‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার অভিযোগে মাসখানেকেও সার্টিফিকেট পাননি কুবির শিক্ষার্থী

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) মার্কেটিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী শিক্ষকের মেসেজে ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেওয়ার ঘটনায় প্রায় এক মাস ধরে চেষ্টা করেও তাঁর বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে পারছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। সার্টিফিকেট নিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও সমাধান না পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান মার্কেটিং বিভাগের এমবিএ ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তাঁর অভিযোগ, ইন্টার্নশিপের ফলাফল নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসেজ দেওয়ার পর শিক্ষক তাঁকে একটি পাল্টা মেসেজ দেন। ওই মেসেজে তিনি ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’ দেন। পরে তাঁর এ আচরণকে শিক্ষকের প্রতি অসম্মানজনক হিসেবে উল্লেখ করে অভিযোগ করা হয়।

জানা গেছে, গত ২৫ আগস্ট মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারের স্বাক্ষরিত একটি অভিযোগ রেজিস্ট্রার দপ্তরে জমা দেওয়া হয়। এতে শিক্ষকের মেসেজে শিক্ষার্থীর দেওয়া ‘হা হা রিঅ্যাক্ট’কে অসম্মানজনক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, শিক্ষার্থীর এমন আচরণকে তিনি শিষ্টাচারবহির্ভূত মনে করেছেন। বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় বিভাগীয় চেয়ারম্যানের মাধ্যমে রেজিস্ট্রার দপ্তরে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

মুজিবুর রহমানের গত ১৩ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রারের কাছে দেওয়া লিখিত আবেদন থেকে জানা যায়, ৩১ আগস্ট ও ৩ সেপ্টেম্বর তিনি বিবিএ ও এমবিএর সার্টিফিকেট উত্তোলনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে যান। তবে বিভাগীয় প্রধান তাঁর আবেদনে স্বাক্ষর করেননি। তাঁকে জানানো হয়, তাঁর নামে একটি অভিযোগ থাকায় রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে সার্টিফিকেট উত্তোলনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

আবেদনে মুজিবুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, অভিযোগটি কী বিষয়ে এবং কেন তাঁকে সার্টিফিকেট উত্তোলন করতে দেওয়া হচ্ছে না—এ বিষয়ে লিখিত কারণ জানতে চাইলেও তাঁকে কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে করা অভিযোগ বা এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কেও কোনো লিখিত নোটিশ দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

এদিকে, সার্টিফিকেট আটকে রাখার বিষয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর মার্কেটিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মেহের নিগারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব দেওয়ার পর তা যাচাই-বাছাইয়ের জন্য গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. মো. এমদাদুল হককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও নির্ধারিত সময়ে তা জমা হয়নি। কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. এমদাদুল হক বলেন, “আমরা কমিটির সময় কিছু বাড়িয়ে নিয়েছিলাম। কারণ অনেকগুলো স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হচ্ছে। তবে কমিটির কাজ প্রায় শেষের দিকে। আগামী সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে পারব।”

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুজিবুর রহমান বলেন, “আমার সার্টিফিকেটটা খুবই প্রয়োজন ছিল। আমার মাস্টার্সের পরীক্ষা শেষ, রেজাল্ট হয়ে গেছে, সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে গেছে। তাই আমি বিবিএ ও এমবিএ—দুইটা সার্টিফিকেটই তুলতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তাঁরা আমার একটা সার্টিফিকেটও দেননি, একটা সার্টিফিকেটও সাইন করেননি।”

তিনি আরও বলেন, “এ কারণে আমার অনেকগুলো সার্কুলার মিস হয়েছে। আমি কোথাও আবেদন করতে পারছি না। এমনকি বিবিএর সার্টিফিকেটটাও পাইনি। এটার জন্য আমি প্রায় এক মাস কুমিল্লায় ছিলাম। রেজিস্ট্রারের কাছে বারবার গেছি, দপ্তর থেকে দপ্তরে গেছি, বিভাগেও কয়েকবার গেছি। এমনকি উপ-উপাচার্য স্যারের সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা বলেছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান পাইনি।”

সার্টিফিকেট আটকে রাখার কারণ ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁকে কিছু জানানো হয়নি দাবি করে মুজিবুর রহমান বলেন, “এখন এক মাস শেষ হয়েছে। আসলে আমি এখনও জানি না, এর প্রক্রিয়া কতটুকু। কেন সার্টিফিকেট আটকানো হলো বা আমি সার্টিফিকেটটা কবে পাব—তাঁরা আমাকে কিছুই জানায়নি। আমি আসলে কিছুই জানি না।”

