ওজন কমানোর চেষ্টা করতে গিয়ে অনেকেই ভাত-রুটি পুরোপুরি ছেড়ে দেন, খাবার কমিয়ে দেন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা কঠোর ডায়েট অনুসরণ শুরু করেন। এতে সাময়িকভাবে ওজন কমলেও শরীরে দেখা দিতে পারে পুষ্টির ঘাটতি ও পেশি ক্ষয়ের মতো নানা সমস্যা। তাই দ্রুত ওজন কমানোর চেয়ে স্বাস্থ্যকর ও দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা যায়—এমন জীবনযাপন গড়ে তোলাই গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ওজন কমানো কিংবা নিজেকে ফিট রাখার বিষয়টি নিয়ে কমবেশি সবাই সচেতন। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ অতিরিক্ত ওজনজনিত নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতেও অনেকে ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তবে সঠিক পদ্ধতি না মেনে দ্রুত ওজন কমানোর চেষ্টা উল্টো স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে। দ্রুত ওজন কমানো কি ভালো? স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ওজন কমানোর ক্ষেত্রে কোনো জাদুকরী শর্টকাট নেই। ধীরে ধীরে ওজন কমিয়ে তা ধরে রাখার চেষ্টা করাই তুলনামূলকভাবে কার্যকর। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) মতে, সপ্তাহে প্রায় ৩০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজন কমানো দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা সহজ হতে পারে। তবে ব্যক্তিভেদে ওজন কমার গতি ভিন্ন হতে পারে। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা, খাদ্যাভ্যাস ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয় এর সঙ্গে জড়িত। খুব দ্রুত ওজন কমানোর অন্যতম ঝুঁকি হলো পিত্তথলিতে পাথর বা গলস্টোন তৈরি হওয়া। হঠাৎ করে ক্যালরি গ্রহণ অনেক কমিয়ে দিলে শরীরে চর্বি ভাঙার প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, যা পিত্তথলিতে পাথর তৈরির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ওজন কমাতে ভাত-রুটি কি বাদ দিতে হবে? আমাদের দেশে ওজন কমানোর কথা উঠলেই অনেকের প্রথম লক্ষ্য হয় ভাত ও রুটি বাদ দেওয়া। কিন্তু ওজন কমানোর জন্য এসব খাবার পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কার্বোহাইড্রেট বা শর্করা শরীরের অন্যতম প্রধান শক্তির উৎস। শস্যজাতীয় খাবার, ডাল, শাকসবজি ও ফলমূল থেকে প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়। তাই খাবারের তালিকা থেকে একটি নির্দিষ্ট খাদ্যগোষ্ঠী পুরোপুরি বাদ দেওয়ার বদলে পরিমাণ ও সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাসের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ। থালাভর্তি ভাত খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত ভাতের সঙ্গে বেশি পরিমাণ শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন রাখা যেতে পারে। একইভাবে রুটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া যায়। ফল খেলেও কি ওজন বাড়ে? ফলে প্রাকৃতিক চিনি রয়েছে—এ কারণে অনেকেই ওজন কমানোর সময় ফল খাওয়া বন্ধ করে দেন। কিন্তু গোটা ফলে থাকা আঁশ, ভিটামিন ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের জন্য উপকারী। তবে গোটা ফল ও ফলের জুস এক নয়। জুসে সাধারণত আঁশের পরিমাণ কমে যায় এবং একসঙ্গে বেশি পরিমাণ চিনি গ্রহণ হয়ে যেতে পারে। তাই জুসের পরিবর্তে গোটা ফল খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। শুধু প্রোটিন খেলেই কি দ্রুত ওজন কমবে? ওজন কমানোর সময় পেশি ধরে রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ। ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, ছোলা ও অন্যান্য প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। তবে শাকসবজি, ফল ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাদ্য বাদ দিয়ে শুধু ডিম-মাংস খেলে দ্রুত ওজন কমবে—এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। শরীর সুস্থ রাখতে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ও খনিজসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য প্রয়োজন। প্রতিদিনের খাবারের প্লেট কেমন হবে? সবার বয়স, ওজন, কাজের ধরন ও শারীরিক অবস্থা এক নয়। তাই সবার জন্য একই খাদ্যতালিকা উপযুক্ত হতে পারে না। তবে সাধারণভাবে খাবারের প্লেটে রাখতে পারেন— মাছ, ডিম, মুরগির মাংস বা ডাল-ছোলার মতো প্রোটিন; বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি; পরিমিত ভাত, রুটি বা ওটস; প্রতিদিন অন্তত একটি গোটা