‘রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না’—অধ্যাপক ড. রজব আলী

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন অনিয়মের তদন্তে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন ‘রূপালী বাংলাদেশ’ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফাহিম। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে তাকে কক্ষে আটকে রাখা এবং ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য (রেজিস্ট্রেশন নম্বর) দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই কমিটির আহ্বায়ক ও কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, সম্প্রতি শেকৃবিতে ২০০৯-২০২৪ সালের নিয়োগ ও পদোন্নতিসহ বিভিন্ন বিষয় খতিয়ে দেখতে গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা জানতে অধ্যাপক ড. রজব আলীর কার্যালয়ে যান সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম। কার্যালয়ে পৌঁছে কমিটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ শেষে তিনি বের হওয়ার সময় তাকে পুনরায় ডেকে পাঠান অধ্যাপক রজব।

এ সময় পেশাগত পরিচয়পত্র দেখানোর পরও ওই অধ্যাপক তার বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, কোন বিভাগে এমএস করছেন এবং সুপারভাইজারের নাম জানতে চান। সাংবাদিক তার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্র দেখিয়ে গণমাধ্যমের প্রতিনিধি হিসেবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের কথা জানালেও অধ্যাপক রজব আলী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন।

সাংবাদিক রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অনিচ্ছা প্রকাশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অধ্যাপক রজব আলী তাকে উদ্দেশ করে বলেন, “রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে রুম থেকে বের হতে দেব না।”

তিনি আরও বলেন, “তুমি কি আমাকে চেনো? আমি এখানে ৩২ বছর শিক্ষকতা করছি। যদি রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে না চাও, তাহলে সাংবাদিকতা করতে কেন এসেছ? যদি ডিগ্রির ভয় পাও, তাহলে কেন সাংবাদিকতা করতে এসেছ?”

একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে অধ্যাপক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেন এবং প্রক্টরকে ফোন করে ওই সাংবাদিকের পরিচয় যাচাই করেন। এছাড়া ভবিষ্যতে এই কমিটির তথ্য না দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, যারা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দেয় না, তিনি তাদের মোবাইল নম্বর ব্লক করে রাখেন এবং তাদের সঙ্গে আর যোগাযোগ করেন না। পরবর্তীতে শেকৃবি সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহেদ মাহমুদ মাহিনকে ফোন করে বিষয়টি জানানোর পর ওই সাংবাদিক কক্ষ ত্যাগ করেন।

শেকৃবিতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত শিক্ষক-কর্মকর্তা নিয়োগ ও পদোন্নতির নানা অনিয়ম খতিয়ে দেখতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করে। কৃষি অনুষদের এন্টোমলজি (কীটতত্ত্ব) বিভাগের অধ্যাপক ড. রজব আলীকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়। মূলত সেই তদন্ত কমিটির অগ্রগতির খোঁজ নিতে গিয়েই এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন সংবাদকর্মী।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মোহাম্মদ ফাহিম ফয়সাল বলেন, “আমি আমার পেশাগত জায়গা থেকে যতটুকু সৌজন্যতা বজায় রাখা সম্ভব, তা বজায় রেখেছি। স্যারকে আমার রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে অস্বীকৃতি জানানোই আমার একমাত্র অসৌজন্যমূলক আচরণ। তিনি আমাকে কোনো ডকুমেন্ট দেখাননি বা কোনো ধরনের সহযোগিতা করেননি। বরং কয়েক বান্ডিল কাগজপত্র আমার সামনে রেখে দেখিয়েছেন যে তাঁরা কাজ করছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমি গোপনীয় কাজের কোনো তথ্য এখন শেয়ার করব না। তুমি এখন আসতে পারো।’

তথ্য সংগ্রহ শেষে কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় আমাকে ফের ডেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন নম্বরসহ ব্যক্তিগত একাডেমিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়। পরিচয়পত্র দেখানোর পরও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে রেজিস্ট্রেশন নম্বর না দিলে কক্ষ থেকে বের হতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়। পরবর্তী তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও নিরাপত্তা বিভাগের মহাপরিচালককে ফোন দিবেন বলে ভয়ভীতি দিয়েছেন এবং পরে তিনি এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে ফোন দেন। আমি বিষয়টি সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে অবগত করি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. রজব আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, “শুরুতে সে নিজেকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে পরিচয় দেয়। আলোচনা চলাকালে বিভিন্ন বিষয়ে সে আমাকে খোঁচা দিচ্ছিল। পরে তার নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর জানতে চাইলে সে তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। সে যদি সত্যিই ছাত্র হয়, তাহলে রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে সমস্যা কোথায়?”

