদ্যোগ সফল হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটে স্থবির হয়ে পড়া একাডেমিক কার্যক্রম ও পাঠদান পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে, চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, শিক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও একাডেমিক কার্যক্রমের উপযোগী রাখতে তাঁরা সবসময় কাজ করে আসছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

 ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, ‘পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর কথাও বলেছি। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসেননি।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনা শুরু হলে সমস্যার সমাধান হবে এবং চুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ আবারও স্বাভাবিক, সুশৃঙ্খল ও একাডেমিকভাবে অনুকূল হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

রাবিতে সাংবাদিকদের ওপর ছাত্রদলের হামলা, আহত ১৪

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৪ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

গুরুতর আহত সাংবাদিকরা হলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। আহতদের মধ্যে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে গেছে। বর্তমানে আহত সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে রাবি ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল ইসলাম, সহসভাপতি শরিফুল ইসলাম, সহদপ্তর সম্পাদক শাহরিয়ার আলম অথিসহ ৮ থেকে ১০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে আসেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তাঁদের হাতে দেশীয় অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন অস্ত্র দেখা যায়। খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ঘটনাস্থলে গেলে নেতাকর্মীরা অস্ত্রগুলো লুকিয়ে ফেলেন।

পরে কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রক্টরের উপস্থিতিতেই দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধিকেও মারধর করা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে গিয়ে একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখেন প্রক্টর। পরে হামলার খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে তাঁদেরও মারধর করা হয়। এ সময় দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম হামলার শিকার হন। এতে জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায়।

অন্য সাংবাদিকরা তাঁদের রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তাঁদেরও হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবীব সাংবাদিকদের ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দিয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

জানা গেছে, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকিবুল তাঁর মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেছেন। অন্যদিকে রাকিবুলের দাবি, তাঁকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। এ নিয়ে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাকিবুল সেখানে অবস্থান করেন। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে আহসান হাবীব সেখানে অবস্থান নেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায়। তাঁরা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

ছাত্রদলের এ অবস্থানের সমালোচনা করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি ছাত্রদল নেতাকর্মীদের দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থানের সমালোচনা করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রক্টরের বক্তব্য

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হয়েছি। আমাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। আমরা পুলিশকে ফোন দিয়েছি, কিন্তু পুলিশও ভয়ে পালিয়ে গেছে।’

ছাত্রদলের বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে রাবি ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি সেন্ট্রাল ছাত্রদলকে জানিয়েছি। দ্রুত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য করুন
×