ধ্বংসস্তূপের নিচে তিন দিন, জীবিত উদ্ধার ৬ বছরের শিশু

 

ভয়াবহ বন্যায় চারপাশ যখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে, তখনও শেষ হয়নি একটি ছোট্ট প্রাণের লড়াই। নেপালের রসুয়া জেলায় বন্যার তিন দিন পর মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ছয় বছরের এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় উদ্ধার করা শিশুটিকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে।

রসুয়া জেলার তিমুরে গ্রামে এ হৃদয়স্পর্শী ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি ভোতে কোশি নদীর পানি বেড়ে সেখানে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে তিমুরে গ্রাম ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বন্যার পানির সঙ্গে মাটি ও ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়ে বহু স্থাপনা। এরপর থেকেই নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে আসছিলেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধার অভিযানের একপর্যায়ে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর (এপিএফ) সদস্যরা মাটির নিচ থেকে ক্ষীণ কান্নার শব্দ শুনতে পান। শব্দের উৎস শনাক্ত করে দ্রুত সেখানে খনন শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে ধ্বংসস্তূপের নিচে শিশুটির সন্ধান মেলে। পরে তাকে নিরাপদে বের করে আনেন উদ্ধারকর্মীরা।

উদ্ধারের পর শিশুটিকে এপিএফের তিমুরে সীমান্ত চৌকিতে নেওয়া হয়। সেখানে তার প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে কিছু সময় পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কাঠমান্ডুতে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

শুক্রবার সন্ধ্যায় শিশুটিকে হেলিকপ্টারে করে কাঠমান্ডুতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও খারাপ আবহাওয়া ও কম দৃষ্টিসীমার কারণে উড্ডয়নে দেরি হয়। ফলে শিশুটিকে আরও কিছু সময় অপেক্ষা করতে হয়। উদ্ধারকারীরা শনিবার দুপুর পর্যন্ত তাকে স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করেন।

পরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে এলে হেলিকপ্টারে করে শিশুটিকে কাঠমান্ডুর একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে সে সেখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকেরা তার শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা

তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে জীবিত উদ্ধারের দৃশ্যের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি দেখে উদ্ধারকর্মীদের সাহস ও প্রচেষ্টার প্রশংসা করছেন অনেকে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একজন লিখেছেন, ‘যে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর দলটি উদ্ধার অভিযান বন্ধ করেনি, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা।’

আরেকজন লিখেছেন, ‘যখন সব আশা শেষ হয়ে গিয়েছিল, তখনই তাকে খুঁজে পাওয়া গেল।’

এদিকে শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে স্বজনদের খুঁজে বের করার আহ্বান জানিয়েছেন অনেকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন জানিয়েছেন, কর্তৃপক্ষ শিশুটির পরিবার বা স্বজনদের সন্ধান করছে। কেউ মানিশা মাগার বা তার পরিবারের বিষয়ে কোনো তথ্য জানলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়েছে।

বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

নেপালে ভয়াবহ বন্যায় বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও পুনর্বাসনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল শনিবার জানিয়েছেন, বন্যার পর পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত প্রয়োজন হতে পারে।

কাঠমান্ডুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি বলেন, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে সম্ভবত কয়েক বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে গবেষণা ও মূল্যায়ন করা হবে। এরপর পুনর্গঠনের পরিকল্পনা নেওয়া হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছেও সহায়তার জন্য যোগাযোগ করা হচ্ছে।

বন্যার ভয়াবহতায় এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকারী দলগুলো এখন পর্যন্ত ৬৭৫টি মরদেহ উদ্ধার করেছে। অন্যদিকে, নেপালে এখনো ২ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই তিন দিন মাটি ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকার পর ছয় বছরের মানিশা মাগারকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা নতুন আশার সঞ্চার করেছে। দীর্ঘ সময় পরও শিশুটিকে জীবিত অবস্থায় খুঁজে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে উদ্ধারকর্মীদের মধ্যেও। এখন তার দ্রুত সুস্থতা এবং পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় সবাই।

