ফাতেহা-ই ইয়াজদাহমের ছুটির তারিখ পরিবর্তন

পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটির তারিখ পরিবর্তন করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি থাকবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের গত ২০ মে ২০২৬ তারিখে জারি করা প্রজ্ঞাপন আংশিক সংশোধন করা হয়েছে। সংশোধিত ছুটির তালিকায় পবিত্র ফাতেহা-ই ইয়াজদাহমের তারিখ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর ফলে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ছুটির তালিকায় ফাতেহা-ই ইয়াজদাহম উপলক্ষ্যে পূর্বনির্ধারিত তারিখের পরিবর্তে ২৩ সেপ্টেম্বর ছুটি কার্যকর হবে।

মন্তব্য করুন

মাধ্যমিকের সব শিক্ষকের জন্য সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ, শেষ সময় ৩০ সেপ্টেম্বর

মাধ্যমিক পর্যায়ের সব শিক্ষককে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে অনলাইন প্রশিক্ষণ কোর্স সম্পন্ন করে সনদ সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় এ প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে অনলাইনে নির্ধারিত কোর্সটি সম্পন্ন করে সনদ ডাউনলোড করতে হবে শিক্ষকদের।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) মাউশির এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তায় অনলাইন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কোর্সটি চালু করা হয়েছে। কোর্সে অংশ নিতে শিক্ষকরা নিজেদের পিডিএস আইডি ব্যবহার করে লগইন বা রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত সব শিক্ষককে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কোর্সটি সম্পন্ন করে অনলাইন থেকে সার্টিফিকেট ডাউনলোড করতে বলা হয়েছে।

থাকছে ৬টি মডিউল

মাউশির নির্দেশনা অনুযায়ী, অনলাইন ইন্টার‌্যাকটিভ কোর্সটিতে মোট ছয়টি মডিউল রয়েছে। এর মধ্যে ষষ্ঠ মডিউলে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে একটি বাস্তব শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শিক্ষকরা ওই কার্যক্রম সম্পন্ন করার পর এর ছবি বা ভিডিও নির্ধারিত লিংকে শেয়ার করবেন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা অনলাইন প্ল্যাটফর্মেই দেওয়া রয়েছে।

ছয়টি মডিউল ও নির্ধারিত শ্রেণি কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করলে শিক্ষকরা মাউশি ও জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমির (নায়েম) মহাপরিচালকের স্বাক্ষরযুক্ত সনদ অনলাইন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।

প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সহায়তার নির্দেশ

প্রশিক্ষণটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শিক্ষককে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মাউশি জানিয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা ব্যবহারে সচেতনতা ও সক্ষমতা বাড়াতেও এ প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

মন্তব্য করুন

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিও শিক্ষকদের কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ

অবসর সুবিধা না পাওয়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ড। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষক-কর্মচারীদের এ জন্য সশরীরে বোর্ডে আসার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

একই সঙ্গে অবসর সুবিধার অর্থ পাইয়ে দেওয়ার নামে প্রতারক চক্রের খপ্পরে না পড়তে শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করেছে বোর্ড।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের পরিচালক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১৫ আগস্ট থেকে পাঠানো অবসর সুবিধা ভাতার আবেদনকারীদের মধ্যে যারা এখনো ভাতা পাননি, শুধু তাদেরই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠাতে হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের সশরীরে বোর্ডে উপস্থিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। ডাকযোগে, কুরিয়ার সার্ভিস অথবা ই-মেইলের মাধ্যমে এসব কাগজপত্র পাঠানো যাবে।

আবেদনকারীদের আবেদনের রিসিটের কপি, জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপি, এনআইডি দিয়ে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর এবং হালনাগাদ ব্যাংক স্টেটমেন্ট পাঠাতে বলা হয়েছে।

ডাকযোগে বা কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কাগজপত্র পাঠাতে হবে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী অবসর সুবিধা বোর্ডের ঠিকানায়। পাশাপাশি শাখাভিত্তিক ই-মেইলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো যাবে। স্কুল শাখার জন্য school.terbb@gmail.com, কলেজ ও কারিগরি শাখার জন্য college.terbb@gmail.com এবং মাদ্রাসা শাখার জন্য madrasha.terbb@gmail.com ঠিকানায় কাগজপত্র পাঠাতে বলা হয়েছে।