সাংবাদিকতার পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়পত্রের পরিবর্তে ব্যক্তিগত রেজিস্ট্রেশন নম্বর কেন প্রয়োজন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “সে নিজেকে ছাত্র পরিচয় দেওয়ায় আমি তার সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেছি এবং তাকে অনেক কাগজপত্রও দেখিয়েছি। কিন্তু একজন শিক্ষক হিসেবে আমার সঙ্গে যে ধরনের আচরণ করা উচিত ছিল, সে তা বজায় রাখেনি।”

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

মর্গের এক্সহস্ট ফ্যানের দূষিত বাতাস ঢুকছে একাডেমিক ভবনে, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

মর্গের দুর্গন্ধে শেকৃবিতে ক্লাসে বমি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ। তীব্র পচা গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা। এমনকি দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের বমি করা ও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান দিয়ে বের হওয়া দূষিত বাতাস সরাসরি রাস্তার অপর পাশে থাকা শেকৃবির একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মাহবুবুজ্জামান ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা করা তিনটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক আনসার সদস্য মাস্ক পরে ডিউটি করছেন। তিনি বলেন, ‘পচা গন্ধে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে ডিউটি করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পচা গন্ধে ক্লাসে টেকা যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে ক্লাসের মধ্যেই বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের শামিল।’

অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষকও

দুর্গন্ধের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মকর্তারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘মর্গের তীব্র গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের ক্লাসরুমে অবস্থান করা যাচ্ছে না। আমি নিজেও এই গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি কার্যকর সমাধান করা দরকার।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

বিষয়টি নিয়ে শেকৃবি রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম জানান, সমস্যা সমাধানে তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

‘মর্গ নির্মাণে শুরুতেই স্থাপত্যগত ভুল ছিল’

মর্গের অবকাঠামোগত ও নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডা. সোলায়মান কবীর।

তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যগত দিক থেকে শুরুতেই বড় ভুল ছিল। মর্গ কখনোই একদম রাস্তার ওপর হতে পারে না। তাছাড়া অবকাঠামোতেও কিছু ত্রুটি আছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত বাতাস পরিশোধনে বিশেষ কেমিক্যাল আনা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসবে।’

আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কমানোর পরিবর্তে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

মর্গের বাতাস নির্গমনের ব্যবস্থা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে শেকৃবি ক্যাম্পাসে দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, ১৪ ঘণ্টায়ও হয়নি তদন্ত কমিটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার ১৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকরা।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চার সাংবাদিক গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।

হামলার পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান সাংবাদিকরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজকের মধ্যে মামলা করার আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকরা তাৎক্ষণিক কর্মসূচি থেকে সরে আসেন।

তবে হামলার প্রতিবাদে সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র ভবনের সামনে মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেন তারা। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেখানে মানববন্ধন চলছিল।

এদিকে হামলার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি গঠন না হওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ভিসি স্যার ক্যাম্পাসে নেই। তিনি বিকেলে আসবেন। তারপর তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।’

রোববার রাতের হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

হামলায় আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।

হামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকরা কয়েকটি দাবি জানিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মামলা করা, সোমবার দুপুর ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করা, হামলায় জড়িত শিক্ষার্থীদের ছাত্রত্ব বাতিল এবং পড়াশোনা শেষ করা ব্যক্তিদের সনদ বাতিল করা।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার দাবিও জানিয়েছেন সাংবাদিকরা।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ৯৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স বিতরণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে লেভেল-৫, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্যাল বক্স ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যাবশ্যকীয় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির অ্যাগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের হাতে বক্স তুলে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "এই সার্জিক্যাল কিট বক্স গ্রহণের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বজুড়ে প্রাণিচিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে। এই অনুষদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুদৃষ্টি রয়েছে। আমরা ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছি। পাশাপাশি তোমাদের টিএ/ডিএ (TA/DA) দাবির প্রেক্ষিতেও একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় পাস হবে বলে আশা করছি। এটি পাস হলে তহবিলের অভাব দেখিয়ে কেউ আর তোমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।"

শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (যেমন- চাইনিজ বা জাপানিজ ভাষা) চালুর বিষয়ে কাজ করছি। এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী (লিডারশিপ) বিকাশ করা।"

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ী বহিষ্কার

 

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত হওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষকসহ ১১ জনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃত তিন শিক্ষক হলেন—গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম।

বহিষ্কৃত অন্যরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল, নিরাপত্তাকর্মী নূর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন।

এর আগে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম ও বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে ১৬ জুলাই রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তাঁর মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করে।

মন্তব্য করুন
×