চাকরির খবর

৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফল: ৫০২টি পদ ফাঁকা, চাকরিপ্রার্থীদের ক্ষোভ ও হতাশা

সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) দীর্ঘ তিন বছরের অপেক্ষার পর ৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে দুই হাজার ৩০৯টি পদ থাকলেও নিয়োগের সুপারিশ পেয়েছেন মাত্র ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থী। অর্থাৎ, ৫০২টি পদ ফাঁকা রয়ে গেছে। এ নিয়ে চাকরিপ্রার্থীরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ। পিএসসি জানায়, বিভিন্ন পেশাগত ও কারিগরি ক্যাডারে যোগ্য প্রার্থী না থাকায় এসব পদ ফাঁকা রাখা হয়েছে। কিছু পদে মনোনয়ন দেওয়ার মতো উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এ ধরনের পদ ফাঁকা রাখার পরিস্থিতি পরবর্তী বিসিএসে পূরণ করা হবে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে। চাকরিপ্রার্থীরা অভিযোগ করছেন, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় প্রতি পদে পর্যাপ্ত সংখ্যক প্রার্থী উত্তীর্ণ করা না হওয়ায় শেষপর্যায়ে যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যায়নি। ফলে, দীর্ঘ সময় ধরে প্রস্তুতি নেওয়া প্রার্থীরা হতাশ হয়েছেন। তাদের মতে, পিএসসি একদিকে প্রিলি ও লিখিত পরীক্ষার কাট মার্কস নির্ধারণের ক্ষেত্রে খুব কঠোর, অন্যদিকে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় পদ ফাঁকা রেখে থাকে। পরীক্ষা ও ফলাফলের বিবরণ: ২০২২ সালের ৩০ নভেম্বর ৪৫তম বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়, যেখানে ২,৩০৯টি ক্যাডার পদ থাকলেও তিন লাখ ৪৬ হাজারের বেশি পরীক্ষার্থী আবেদন করেন। প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২০২৩ সালের ১৯ মে, যেখানে অংশ নেন ২,৬৮,১১৯ জন। প্রাথমিক বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হন ১২,৭৮৯ জন। লিখিত পরীক্ষা শুরু হয় ২০২৪ সালের ২৩ জানুয়ারি এবং শেষ হয় ৩১ জানুয়ারি। প্রিলি উত্তীর্ণদের মধ্যে মাত্র ৬,৫৫৮ জন লিখিতে পাস করেন। মৌখিক পরীক্ষা শুরু হয় ৮ জুলাই থেকে এবং কয়েক ধাপে নিয়ে অবশেষে চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। পিএসসি সূত্র জানায়, প্রতিটি বিসিএসে কিছু পদ ফাঁকা থাকে, বিশেষত কারিগরি ও পেশাগত ক্যাডারে। তবে এবার ফাঁকা পদ সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে ৫০২। উদাহরণস্বরূপ, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ৪৪০টি পদ ফাঁকা রয়ে গেছে, যেখানে মাত্র এক বা দুইজন যোগ্য প্রার্থী পাওয়া গেছে। পূর্ববর্তী বিসিএসে ফাঁকা পদ কম ছিল। ৪০তম বিসিএসে ২,২১৯ পদের মধ্যে ২৫৬টি ফাঁকা ছিল। ৪১তম বিসিএসে ২,৫৩৬ পদের মধ্যে ১৬টি ফাঁকা। ৪৩তম বিসিএসে ২,২১৮ পদের মধ্যে ৫৫টি ফাঁকা। ৪৪তম বিসিএসে ১,৭১০ পদের মধ্যে ৩৪টি ফাঁকা। তুলনামূলকভাবে ৪৫তম বিসিএসে ফাঁকা পদ সংখ্যা সবকটি শেষ পাঁচটির মধ্যে সর্বোচ্চ। পিএসসি জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের ফাঁকা পদ কমানোর চেষ্টা করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থী থাকলে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে। চাকরিপ্রার্থীদের অভিমত: চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় শূন্যপদের তুলনায় কম প্রার্থী উত্তীর্ণ হওয়ার কারণে মৌখিক পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তারা দাবি করছেন, প্রতিটি শূন্যপদের জন্য প্রিলিতে অন্তত ১০ জনকে উত্তীর্ণ করা উচিত এবং লিখিত পরীক্ষায় অন্তত ৫-১০ জনকে রাখা উচিত। এতে করে মৌখিক পরীক্ষায় প্রতিটি পদ পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন প্রার্থী জানিয়েছেন, তারা একাধিক বিসিএসের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তবু পিএসসির কঠোর বাছাই ও ফাঁকা পদ তাদের দীর্ঘ সময়ের প্রস্তুতিকে কার্যত নষ্ট করেছে। বিশেষজ্ঞদের মন্তব্য: বেসরকারি ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমিরেটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ বলেন, “প্রায় তিন লাখ পরীক্ষার্থী দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছে। অথচ ২,৩০৯টি পদ পূর্ণ করা সম্ভব হয়নি। এটি অন্যায্য এবং অমানবিক। পিএসসিকে অবশ্যই পদ ফাঁকা রাখার পথ পরিহার করতে হবে এবং যথাযথ পদ পূরণের উপায় বের করতে হবে।” পিএসসি জানায়, ফাঁকা থাকা পদগুলো পরবর্তী বিসিএসে পূরণ করা হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে এবং যোগ্য প্রার্থী নিয়োগের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।