মন্তব্য করুন

আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস আবারও নিশ্চিত করেছেন, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন সময়মতো, অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক নতুন ভোটার প্রথমবারের মতো ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। গত ১৬ বছরের স্বৈরতন্ত্রে টানা তিনটি নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার কার্যকর হয়নি।

একই সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা জানান, সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এবং পরে নির্বাচন কমিশন নিবন্ধন বাতিল (স্থগিত) করায় আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে না।

গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যানের সঙ্গে বৈঠকে এই বিষয়গুলো আলোচনা করা হয়। বৈঠকে আসন্ন নির্বাচন, অবৈধ অভিবাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রোহিঙ্গা সংকট এবং বিমান ও নৌ খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো নিয়ে কথোপকথন হয়।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের লক্ষ্যে লাখো মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাংলাদেশে একটি নতুন সূচনা করেছে।

যুক্তরাজ্যের মন্ত্রী ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে চলমান সংলাপ ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজকে ইতিবাচক হিসেবে মূল্যায়ন করেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন, বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের অপব্যবহার বেড়েই চলেছে।

এর জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর সরকার নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বৈধ পথে বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিতে উৎসাহিত করছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুই নেতা মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখার গুরুত্ব তুলে ধরেন। মুহাম্মদ ইউনূস জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের তরুণরা আশা হারিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন, তাই তাদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বঙ্গোপসাগরে গবেষণার জন্য যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণা জাহাজ কিনছে বাংলাদেশ। ব্যারোনেস জেনি চ্যাপম্যান উড়োজাহাজ যোগাযোগ আরও জোরদারের আহ্বান জানান এবং জানান, এয়ারবাস ইন্টারন্যাশনের প্রধান শিগগিরই বাংলাদেশ সফর করবেন।

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার সারা কুক।

মন্তব্য করুন

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ, দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ১৩৩ ধারা জারি

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভের মধ্যে জননিরাপত্তা ও নাগরিকদের সম্পত্তি সুরক্ষায় দিল্লির কয়েকটি এলাকায় ১৩৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এর আওতায় অনুমতি ছাড়া সমাবেশ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। কর্মসূচি ঠেকাতে শনিবার দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয় পুলিশ। এ সময় প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করা হয়। পুলিশের এ পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে একাধিক আবেদন জমা পড়ে।

আবেদনকারীদের অভিযোগ, বিক্ষোভের আগে ও পরে অনেক মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে টানা বিক্ষোভের পর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা জানিয়ে দিল্লির কয়েকটি এলাকায় বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

ভারতের পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারা মূলত জনসাধারণের দুর্ভোগ বা উপদ্রব দূর করতে ব্যবহৃত হতো। জনসাধারণের চলাচলে বাধা, জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কিংবা নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এ ধারায় প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারতেন। এর আওতায় সরকারি রাস্তা বা জলপথের অবৈধ বাধা সরানো, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর ব্যবসা বন্ধ করা এবং বিপজ্জনক ভবন, স্থাপনা বা জীবজন্তুর কারণে সৃষ্ট ঝুঁকি দূর করার নির্দেশ দেওয়া যেত।

এ ধারা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যাটি দূর করার নির্দেশ দিতে পারেন। পাশাপাশি, কেন ওই নির্দেশ চূড়ান্ত করা হবে না, সে বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলেও প্রযোজ্য আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে ভারতে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর হয়েছে। পুরোনো ফৌজদারি কার্যবিধির ১৩৩ ধারার সমতুল্য বিধান বর্তমানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার (বিএনএসএস) ১৫২ ধারায় রয়েছে। অন্যদিকে, জরুরি পরিস্থিতিতে জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে জমায়েত বা বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ আরোপের ক্ষেত্রে পুরোনো ১৪৪ ধারার সমতুল্য বর্তমান ১৬৩ ধারা প্রয়োগ করা হতে পারে।

এদিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের প্রতিবাদে মিছিলের ডাক দিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। এতে রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। আজ সুপ্রিম কোর্টের দিকে প্রতিবাদ মিছিলেরও ঘোষণা দিয়েছে বিরোধী দলগুলো। কংগ্রেস এ কর্মসূচির নাম দিয়েছে ‘চলো দিল্লি’।

