নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

ঢাবির শিক্ষক তাসনিম সিরাজের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগ, লাল কার্ড দেখিয়ে প্রতিবাদ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে লাল কার্ড প্রদর্শন করে তাঁরা এ প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন ওই শিক্ষক। এ ছাড়া একই শ্রেণিকক্ষে একটি বেঞ্চে ছয়জন ছাত্রকে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা লাল কার্ড প্রদর্শন করেন। একই সঙ্গে বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির পক্ষে অবস্থান নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা ‘রেড কার্ড টু রেসিস্ট, ক্লাসিস্ট অ্যান্ড হিপোক্রিট’ এবং ‘রেড কার্ড টু দোজ হু সাপোর্ট ডিসক্রিমিনেশন, হিউমিলিয়েশন অ্যান্ড বুলিং’—এমন স্লোগান দেন। এর মাধ্যমে বর্ণবাদী, শ্রেণিবিদ্বেষী ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের পাশাপাশি বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির সমর্থকদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ বলেন, ‘আজ ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের অন্যায়, বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক আচরণ এবং দ্বিচারিতার বিরুদ্ধে মুখে কালো কাপড় পরিধান করে এবং লাল কার্ড প্রদর্শন করে প্রতিবাদ জানায়। একই সঙ্গে তারা অন্যায়ের সমর্থকদের প্রতিও ঘৃণা ব্যক্ত করেন।’

এর আগে গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক ছাত্রীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।

মন্তব্য করুন

একই স্কুল-কলেজ পেরিয়ে একই বিভাগে রাবিতে জমজ দুই ভাই

শৈশব থেকে একসঙ্গে পথচলা। একই স্কুল, একই কলেজ—শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপেই পাশাপাশি ছিলেন শেরপুরের জমজ দুই ভাই শাকিবুল হাসান জনি ও রাকিবুল হাসান রনি। এবার সেই পথচলা এসে পৌঁছেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি)। শুধু একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়াই নয়, দুজনই সুযোগ পেয়েছেন একই বিভাগে। আবাসিক হলও পেয়েছেন একই। বর্তমানে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে মতিহার হলে থাকছেন তারা।

শেরপুর সদর উপজেলার মোবারকপুরের এই দুই ভাইয়ের শিক্ষাজীবনের শুরু শেরপুর সরকারি ভিক্টোরিয়া একাডেমিতে। সেখানে মাধ্যমিকের পড়াশোনা শেষে এসএসসি পরীক্ষায় দুজনই জিপিএ-৫ অর্জন করেন।

এরপরও তাদের পথ আলাদা হয়নি। দুজনই ভর্তি হন শেরপুর সরকারি কলেজে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষাতেও ধরে রাখেন সাফল্যের ধারাবাহিকতা। শাকিবুল হাসান জনি জিপিএ-৪.৯২ এবং রাকিবুল হাসান রনি জিপিএ-৪.৮৩ অর্জন করেন।

উচ্চশিক্ষার জন্য এরপর তাদের গন্তব্য হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষায় সফল হয়ে দুজনই সুযোগ পান পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে। একই বিভাগে পড়ার পাশাপাশি তাদের আবাসিক ঠিকানাও হয়েছে একই—মতিহার হল। এমনকি একই কক্ষে বসে ক্লাস করার সুযোগও পাচ্ছেন দুই ভাই।

রাকিবুল হাসান রনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। মহান রব চেয়েছেন বলেই আজ আমরা স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়েও একইসঙ্গে একরুমে বসে ক্লাস করতে পারছি। মাঝে মধ্যে ভাবলে নিজেরাই অবাক হয়ে যাই। ক্লাস নাইনে পদার্থবিজ্ঞান সম্পর্কে জানার পর থেকেই বিষয়টি আমাদের খুব পছন্দের ছিল। পছন্দের বিভাগে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি একই হলও বরাদ্দ পেয়েছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে।’

শাকিবুল হাসান জনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আমাদের দুই ভাইয়ের সবসময় একসঙ্গে পড়ার স্বপ্ন ছিল। সেটা এত সুন্দরভাবে পূরণ হবে, তা কখনো ভাবিনি। নিশ্চয়ই আল্লাহ উত্তম পরিকল্পনাকারী। আমরা ভবিষ্যতেও সফলতা একসঙ্গে ধরে রাখতে চাই।’

একই স্কুল, একই কলেজ, একই বিশ্ববিদ্যালয়, একই বিভাগ এবং একই আবাসিক হল—শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিটি ধাপেই যেন একে অপরের সঙ্গী হয়ে আছেন শেরপুরের এই জমজ দুই ভাই।