Education Bangla নভেম্বর ২৭, ২০২৫ 0
সৰ্বাধিক পঠিত
বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি এবং কেন?

“বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্ধারণ করা সহজ নয়, কারণ সেরা হওয়ার মানদণ্ড একেকজনের কাছে একেক রকম হতে পারে—কেউ গবেষণা দেখে, কেউ শিক্ষকতার মান, কেউ চাকরির সুযোগ, কেউ আবার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। তবু আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়কে সবচেয়ে এগিয়ে রাখা হয়, তার মধ্যে শীর্ষে থাকে ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড (University of Oxford)। কেন অক্সফোর্ডকে বিশ্বের সেরা বলা হয়? সাম্প্রতিক Times Higher Education (THE) World University Rankings–এ অক্সফোর্ড ধারাবাহিকভাবে প্রথম স্থানে রয়েছে। একাধিক কারণে এটি বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা পায়— ১. গবেষণায় অতুলনীয় উৎকর্ষতা (Research Excellence) অক্সফোর্ড বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রতি বছর হাজার হাজার গবেষণা পেপার প্রকাশিত হয়, যেগুলোর অনেকই মানবসভ্যতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসাবিজ্ঞান. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, পরিবেশবিজ্ঞান, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, মানবিক শাস্ত্র—এসব ক্ষেত্রে অক্সফোর্ডের গবেষণা বিশ্বমানের বলে স্বীকৃত। গবেষণার জন্য অক্সফোর্ড যে পরিমাণ অর্থায়ন পায়, তাও অসাধারণ। বিশ্বব্যাপী গবেষণা সহযোগিতা তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে। ২. শিক্ষাদানের মান ও শিক্ষাকাঠামো (Teaching Quality) অক্সফোর্ডের শিক্ষাদান পদ্ধতি বিশেষভাবে বিখ্যাত— তাদের “টিউটোরিয়াল সিস্টেম” বিশ্বে অনন্য, যেখানে ছোট ছোট গ্রুপে বা এক-টু-ওয়ান শেখানো হয়। অত্যন্ত যোগ্য শিক্ষক ও গবেষকরা শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে গাইড করেন। শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে গবেষণার সুযোগ থাকে শুরু থেকেই। এ কারণে শিক্ষার্থীরা জ্ঞানের গভীরে যাওয়ার সুযোগ পায় এবং প্রতিটি ছাত্রকে আলাদা করে উন্নত হওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। ৩. আন্তর্জাতিকীকরণ, বৈচিত্র্য ও গ্লোবাল নেটওয়ার্ক (International Outlook) অক্সফোর্ডে বিশ্বের প্রায় সব দেশের শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে।  বিদেশি শিক্ষকের সংখ্যা বেশি.  আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা শক্তিশালী. বিশ্বসেরা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে যৌথ প্রকল্প এই বহুমাত্রিক আন্তর্জাতিক পরিবেশ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব, যোগাযোগ ও বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করে। উদ্ভাবন, শিল্প-সংযোগ ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা (Industry & Innovation) অক্সফোর্ডের গবেষণা শুধু বইয়েই সীমাবদ্ধ নয়— প্রতি বছর অসংখ্য পেটেন্ট , নতুন প্রযুক্তি নতুন ওষুধ স্টার্টআপ তৈরির মাধ্যমে বাস্তব জীবনে প্রভাব ফেলে বড় বড় শিল্প ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ডের গবেষকদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী থাকে। ৫. ঐতিহ্য, ইতিহাস ও মর্যাদা (Reputation & Legacy) অক্সফোর্ড বিশ্বের প্রাচীনতম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি (প্রায় ১,০০০ বছরের পুরোনো)। এই দীর্ঘ সময়জুড়ে এখান থেকে— প্রধানমন্ত্রী, নোবেল বিজয়ী, শীর্ষ গবেষক, বিশ্বনেতা, লেখক, চিন্তাবিদ- বেরিয়ে গেছে, যা এর বৈশ্বিক সুনামকে আরও শক্তিশালী করেছে। কেন “বিশ্বের সেরা” বলা কঠিন? কারণ— প্রত্যেকটি র‍্যাঙ্কিং সিস্টেম আলাদা মানদণ্ড ব্যবহার করে ছাত্রের ব্যক্তিগত চাহিদা ভিন্ন হতে পারে এক দেশে যে বিষয়ে সুযোগ বেশি, অন্য দেশে সেই বিষয়ের উন্নতি কম তাই নিজের বিষয়, লক্ষ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, স্কলারশিপ, আর্থিক অবস্থা—এসব বিবেচনা করেই “সেরা বিশ্ববিদ্যালয়” নির্বাচন করা উচিত।