গত সপ্তাহে মধ্য দিল্লিতে বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার সময় রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের একাধিক শীর্ষ নেতাকে কয়েক দফায় আটক করা হয়। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রবিবার সিজেপি জানিয়েছে, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চলবে।

এর আগে শনিবার দিল্লির যন্তর মন্তরের দিকে মিছিলের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। রাজধানীর পরিচিত প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তরে সংগঠনটি এর আগেও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। তবে শনিবার প্রশাসনের কঠোর বিধিনিষেধের কারণে বিক্ষোভকারীদের সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। কয়েকটি ট্রেন বাতিল করা হয়, বহু মেট্রো স্টেশনে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং বিক্ষোভকারীদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়।

বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর বিমান থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং সংগঠনের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। এক দিন পর তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়।

মুক্তির পর অভিজিৎ দীপকে তাঁর দাদির শেষকৃত্যে যোগ দিতে বাড়ি ফিরে যান। অন্যদিকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা সংবাদ সম্মেলনে জানান, তাঁদের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে। তবে রবিবারের কর্মসূচিতে তাঁরা অংশ নেননি। বিক্ষোভের জন্য নতুন তারিখ নির্ধারণ করতে পুলিশের কাছে আবেদন করবেন বলেও জানিয়েছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ভাতা প্রস্তাবে অনুমোদন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের হাতে

বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য বহুল প্রত্যাশিত বাড়ি ভাড়া ভাতার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। জানা গেছে, আগামী রোববার এ প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।

শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া দাবি করে আসছেন। আগামী ১০ অক্টোবরের মধ্যে এ দাবি কার্যকর না হলে ১২ অক্টোবর থেকে লাগাতার আন্দোলনে নামার আলটিমেটাম দিয়েছেন তারা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বাড়ি ভাড়ার প্রস্তাবটি চারটি ভিন্ন হার—৫, ১০, ১৫ এবং ২০ শতাংশ আকারে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। শিক্ষা উপদেষ্টা ইতোমধ্যেই এ প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন। তবে শেষ সিদ্ধান্ত দেবে অর্থ মন্ত্রণালয়; তারা যে হারে সম্মতি দেবে, সে অনুযায়ী বাড়ি ভাতা পাবেন শিক্ষক-কর্মচারীরা।

এর আগে গত ১৩ আগস্ট জাতীয়করণ প্রত্যাশী এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান জোটের মহাসমাবেশে শিক্ষা উপদেষ্টার কাছে বাড়ি ভাড়া ২০ শতাংশ করার প্রস্তাব তোলা হয়। সেই দাবিরই এখন আনুষ্ঠানিক অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ: পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, জিপিএ-৫ কমেছে প্রায় ৭৭ হাজার

চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার সারাদেশে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ কম।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় দেশের ৯টি সাধারণ, কারিগরি ও মাদরাসা—মোট ১১টি শিক্ষা বোর্ড একযোগে ফল প্রকাশ করে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বোর্ডের ওয়েবসাইট ও এসএমএসের মাধ্যমে ফল জানতে পারছেন।

এ বছর মোট ১২ লাখ ৫১ হাজার ১১১ শিক্ষার্থী পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ১৮ হাজার ১৫ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ৯৬ জন। ২ হাজার ৭৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে প্রায় ২৭ হাজার শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়নি।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, অংশগ্রহণকারী ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পাস করেছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন, আর ফেল করেছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন। ফলে পাসের হার হয়েছে ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ, আর ফেলের হার ৪১ দশমিক ১৭ শতাংশ।

এ বছর সারাদেশে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী। গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এক লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ জন। সে হিসেবে এবার জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৭৬ হাজার ৮১৪ জন।

ফলাফলে এবারও সব দিক থেকে এগিয়ে ছাত্রীদের পারফরম্যান্স। মোট পাস করা শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৯৬ জন এবং ছাত্র ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬৪ জন। ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ৯৭ শতাংশ, যেখানে ছাত্রদের পাসের হার ৫৪ দশমিক ৬০ শতাংশ।

একইভাবে জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতেও এগিয়ে ছাত্রীদের সংখ্যা। মোট ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ৩৭ হাজার ৪৪ জন এবং ছাত্র ৩২ হাজার ৫৩ জন।

