রাজশাহীর পুঠিয়ায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কলাগাছ লাগিয়ে এবং শিক্ষকদের কার্যালয়ে তালা দিয়ে আলোচনায় এসেছেন স্কুলটির ম্যানেজিং কমিটির এক দাতা সদস্য। একই সঙ্গে বাঁশের বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বিদ্যালয়ের প্রধান ফটক। পুত্রবধূকে চাকরি না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের অভিযোগে তিনি এ কাজ করেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে প্রধান শিক্ষকের দাবি, ওই পুত্রবধূকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুলে। শনিবার (৩ অক্টোবর) সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দাতা সদস্য আজাদ আলী লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষকদের কার্যালয়ের তালার ওপর আরেকটি তালা দেন। পরে প্রধান ফটকে বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন এবং স্কুল মাঠে কলাগাছ লাগান। যেভাবে শুরু হয় বিরোধ জানা গেছে, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘মুক্তিযোদ্ধা টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’ নামে যাত্রা শুরু করে। প্রতিষ্ঠার সময় প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত পাঠদানের পরিকল্পনা থাকলেও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানের অনুমোদন পাওয়া যায়নি। ফলে প্রাথমিক পর্যায়েই পাঠদান চলছিল। পরবর্তীতে ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রতিষ্ঠানটির নাম পরিবর্তনের জন্য চিঠি দেওয়া হয়। এরপর ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রতিষ্ঠানটির নতুন নাম ‘ভালুকগাছি মুক্তিযোদ্ধা স্কুল’ রাখা হয়। সভার রেজুলেশনে উল্লেখ রয়েছে, দাতা সদস্য আজাদ আলী নিজেই এ নাম প্রস্তাব করেছিলেন। ২০২৪ সালের ১১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটি নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদানের অনুমতি পায়। তবে এখনো প্রতিষ্ঠানটি এমপিওভুক্ত হয়নি। বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায়ের পাশাপাশি ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে পাঠদান চলছে। দাতা সদস্যের অভিযোগ দাতা সদস্য আজাদ আলী বলেন, তিনি প্রতিষ্ঠানের জন্য জমি দান করেছিলেন। সেখানে টেকনিক্যাল কলেজ করার পাশাপাশি তার ছেলে ও ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু টেকনিক্যাল কলেজ করা হয়নি এবং তার ছেলের বউকেও চাকরি দেওয়া হয়নি। এ কারণেই তিনি স্কুলে তালা দিয়েছেন এবং মাঠে কলাগাছ লাগিয়েছেন বলে জানান। প্রধান শিক্ষকের বক্তব্য তবে আজাদ আলীর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম রেজা। তিনি বলেন, দাতা সদস্য নিঃশর্তভাবে প্রতিষ্ঠানকে জমি দান করেছিলেন। ৩০০ টাকার স্ট্যাম্পে অঙ্গীকারনামা দিয়ে প্রতিষ্ঠানিক কার্যক্রম চালুর জন্য জমি দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষক বলেন, স্থাপনা নির্মাণের পর প্রতিষ্ঠানের নামে জমি রেজিস্ট্রি করার সময় আজাদ আলী ভোকেশনাল শাখায় তার ছেলে এবং কলেজ শাখায় ছেলের বউকে চাকরি দেওয়ার দাবি করেন। কমিটি তার দাবিতে সম্মতি দিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করে নেয়। তিনি আরও বলেন, কলেজ শাখা আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে দেরি হওয়ায় আজাদ আলীর ছেলের বউকে প্রাথমিক শাখায় সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরিরত অবস্থায় ২০২২ সালে তিনি মারা যান। পরে আজাদ আলী তার ছেলের দ্বিতীয় বিয়ে দেওয়ার পর নতুন স্ত্রীকে মাধ্যমিক শাখায় কেরানি পদে নিয়োগ দেওয়ার দাবি করেন। কমিটি তাতেও সম্মতি দেয় এবং এ বিষয়ে রেজুলেশনও রয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানান, এর প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর আদালতে মামলা করেন আজাদ আলী। মামলায় তিনি দাবি করেন, যে নামে প্রতিষ্ঠান করার জন্য জমি দিয়েছিলেন, সেই নামে প্রতিষ্ঠান করা হয়নি। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। ‘শিক্ষার্থী থাকলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে পারবেন না’ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে পুঠিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিয়াকত সালমান বলেন, বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি চালু রাখার ব্যবস্থা করা হবে। তিনি বলেন, ‘পেছনে যে ঘটনাই থাকুক, শিক্ষার্থী থাকলে সেই প্রতিষ্ঠান কেউ বন্ধ করতে পারবেন না।’