ফল; কাঠবাদাম ও বিভিন্ন বীজের মতো স্বাস্থ্যকর ফ্যাট; পর্যাপ্ত পানি। খাবারে বৈচিত্র্য রাখা, পরিমিত পরিমাণে খাওয়া এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। দিনে ৮০০ ক্যালরির ডায়েট কি সবার জন্য? দ্রুত ওজন কমানোর আশায় অনেকে দিনে মাত্র ৮০০ ক্যালরির মতো অতি-কঠোর ডায়েট শুরু করেন। কিন্তু এ ধরনের অত্যন্ত কম ক্যালরির খাদ্যতালিকা সাধারণ মানুষের নিজের ইচ্ছায় শুরু করা উচিত নয়। বিশেষ চিকিৎসাগত পরিস্থিতিতে এ ধরনের ডায়েট প্রয়োজন হতে পারে, তবে তখনও চিকিৎসক বা যোগ্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর নিবিড় তত্ত্বাবধান প্রয়োজন। নিজে থেকে এমন ডায়েট শুরু করলে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি ও অন্যান্য জটিলতা তৈরি হতে পারে। শুধু খাবার কমালেই হবে না ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্য খাবারের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমও জরুরি। প্রাপ্তবয়স্কদের সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার শারীরিক কার্যক্রমের পরামর্শ দেওয়া হয়। দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সাঁতারের মতো ব্যায়াম করা যেতে পারে। পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন স্ট্রেন্থ ট্রেনিং বা হালকা ওজন নিয়ে ব্যায়াম করলে পেশি শক্তিশালী রাখতে সহায়তা করতে পারে। যারা একেবারেই ব্যায়াম করেন না, তারা শুরুতেই কঠিন ব্যায়ামে না গিয়ে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটা দিয়ে শুরু করতে পারেন। পরে ধীরে ধীরে সময় ও মাত্রা বাড়ানো যেতে পারে। শুরুতেই বড় লক্ষ্য নয় শুরুতেই ১৫ থেকে ২০ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ না করে ছোট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য স্থির করা ভালো। অনেকের ক্ষেত্রে প্রথম ছয় মাসে বর্তমান ওজনের ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমানোর লক্ষ্য বাস্তবসম্মত হতে পারে। যেমন, কারও ওজন ৮০ কেজি হলে প্রথম লক্ষ্য হতে পারে প্রায় ৪ থেকে ৮ কেজি কমানো। ছোট ছোট লক্ষ্য অর্জন দীর্ঘমেয়াদে উৎসাহ ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে। একদিন বেশি খেলে সব চেষ্টা নষ্ট নয় ডায়েট চলাকালে কোনো অনুষ্ঠান, দাওয়াত বা উৎসবে একদিন একটু বেশি খাওয়া হয়ে গেলে অনেকেই হতাশ হয়ে পড়েন। কিন্তু ওজন নিয়ন্ত্রণ কোনো একদিনের বিষয় নয়; এটি দীর্ঘমেয়াদি জীবনযাপনের অংশ। তাই একদিন বেশি খেয়ে ফেললে অপরাধবোধে ভোগার প্রয়োজন নেই। পরবর্তী খাবার থেকেই আবার স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ফিরে আসাই ভালো। যে ডায়েট ধরে রাখা যায়, সেটিই ভালো দুই সপ্তাহ কঠোরভাবে মেনে চলার পর যে ডায়েট আর চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, সেটি দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা কম। বরং এমন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন বেছে নেওয়া উচিত, যা স্বাভাবিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব। পর্যাপ্ত ঘুম, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম এবং পরিমিত ও পুষ্টিকর খাবার—সব মিলিয়েই স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। তবে ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে কিংবা গর্ভাবস্থায় থাকলে নিজের মতো করে কোনো ডায়েট শুরু করা উচিত নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা জরুরি।
“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি. আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা। এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক। পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি। ৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।” অন্যান্য কোটাগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে— মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫% শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০% বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২% অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫% এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান। কোটা নিয়ে মতভেদ মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।” নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে মাউশির মহাপরিচালক বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”