🔸 সামগ্রিকভাবে এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে নিম্নমুখী হলেও, ছাত্রীদের সাফল্য এখনো আশাব্যঞ্জক।

 
মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি বললেন

‘জিয়াউর রহমানের ওপর বিশ্বজুড়ে গবেষণা হয়’

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যার ওপর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা চলছে। কারণ, তিনি স্বাধীনতার পর একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের যে মৌলিক ভিত্তি প্রয়োজন, তা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

সম্প্রতি জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে জিয়া পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

উপাচার্য বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন দেশের প্রশাসন, সামরিক বাহিনী ও রাজনীতির মধ্যে একটি কার্যকর ভারসাম্য গড়ে তুলেছিলেন। তিনি বাংলাদেশে ‘উৎপাদনের রাজনীতি’ চালু করেন এবং মানুষকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের পতাকাতলে ঐক্যবদ্ধ করেন। এর মাধ্যমে জাতিকে আত্মপরিচয়ের শক্তিতে দৃঢ় করেছিলেন।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান স্বাধীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যান। তিনি এই দেশে সকলের জন্য কথা বলা ও রাজনীতি করার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন, যার সুফল আমরা আজও পাচ্ছি।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জিয়া পরিষদ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি প্রফেসর ড. ফকির রফিকুল আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. এ টি এম জাফরুল আযম।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আহমেদ শিশিম, গাজীপুর জেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. ইয়াকুব মিয়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর সরকার।

মন্তব্য করুন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের পরীক্ষা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি কোর্সের মোট নম্বরের ৮০ শতাংশ ফাইনাল পরীক্ষায় এবং ২০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নে বরাদ্দ থাকবে।

বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কারিকুলাম উন্নয়ন ও মূল্যায়ন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ডিনের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে তত্ত্বীয় কোর্সের প্রশ্নের ধরন ও ধারাবাহিক মূল্যায়নের পদ্ধতিতে পরিবর্তন কার্যকর হবে।

প্রশ্নপত্রের ধরন ও মূল্যায়ন কাঠামো

নতুন কাঠামো অনুযায়ী—

  • চার ক্রেডিট কোর্সে: ১২টি প্রশ্নের মধ্যে ৮টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৮০, সময় ৪ ঘণ্টা।

  • তিন ক্রেডিট কোর্সে: ৯টি প্রশ্নের মধ্যে ৬টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৬০, সময় ৩ ঘণ্টা।

  • দুই ক্রেডিট কোর্সে: ৬টি প্রশ্নের মধ্যে ৪টির উত্তর দিতে হবে। মোট নম্বর ৪০, সময় ২ ঘণ্টা।

প্রয়োজনে প্রতিটি প্রশ্নে সর্বোচ্চ তিনটি উপ-প্রশ্ন (ক, খ, গ বা a, b, c) রাখা যাবে।

ধারাবাহিক মূল্যায়নের ধরন

প্রতিটি তত্ত্বীয় কোর্সের মোট নম্বরের ২০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়নের জন্য নির্ধারিত থাকবে।

  • চার ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৫ নম্বর, ক্লাস উপস্থিতি ৫ নম্বর, এবং ইন-কোর্স পরীক্ষায় (দুটি ইন-কোর্সের গড়) ১০ নম্বরসহ মোট ২০।

  • তিন ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৪ নম্বর, উপস্থিতি ৩ নম্বর, ইন-কোর্স ৮ নম্বরসহ মোট ১৫।

  • দুই ক্রেডিট কোর্সে: অ্যাসাইনমেন্ট ও কুইজ ৩ নম্বর, উপস্থিতি ২ নম্বর, ইন-কোর্স ৫ নম্বরসহ মোট ১০।

ব্যবহারিক কোর্সের মূল্যায়ন

ব্যবহারিক কোর্সগুলোর মূল্যায়ন সংশ্লিষ্ট বিষয়ের সিলেবাস অনুযায়ী সম্পন্ন হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।নতুন এ পদ্ধতি কার্যকর হলে মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিয়মিত অংশগ্রহণের গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে শিক্ষাবিদরা মনে করছেন।

মন্তব্য করুন
×