প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ

বিজ্ঞপ্তিতে অবসর সুবিধাপ্রত্যাশী শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রতারক চক্রের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। এতে বলা হয়, নির্ধারিত ব্যাংক হিসাবে আইবাস++ অথবা ইএফটির মাধ্যমে অবসর সুবিধার অর্থ পৌঁছে যাবে। তাই এ বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনো ধরনের আর্থিক লেনদেন না করতে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সতর্ক করা হয়েছে।

এ ছাড়া অবসর সুবিধা বোর্ডের ওয়েবসাইটে অবসর সুবিধা সংক্রান্ত বিভিন্ন নোটিশ এবং অনলাইন আবেদনসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের বোর্ডের নির্ধারিত মাধ্যম থেকে এসব তথ্য যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের শিক্ষকদের জন্য মাস্টার ট্রেইনার পুল গঠন করবে মাউশি

৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনের প্রশিক্ষণ, আবেদন ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত

 

 

মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৫৪ হাজার শিক্ষককে ৪২ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্পের আওতায় বাংলা, ইংরেজি, গণিত ও বিজ্ঞান বিষয়ের ৫৩ হাজার ৭৬০ জন শিক্ষক এ প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন।

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল গঠন করা হবে। এ লক্ষ্যে যোগ্য ও আগ্রহী শিক্ষকদের অনলাইনে আবেদনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মাউশি জানায়, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের আওতায় মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি শিক্ষকদের বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

গঠন হবে মাস্টার ট্রেইনার পুল

প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক মাস্টার ট্রেইনারদের একটি পুল প্রস্তুত করা হবে। এ জন্য মাউশির মহাপরিচালক একটি প্রশিক্ষক নির্বাচন নীতিমালা অনুমোদন করেছেন।

অনুমোদিত নীতিমালা অনুযায়ী, পেশাগত মানদণ্ডের ভিত্তিতে অনলাইনে আবেদনকারীদের মধ্য থেকে মাস্টার ট্রেইনার নির্বাচন করা হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা কর্তৃপক্ষের অগ্রায়ণপত্র দাখিল করতে হবে। ওই পত্রে আবেদনকারীকে মাস্টার ট্রেইনার প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার অনুমতি এবং প্রশিক্ষণ শেষে সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অনুষ্ঠেয় প্রশিক্ষণে ক্লাস নেওয়ার জন্য অনাপত্তি দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ থাকতে হবে।

এ ছাড়া প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রশিক্ষক হিসেবে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ গ্রহণের সনদপত্র বা অফিস আদেশসহ প্রয়োজনীয় প্রমাণক জমা দিতে হবে।

আবেদনের সময় বাড়ল

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাস্টার ট্রেইনার হিসেবে আবেদনের পূর্বনির্ধারিত শেষ সময় ছিল ১৫ সেপ্টেম্বর। শিক্ষকদের অধিকতর অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে ২৬ সেপ্টেম্বর করা হয়েছে।

আগ্রহী ও যোগ্য শিক্ষকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত লিংকে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।

মন্তব্য করুন

প্রধান-সহকারী প্রধান নিয়োগে থাকছে না কমিটির কর্তৃত্ব; এনটিআরসিএর সুপারিশে শিক্ষক নিয়োগে ক্ষমতা বহাল

ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কমছে, সভাপতি পদে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির ক্ষমতার কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষমতা কমিটির হাতে না রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক সুপারিশকৃত শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক-কর্মচারীদের পদোন্নতির ক্ষমতা বহাল রাখা হচ্ছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাপক্ষে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি গঠন সংক্রান্ত প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা নিয়ে আলোচনা হয়। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের অনুমোদনের পর এটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রস্তাবিত বিধান অনুযায়ী, গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটি সরকারের সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিধি অনুসরণ করে কর্মচারী নিয়োগ করতে পারবে। পাশাপাশি এনটিআরসিএর সুপারিশকৃত বা প্রত্যয়নকৃত নতুন শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে শিক্ষক ও কর্মচারীদের পদোন্নতি দেওয়ার ক্ষমতাও কমিটির হাতে থাকবে।

তবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো ম্যানেজিং কমিটির কর্তৃত্ব থাকছে না। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রবিধানমালায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান, সহকারী প্রধান ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকলেও প্রস্তাবিত নতুন প্রবিধানমালায় সেই কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

সভাপতি মনোনয়নে ফিরছে জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ

কমিটির ক্ষমতা কমানোর পাশাপাশি সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। নতুন প্রস্তাবনায় স্থানীয় পর্যায়ের জনপ্রতিনিধিদের ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার সুযোগ রাখা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে, সভাপতি মনোনয়নের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান, ক্ষেত্রমত বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সরকারি, আধা-সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি এবং স্থানীয় খ্যাতিমান সমাজসেবকদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম ও পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হবে।

অর্থাৎ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পাশাপাশি অন্য যোগ্য ব্যক্তিদেরও সভাপতি হওয়ার সুযোগ থাকছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের তালিকায় অন্তর্ভুক্তির ফলে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সভাপতি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সংশোধিত প্রবিধানমালায় সভাপতি মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ রাখা হয়নি। তখন সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট গ্রেডের কর্মকর্তা, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বা সরকারি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং নির্দিষ্ট যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে তিনজনের নাম প্রস্তাবের বিধান করা হয়েছিল।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি বা গভর্নিং বডির সভাপতি পদে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তির অর্থ হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পুনরায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা। যদিও এ পদে অন্যদেরও সুযোগ রয়েছে; তবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধির নাম আসলে অন্যদের এ পদে বসার সুযোগ কম।’

প্রস্তাবিত প্রবিধানমালা চূড়ান্ত হলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কাঠামোয় একদিকে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রধান নিয়োগে ম্যানেজিং কমিটির ক্ষমতা কমবে, অন্যদিকে সভাপতি মনোনয়নে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে।

মন্তব্য করুন

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।

প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস।

একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি।

অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান।

👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

মন্তব্য করুন

ভুল চাহিদায় ১৯৫ শিক্ষক প্রতিস্থাপন, বিপাকে বদলিপ্রত্যাশীরা

৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশ পাওয়া ১৯৫ শিক্ষককে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে এসব পদে বদলির জন্য আবেদন করা শিক্ষকদের অনেকেই এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। বিষয়টি সমাধানে উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

এ বিষয়ে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের সঙ্গে কথা বলেছেন মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা জানিয়েছেন, প্রতিস্থাপনের কারণে যেসব পদে বদলির আবেদনকারীরা সমস্যায় পড়েছেন, তাদের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। টেলিটক ও মাউশির মধ্যে অনুষ্ঠেয় সভায় এ বিষয়ে সমাধানের পথ খোঁজা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা বলেন, ‘১৯৫টি পদের বিষয়ে আমরা অবগত। আমাদের পরিকল্পনা হলো—ভুক্তভোগী প্রার্থীদের নিজ উপজেলার অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে পদ শূন্য থাকলে সেখানে বদলির সুযোগ দেওয়া। উপজেলায় সুযোগ না থাকলে জেলায় এবং জেলা পর্যায়েও সুযোগ না থাকলে পাশের জেলায় বদলির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। সভায় আলোচনা করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ৬ষ্ঠ ও ৭ম গণবিজ্ঞপ্তিতে ভুল চাহিদায় সুপারিশপ্রাপ্ত ১৯৫ শিক্ষককে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করে বিজ্ঞপ্তি জারি করে এনটিআরসিএ।

এদিকে, ভুল চাহিদায় সুপারিশ পাওয়া শিক্ষকদের যেসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের পদে আগে থেকেই বদলির আবেদন করেছিলেন অনেক শিক্ষক। নতুন করে পদগুলো পূরণ হয়ে যাওয়ায় তাদের বদলি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী বদলিপ্রত্যাশীদের জন্য বিকল্প প্রতিষ্ঠানে বদলির সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে মাউশি।

মন্তব্য করুন
×