এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ৯৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স বিতরণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে লেভেল-৫, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্যাল বক্স ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যাবশ্যকীয় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির অ্যাগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের হাতে বক্স তুলে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "এই সার্জিক্যাল কিট বক্স গ্রহণের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বজুড়ে প্রাণিচিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে। এই অনুষদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুদৃষ্টি রয়েছে। আমরা ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছি। পাশাপাশি তোমাদের টিএ/ডিএ (TA/DA) দাবির প্রেক্ষিতেও একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় পাস হবে বলে আশা করছি। এটি পাস হলে তহবিলের অভাব দেখিয়ে কেউ আর তোমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।"

শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (যেমন- চাইনিজ বা জাপানিজ ভাষা) চালুর বিষয়ে কাজ করছি। এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী (লিডারশিপ) বিকাশ করা।"

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

রুয়েট ছাড়ার সিদ্ধান্ত আর্কিটেকচার শিক্ষার্থীর, সিনিয়র-জুনিয়র চেইন সিস্টেমের অভিযোগ

রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আর্কিটেকচার বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাইশা মোর্শেদ কথা বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি বিভাগের ‘সিনিয়র-জুনিয়র চেইন সিস্টেম’, মানসিক হয়রানি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অভিযোগ তুলেছেন।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে এসব অভিযোগের কথা জানান মাইশা। এর কিছুক্ষণ পর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার ইভেন্টও যোগ করেন তিনি।

মাইশা তার পোস্টে জানান, রুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগের একাডেমিক ও অন্যান্য কার্যক্রমের ধরন অন্যান্য বিভাগের তুলনায় অনেকটাই আলাদা। তার দাবি, সেখানে প্রায় সবকিছুই ‘চেইন সিস্টেম’ বা ‘আমলা-কামলা’ প্রথার অধীনে পরিচালিত হয়। তাকে যিনি এই চেইনে অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, পরবর্তী সময়ে সেই বিষয়টি নিয়েই তাকে বিভিন্ন কটূক্তি ও অপমানের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তার ভাষ্য, চেইনের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি কোনো ধরনের সহযোগিতা বা স্বাচ্ছন্দ্য পাননি; বরং প্রায়ই তাকে অবহেলা করা হতো। কাজের প্রয়োজনে চেইনের অন্য সদস্যদের বাসায় রাতে থাকার যে রেওয়াজ রয়েছে, সেটিও তার পরিবারের কাছে নিরাপদ ও গ্রহণযোগ্য ছিল না। এ বিষয়টি তার জন্য বড় ধরনের মানসিক চাপ তৈরি করেছিল বলে জানান তিনি।

মাইশার অভিযোগ, রুয়েট কাগজে-কলমে র‍্যাগিংমুক্ত হলেও কিছু সিনিয়রের অযাচিত আচরণ একাডেমিক কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। এ ছাড়া সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত টানা ক্লাস এবং ক্যাম্পাসে খাবারের পর্যাপ্ত সুযোগ না থাকায় তার শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয় বলে পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি।

একটি অনাকাঙ্ক্ষিত হয়রানির ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন মাইশা। তার দাবি, তিনি করেননি—এমন একটি বিষয়ের দায়ভার তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে তাকে মানসিকভাবে বিভ্রান্ত করা, খারাপ আচরণ করা এবং একপর্যায়ে বয়কটের চেষ্টা করা হয়। পুরো বিভাগে তাকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হলেও সে সময় তার সরাসরি সিনিয়রদের কাছ থেকেও কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বিভাগের এক সিনিয়রের মন্তব্যের বরাত দিয়ে মাইশা আরও বলেন, ওই সিনিয়রের মতে, আর্কিটেকচারে পড়ার সময় খাওয়া-দাওয়া কিংবা অসুস্থতার কথা বলা উচিত নয়। এমন মানসিকতা ও পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত নিজের মানসিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সুস্থতার কথা বিবেচনা করে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

পোস্টের শেষাংশে মাইশা বলেন, রুয়েটের প্রতি তার কোনো ক্ষোভ নেই। তবে নিজের মানসিক শান্তির জন্যই তাকে স্বপ্নের বিষয় আর্কিটেকচারকে বিদায় জানাতে হয়েছে।

এ বিষয়ে রুয়েটের আর্কিটেকচার বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক মো. সাব্বির আহসান বলেন, “এ বিষয়ে আমিও জেনেছি। কিন্তু কোনো শিক্ষার্থী আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগে এমন কোনো অভিযোগ করেননি বা ভর্তি বাতিলের বিষয়ে আবেদন করেননি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি দেখছে। যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মকানুন আছে। এর মধ্যে কেউ যদি অপরাধ করে থাকে, তার বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটা অবশ্যই গর্হিত কাজ—বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীকে এভাবে মানসিক চাপে রাখা।”

বিভাগীয় প্রধান জানান, বিষয়টি তদন্তের জন্য তারা সভার আয়োজন করেছেন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন
×