মোবারকপুরের পরিচিত গণ্ডি পেরিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিহার ক্যাম্পাসে এসে এবার পদার্থবিজ্ঞানের জগতে নিজেদের স্বপ্ন পূরণের নতুন অধ্যায় শুরু করেছেন জনি ও রনি। সামনে তাদের লক্ষ্যও এক—একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়া এবং নিজেদের সাফল্যের গল্প আরও দীর্ঘ করা।

মন্তব্য করুন

জাবি মেডিকেল সেন্টারের নামফলক থেকে জাকসু জিএসের নাম প্রত্যাহার

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬-এর উদ্বোধনী নামফলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাজহারুল ইসলামের নাম রাখা হয়েছিল। তবে এটিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় উল্লেখ করে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ কার্যালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থাপনার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভিত্তিপ্রস্তরের নামফলকে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী প্রধান অতিথি বা উদ্বোধনকারী ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থাপনার নামফলকেও দীর্ঘদিন ধরে এ রীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।

তবে ‘জাবি মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়ন প্রকল্প-২০২৬’-এর উদ্বোধনী নামফলকে উপাচার্যের নামের পাশাপাশি জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলামের নামও উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এটিকে প্রচলিত রীতির ব্যত্যয় হিসেবে উল্লেখ করে নামফলকটি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় পরে জানানো হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা যাবে না—এমন কোনো নীতিমালা তিনি দেখেননি। তাঁর দাবি, মেডিকেল সেন্টার আধুনিকায়নে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় জাকসুর পক্ষ থেকে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে জরুরি কক্ষ, অপারেশন থিয়েটার (ওটি), ল্যাবসহ মেডিকেল সেন্টারের বিভিন্ন সুবিধা আধুনিকায়নের কাজ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে যারা ভূমিকা রেখেছেন, নামফলকে তাদের স্বীকৃতি থাকায় এতে দোষের কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, নামফলকে জাকসুর জিএসের নাম রাখা এবং পরে তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও জাকসুর অবস্থানের মধ্যে ভিন্নমত প্রকাশ পেয়েছে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় শেকৃবিতে ছাত্রদলের ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় তিন মাসব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশনায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

১৪ই সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন মাননীয় সংসদ সদস্য ও শেকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য ইঞ্জিনিয়ার সানজিদা ইসলাম তুলি। শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. বেলাল হোসেন এবং ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবুল বাশার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন স্টুডেন্ট অ্যাডভাইজার প্রফেসর ড. আশাবুল হকসহ অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষক, ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি সানজিদা ইসলাম তুলি বলেন, "জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধের এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো, ডেঙ্গুর কারণে যেন অকালে আর কোনো প্রাণ ঝরে না যায়। আগামী তিন মাস আমাদের সবাইকে এই সচেতনতা নিয়ে কাজ করতে হবে।"

ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি আরও বলেন, "শেকৃবি ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন থাকলে এখানকার সবাই সুস্থ থাকবে, যা ক্যাম্পাসের সম্মান বাড়াবে। আমার প্রত্যাশা, সর্বোচ্চ পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় পুরো ঢাকার জন্য একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠবে।"

অনুষ্ঠানে শেকৃবি ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বিএম আলমগীর কবীর তারেক রহমান ঘোষিত এই কর্মসূচির প্রেক্ষাপট আলোচনা করেন। নবনিযুক্ত সিন্ডিকেট সদস্য এমপি তুলির কাছে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নে আপনার কাছে আমাদের অনেক দাবি রয়েছে। শেকৃবি যেন বিশ্বদরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, সে লক্ষ্যে আমাদের দাবিগুলো আপনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরবেন বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।"

সভাপতির বক্তব্যে শেকৃবি ছাত্রদলের সভাপতি আহমদুল কবীর তাপস ক্যাম্পাসের বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান, বর্তমানে প্রতিটি হলেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী রয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার্থেই ছাত্রদলের এই উদ্যোগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত রাখার জোর দাবি জানান। এছাড়া তিনি বলেন, "যেহেতু এমপি তুলি নিজেও একটি টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স) থেকে পড়াশোনা করেছেন, তাই শেকৃবির মতো বিশেষায়িত কৃষি ও টেকনিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো তিনি গভীরভাবে অনুধাবন করবেন এবং সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।"
সচেতনতামূলক প্রচারণার অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের নানা দিক-নির্দেশনা সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করা হয় এবং ফগার মেশিন দিয়ে মশা নিধনের মাধ্যমে কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন, তিন দফা দাবি

