মালয়েশিয়ার মোনাশ ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পিএইচডি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ‘গ্লোবাল এক্সিলেন্স অ্যান্ড মোবিলিটি স্কলারশিপ (জিইএমএস)’ এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি ছাড়ের পাশাপাশি জীবনযাত্রার খরচের জন্য মাসিক ভাতাও পাবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬। স্কলারশিপের আওতায় পিএইচডি প্রোগ্রামের প্রথম ৩৩ থেকে ৩৬ মাস মোনাশ ইউনিভার্সিটির মালয়েশিয়া ক্যাম্পাসে এবং পরবর্তী ৯ থেকে ১২ মাস অস্ট্রেলিয়া ক্যাম্পাসে গবেষণা ও অধ্যয়ন করতে হবে। যেসব সুবিধা মিলবে জিইএমএস স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা কয়েকটি আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে— সম্পূর্ণ বিনা বেতনে পিএইচডি অধ্যয়নের সুযোগ; মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে প্রথম ৩০ মাস প্রতি মাসে ২ হাজার ৯৫০ রিঙ্গিত জীবনযাত্রার ব্যয় ভাতা; অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে পরবর্তী ১২ মাস প্রতি মাসে ৮ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত ভাতা; মালয়েশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ার সময় পৃথক ভ্রমণ ভাতা। আবেদনের যোগ্যতা স্কলারশিপে আবেদন করতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত কিছু যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো— স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে; ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে; ইংরেজি ভাষায় দক্ষ হতে হবে; আইইএলটিএস একাডেমিকে কমপক্ষে ৬.৫ ব্যান্ড স্কোর থাকতে হবে এবং প্রতিটি সেকশনে অন্তত ৬.০ পেতে হবে; পিএইচডি প্রোগ্রামের অন্যান্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। যেসব নথি লাগবে আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে— হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি); পাসপোর্ট ও ছবি; একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট, সনদপত্র ও মার্কশিট; ইংরেজি ভাষা দক্ষতার সনদ; দুটি রেফারেন্স লেটার; স্টেটমেন্ট অব পারপাস (এসওপি); রিসার্চ প্রপোজাল; জিইএমএস স্কলারশিপের জন্য নিজেকে কেন উপযুক্ত মনে করেন—এ বিষয়ে ৩০০ শব্দের ব্যক্তিগত বিবৃতি। মোনাশ ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে মোনাশ ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ন, ভিক্টোরিয়ায় অবস্থিত একটি পাবলিক গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্ট্রেলিয়ার ভিক্টোরিয়া রাজ্যে একাধিক ক্যাম্পাসের পাশাপাশি মালয়েশিয়াতেও একটি ক্যাম্পাস রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য এ স্কলারশিপে আবেদনের শেষ সময় ৩১ অক্টোবর ২০২৬।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর, পিএইচডি ও গবেষণা কার্যক্রমে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়া সরকার। ‘গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপ’ (GKS) এর আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আবেদনের সময়সীমা ভিন্ন হতে পারে। উচ্চশিক্ষার জন্য দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য। বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি দেশটির উন্নত জীবনযাপন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ সংস্কৃতি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করছে। যেসব সুবিধা মিলবে গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ধরনের আর্থিক ও একাডেমিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে— সম্পূর্ণ টিউশন ফি; স্বাস্থ্যবিমা; যাতায়াতের জন্য রাউন্ড-ট্রিপ বিমান টিকিট; আবাসন ভাতা; মাসিক ভাতা; গবেষণা কার্যক্রমের জন্য আর্থিক সহায়তা; এক বছর বিনা মূল্যে কোরিয়ান ভাষা শেখার সুযোগ। স্কলারশিপের মেয়াদ স্নাতকোত্তর: ৩ বছর পিএইচডি: ৪ বছর গবেষণা কার্যক্রম: ৬ মাস আবেদনের যোগ্যতা স্কলারশিপে আবেদন করতে প্রার্থীদের কয়েকটি শর্ত পূরণ করতে হবে। এগুলো হলো— আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে এবং কোরিয়ান নাগরিকত্ব থাকা যাবে না; স্নাতকোত্তরের জন্য স্নাতক এবং পিএইচডির জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে; ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে; ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে; শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে হবে। যেসব কাগজপত্র লাগবে আবেদনের সময় সাধারণত প্রয়োজন হতে পারে— জাতীয় পরিচয়পত্র ও পাসপোর্টের কপি; পূরণ করা আবেদন ফরম; মা-বাবার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি; মা-বাবার সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কের প্রমাণপত্র; সব একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট; ইংরেজি ভাষাদক্ষতার সনদ (যদি থাকে); দুটি সুপারিশপত্র; জীবনবৃত্তান্ত (সিভি); রিসার্চ প্রপোজাল; ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট; স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP)। আবেদনের সময়সীমা গ্লোবাল কোরিয়া স্কলারশিপের আবেদনের সময় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রোগ্রামভেদে আলাদা। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কলারশিপের অফিসিয়াল নির্দেশনা দেখে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আবেদন করতে হবে।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার সুযোগ দিচ্ছে অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়। ‘গ্র্যাজুয়েট রিসার্চ স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ বৃত্তি দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬। ১৮৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত তাসমানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে। গবেষণা অবকাঠামো ও উদ্ভাবনী প্রকল্পের জন্যও প্রতিষ্ঠানটি আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত। যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ স্কলারশিপের আওতায় বিজ্ঞান, প্রকৌশল, স্বাস্থ্য, ব্যবসা, সৃজনশীল শিল্প, আইন, শিক্ষা உள்ளிட்ட বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে। বৃত্তিতে যা থাকছে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বছরে ৩৪ হাজার ৩১৫ অস্ট্রেলিয়ান ডলার ভাতা পাবেন। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের স্থানান্তর অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে ২ হাজার অস্ট্রেলিয়ান ডলার। আবেদনের যোগ্যতা স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আবেদন করতে প্রার্থীকে স্নাতক ডিগ্রিধারী হতে হবে। আর পিএইচডিতে আবেদনের জন্য প্রয়োজন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি। পাশাপাশি ভালো একাডেমিক ফলাফল ও ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। বিশ্বের সব দেশের শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। গবেষণার অভিজ্ঞতা ও শক্তিশালী একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা প্রার্থীদের গুরুত্ব দেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত গবেষণা ক্ষেত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন। প্রয়োজনীয় নথি আবেদনের সময় যেসব নথি জমা দিতে হবে— গবেষণা প্রস্তাবনা হালনাগাদ সিভি দুজন রেফারির যোগাযোগের তথ্য একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট ইংরেজি ভাষা দক্ষতার প্রমাণপত্র পাসপোর্টের কপি সুপারভাইজারি সাপোর্ট ফরম যেভাবে আবেদন করবেন প্রথমে নিজের গবেষণার আগ্রহ ও একাডেমিক দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি গবেষণা প্রকল্প নির্বাচন করতে হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট সুপারভাইজারি টিমের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করতে হবে। সবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত অনলাইন প্রক্রিয়ায় আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ১ অক্টোবর ২০২৬।
উচ্চশিক্ষায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপের সুযোগ দিচ্ছে কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ায় অবস্থিত সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটি। ‘আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ওপেন স্কলারশিপ’-এর আওতায় বিশ্ববিদ্যালয়টিতে স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। কানাডার অন্যতম পরিচিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাইমন ফ্রেজার ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস রয়েছে বার্নাবি, সারে ও ভ্যাঙ্কুভারে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এখানে ১০০টির বেশি স্নাতক এবং ৪৫টির বেশি স্নাতকোত্তর প্রোগ্রাম রয়েছে। ব্যবসা, যোগাযোগ, শিক্ষা, প্রকৌশল, স্বাস্থ্যবিজ্ঞান, মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়টির কার্যক্রম রয়েছে। আবেদনের সময়সীমা স্প্রিং ২০২৭ সেমিস্টারের জন্য দুই ধাপে আবেদন করা যাবে। সময়সূচি হলো— ২৮ অক্টোবর–৮ নভেম্বর ২০২৬ ২৩ ডিসেম্বর ২০২৬–১৭ জানুয়ারি ২০২৭ যেসব সুবিধা পাবেন যোগ্য শিক্ষার্থীদের প্রতি সেমিস্টারে এ স্কলারশিপ দেওয়া হয়। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আর্থিক সহায়তা পাওয়
২০২৬ সালে এসএসসি পাস করা মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় সহায়তা দিতে ‘ব্যাবিলন শিক্ষাবৃত্তি প্রকল্প-২০২৬’-এর ১২তম পর্ব ঘোষণা করেছে ব্যাবিলন গ্রুপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অসচ্ছল মেধাবী শিক্ষার্থীরা এ বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আগামী ১০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের যোগ্যতা বৃত্তির জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই ২০২৬ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। পাশাপাশি ফলাফল হতে হবে গোল্ডেন জিপিএ-৫। যেসব কাগজপত্র লাগবে আবেদনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কয়েকটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে। এগুলো হলো— শিক্ষাবৃত্তির জন্য পৃথক আবেদনপত্র; এসএসসি পরীক্ষার সত্যায়িত ট্রান্সক্রিপ্ট বা নম্বরপত্র; সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কর্তৃক দেওয়া আর্থিক অসচ্ছলতার সত্যায়িত সনদ; কলেজে ভর্তির সত্যায়িত সনদ বা প্রমাণপত্র। এ ছাড়া আবেদনকারীকে একটি পূর্ণাঙ্গ সত্যায়িত বায়োডাটা দিতে হবে। এতে শিক্ষার্থীর পূর্ণ ঠিকানা, টেলিফোন নম্বর, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, তাদের পেশা, মোবাইল নম্বর এবং আয়ের বিবরণ উল্লেখ করতে হবে। আবেদনকারীর ছবি JPEG ফরম্যাটে দিতে হবে। ছবির মাপ হতে হবে ৫৯০ পিক্সেল প্রস্থ ও ৭০৮ পিক্সেল উচ্চতা। যেভাবে আবেদন ছবিসহ প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র স্ক্যান করে একটি PDF ফাইল তৈরি করতে হবে। এরপর তা ই-মেইলে পাঠাতে হবে babylon.scholarship@gmail.com ঠিকানায়। ই-মেইলের Subject-এ লিখতে হবে: Babylon Scholarship 2026 ব্যাবিলন গ্রুপের কাছে সরাসরি পাঠানো কোনো আবেদনপত্র গ্রহণ করা হবে না। শুধু ই-মেইলের মাধ্যমে পাঠানো আবেদনই বিবেচনা করা হবে। আবেদনের শেষ সময়: ১০ অক্টোবর ২০২৬।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও সাম্প্রতিক গ্র্যাজুয়েটদের জন্য ৬ থেকে ২৬ সপ্তাহ মেয়াদি ইন্টার্নশিপের সুযোগ দিচ্ছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। বিশ্বের যেকোনো দেশের ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী শিক্ষার্থীরা এসব ইন্টার্নশিপে আবেদন করতে পারবেন। ইন্টার্নশিপের আবেদন করার শেষ সময় পদভেদে ভিন্ন। তাই আগ্রহী প্রার্থীদের যে পদের জন্য আবেদন করবেন, সেই পদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে। ইন্টার্নশিপে যেসব সুবিধা ইন্টার্নশিপের ধরন ও কর্মস্থল অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন হতে পারে। নির্বাচিত ইন্টার্নদের মাসিক স্টাইপেন্ড দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে অতিরিক্ত অর্থ এবং ভিসা ও যাতায়াত খরচের জন্য এককালীন আর্থিক সহায়তাও দেওয়া হতে পারে। আবেদনের যোগ্যতা ইউনিসেফের ইন্টার্নশিপে আবেদন করতে প্রার্থীদের— কমপক্ষে ১৮ বছর বয়সী হতে হবে; স্নাতক, স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি পর্যায়ে অধ্যয়নরত হতে হবে অথবা গত দুই বছরের মধ্যে স্নাতক সম্পন্ন করতে হবে; ইংরেজি অথবা ফরাসি ভাষায় দক্ষ হতে হবে; কম্পিউটার ব্যবহারে পারদর্শী হতে হবে; বিভিন্ন পরিবেশে দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা থাকতে হবে; ভালো যোগাযোগ দক্ষতা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় নথিপত্র আবেদনের সময় প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি, সব একাডেমিক সার্টিফিকেট ও মার্কশিট এবং কভার লেটার জমা দিতে হতে পারে। আবেদন যেভাবে ইউনিসেফের বিভিন্ন দপ্তর ও কার্যক্রমে ইন্টার্নশিপের সুযোগ নিয়মিত প্রকাশ করা হয়। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট ইন্টার্নশিপের বিজ্ঞপ্তি দেখে যোগ্যতা, কর্মস্থল, সুযোগ-সুবিধা ও আবেদনের শেষ তারিখ জেনে আবেদন করতে হবে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের জানুয়ারি ইনটেকে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ও পিএইচডি প্রোগ্রামে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপের সুযোগ দিচ্ছে থাইল্যান্ডের সিরিনধর্ন ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (SIIT)। ‘এসআইআইটি গ্র্যাজুয়েট স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন। আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। থাইল্যান্ডের থাম্মাসাত ইউনিভার্সিটির অধীনে ১৯৯২ সালে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে যাত্রা শুরু করে SIIT। পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানটি গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষার জন্য নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামসহ নানা একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। স্কলারশিপে যেসব সুবিধা মাস্টার্স ও পিএইচডি প্রোগ্রামের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ; গবেষণা ও থিসিসের জন্য পূর্ণ সহায়তা; প্রতি মাসে ১০ হাজার থাই বাথ ভাতা; ইকোনমি ক্লাসে রাউন্ড ট্রিপ বিমান টিকিটের খরচ; ভিসা, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য খরচের জন্য সর্বোচ্চ ১০ হাজার বাথ অতিরিক্ত সহায়তা। আবেদনের যোগ্যতা যেকোনো দেশের আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী আবেদন করতে পারবেন; SIIT-এ দেওয়া প্রোগ্রামগুলোর যেকোনো একটিতে পড়াশোনার আগ্রহ থাকতে হবে; আগের একাডেমিক ফলাফল ভালো হতে হবে; দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে; শারীরিকভাবে সুস্থ হতে হবে; বর্তমানে অন্য কোনো স্কলারশিপ বা গ্রান্ট গ্রহণ করলে আবেদন করা যাবে না। যেসব নথি লাগবে আবেদনের সময় জীবনবৃত্তান্ত (সিভি), পাসপোর্ট অথবা জাতীয় পরিচয়পত্র, সাম্প্রতিক ছবি, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP) এবং দুটি সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে। পাশাপাশি গবেষণাপত্র বা প্রকাশনা থাকলে তা এবং ইংরেজি ভাষাদক্ষতার সনদ থাকলে সেটিও জমা দিতে হবে। আবেদন যেভাবে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনপদ্ধতি, প্রোগ্রাম ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য জানতে SIIT-এর অফিসিয়াল আবেদন পোর্টাল ভিজিট করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬।
সৌদি আরবের ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে উচ্চশিক্ষার জন্য ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ পেয়েছেন বাংলাদেশের শিক্ষার্থী মো. ইমদাদুল্লাহ। তিনি শিক্ষা ও স্কলারশিপবিষয়ক প্রতিষ্ঠান মারকায সওতুল ইসলামের ৩৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। বরিশালের হারতার দক্ষিণ নাথারকান্দি গ্রামের সন্তান ইমদাদুল্লাহ। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় মেধা ও পরিশ্রমের পরিচয় দেওয়া এই শিক্ষার্থী ২০২২ সালে মাদ্রাসা বোর্ড থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে আলিম পাস করেন। পরে তিনি ঝালকাঠি এন এস কামিল মাদ্রাসার আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে পড়াশোনা করছিলেন। স্কলারশিপ পাওয়ার পর নিজের অনুভূতি জানিয়ে ইমদাদুল্লাহ বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, মহান রবের ইচ্ছায় এবং শিক্ষক ও পিতা-মাতার অশেষ দোয়ায় আজ আমার এই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আজকে ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটিতে এসে পৌঁছেছি। বিদেশের মাটিতে উচ্চশিক্ষা লাভ করে যেন ইসলামের খেদমতে ও দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারি, এজন্য সকলের কাছে দোয়া চাই।’ ৮ দেশের ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১১১ শিক্ষার্থী মারকায সওতুল ইসলাম সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালে বিশ্বের আটটি দেশের ২৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির মোট ১১১ জন শিক্ষার্থী ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপের জন্য চূড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছেন। যেসব দেশে এসব শিক্ষার্থী স্কলারশিপ পেয়েছেন, সেগুলো হলো—মিশর, সৌদি আরব, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ইরাক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক ও মরক্কো। এর মধ্যে সৌদি আরবের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠানটির আটজন শিক্ষার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো—কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি, ইমাম আব্দুর রহমান বিন ফয়সাল ইউনিভার্সিটি, কিং খালেদ ইউনিভার্সিটি ও নর্দান বর্ডার ইউনিভার্সিটি। এ আট শিক্ষার্থীর মধ্যে ইমদাদুল্লাহ একজন। ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত মারকায সওতুল ইসলাম ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত মারকায সওতুল ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মুহাম্মাদ শিহাব উদ্দীন আল আজহারী। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে তাদের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার সুযোগ পাচ্ছেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন।b
যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বখ্যাত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে তিন বছর গবেষণার সুযোগ দিচ্ছে স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোস ফেলোশিপ। প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মৌলিক পরীক্ষামূলক বা তাত্ত্বিক গবেষণায় আগ্রহী ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের মেধাবী বিজ্ঞানীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও আবেদনের সুযোগ রয়েছে। যেসব বিষয়ে গবেষণার সুযোগ স্ট্যানফোর্ড সায়েন্স ফেলোসের আওতায় প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণা করা যাবে। ক্ষেত্রগুলো হলো— জ্যোতির্বিজ্ঞান ও অ্যাস্ট্রোফিজিকস জীববিজ্ঞান রসায়ন পৃথিবী ও মহাসাগরবিজ্ঞান গণিত ও পরিসংখ্যান পরীক্ষামূলক পদার্থবিজ্ঞান থিওরি ও সিমুলেশন প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্র ফেলোশিপের মেয়াদ ফেলোশিপের মেয়াদ তিন বছর। সাধারণত ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ফেলোশিপ শুরু হয়ে ২০৩০ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত চলবে। তবে নির্বাচিত ফেলো চাইলে ১ জুলাই বা ১ আগস্ট থেকেও যোগ দিতে পারবেন। কোনো অবস্থাতেই ২০২৭ সালের ১ সেপ্টেম্বরের পর ফেলোশিপে যোগ দেওয়া যাবে না। বছরে ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড ফেলোশিপের আওতায় নির্বাচিত গবেষককে প্রতি বছর ৯৮ হাজার ডলার স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি স্ট্যানফোর্ডের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহার এবং গবেষণা ও পেশাগত উন্নয়নের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার দেওয়া হবে। এ ছাড়া— স্থানান্তর ব্যয় হিসেবে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ ডলার দেওয়া হবে। যোগ্য ফেলোদের শিশু যত্নের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। ভিসা সংক্রান্ত ব্যয়ের জন্যও সহায়তা পাওয়া যাবে। আবেদনকারীর যোগ্যতা এ ফেলোশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে ক্যারিয়ারের শুরুর পর্যায়ের বিজ্ঞানী হতে হবে। ফেলোশিপ শুরু হওয়ার আগের তিন বছরের মধ্যে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। পাশাপাশি অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ দুই বছরের পোস্টডক্টরাল অভিজ্ঞতা থাকা যাবে। বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থী ও পোস্টডক্টরাল গবেষকরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন না। এ ছাড়া যারা ১ মার্চ ২০২৭-এর আগে স্ট্যানফোর্ডে পোস্টডক্টরাল পদে যোগ দেবেন, তারাও এ ফেলোশিপে আবেদন করার যোগ্য হবেন না। প্রয়োজনীয় নথিপত্র আবেদনের সময় প্রার্থীদের কয়েকটি প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো— কারিকুলাম ভিটা (সিভি) কভার লেটার তিনটি সুপারিশপত্র সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার ক্যারিয়ার স্টেটমেন্ট সর্বোচ্চ দুই পৃষ্ঠার গবেষণা প্রস্তাব গবেষণা প্রস্তাবে গবেষণার সমস্যা, আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে কী অর্জন করা সম্ভব এবং প্রস্তাবিত গবেষণায় স্ট্যানফোর্ড কীভাবে সহায়তা করতে পারে—এসব বিষয় তুলে ধরতে হবে। যেভাবে আবেদন করবেন আগ্রহী প্রার্থীদের অ্যাকাডেমিক জবস অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদনের আগে সম্ভাব্য স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গবেষণার সহযোগিতা ও হোস্টিংয়ের বিষয়ে আলোচনা করতে হবে। ফেলোশিপ পাওয়ার আগে অন্তত একজন স্ট্যানফোর্ড ফ্যাকাল্টি সদস্যকে আবেদনকারীকে হোস্ট করতে সম্মত হতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ১৬ অক্টোবর ২০২৬।
উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যেতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দারুণ সুযোগ নিয়ে এসেছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ। এ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত মেধাবী শিক্ষার্থীরা যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা খরচে পড়াশোনার সুযোগ পাবেন। বাংলাদেশসহ কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর নাগরিকরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত কমনওয়েলথ স্কলারশিপ বিশ্বের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হিসেবে পরিচিত। ১৯৫৯ সালে এ স্কলারশিপের যাত্রা শুরু হয়। শুরুতে ডিএফআইডির মাধ্যমে এটি পরিচালিত হলেও বর্তমানে এর অর্থায়ন করছে যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)। যুক্তরাজ্যে প্রায় ১৩০টি নিবন্ধিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার ও গবেষণার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা কাজ করেছেন। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ২০০টি দেশ থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান। যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকছে কমনওয়েলথ স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে— সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করা হবে। যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের জন্য বিমান টিকিট দেওয়া হবে। আবাসন সুবিধার পাশাপাশি প্রতি মাসে ১ হাজার ৭১২ পাউন্ড ভাতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৭৬ টাকা। লন্ডন মেট্রোপলিটন এলাকায় অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা মাসে ২ হাজার পাউন্ড ভাতা পাবেন। শিক্ষাসফরের জন্য নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হবে। পোশাক কেনার জন্য ভাতা দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর স্বামী/স্ত্রী এবং ১৬ বছরের কম বয়সী সন্তান থাকলে নির্দিষ্ট হারে অতিরিক্ত পরিবার ভাতা দেওয়া হবে। তবে এ ভাতার পরিমাণ প্রতিবছর পরিবর্তিত হতে পারে। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হবে। আবেদনকারীর যোগ্যতা এ স্কলারশিপে আবেদন করতে হলে প্রার্থীকে কমনওয়েলথভুক্ত কোনো দেশের নাগরিক হতে হবে। একই সঙ্গে স্নাতক পর্যায়ে কমপক্ষে আপার সেকেন্ড-ক্লাস (২.১) ডিগ্রি থাকতে হবে। অথবা প্রাসঙ্গিক বিষয়ে মাস্টার্সসহ লোয়ার সেকেন্ড-ক্লাস ডিগ্রিও গ্রহণযোগ্য। এ ছাড়া ২০২৭ সালের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি শিক্ষাবর্ষ শুরু হলে পড়াশোনা শুরু করার জন্য আবেদনকারীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। যে বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তও পূরণ করতে হবে। আবেদনের ক্ষেত্রে আইইএলটিএস বাধ্যতামূলক নয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ইংরেজি ভাষা দক্ষতার শর্ত পূরণ করতে হবে। আবেদনকারীকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনার্স বা মাস্টার্স ডিগ্রি সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে যে কমনওয়েলথ স্কলারশিপ ছাড়া যুক্তরাজ্যে পড়াশোনার খরচ বহন করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। প্রয়োজনীয় নথিপত্র আবেদনের সময় প্রার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথি জমা দিতে হবে। এগুলো হলো— অফিসিয়াল একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট কমপক্ষে দুইজনের রেফারেন্স লেটার মোটিভেশন লেটার বা গবেষণা প্রস্তাবনা পিএইচডি প্রার্থীদের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য যুক্তরাজ্যের সুপারভাইজারের সমর্থনপত্র আবেদনের শেষ সময় ও পদ্ধতি আবেদনের শেষ সময়: ২০ অক্টোবর ২০২৬। আগ্রহী ও যোগ্য প্রার্থীদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষা নিতে আগ্রহী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সুযোগ নিয়ে এসেছে ইউনিভার্সিটি অব আলাবামা। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রোগ্রামে ভর্তির জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের প্রেসিডেনশিয়াল স্কলারশিপ দিচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। যোগ্যতা, একাডেমিক সাফল্য, নেতৃত্বের গুণাবলি ও সামগ্রিক দক্ষতার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের এ স্কলারশিপ দেওয়া হবে। আবেদন করার শেষ সময় ৪ ডিসেম্বর ২০২৬। যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যের টাসকালুসায় অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় স্নাতক পর্যায়ে ১০০টির বেশি বিষয় ও প্রোগ্রাম রয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের গবেষণা, অনার্স প্রোগ্রাম এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। স্কলারশিপে যা থাকছে প্রেসিডেনশিয়াল স্কলারশিপের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা প্রতি শিক্ষাবর্ষে সর্বোচ্চ ২৮ হাজার ডলার পর্যন্ত স্কলারশিপ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতিমালা অনুযায়ী বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার মাধ্যমে এ অর্থ প্রদান করা হবে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক উৎকর্ষ, নেতৃত্বের সক্ষমতা এবং সামগ্রিক সাফল্য বিবেচনা করে স্কলারশিপের জন্য নির্বাচন করা হবে। আবেদনকারীর যোগ্যতা প্রেসিডেনশিয়াল স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে হলে শিক্ষার্থীকে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হতে হবে। একই সঙ্গে আগের শিক্ষাজীবনে উল্লেখযোগ্য একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে। আবেদনকারীর— SAT স্কোর ১,৪২০ থেকে ১,৬০০-এর মধ্যে অথবা ACT স্কোর ৩২ থেকে ৩৬-এর মধ্যে থাকতে হবে। যেসব নথি লাগবে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কিছু নথিপত্র জমা দিতে হবে। এগুলো হলো— বৈধ পাসপোর্টের কপি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট ইংরেজি দক্ষতা পরীক্ষার সনদ কাউন্সেলরের সুপারিশপত্র একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও অন্যান্য একাডেমিক রেকর্ড আবেদন যেভাবে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ৪ ডিসেম্বর ২০২৬।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পিএইচডি করার সুযোগ দিচ্ছে হংকং। ‘হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ ফেলোশিপ দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেকোনো দেশের শিক্ষার্থীরা এ ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ১ ডিসেম্বর। ২০০৯ সালে হংকংয়ের রিসার্চ গ্রান্টস কাউন্সিল (RGC) হংকং পিএইচডি ফেলোশিপ স্কিম চালু করে। ২০২৭-২৮ শিক্ষাবর্ষে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য মোট ৪০০টি পিএইচডি ফেলোশিপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। বিজ্ঞান, চিকিৎসা, প্রকৌশল ও প্রযুক্তি, মানবিক, সামাজিক বিজ্ঞান এবং ব্যবসায় শিক্ষাসহ বিভিন্ন বিষয়ে পিএইচডির জন্য আবেদন করা যাবে। যে ৮ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ ফেলোশিপের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা হংকংয়ের আটটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনোটিতে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হলো— ১. সিটি ইউনিভার্সিটি অব হংকং ২. হংকং ব্যাপটিস্ট ইউনিভার্সিটি ৩. লিংনান ইউনিভার্সিটি ৪. দ্য চাইনিজ ইউনিভার্সিটি অব হংকং ৫. দ্য এডুকেশন ইউনিভার্সিটি অব হংকং ৬. হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি ৭. হংকং ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ৮. দ্য ইউনিভার্সিটি অব হংকং কী কী সুবিধা মিলবে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত বার্ষিক উপবৃত্তি পাবেন। পাশাপাশি সম্মেলন ও গবেষণা ভ্রমণের জন্যও ভাতা দেওয়া হবে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীরা যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হবেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। আবেদনের যোগ্যতা হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কয়েকটি যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যোগ্যতাগুলোর মধ্যে রয়েছে— সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা এবং পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়ার আগ্রহ থাকতে হবে। ভালো একাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে। গবেষণার সক্ষমতা ও সম্ভাবনা থাকতে হবে। যোগাযোগ ও আন্তঃব্যক্তিক দক্ষতা থাকতে হবে। নেতৃত্বের গুণাবলি থাকতে হবে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রমাণ হিসেবে IELTS স্কোর প্রয়োজন হতে পারে। তবে আগের একাডেমিক কোর্স ইংরেজি মাধ্যমে সম্পন্ন হলে IELTS প্রয়োজন নাও হতে পারে। যেভাবে আবেদন করবেন আগ্রহী শিক্ষার্থীদের প্রথমে অনলাইনে হংকং পিএইচডি ফেলোশিপের জন্য একটি প্রাথমিক আবেদন করতে হবে। প্রাথমিক আবেদনের পর নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় ও পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার স্বপ্ন অনেক শিক্ষার্থীর। তবে টিউশন ফি, আবাসন, যাতায়াতসহ নানা খরচের কারণে অনেকের জন্য সেই স্বপ্ন পূরণ কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ হতে পারে বড় সহায়তা। এসব বৃত্তির আওতায় শুধু টিউশন ফি নয়, অনেক ক্ষেত্রে মাসিক ভাতা, আবাসন, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ও গবেষণার খরচও দেওয়া হয়। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের মেধাবী ও সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান এমন স্কলারশিপের সুযোগ দিয়ে থাকে। বর্তমানে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক স্কলারশিপে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক এমন চারটি স্কলারশিপ সম্পর্কে— ১. সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড (সিঙ্গা) সিঙ্গাপুর সরকারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ স্কলারশিপ হলো ‘সিঙ্গাপুর ইন্টারন্যাশনাল গ্র্যাজুয়েট অ্যাওয়ার্ড’ বা সিঙ্গা। এর আওতায় বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিষয়ে পিএইচডি করার সুযোগ রয়েছে। এই স্কলারশিপের মাধ্যমে সিঙ্গাপুরের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটিতে বিনা মূল্যে পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা। পিএইচডি প্রোগ্রামের মেয়াদ সর্বোচ্চ চার বছর। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা এতে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময়: ১ ডিসেম্বর ২০২৬। বিস্তারিত: Singapore International Graduate Award (SINGA) ২. নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তি হলো নাইট-হেনেসি স্কলারশিপ। এর মাধ্যমে বিভিন্ন স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে বিনা মূল্যে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। স্কলারশিপটি সাধারণত সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত একাডেমিক খরচ বহন করে। তবে একাধিক বা যৌথ ডিগ্রি প্রোগ্রামে যুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট হোম ডিপার্টমেন্টের মাধ্যমে অতিরিক্ত বা সামঞ্জস্যপূর্ণ অর্থায়নের ব্যবস্থা করা হতে পারে। আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬। বিস্তারিত: Knight-Hennessy Scholars—Stanford University ৩. এডিবি-জাপান স্কলারশিপ প্রোগ্রাম এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও জাপান সরকারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হয় এডিবি-জেএসপি (Asian Development Bank–Japan Scholarship Program)। উন্নয়নশীল দেশগুলোর মেধাবী তরুণ ও পেশাজীবীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। স্কলারশিপের আওতায় পূর্ণ টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ও আবাসন ভাতা, বই ও শিক্ষা উপকরণ, স্বাস্থ্যবিমা, যাতায়াত ব্যয় এবং গবেষণাসংক্রান্ত সহায়তা দেওয়া হয়। তবে এ স্কলারশিপের আবেদনের সময়সীমা নির্দিষ্ট নয়। অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয় ও ইনটেকভেদে সময়সীমা ভিন্ন হয়ে থাকে। তাই আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত সময়সীমা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনের সময়: অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে ভিন্ন। বিস্তারিত: ADB–Japan Scholarship Program ৪. ব্রিটিশ শেভেনিং স্কলারশিপ যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বছর মেয়াদি মাস্টার্স ডিগ্রি করার সুযোগ দেয় ব্রিটিশ সরকারের বহুল পরিচিত শেভেনিং স্কলারশিপ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাবনাময় তরুণদের জন্য এ বৃত্তি দেওয়া হয়। আবেদনকারীদের নেতৃত্বের গুণাবলি, পেশাগত অভিজ্ঞতা, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা এবং নিজ দেশ ও সমাজে ইতিবাচক অবদান রাখার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। শেভেনিং স্কলারশিপের আওতায় টিউশন ফি, মাসিক জীবনযাপন ভাতা, যুক্তরাজ্যে যাতায়াতের খরচসহ নির্ধারিত অন্যান্য ভাতা দেওয়া হয়। আবেদনের শেষ সময়: ৬ অক্টোবর ২০২৬। বিস্তারিত: Chevening Scholarship—Application Timeline আবেদনের আগে যা মনে রাখবেন স্কলারশিপের সুযোগ থাকলেই আবেদন করলেই হবে না। প্রতিটি প্রোগ্রামের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত ফলাফল, ভাষাগত দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সময়সীমা আলাদাভাবে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে শেষ সময়ের অপেক্ষা না করে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট, স্টেটমেন্ট অব পারপাস, সুপারিশপত্র ও অন্যান্য কাগজপত্র আগে থেকেই প্রস্তুত রাখলে আবেদনের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট স্কলারশিপের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
ভারতের তামিলনাড়ুতে মুসলিম নারী শিক্ষার্থীসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কল্যাণে একাধিক নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মধ্যে সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহনের সিদ্ধান্ত রয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম ছাত্রীদের বৃত্তি সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘু নারীদের জন্য নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা, আয়বর্ধক প্রকল্পে সুদমুক্ত ঋণ এবং তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাজ্য বিধানসভায় নিজ দপ্তরের অনুদানের দাবির ওপর বিতর্কে অংশ নিয়ে এসব উদ্যোগের ঘোষণা দেন তামিলনাড়ুর সংখ্যালঘুবিষয়ক কল্যাণমন্ত্রী এ এম শাহজাহান। স্নাতকে মুসলিম ছাত্রীদের টিউশন ফি দেবে সরকার মন্ত্রী জানান, সরকারি কোটায় ভর্তি হওয়া মুসলিম নারী শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায়ের সম্পূর্ণ টিউশন ফি বহন করবে রাজ্য সরকার। সরকারি, সরকারি সহায়তাপ্রাপ্ত ও স্বনির্ভর প্রতিষ্ঠানে কলা, বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসা, কৃষি ও আইন বিষয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা এ সুবিধার আওতায় থাকবেন। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রাথমিকভাবে ২০ কোটি রুপি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নবম-দশম শ্রেণির মুসলিম ছাত্রীরাও পাবেন বৃত্তি মুসলিম ছাত্রীদের জন্য ওয়াকফ বোর্ডের চলমান বৃত্তি কর্মসূচিও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতদিন প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির মুসলিম ছাত্রীরা এ সুবিধা পেলেও নতুন সিদ্ধান্তে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এখন থেকে এসব শিক্ষার্থীকে বছরে ২ হাজার রুপি করে বৃত্তি দেওয়া হবে। এতে প্রায় ৪১ হাজার ৩৮৪ জন ছাত্রী উপকৃত হবে। এ কর্মসূচিতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ রুপি। চেন্নাইয়ে সংখ্যালঘু নারীদের জন্য কলেজ উচ্চশিক্ষায় সংখ্যালঘু নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে চেন্নাইয়ে একটি নতুন কলা ও বিজ্ঞান কলেজ প্রতিষ্ঠা করবে তামিলনাড়ু ওয়াকফ বোর্ড। মন্ত্রী শাহজাহান জানান, কলেজটি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রাথমিকভাবে ২ কোটি ৪৫ লাখ রুপি বরাদ্দ দেওয়া হবে। আয়বর্ধক প্রকল্পে ১০০ কোটি রুপির তহবিল মুসলিম ওয়াকফ ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় সম্পত্তিতে বিয়ের হল, বাণিজ্যিক কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক অবকাঠামো নির্মাণে ১০০ কোটি রুপির একটি ঘূর্ণায়মান তহবিল গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এই তহবিল থেকে সংশ্লিষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে ধর্মীয় সম্পত্তিকে কাজে লাগিয়ে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। চার বছরে প্রশিক্ষণ পাবেন ১০ হাজার তরুণ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নেও নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তামিলনাড়ু স্কিল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের মাধ্যমে আগামী চার বছরে ১০ হাজার সংখ্যালঘু তরুণকে শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রাজ্যের সব জেলায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। এর আওতায় তথ্যপ্রযুক্তি, অটোমোবাইল, পোশাক ডিজাইন, বিউটি অ্যান্ড ওয়েলনেস, সূচিকর্ম ও কৃষিসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারের প্রত্যাশা, এ উদ্যোগের মাধ্যমে সংখ্যালঘু তরুণদের স্ব-কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং তাদের পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। তামিলনাড়ু সরকারের ঘোষিত নতুন উদ্যোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো মুসলিম ছাত্রীদের উচ্চশিক্ষায় টিউশন ফি মওকুফ, বৃত্তি কর্মসূচির সম্প্রসারণ, সংখ্যালঘু নারীদের জন্য নতুন কলেজ প্রতিষ্ঠা, আয়বর্ধক প্রকল্পে সুদমুক্ত ঋণ এবং সংখ্যালঘু তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ।
আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পড়ার সুযোগ দিচ্ছে জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি (টিএমইউ)। ‘টোকিও গ্লোবাল পার্টনার স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের এ সুবিধা দেওয়া হবে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা স্কলারশিপটির জন্য আবেদন করতে পারবেন। প্রোগ্রামভেদে আবেদনের সময়সীমা আলাদা। তাই আগ্রহী শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত সময়সীমা অনুযায়ী আবেদন করতে হবে। জাপানের রাজধানী টোকিওতে অবস্থিত টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি একটি সরকারি গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে জাপানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত। টোকিও মেট্রোপলিটন সরকারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে। স্কলারশিপে যেসব সুবিধা ‘টোকিও গ্লোবাল পার্টনার স্কলারশিপ’-এর আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা বেশ কয়েকটি আর্থিক সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে— সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ; বিমানভাড়া প্রদান; ভর্তি ফি মওকুফ বা প্রদান; প্রতি মাসে ১ লাখ ৫০ হাজার ইয়েন উপবৃত্তি। আবেদনের যোগ্যতা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আবেদন করতে আগ্রহীদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। আর পিএইচডি প্রোগ্রামের জন্য স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা আবশ্যক। এ ছাড়া প্রোগ্রামভেদে আবেদনকারীর গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা বা উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রামের নির্ধারিত অন্যান্য যোগ্যতাও পূরণ করতে হবে। যেসব বিষয়ে পড়ার সুযোগ স্কলারশিপের আওতায় টিএমইউর বিভিন্ন স্কুল ও গ্র্যাজুয়েট স্কুলের অধীনে অধ্যয়নের সুযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— স্কুল অব হিউম্যান হেলথ সায়েন্সেস স্কুল অব সিস্টেমস ডিজাইন স্কুল অব আরবান এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব সায়েন্স গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ম্যানেজমেন্ট গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব ল অ্যান্ড পলিটিকস গ্র্যাজুয়েট স্কুল অব হিউম্যানিটিজ এসব স্কুলের অধীনে বিভিন্ন বিভাগে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা ও গবেষণার সুযোগ রয়েছে। আগ্রহী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার আগে পছন্দের প্রোগ্রামের যোগ্যতা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আবেদনের সময়সীমা ভালোভাবে যাচাই করে নিতে হবে।
উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ফুল-ফ্রি স্কলারশিপ দিচ্ছে চেক প্রজাতন্ত্র সরকার। ‘চেক রিপাবলিক সরকারি স্কলারশিপ’-এর আওতায় ২০২৭–২৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পাবেন নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশসহ নির্ধারিত কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা এ স্কলারশিপের জন্য আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ইউরোপের উন্নত দেশগুলোর মধ্যে চেক প্রজাতন্ত্র উচ্চশিক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের কাছে একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্তর্জাতিক মানের বিভিন্ন বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। যেসব সুবিধা পাবেন চেক সরকারের এ স্কলারশিপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি দেওয়া হবে মাসিক উপবৃত্তি। স্নাতকোত্তর পর্যায়ে: প্রতি মাসে ১৬ হাজার চেক কোরুনা পিএইচডি পর্যায়ে: প্রতি মাসে ২৪ হাজার ৯৬০ চেক কোরুনা স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাসংক্রান্ত সুবিধা পাওয়া যাবে। কোন কোন প্রোগ্রামে আবেদন করা যাবে স্নাতকোত্তর: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রিধারীরা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্ধারিত স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। এসব প্রোগ্রামের মেয়াদ সাধারণত দুই বছর। পিএইচডি: সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা ইংরেজি মাধ্যমে পরিচালিত নির্ধারিত পিএইচডি প্রোগ্রামে আবেদন করতে পারবেন। প্রোগ্রামের মেয়াদ সাধারণত তিন থেকে চার বছর হতে পারে। আবেদন করতে যেসব যোগ্যতা লাগবে স্কলারশিপের জন্য আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। এ ছাড়া— স্নাতকোত্তরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে। পিএইচডির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। ভালো অ্যাকাডেমিক ফলাফল থাকতে হবে। ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে। নির্বাচিত প্রোগ্রাম অনুযায়ী অন্যান্য নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন আবেদনের সময় সাধারণত প্রয়োজন হবে— হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) সব অ্যাকাডেমিক সনদ ও ট্রান্সক্রিপ্ট মোটিভেশন লেটার রেফারেন্স লেটার ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার সনদ সংশ্লিষ্ট প্রোগ্রাম অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে।
বাংলাদেশের সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তাদের জাপানে মাস্টার্স করার সুযোগ দিচ্ছে দেশটির সরকার। ২০২৭–২০২৮ শিক্ষাবর্ষে জাপান–আইএমএফ স্কলারশিপ প্রোগ্রাম ফর এশিয়া (জেআইএসপিএ)-এর আওতায় নির্বাচিত কর্মকর্তারা জাপানের নির্ধারিত বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স কোর্সে পড়ার সুযোগ পাবেন। আগ্রহী কর্মকর্তাদের আগামী ২০ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। যেসব কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন এই বৃত্তির জন্য বাংলাদেশের নাগরিক এবং কর্মক্ষেত্রে আর্থিক, বাণিজ্যিক, ব্যাংকিং অথবা পরিসংখ্যানসংক্রান্ত নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তারা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের কয়েকটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে হবে। শর্তগুলো হলো— বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে; সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত থাকতে হবে; কমপক্ষে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে; ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা থাকতে হবে; ন্যূনতম দুই বছরের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকতে হবে; আগে কোনো বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করা থাকলে আবেদন করা যাবে না। মানতে হবে উচ্চশিক্ষা নীতিমালা জেআইএসপিএ স্কলারশিপের মাধ্যমে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জনপ্রশাসন প্রশিক্ষণ ও উচ্চশিক্ষা নীতিমালা, ২০২৩ অনুসরণ করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী আগ্রহী কর্মকর্তারা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষকে অবহিত রেখে অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের শেষ সময় ২০ অক্টোবর ২০২৬।