প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তৃতীয় গ্রুপের ফল প্রকাশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা-২০২৩ এর ৩য় গ্রুপের ( ০৩ টি পার্বত্য জেলা ব্যতীত ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের ২১ টি জেলা) লিখিত পরীক্ষার ফলাফল আজ প্রকাশিত হয়েছে। পরীক্ষায় ২৩,০৫৭ (তেইশ হাজার সাতান্ন) জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ২৯ মার্চ ২০২৪ এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থী ছিলেন ৩ লাখ ৪৯ হাজার ২৯৩ জন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট www.mopme.gov.bd এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট www.dpe.gov.bd -তে ফলাফল পাওয়া যাবে। উত্তীর্ণ পরীক্ষার্থীরা মোবাইলেও মেসেজ পাবেন।  মৌখিক পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান পরবর্তীতে জানানো হবে।

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের পরিপত্র স্থগিত

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর) চলতি বছরের ৩০ নভেম্বরের মধ্যে নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন এবং ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বিলুপ্ত করার যে পরিপত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয় জারি করেছিল, তার কার্যক্রম স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগ থেকে গত ৮ সেপ্টেম্বর পরিপত্রটি জারি করা হয়। ওই পরিপত্রের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কাজী জিনাত হক ও বিচারপতি আইনুন নাহার সিদ্দিকার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ এই আদেশ দেন। আইনজীবীদের তথ্যমতে, নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা–২০২৪ এ চলতি বছরের ২৮ ও ৩১ আগস্ট সংশোধনী আনে ঢাকাসহ বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড। সংশোধনের মাধ্যমে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মনোনয়নসংক্রান্ত ১৩(১) বিধি এবং যোগ্যতাসংক্রান্ত ৬৪(৩) বিধি পরিবর্তন করা হয়। এই দুই বিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এমরান হোসেনসহ চারটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি গত রোববার রিট আবেদন করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফখরুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মো. মুজাহিদুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মুহাম্মদ আজমী। পরে আইনজীবী ফখরুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, দেশের নয়টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রায় ২০ হাজারের বেশি বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এই বোর্ডগুলো ম্যানেজিং কমিটি পরিচালনাসংক্রান্ত প্রবিধানমালায় সংশোধন আনে, যেখানে বলা হয়েছে— সরকারি, আধা সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নবম গ্রেডের নিচে নন এমন কর্মকর্তা এবং অবসরপ্রাপ্ত হলে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হতে পারবেন। অর্থাৎ বেসরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি শুধুমাত্র সরকারি বা আধা সরকারি কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। আগে যেখানে সভাপতি নির্বাচনের মাধ্যমে হতেন, সেখানে এখন এই যোগ্যতাসীমা আরোপ করা হয়েছে— যা আবেদনকারীদের মতে বৈষম্যমূলক। রিটে আদালতের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে, সংশোধিত ১৩(১) এবং ৬৪(৩) বিধি কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। হাইকোর্ট রুল জারি করে ৮ সেপ্টেম্বরের পরিপত্রের কার্যক্রম স্থগিত করেছেন। ফলে বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অ্যাডহক কমিটি আপাতত কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।  