প্রস্তাবিত ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগসহ তিন দফা দাবিতে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিম্যাল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেছেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের এম. মহবুবুজ্জামান একাডেমিক ভবনের নিচে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এএসভিএম অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. জাহাঙ্গীর আলমসহ অনুষদের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো, প্রস্তাবিত ‘সহকারী ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ অফিসার’ পদে শুধুমাত্র রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ দিতে হবে, প্রানী চিকিৎসা খাতে ভেটেরিনারিয়ান ও ডিপ্লোমাধারীদের দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা রাখতে হবে, এ ছাড়া প্রতিটি উপজেলায় চারজন করে ভেটেরিনারি সার্জনের পদ সৃষ্টি করে দ্রুত নিয়োগ দিতে হবে এবং এসব পদে রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ানদের নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষার্থী মিনহাজ আহমেদ নাইম বলেন, ‘এলডিডিপি (LDDP) প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেক ভেটেরিনারিয়ান বেকারত্বের মুখে পড়েছেন। অথচ ডিপ্লোমাধারীদের জন্য নতুন পদ সৃষ্টি করা হচ্ছে। ডিপ্লোমাধারী ও ভেটেরিনারিয়ানদের মধ্যে দায়িত্ব ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট সীমারেখা থাকা উচিত।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন চিকিৎসক দিয়ে উপজেলা হাসপাতাল পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই উপজেলা পর্যায়ে পর্যাপ্ত ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগের পাশাপাশি ক্রমান্বয়ে ইউনিয়ন পর্যায়েও এ সেবা সম্প্রসারণ করা উচিত।

মন্তব্য করুন

গোবিপ্রবিতে ছাত্র গণমঞ্চ নেতার ওপর হামলার অভিযোগ, বিক্ষোভ

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) শাখা ছাত্র গণমঞ্চের সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক ও সহ-সভাপতি আনোয়ার জড়িত বলে দাবি করেছে ছাত্র গণমঞ্চ। তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শফিকুল ইসলাম শফিক।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিপুস ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ছাত্র গণমঞ্চ। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

সমাবেশে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার, যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র, আহত সদস্যসচিব নাফিস আহমাদ শাওনসহ সংগঠনটির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ছাত্র গণমঞ্চের দাবি, সোমবার শহীদ তিতুমীর হলে সিট বণ্টনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রসায়ন বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে শাওন তাদের থামাতে এগিয়ে যান। একই সঙ্গে হলের আসবাবপত্র বা অন্য কোনো জিনিস যাতে ভাঙচুর না হয়, সে বিষয়েও তিনি বাধা দেন। তখন রাজনৈতিকভাবে ট্যাগিং করে শফিকুল ইসলাম শফিক ও আনোয়ারের নেতৃত্বে তার ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, হামলায় শাওন গুরুতর আহত হন। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার ডান হাতের কবজিতে ফাটল শনাক্ত করেন।

সমাবেশে ছাত্র গণমঞ্চের যুগ্ম আহ্বায়ক নিঘাত রৌদ্র বলেন, ‘এই প্রশাসন হলো জমিদার, হামলাকারীরা জমিদারের পেয়াদার পেয়াদা আর সাধারণ শিক্ষার্থীরা হলো প্রজা। এই হামলাকারীদের কারওই ছাত্রত্ব নেই। তারা সবসময় সরকারি দল ও প্রশাসনের মদদে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালায়। প্রত্যেকটি মারামারির ঘটনায় তাদের সামনের সারিতে পাওয়া যায়, অথচ তাদের বিচার কখনোই হয় না। এবার প্রশাসন তাদের বিচার না করলে আমরা প্রশাসনের বিচার করব।’

আহত নাফিস আহমাদ শাওন বলেন, ‘আমি বলছি না, আমি তদন্ত চাই; আমি বলছি, তদন্ত করতে হবে এবং সর্বোচ্চ দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচার কার্যকর করতে হবে। আমরা আর প্রশাসনকে সন্ত্রাস পুষে বড় করতে দেব না।’

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক। তিনি বলেন, ‘কাউকে গিয়ে মারা হয়নি এবং শাওনের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের দেখাও হয়নি। এমনকি ঘটনাস্থলে শাওন ছিল কি না, তাও জানি না। এই ধরনের অভিযোগ কেন এবং কী কারণে দেওয়া হয়েছে, বিষয়টি আমি বলতে পারি না।’

শফিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘বরং আমি নিজেই হাসপাতালে শাওনকে দেখতে গিয়েছিলাম এবং তার হাতে আঘাত লেগে ফাটল ধরেছে, তা প্রত্যক্ষ করেছি। শাওনের ওপর আমি হামলা করিনি। আর তার ওপর কে হামলা করেছে, তাও জানি না।’

সমাবেশ শেষে ছাত্র গণমঞ্চের আহ্বায়ক শান্ত শাহরিয়ার জানান, হামলার ঘটনায় বিচার দাবিতে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে হামলার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

মন্তব্য করুন
×