অভিযোগকারী শিক্ষক সহকারী অধ্যাপক মাশিয়াত যাহিন বলেন, “এ সম্পর্কে তো আমি কিছুই জানি না। কারণ আমিও জানি না এটা কী হচ্ছে। আমি যতটুকু শুনেছি, তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারপর কী হচ্ছে না হচ্ছে, আমি একেবারে অবগত না। আমাকে কেউ ইভেন ডাকেও নাই, কিছু জিজ্ঞাসা করে নাই।”

বিষয়টি নিয়ে মার্কেটিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহের নিগার বলেন, “সার্টিফিকেট প্রদান বা বিভাগীয় ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার বিষয়ে রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, “সার্টিফিকেট কেন আটকে রাখছে, বিভাগীয় প্রধানকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী এখন যেকোনো সময় সার্টিফিকেট নিতে পারবে।”

মন্তব্য করুন

বালতি সরানো নিয়ে বিরোধ, যবিপ্রবি শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ফাটানোর অভিযোগ

গোসলের বালতি সরানোকে কেন্দ্র করে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এতে ফার্মেসি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জুয়েল আল ইমরানের কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী হলেন ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের তানভীর হক। ঘটনার সময় ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী রাজিন মাহমুদ খান কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও হলের প্রভোস্ট বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী জুয়েল আল ইমরান।

কী ঘটেছিল

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, শুক্রবার দুপুরে গোসল করতে ওয়াশরুমে গিয়ে একটি বালতি দেখতে পান তিনি। বালতিটি বাইরে রেখে গোসল করতে থাকেন। এ সময় তানভীর হক ওয়াশরুমের দরজায় বারবার টোকা দেন। পরে বের হলে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।

জুয়েলের অভিযোগ, এরপর তানভীর তাঁর রুমে গিয়ে তাঁকে হুমকি দেন। পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য বিকেলে তাঁকে ক্যাম্পাসের একটি চায়ের দোকানে ডাকা হয়। সেখানে তানভীর, কাব্য ও অস্কার উপস্থিত ছিলেন।

জুয়েলের দাবি, সেখানে কথা বলার একপর্যায়ে তানভীর হঠাৎ তাঁর কানে থাপ্পড় মারেন এবং বুকে লাথি দেন। এতে তিনি টেবিল থেকে পড়ে যান। এরপর কী হয়েছে, তা তাঁর মনে নেই। পরে বন্ধুরা তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান।

কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত

যবিপ্রবির চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. দীপক কুমার মণ্ডল জানান, শিক্ষার্থীর কানের পর্দা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং কানে রক্ত জমে আছে। দ্রুত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞের মাধ্যমে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন বলে তিনি সুপারিশ করেছেন।

পরীক্ষা সম্পন্ন হলে কানের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলেও জানান তিনি।

অভিযুক্তের বক্তব্য

অভিযুক্ত তানভীর হক বলেন, গোসলের সময় ওয়াশরুম থেকে তাঁর কাপড়ভর্তি বালতি বাইরে রেখে জুয়েল গোসল করতে যান। দরজায় নক করে বিষয়টি জানতে চাইলে জুয়েল তাঁর সঙ্গে উগ্র আচরণ করেন।

পরে বিষয়টি সমাধানের জন্য জুমার নামাজের পর ক্যাম্পাসের বাইরে আমতলায় দুজনের বন্ধুরা মিলে বসেন। তাঁর দাবি, কথা বলার একপর্যায়ে জুয়েল ও তাঁর বন্ধুরা তাঁর প্রতি মারমুখী আচরণ করেন। ধাক্কাধাক্কির মধ্যে তিনি জুয়েলকে একটি থাপ্পড় দেন।

তানভীর বলেন, বিষয়টি গুরুতর মনে হওয়ায় পরে জুয়েলকে সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে তাঁর কানে গুরুতর সমস্যা হয়েছে বলে তিনি শনিবার সকালে জানতে পারেন।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে উল্লেখ করা রাজিন মাহমুদ খান কাব্য বলেন, বিষয়টি সমাধানের জন্য সবাই একসঙ্গে বসেছিলেন। সেখানে কথা বলার সময় তানভীর জুয়েলকে কানে থাপ্পড় মারেন। পরে তাঁরা জুয়েলকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

শহীদ মশিয়ূর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মো. মজনুজ্জামান বলেন, সকালে চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন তিনি। ভুক্তভোগীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, হলের বাইরে আমতলায় বিষয়টি সমাধানের সময় তানভীর জুয়েলের বাম কানে থাপ্পড় দেন। এতে তাঁর শ্রবণ সমস্যা হয়েছে।