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য চলতি সময়ে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে একাধিক নিয়োগের সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ব্যাংক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এসব নিয়োগ চলছে। এসব নিয়োগে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষক পদে জনবল নেওয়া হবে। পদভেদে এসএসসি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীরা আবেদন করতে পারবেন। অধিকাংশ নিয়োগের আবেদন শেষ হবে অক্টোবর মাসে। চাকরিপ্রার্থীদের সুবিধার জন্য উল্লেখযোগ্য নিয়োগগুলোর তথ্য তুলে ধরা হলো— ১. প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর — ৫৩৮ পদ আবেদনের শেষ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১২টা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে সিমেন ক্যারিয়ার ও অফিস সহায়ক পদে মোট ৫৩৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সিমেন ক্যারিয়ার পদে ৩২ জন এবং অফিস সহায়ক পদে ৫০৬ জন নেওয়া হবে। উভয় পদেই এসএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩২ বছরের মধ্যে হতে হবে। ২. বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট — ৩০১ পদ আবেদনের শেষ: ১১ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে ৩৪ পদে মোট ৩০১ কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হবে। ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের এসব পদের মধ্যে রয়েছে গ্রন্থাগারিক, বৈজ্ঞানিক সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী, গাড়িচালক, ল্যাবরেটরি অ্যাটেনডেন্ট, অফিস সহায়ক ও নিরাপত্তাপ্রহরী। ৩. বাংলাদেশ ব্যাংক — ২২০ কর্মকর্তা আবেদনের শেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট বাংলাদেশ ব্যাংকে ৬ষ্ঠ, ৯ম ও ১০ম গ্রেডে ১৭ পদে মোট ২২০ কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হবে। সহকারী প্রকৌশলী, উপসহকারী প্রকৌশলী, সিনিয়র অফিসার, আর্থিক বিশ্লেষক, আইন কর্মকর্তা, নিরীক্ষা কর্মকর্তা ও প্রটোকল কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। ৪. জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় — ১০৮ পদ আবেদনের শেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৯টি পদে মোট ১০৮ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। সহকারী কম্পট্রোলার, সহকারী প্রকৌশলী, মেডিক্যাল অফিসার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ল্যাবরেটরি সহকারী, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার টাইপিস্ট, ড্রাইভার, ল্যাব অ্যাটেনডেন্ট ও অফিস সহায়কসহ বিভিন্ন পদ রয়েছে। অনলাইনে আবেদন শেষ করার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদনপত্রের হার্ডকপি ১৯ অক্টোবরের মধ্যে জমা দিতে হবে। ৫. বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড — ২১ পদ আবেদনের শেষ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬ বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের বরিশাল বিভাগের যুগ্মপরিচালকের কার্যালয়ে তিন পদে ২১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। এর মধ্যে সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা চারজন, হিসাব সহকারী চারজন এবং মাঠসংগঠক পদে ১৩ জন নেওয়া হবে। পদভেদে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি প্রয়োজন। ১৯ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর হতে হবে। ৬. বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ — ৯ পদ আবেদনের শেষ: ২২ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষে অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, স্টোর অফিসার, অ্যাস্টিমেটর/সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার, অ্যাকাউন্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ও ড্রাফটসম্যান পদে মোট ৯ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। পদভেদে বেতন স্কেল ৯ম থেকে ১৫তম গ্রেড। ৭. নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় — ৩৫ পদ আবেদনের শেষ: ২৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে তিন পদে ৩৫ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। সাঁট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পাঁচজন, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ১২ জন এবং অফিস সহায়ক পদে ১৮ জন নেওয়া হবে। ৮. কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট — ৩৭ পদ আবেদনের শেষ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, ময়মনসিংহে ছয় পদে ৩৭ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। কম্পিউটার অপারেটর, উচ্চমান সহকারী, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক, সিপাই ও অফিস সহায়ক পদ রয়েছে। পদভেদে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। ৯. শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় — ১৫ পদ আবেদনের শেষ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪টা শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে হিসাবরক্ষক, সাঁট-মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ও অফিস সহায়ক পদে ১৫ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। বেতন গ্রেড ১২ থেকে ২০। পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় — ১০ শিক্ষক আবেদনের শেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। আইন, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, মনোবিজ্ঞান এবং নিউট্রিশন অ্যান্ড ফুড সায়েন্সসহ বিভিন্ন বিষয়ে এসব পদ রয়েছে। ১১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় — ৮ শিক্ষক আবেদনের শেষ: ১২ ও ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি এবং নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে মোট আটজন নিয়োগ দেওয়া হবে। ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের আবেদনের শেষ সময় ১২ অক্টোবর এবং নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮ অক্টোবর। ১২. বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় — ১৪ শিক্ষক আবেদনের শেষ: ১২ অক্টোবর ২০২৬ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে সহযোগী অধ্যাপক, সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে মোট ১৪ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা, উদ্ভিদবিজ্ঞান, রসায়ন, ইতিহাস, মার্কেটিং, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, গণিত, লোকপ্রশাসন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিভাগে এসব নিয়োগ দেওয়া হবে। ১৩. বাংলাদেশ পুলিশ — ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আবেদনের শেষ: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট বাংলাদেশ পুলিশের ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টার, মাদারীপুরে একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর নিয়োগ দেওয়া হবে। উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পাস এবং কম্পিউটার চালনায় দক্ষ প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। তবে আবেদনকারীকে মাদারীপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। ১৪. ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউট — অফিস সহায়ক আবেদনের শেষ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬ ন্যাশনাল মেরিটাইম ইনস্টিটিউটে ২০তম গ্রেডে একজন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়া হবে। এসএসসি বা সমমান পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। আবেদন ফি ২০০ টাকা। ডাকযোগে বা সরাসরি আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। ১৫. এমআরএ — ১১ পদ আবেদনের শেষ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫টা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটিতে (এমআরএ) রাজস্ব খাতভুক্ত সাত পদে মোট ১১ জন নিয়োগ দেওয়া হবে। প্রোগ্রামার, মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, সহকারী মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার, উপসহকারী পরিচালক, অফিস সহকারী-কাম-ডাটা এন্ট্রি অপারেটর, ডাটা এন্ট্রি অপারেটর ও অফিস সহায়ক পদ রয়েছে। পদভেদে এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পাস প্রার্থীরা আবেদন করতে পারবেন। কিছু পদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞতা ও ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার শর্ত রয়েছে। চাকরিপ্রার্থীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে শিক্ষাগত যোগ্যতা, বয়স, আবেদন পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করে আবেদন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটে (বিএআরআই) ৩৪ পদে ২৮৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। স্থায়ী রাজস্বখাতভুক্ত ও অস্থায়ীভাবে রাজস্বখাতে সৃজন করা এসব শূন্য পদে বাংলাদেশের প্রকৃত নাগরিকদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। বিএআরআইয়ের প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, আগামী ২১ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা থেকে আবেদন শুরু হবে। আবেদন করা যাবে ১১ অক্টোবর বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কোন পদে কত নিয়োগ নিয়োগের ৩৪টি পদের মধ্যে রয়েছে—গ্রন্থাগারিক ১, উপ-সহকারী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) ১, এস্টিমেটর ১, ফোরম্যান ১, বৈজ্ঞানিক