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ERD) তিন মাস মেয়াদি ইন্টার্নশিপ কর্মসূচিতে ২০ জন ইন্টার্ন নিয়োগ দেবে। নির্বাচিত ইন্টার্নদের প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে আবেদন করতে হবে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকেল ৫টার মধ্যে। আবেদন করতে পারবেন যাঁরা ইংরেজি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, হিসাববিজ্ঞান, ফাইন্যান্স, ব্যাংকিং, অর্থনীতি, বাণিজ্যিক ভূগোল, গণিত, পরিবেশবিজ্ঞান, জলবায়ু পরিবর্তন, ব্যবসায় প্রশাসন, ব্যবস্থাপনা, লোকপ্রশাসন, জনপ্রশাসন, পাবলিক পলিসি বা উন্নয়ন সহযোগিতা– এসব বিষয়ে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন করার যোগ্যতা ১. আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। ২. ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে হতে হবে (অ্যাফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়)। ৩. স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে, অথবা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী হতে হবে। অবতীর্ণ প্রার্থীদের প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে। ৪. ডিগ্রি অর্জনের দুই বছরের মধ্যে আবেদন করতে হবে। ৫. অনলাইনে ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়। ৬. একজন প্রার্থী কেবল একবারই ইন্টার্নশিপের সুযোগ পাবেন। ইন্টার্নশিপ ভাতা ও শর্তাবলি ১. প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা করে ভাতা প্রদান করা হবে; অন্য কোনো সুবিধা দেওয়া হবে না। ২. অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নির্ধারিত সুপারভাইজারের অধীনে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করতে হবে। ৩. ভাতা পাওয়ার জন্য প্রতি মাসে সন্তোষজনক কাজের প্রত্যয়ন জমা দিতে হবে। ৪. ইন্টার্নশিপ চলাকালে “চাকরিতে নিয়োজিত” হিসেবে কোনো সনদ দেওয়া হবে না। ৫. ইন্টার্নশিপ সফলভাবে সম্পন্ন করলে একটি সনদ প্রদান করা হবে, তবে এটি কোনো প্রতিষ্ঠানে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার হিসেবে গণ্য হবে না। আবেদনের শেষ সময় অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২০ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা পর্যন্ত। # বিস্তারিত তথ্যের জন্য ওয়েবসাইট
“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি. আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি। ৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।” অন্যান্য কোটাগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে— মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫% শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০% বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২% অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫% এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান। কোটা নিয়ে মতভেদ মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।” নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে মাউশির মহাপরিচালক বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”
সরকার কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের মূল ধারার সাধারণ, কারিগরি ও আলিয়া মাদ্রাসার সমতুল্য করার উদ্যোগ নিয়েছে। উদ্দেশ্য হলো কওমি মাদ্রাসার সব স্তরের যোগ্যতা, দক্ষতা ও সনদকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত করা এবং অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ করা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা, ২০২৫’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে। ১৬ নভেম্বর এটি ওয়েবসাইটে জনমতের জন্য প্রকাশ করা হয়। প্রস্তাবিত নীতিমালার মূল লক্ষ্যগুলো হলো: সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষার মধ্যে যোগ্যতার সমন্বয়; পূর্ব অর্জিত অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি; জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি; আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা। নীতিমালায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মাদ্রাসা শিক্ষা মূলত দুই ধরনের — ১. আলিয়া মাদ্রাসা: সরকার স্বীকৃত ও সাধারণ বিষয় সমন্বিত; ২. কওমি মাদ্রাসা: স্বতন্ত্র ও ধর্মীয় পাঠ্যক্রমভিত্তিক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সামসুর রহমান খান জানান, কওমি শিক্ষাকে মূল ধারায় আনা হবে। আগে মাস্টার্স স্তরের (দাওরায়ে হাদিস) সমমান স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল, এবার নিচ থেকে উপরের দিকে ধাপে ধাপে কাঠামোগত স্বীকৃতি দেওয়া হবে। সার্টিফিকেশন দেশ ও বিদেশে গ্রহণযোগ্য হবে। বাস্তবায়ন ম্যানুয়েলে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স, পড়ানো বিষয় ও আন্তর্জাতিক মানের তুলনা বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হবে। নীতিমালার কমিটি বাস্তবায়নে সুপারিশ করবে। বিভিন্ন বোর্ড ও শিক্ষা কর্তৃপক্ষ একসঙ্গে কাজ করবে, যাতে শিক্ষার গুণগত মান বজায় থাকে। বর্তমানে দেশের বিপুল সংখ্যক কওমি শিক্ষার্থী মূল স্রোতের বাইরে। তাই মূল ধারায় আনা জরুরি। বাংলাদেশে কওমি মাদ্রাসাগুলো আল-হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত হয়। সবচেয়ে বড় বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া (বেফাক)। এছাড়া আরও পাঁচটি কওমি শিক্ষা বোর্ড আছে। নীতিমালায় ১০টি স্তরে জ্ঞান, দক্ষতা ও সক্ষমতার শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীরা সহজেই এক ধারা থেকে অন্য ধারায় যেতে পারবে। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী গুণগত মান নিশ্চিত এবং বাস্তবায়নের নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষা বলতে এমন একটি শিক্ষা ধারা বোঝানো হয়েছে, যা ইসলামি শিক্ষা ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে, শরিয়াহভিত্তিক পাঠক্রম অনুসারে পরিচালিত হয়।