তিনি বলেন, পুরো ঘটনা লিখিতভাবে প্রক্টর অফিসে জমা দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. হামিদুর রহমান বলেন, চিফ মেডিকেল অফিসারের মাধ্যমে সকালে বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও জানান, আহত শিক্ষার্থীকে নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের কাছে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের পাশে থাকবে।

মন্তব্য করুন

রাবিতে চালু হলো ‘পেপারলেস এক্সাম’, পরীক্ষা শেষে মিলছে ফল

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কাগজনির্ভর প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির বাইরে গিয়ে চালু হয়েছে ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’। এ ব্যবস্থায় খাতা-কলম ও প্রশ্নপত্র ছাড়াই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরীক্ষা দিচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পাওয়া যাচ্ছে ফলাফল। দেশের প্রথম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রাবিতে এ ধরনের পরীক্ষা পদ্ধতি চালু হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

প্রাথমিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগে এ পদ্ধতির ব্যবহার শুরু হয়েছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভাগের তৃতীয় বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা নতুন এ ব্যবস্থায় টিউটোরিয়াল পরীক্ষায় অংশ নেন। পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও ‘পেপারলেস এক্সাম সিস্টেম’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেন্টারের পরিচালক ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীরের তত্ত্বাবধানে সিস্টেমটি তৈরি করেছেন আইসিই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সামিউল বাসির।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এ সিস্টেমে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রশাসনের জন্য পৃথক সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। শিক্ষার্থীরা অনলাইনে এমসিকিউ ও শর্ট কোয়েশ্চনের উত্তর দিতে পারবেন। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরই তারা ফলাফল দেখতে পারবেন। একই সঙ্গে কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে, সঠিক উত্তর কী এবং তার ব্যাখ্যাও জানার সুযোগ রয়েছে।

সিস্টেমটিতে রয়েছে সমৃদ্ধ প্রশ্নব্যাংক। এর মাধ্যমে শিক্ষকরা সহজেই প্রশ্ন তৈরি করতে এবং একাধিক পরীক্ষা পরিচালনা করতে পারবেন। স্বয়ংক্রিয় মূল্যায়নের কারণে খাতা দেখার সময় কমার পাশাপাশি দ্রুত ফলাফল প্রকাশ, মূল্যায়নে নির্ভুলতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া প্রশাসনের জন্য পরীক্ষার সার্বিক নজরদারি, ফলাফল সংরক্ষণ এবং বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন তৈরির সুবিধা রয়েছে। ফলে কাগজের ব্যবহার ও সময়ের অপচয় কমার পাশাপাশি প্রশাসনিক জটিলতাও কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও দ্রুত, সুশৃঙ্খল ও পরিবেশবান্ধব করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কাগজবিহীন পরীক্ষায় অংশ নেওয়া আইসিই বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহামুদুল হাসান শান্ত বলেন, নতুন এ পরীক্ষা পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানের অভিজ্ঞতা দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরীক্ষা শুরু ও শেষ হওয়া এবং পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার বিষয়টি তার কাছে আকর্ষণীয় লেগেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই এ ব্যবস্থার মাধ্যমে উপকৃত হবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

একই বর্ষের শিক্ষার্থী মনীষা আফরিন তিন্নি বলেন, ‘ই-এক্সাম’ তাদের জন্য সহায়ক ও কার্যকর একটি ব্যবস্থা। পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল পাওয়ার পাশাপাশি কোন প্রশ্নের উত্তর ভুল হয়েছে এবং সঠিক উত্তর কী, সেটিও জানা যাচ্ছে। এতে নিজেদের ভুল বুঝে তা সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। কাগজ ছাড়া পরীক্ষা পদ্ধতিটি সহজ ও সময়সাশ্রয়ী বলেও জানান তিনি।

সিস্টেমটির তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাসনাত কবীর বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রচলিত কাগজনির্ভর পরীক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও কার্যকর পদ্ধতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়। এ ব্যবস্থার প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো কাগজবিহীন পরীক্ষা গ্রহণ, দ্রুত ফলাফল প্রক্রিয়াকরণ, পরীক্ষা শেষে তাৎক্ষণিক ফলাফল প্রদর্শন এবং মূল্যায়নে নির্ভুলতা বৃদ্ধি।