সহকারী ৭৮, কম্পিউটার অপারেটর ৪, কম্পাউন্ডার (ফার্মাসিস্ট) ১, টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট) ১, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক ২২, অফিস সহকারী-কাম-হিসাব রক্ষক ৮, অফিস সহকারী ২, স্টোর কিপার-কাম-অফিস সহকারী ৪, ভান্ডার রক্ষক ৬, পরিসংখ্যান সহকারী ২, ইলেকট্রিশিয়ান ১, মেকানিক ৩, বুলডোজার ড্রাইভার ১, গাড়িচালক ২৫, ট্রাক্টর ড্রাইভার ৫, টিলার ড্রাইভার ৭, পাওয়ার টিলার ড্রাইভার ২, পাম্প অপারেটর ২, পেইন্টার ১, ম্যাশন ১, প্লাম্বার ১, ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট ২৬, প্রিপেয়ারার ১১, লাইব্রেরি এটেনডেন্ট ১, সহকারী বাবুর্চি ১, ব্লুম এটেনডেন্ট ২, হ্যামারম্যান ১, ট্রাক্টর মেট ৮, অফিস সহায়ক ২৮ এবং নিরাপত্তা প্রহরী ২৮ জন। পদভেদে বেতন স্কেল ৮,২৫০ টাকা থেকে ৩৮,৬৪০ টাকা পর্যন্ত। নিয়োগ হবে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে। শিক্ষাগত যোগ্যতা পদভেদে শিক্ষাগত যোগ্যতা ভিন্ন। গ্রন্থাগারিক পদে গ্রন্থাগার বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) অথবা স্নাতক ডিগ্রির সঙ্গে গ্রন্থাগার বিজ্ঞানে ডিপ্লোমা থাকতে হবে। বৈজ্ঞানিক সহকারী পদে কৃষি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা চাওয়া হয়েছে। কম্পিউটার অপারেটর পদে বিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। পাশাপাশি বাংলায় প্রতি মিনিটে ২৫ এবং ইংরেজিতে ৩০ শব্দ টাইপিং গতি থাকতে হবে। অন্যদিকে, অফিস সহকারী-কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিকসহ কয়েকটি পদে এইচএসসি ব
এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ কর্মপ্রত্যাশী যুবক-যুব নারীদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ দেবে সরকার। দেশের ৬৪ জেলার শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের জন্য দেশের ৬৪ জেলার আগ্রহী যুবক ও যুব নারীদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করেছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ‘দেশের ৬৪ জেলায় শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশী যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি (১ম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ পরিচালনা করছে ই-লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড। প্রশিক্ষণের সময় ও মেয়াদ আগামী ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে মোট ৬০০ ঘণ্টার ক্লাস থাকবে। যেসব সুবিধা পাবেন প্রশিক্ষণার্থীরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা। এগুলো হলো— প্রতিদিন ২০০ টাকা হারে যাতায়াত ভাতা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ চলাকালে প্রতিদিন সকালের নাশতা, দুপুরের খাবার ও বিকালের নাশতা দেওয়া হবে। প্রশিক্ষণ শেষে সফলভাবে উত্তীর্ণদের সনদপত্র দেওয়া হবে। আবেদনের যোগ্যতা ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণে আবেদন করতে প্রার্থীকে অবশ্যই— এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। আবেদন যেভাবে আগ্রহী প্রার্থীদের অনলাইনে নির্ধারিত ফরম পূরণের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। আবেদন করার পর সফলভাবে দাখিল করা আবেদনের কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ অনলাইনে আবেদনের শেষ সময়: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট। লিখিত পরীক্ষা: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬। মৌখিক পরীক্ষা: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার স্থান এবং সময়সূচি বৈধ আবেদনকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে জানানো হবে। একইভাবে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদেরও এসএমএসের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। বিশেষ নির্দেশনা বৈধ আবেদনকারীদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার তারিখ ও সময় জানানো হবে। এসএমএসে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে।
জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর। প্রতিষ্ঠানটির ‘বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা’ ও ‘বৈজ্ঞানিক সহকারী’ পদে মোট ৬ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। গত ২ সেপ্টেম্বর থেকে আবেদন শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। পদের বিবরণ পদের নাম: বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পদসংখ্যা: ১টি বেতন: সাকল্যে ৫০ হাজার টাকা। যোগ্যতা: কৃষি বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক বা সমমানের ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের সব পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অন্তত দুই বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পদের নাম: বৈজ্ঞানিক সহকারী পদসংখ্যা: ৫টি বেতন: সাকল্যে ২৮ হাজার টাকা। যোগ্যতা: এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কৃষিতে অন্যূন তিন বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা ডিগ্রি থাকতে হবে। শিক্ষাজীবনের সব পর্যায়ে দ্বিতীয় শ্রেণি থাকতে হবে। সংশ্লিষ্ট কাজে ন্যূনতম এক বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। অন্যান্য শর্ত চাকরির ধরন পূর্ণকালীন ও অস্থায়ী। নারী-পুরুষ উভয় প্রার্থীই আবেদন করতে পারবেন। ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রার্থীর বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর হতে হবে। যেভাবে আবেদন আগ্রহী প্রার্থীদের সাদা কাগজে লিখিত আবেদনপত্র নির্ধারিত ঠিকানায় সরাসরি অথবা ডাকযোগে পাঠাতে হবে। আবেদনপত্র পাঠাতে হবে— ‘মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), গাজীপুর-১৭০১’ বরাবর। আবেদনের শেষ সময় ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। আবেদনপদ্ধতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও অন্যান্য বিস্তারিত তথ্য নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগে স্থায়ীভাবে একজন অধ্যাপক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ পদে বাংলাদেশের নাগরিকদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে আবেদন করতে হবে। পদের বিবরণ প্রতিষ্ঠান: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগ: ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট পদ: অধ্যাপক পদসংখ্যা: ১টি চাকরির ধরন: স্থায়ী কর্মস্থল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বেতন: ৫৬ হাজার ৫০০ থেকে ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা বেতন স্কেল: জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ আবেদনের শেষ তারিখ: ২ নভেম্বর ২০২৬ আবেদনের মাধ্যম: ডাকযোগে অথবা সরাসরি যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অধ্যাপক পদে আবেদনকারীকে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশিষ্ট পণ্ডিত হতে হবে। উচ্চতর শিক্ষাগত যোগ্যতার পাশাপাশি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পিএইচডি থাকতে হবে। প্রার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে কমপক্ষে ১২ বছরের শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি ইনডেক্সড/ডিওআই (ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার) সম্বলিত মানসম্পন্ন জার্নালে অন্তত ১২টি গবেষণা প্রকাশনা থাকতে হবে। প্রার্থীর গুগল স্কলার, লিংকডইন ও অরসিআইডি (ORCID) আইডি থাকতে হবে। প্রিডেটরি জার্নালে প্রকাশিত কোনো গবেষণাপত্র গ্রহণযোগ্য হবে না। যেভাবে আবেদন করতে হবে আগ্রহী প্রার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের দফতর থেকে নির্ধারিত আবেদন ফরম সংগ্রহ করে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে রেজিস্ট্রারের অনুকূলে ১ হাজার টাকা মূল্যের পে-অর্ডার অথবা ব্যাংক ড্রাফট জমা দিতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে সার্টিফিকেট, প্রশংসাপত্র, মার্কশিট/গ্রেডশিট এবং অভিজ্ঞতার প্রমাণপত্রের সত্যায়িত কপি সংযুক্ত করতে হবে। মোট ১১ কপি আবেদনপত্র জমা দিতে হবে। চাকরিরত প্রার্থীদের যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। এ ছাড়া নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত অন্যান্য শর্ত প্রযোজ্য হবে। আবেদনপত্র আগামী ২ নভেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে রেজিস্ট্রার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর কাছে পৌঁছাতে হবে। বিজ্ঞপ্তি নম্বর: পিএফ-২৫৫-৭৯৬/২৬ (৪০৩) সূত্র: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি।
সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে দুই হাজার ৩০৯টি পদ থাকলেও নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী। অর্থাৎ, ৫০২টি পদ ফাঁকা রয়ে গেছে। এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। পিএসসি জানায়, বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি ক্যাডারে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় এসব পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে। কিছু পদে মনোনয়ন দেওয়ার মতো উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এ ধরনের পদ ফাঁকা রাখার পরিস্থিতি পরবর্তী বিসিএসে পূরণ করা হবে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় প্রতি পদে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ করা না হওয়ায় শেষপর্যায়ে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। ফলে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীরা হতাশ হয়েছেন। তাদের মতে, পিএসসি একদিকে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার কাট মার্কস নির্ধারণের ক্ষেত্রে খুব কঠোর, অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় পদ ফাঁকা রেখে থাকে। পরীক্ষা ও ফলাফলের বিবরণ: ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ২,৩০৯টি ক্যাডার পদ থাকলেও তিন লাখ ৪৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১৯ মে, যেখানে অংশ নেন ২,৬৮,১১৯ জন। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন ১২,৭৮৯ জন। লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি। প্রিলি উত্তীর্ণদের মধ্যে মাত্র ৬,৫৫৮ জন লিখিতে পাস করেন। মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয় ৮ জুলাই থেকে এবং কয়েক ধাপে নিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। পিএসসি সূত্র জানায়, প্রতিটি বিসিএসে কিছু পদ ফাঁকা থাকে, বিশেষত কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে। তবে এবার ফাঁকা পদ সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে ৫০২। উদাহরণস্বরূপ, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ৪৪০টি পদ ফাঁকা রয়ে গেছে, যেখানে মাত্র এক বা দুইজন যোগ্য প্রার্থী পাওয়া গেছে। পূর্ববর্তী বিসিএসে ফাঁকা পদ কম ছিল। ৪০তম বিসিএসে ২,২১৯ পদের মধ্যে ২৫৬টি ফাঁকা ছিল। ৪১তম বিসিএসে ২,৫৩৬ পদের মধ্যে ১৬টি ফাঁকা। ৪৩তম বিসিএসে ২,২১৮ পদের মধ্যে ৫৫টি ফাঁকা। ৪৪তম বিসিএসে ১,৭১০ পদের মধ্যে ৩৪টি ফাঁকা। তুলনামূলকভাবে ৪৫তম বিসিএসে ফাঁকা পদ সংখ্যা সবকটি শেষ পাঁচটির মধ্যে সর্বোচ্চ। পিএসসি জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ফাঁকা পদ কমানোর চেষ্টা করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থী থাকলে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিমত: চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় শূন্যপদের তুলনায় কম প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তারা দাবি করছেন, প্রতিটি শূন্যপদের জন্য প্রিলিতে অন্তত ১০ জনকে উত্তীর্ণ করা উচিত এবং লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৫-১০ জনকে রাখা উচিত। এতে করে মৌখিক পরীক্ষায় প্রতিটি পদ পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা একাধিক বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তবু পিএসসির কঠোর বাছাই ও ফাঁকা পদ তাদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতিকে কার্যত নষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, “প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। অথচ ২,৩০৯টি পদ পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এটি অন্যায্য এবং অমানবিক। পিএসসিকে অবশ্যই পদ ফাঁকা রাখার পথ পরিহার করতে হবে এবং যথাযথ পদ পূরণের উপায় বের করতে হবে।” পিএসসি জানায়, ফাঁকা থাকা পদগুলো পরবর্তী বিসিএসে পূরণ করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।
“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি. আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন। মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল প্রকাশের তারিখ এবং মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সময়সূচি ঘোষণা করেছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড। বুধবার বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের নির্বাচনী পরীক্ষার ফল আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। এরপর মূল পরীক্ষার ফরম পূরণ শুরু হবে ১ মার্চ থেকে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা–এর অধিভুক্ত সব উচ্চমাধ্যমিক প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের চিঠি পাঠানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ফরম পূরণের বিস্তারিত সময়সূচি ও পূর্ণাঙ্গ নির্দেশনা যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে। বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) বায়োটেকনোলজি বিভাগের পাঠ্যক্রম কমিটিতে সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার ড. মো. নূর জাহিদ। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প ও বাস্তব কর্মক্ষেত্রের সংযোগ আরও কার্যকর করার ধারাবাহিকতায় তাঁকে এই কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে, শিল্প ও পেশাগত ক্ষেত্রের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে বিভাগের পাঠ্যক্রমকে আরও আধুনিক, যুগোপযোগী ও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিটিতে ড. মো. নূর জাহিদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন শিক্ষক বা বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাকেও সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে। কমিটির মূল লক্ষ্য হলো বিভাগের পাঠ্যক্রমের মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় মতামত ও পরামর্শ প্রদান করা। এদিকে, পাঠ্যক্রম কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ায় ড. নূর জাহিদকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বায়োটেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. হুমায়রা হক। পৃথক এক চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ড. জাহিদের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও মূল্যবান পরামর্শ বিভাগের পাঠ্যক্রমের আধুনিকায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতে এই কমিটির কার্যক্রমে তাঁর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামতের মাধ্যমে বিভাগের শিক্ষার মান আরও সমৃদ্ধ হবে বলেও চিঠিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। উল্লেখ্য, ড. মো. নূর জাহিদ বর্তমানে জায়ান্ট এগ্রো প্রসেসিং লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি, বীজ, বায়োটেকনোলজি, কৃষি ইনপুট এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ ও সমৃদ্ধ পেশাগত অভিজ্ঞতা রয়েছে। শিক্ষাবিদ ও শিল্পখাতের এমন অভিজ্ঞ পেশাজীবীর সমন্বয়ে পাঠ্যক্রম কমিটি গঠনের এই উদ্যোগটি শিক্ষার্থীদের বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে এবারও লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে। তবে লটারিভিত্তিক এই প্রক্রিয়ায় ভালো স্কুল পাওয়ার অনিশ্চয়তা ও বিভিন্ন কোটার কারণে অনেক অভিভাবকের মধ্যে প্রশ্ন ও শঙ্কা রয়ে গেছে। বিশেষ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ঘিরে আপত্তি আরও বেশি। ৬৩ শতাংশ আসন কোটা বণ্টনে প্রকাশিত নীতিমালা অনুযায়ী, মোট শূন্য আসনের ৬৩ শতাংশই বিভিন্ন কোটায় বরাদ্দ থাকবে। এর মধ্যে ক্যাচমেন্ট এরিয়া কোটা ৪০ শতাংশ, যা নিয়েই আপত্তি সবচেয়ে বেশি। ঢাকায় অস্থায়ীভাবে থাকা অনেক অভিভাবক মনে করেন, এই কোটা তাদের বঞ্চনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাউশির কর্মকর্তারা বলছেন, বিশৃঙ্খলা এবং দীর্ঘ ভোগান্তি এড়াতে ক্যাচমেন্ট কোটা রাখা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকার স্কুলে পড়ার সুযোগ পায়। প্রত্যয়নপত্রে ভোগান্তি ও জালিয়াতির অভিযোগ ক্যাচমেন্ট কোটার জন্য স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের প্রত্যয়নপত্র নিতে হয়। ভাড়াটিয়া পরিবারগুলোর জন্য এটি অনেক সময় কষ্টকর হয়ে ওঠে। মালিবাগের অভিভাবক করিম ইসলাম জানান, গত বছর তিনি ক্যাচমেন্ট কোটার কারণে ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, “অনেকেই আবেদন করার সময় সুবিধাজনক এলাকা দেখিয়ে ক্যাচমেন্ট সুবিধা নেয়। লটারিতে টিকে গেলে পরে টাকা দিয়ে প্রত্যয়নপত্র সংগ্রহ করে। এটা স্পষ্ট জালিয়াতি।” অন্যান্য কোটাগুলো নীতিমালা অনুযায়ী বাকি ২৩ শতাংশ কোটায় রয়েছে— মুক্তিযোদ্ধার সন্তান: ৫% শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তরগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তান: ১% সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী: ১০% বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী: ২% অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীর যমজ/সহোদর: ৫% এ ছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলকভাবে বরাদ্দ রাখতে হবে। অলিখিতভাবে আরও একটি কোটা রয়েছে— দূর থেকে বদলি হয়ে আসা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানদের জন্য প্রায় ৫ শতাংশ আসন সংরক্ষণ করা হয়। সরকারি স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীর সন্তানরাও কোটা সুবিধা পান। কোটা নিয়ে মতভেদ মাউশির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে বলেন, “শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীর সন্তানের জন্য রাখা কোটার প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। ক্যাচমেন্ট নিয়েও জালিয়াতির প্রমাণ রয়েছে। নিয়ম শক্তভাবে মানলে সমস্যা কমবে।” নীতিমালা পরিবর্তনে আলোচনা হতে পারে মাউশির মহাপরিচালক বি এম আব্দুল হান্নান সাংবাদিকদের বলেন, “মন্ত্রণালয়ের সভায় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এবারও লটারি হবে। ভবিষ্যতে যদি সংশ্লিষ্টরা আপত্তি তোলে, তাহলে মন্ত্রণালয় আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে।”