বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস হতে চললেও এখনো ফল প্রকাশ করা হয়নি। বদলির অপেক্ষায় থাকা কয়েক হাজার শিক্ষক এ নিয়ে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তবে ফল প্রকাশে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
শিক্ষকদের হতাশার বিষয়টি নিয়ে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেলের সঙ্গে কথা বলেছে । তবে বদলির ফল প্রকাশের বিষয়ে তিনি কোনো সুখবর দিতে পারেননি।
মাউশি মহাপরিচালক বলেন, “বদলির ফল প্রকাশ করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন দরকার। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বদলির ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে না।”
মন্ত্রণালয় ও মাউশির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, বদলির ফল প্রকাশে বিলম্বের পেছনে একাধিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে বদলির আবেদনকারীদের আবেদন সম্পাদনার (এডিট) সুযোগ চালু, আবেদন বাতিলের সুযোগ দেওয়ার দাবি এবং আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অন্যতম। তবে শিক্ষকদের ঢাকামুখী হওয়ার প্রবণতাই সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, বদলির জন্য আবেদন করা অনেক শিক্ষক ঢাকায় আসতে আগ্রহী। তাদের অনেকে স্বামী বা স্ত্রীর (স্পাউজ) কর্মস্থল ঢাকায় দেখিয়ে বদলির আবেদন করেছেন। বিপুলসংখ্যক শিক্ষক ঢাকায় চলে এলে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ছাড়া ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় স্থানীয় সরকার নির্বাচনও বদলি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পাচ্ছে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গে এমপিওভুক্ত অনেক শিক্ষক যুক্ত থাকেন। এ সময়ে তাদের বদলি করা হলে নির্বাচনী কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
এ কারণে আপাতত বদলির ফল প্রকাশে মন্ত্রণালয় আগ্রহী নয় বলে জানিয়েছে সূত্র। শিক্ষকদের আবেদন বাতিলের সুযোগ বা আবেদন সম্পাদনার (এডিট) অপশন চালু করতে বিলম্বের মাধ্যমেও ফল প্রকাশের প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, “শিক্ষকদের বদলির ফল প্রকাশ না করার পেছনে একেক সময় একেক কারণ দেখানো হচ্ছে। এসব সমস্যা দ্রুতই সমাধান করা সম্ভব। তবে কেন করা হচ্ছে না, সেটি আসলে বোধগম্য নয়।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, “বদলি না হওয়ার কারণে শিক্ষকরা কষ্টে রয়েছেন। প্রতিনিয়ত অনেক শিক্ষক ফোন করে তাদের কষ্টের কথা আমাদের জানান। আমরাও চাই দ্রুত বদলির ফল প্রকাশিত হোক। এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী ভালো বলতে পারবেন।”
এদিকে বদলির বিষয়ে জানতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে যোগাযোগ করা হলেও জাতীয় সংসদে সভায় থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি সভায় রয়েছেন বলে জানানো হয়।
ফলে আবেদন শেষ হওয়ার প্রায় এক মাস পরও বদলির ফল প্রকাশ নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন আবেদনকারী শিক্ষকরা। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের দিকে তাকিয়ে আছেন তারা।