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে আইসিই বিভাগে পদ্ধতিটি চালু করা হয়েছে। এর কার্যকারিতা ও সফলতা বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য বিভাগেও এটি চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশের যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল-কলেজ বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চাইলে এ সিস্টেম ব্যবহার করে পরীক্ষা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে সিস্টেমটির নির্মাতারা প্রয়োজনীয় কারিগরি সহযোগিতা দেবেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কমাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন কার্যক্রম অটোমেশনের আওতায় আনছে। এরই ধারাবাহিকতায় পরীক্ষা পদ্ধতিকে আরও স্বচ্ছ ও শিক্ষার্থীদের ভোগান্তিমুক্ত করতে পেপারলেস পরীক্ষা চালু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বিভাগকেও এ ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ পদ্ধতির অন্যতম বড় সুবিধা হলো শিক্ষার্থীদের কম্পিউটার ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন করে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। এটি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর একটি শিক্ষা।

মন্তব্য করুন

চুয়েটের অচলাবস্থা কাটাতে সমন্বিত উদ্যোগ, দ্রুত একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর আশা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাম্প্রতিক প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটিয়ে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষক প্রতিনিধি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও চুয়েট এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সমন্বিত উদ্যোগে সংকট নিরসনে ইতিবাচক অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর)  উপাচার্য বলেন, প্রশাসনিক ও একাডেমিক সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের অংশীজনদের সঙ্গে দফায় দফায় আলোচনা চলছে। ইতোমধ্যে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ তাঁর সঙ্গে প্রশাসনিক যোগাযোগ স্থাপন করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও দাপ্তরিক জটিলতা নিরসনে বিভিন্ন গঠনমূলক মতামত ও প্রস্তাব দিচ্ছেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গত ২১ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টায় তিনি অনলাইনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসকে অস্থায়ী প্রশাসনিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে নিয়মিত দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

তিনি বলেন, ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ চলছে। পাশাপাশি স্থানীয় সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

চুয়েটের দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটাতে এগিয়ে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনও। শিক্ষার পরিবেশ রক্ষা এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সংগঠনটি শিক্ষক সমিতির সঙ্গে আলোচনা ও মধ্যস্থতার উদ্যোগ নিয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম বলেন, চুয়েটকে একটি পরিবারের মতো বিবেচনা করে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে একটি স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। উপাচার্য, শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও বলেন, চলমান উদ্যোগ সফল হলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চুয়েটে স্থবির হয়ে পড়া একাডেমিক কার্যক্রম ও পাঠদান পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে।

এদিকে, চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থী ও এলামনাই সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, শিক্ষার পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও একাডেমিক কার্যক্রমের উপযোগী রাখতে তাঁরা সবসময় কাজ করে আসছেন। নতুন উপাচার্য নিয়োগের পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে শান্ত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

 ইঞ্জিনিয়ার মেসবাহ বলেন, ‘পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে উদ্ভূত সমস্যার একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য সমাধানে পৌঁছানোর কথাও বলেছি। তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষকরা আমাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় বসেননি।’

তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে দ্রুত আলোচনা শুরু হলে সমস্যার সমাধান হবে এবং চুয়েটের শিক্ষার পরিবেশ আবারও স্বাভাবিক, সুশৃঙ্খল ও একাডেমিকভাবে অনুকূল হয়ে উঠবে।

মন্তব্য করুন

জবির দ্বিতীয় সমাবর্তনের ফি নিয়ে ক্ষোভ, প্রফেশনালদের অন্তর্ভুক্তিতেও আপত্তি

 

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ফি বাড়ানো এবং নিয়মিত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তারা।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিতীয় সমাবর্তনের নিবন্ধন ফি ও সময়সীমা জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, স্নাতক (সম্মান) ও বিবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৫ হাজার এবং মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে তাদের দিতে হবে ৫ হাজার ৫০০ টাকা। স্নাতকোত্তর ও এমবিএ ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ও মূল সনদ ফি ৫০০ টাকা; মোট ৬ হাজার ৫০০ টাকা।

এমফিল ও পিএইচডি ডিগ্রিধারীদের নিবন্ধন ফি ৬ হাজার ৫০০ এবং মূল সনদ ফি ১ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ক্যাটাগরিতে মোট ফি ৭ হাজার ৫০০ টাকা। অন্যদিকে স্নাতকোত্তর প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন ফি ৮ হাজার ও মূল সনদ ফি ৮০০ টাকা; সব মিলিয়ে তাদের দিতে হবে ৮ হাজার ৮০০ টাকা। এর বাইরে ক্ষেত্রবিশেষে অতিরিক্ত সার্ভিস চার্জও প্রযোজ্য হবে।

প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় বেড়েছে ফি

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনের তুলনায় এবার প্রায় প্রতিটি ক্যাটাগরিতেই নিবন্ধন ফি ২ হাজার টাকা এবং মূল সনদ ফি ১০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম সমাবর্তনে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের নিবন্ধন ফি ছিল যথাক্রমে ৩ হাজার ও ৪ হাজার টাকা। মূল সনদ ফি ছিল ৪০০ টাকা। তখন সার্ভিস চার্জ ছিল ১ শতাংশ।

শিক্ষার্থীদের দাবি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩তম সমাবর্তনে ব্যাংক চার্জসহ মূল সনদ ও নিবন্ধন বাবদ মোট ৩ হাজার ৩২০ টাকা নেওয়া হয়েছিল। সে তুলনায় জবির নির্ধারিত ফি প্রায় দ্বিগুণ। ফলে অতিরিক্ত এই ফি নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করবে বলে মনে করছেন তারা।

প্রফেশনাল শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তি নিয়েও আপত্তি

ফি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ রয়েছে শিক্ষার্থীদের মধ্যে।

জবির এক শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের একই সমাবর্তনে অন্তর্ভুক্ত করা সমাবর্তনের মর্যাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

আরেক শিক্ষার্থী ইব্রাহিম ব্যঙ্গ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘মনে হচ্ছে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় সমাবর্তনের খরচ এবার বেশি। সমাবর্তনের টুপির জাহাজ আটকে গেছে, তাই টাকা বেশি লাগবে।’

ফি কমানোর সুযোগ নেই: রেজিস্ট্রার

এ বিষয়ে জবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. শেখ গিয়াস উদ্দিন বলেন, মুদ্রাস্ফীতি ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সেন্ট্রাল কমিটি ও একাডেমিক কাউন্সিলের মাধ্যমে ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। সেন্ট্রাল কমিটির অনুমোদিত সিদ্ধান্ত হওয়ায় বর্তমানে ফি পুনর্বিবেচনা বা কমানোর সুযোগ নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দিন বলেন, ছয় বছর আগের তুলনায় বর্তমানে সবকিছুর দাম ও সমাবর্তন আয়োজনের ব্যয় অনেক বেড়েছে। একাডেমিক কাউন্সিল, সিন্ডিকেট, ডিন ও চেয়ারম্যানদের পর্যালোচনার ভিত্তিতেই ২ হাজার টাকা ফি বাড়ানো হয়েছে। এটি একক কোনো সিদ্ধান্ত নয়।

প্রফেশনাল ও সান্ধ্যকালীন প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সমাবর্তনেও এসব প্রোগ্রামের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছিলেন। এবার তাদের বাদ দিলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হতে পারত। সে ধারাবাহিকতা বজায় রাখতেই তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সমাবর্তন আগামী বছরের ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন দুই বিষয়ে ভর্তি, থাকছে ৪০টি করে আসন

নতুন দুটি বিষয়ে স্নাতক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি নেওয়া হবে। প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।

বিষয়টি দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী।

জানা গেছে, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠার পর হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির মধ্য দিয়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়। এবার এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও দুটি বিষয়। নতুন বিষয়গুলোর পাঠদান পরিচালনার জন্য অ্যাকাডেমিক ভবন প্রস্তুতের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিষয়ে ৪০ জন করে শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। নতুন চালু হতে যাওয়া ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ টিচিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়েও ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন।’

তিনি বলেন, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও শিক্ষাবান্ধব বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

আধুনিক সুবিধা যুক্ত হচ্ছে ক্যাম্পাসে

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন শহরের বাইপাস সড়কসংলগ্ন বরুনকান্দি এলাকায় হওয়ায় শিক্ষার্থীরা শহরের যানজট ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পাঠগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বর্তমানে ভাড়া করা ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে কম্পিউটার ল্যাব, ওয়াই-ফাই, সাধারণ লাইব্রেরি ও ডিজিটাল লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ২৪ ঘণ্টা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রয়েছে। পাশাপাশি ডাক বিভাগের কার্যক্রমও চালু করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কার্যক্রমও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় পুরো দেশের সম্পদ’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহা. হাছনাত আলী বলেন, ‘নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় শুধু নওগাঁর  নয়, এটি পুরো দেশের সম্পদ। নওগাঁর সংসদ সদস্য, সুধীজন ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।তিনি আরও বলেন, উত্তরের খাদ্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে নওগাঁকে দেশ-বিদেশে নতুনভাবে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন
×