শিক্ষাপঞ্জিতে ভিন্নতা—পূজার ছুটিতে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজে টানা বারো দিন, মাদরাসা-কারিগরিতে মাত্র চার দিন

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রকাশিত বার্ষিক শিক্ষাপঞ্জি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুর্গাপূজা উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে ছুটির দিনগুলোতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পূজার আমেজ শুরু হচ্ছে ২৬ সেপ্টেম্বর থেকেই। কারণ ওই দুই দিন (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) সাপ্তাহিক বন্ধের পর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে পূজার ছুটি কার্যকর হবে। একটানা ছুটি কাটিয়ে ৭ অক্টোবরের পর আবার নতুন উদ্যমে শুরু হবে ক্লাস। একইভাবে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কলেজগুলোতেও ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৭ অক্টোবর পর্যন্ত টানা বারো দিনের ছুটি মিলবে। ৮ অক্টোবর থেকে আবার গরমিল ছাড়া ক্লাস চলবে যথারীতি। অন্যদিকে, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থা ভিন্ন। শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দুর্গাপূজার জন্য ছুটি থাকবে মাত্র দুই দিন—১ ও ২ অক্টোবর। তবে এর সঙ্গে যোগ হবে ৩ ও ৪ অক্টোবরের সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে মোট ছুটি দাঁড়াবে চার দিনে। ৫ অক্টোবর থেকে পুরোদমে আবার চলবে পাঠদান। 👉 প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে ছুটি দীর্ঘায়িত হলেও মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তুলনামূলকভাবে সীমিত এই ছুটির মেয়াদ শিক্ষার্থীদের পাঠচর্চার ধারাবাহিকতায় রাখবে এক ধাপ এগিয়ে।

সরকারি কর্মকর্তার একচ্ছত্র বিধান স্থগিত করলেন হাইকোর্ট

বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে শুধু সরকারি কর্মকর্তা (নবম গ্রেডের নিচে নয়) বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (পঞ্চম গ্রেডের নিচে নয়) মনোনয়ন দেওয়ার বিধান সংবলিত প্রজ্ঞাপনের কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন যে, বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে কেবল সরকারি কর্মকর্তা বা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে মনোনয়নের এই বিধান কেন অসাংবিধানিক ও বেআইনি ঘোষণা করা হবে না। আদেশের দিন ও বেঞ্চ বুধবার (২২ অক্টোবর) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। রিটের কারণ ও আইনজীবীর বক্তব্য বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি পদে কেবল সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনয়নের এই বিধানকে চ্যালেঞ্জ করে অ্যাডভোকেট মোকছেদুর রহমান আবির রিটটি দায়ের করেন। রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। তিনি বলেন, বেসরকারি স্কুল-কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে শুধু সরকারি কর্মকর্তাদের মনোনয়নের বিধান বৈষম্যমূলক। এই যুক্তিতেই আদালত প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত করেছেন। প্রজ্ঞাপনের মূল বিষয়বস্তু গত সেপ্টেম্বরে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বেসরকারি স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি সরকারি চাকরিজীবী ছাড়া অন্য কেউ হতে পারবেন না। এই পদে নবম গ্রেড বা তার ওপরের পদে কর্মরত কিংবা পঞ্চম গ্রেড বা তার ওপরের পদে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারাই দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এছাড়া, সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সভাপতির প্রার্থীর ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক বা সমমান হতে হবে। সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সভাপতি হতে পারবেন। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে। আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয়ক খন্দোকার এহসানুল কবির জানান, বিদ্যমান নিয়মে সামান্য সংশোধন এনে শুধু সভাপতি পদটির জন্য এই পরিবর্তন আনা হয়েছিল।

Top week

ইউনিভার্সিটি অফ অক্সফোর্ড
উচ্চ শিক্ষা

বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয় কোনটি এবং কেন?

Education Bangla নভেম্বর ১৬, ২০২৫ 0

অনলাইন জরিপ

আগামী নির্বাচনে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন দল। আপনি কি মনে করেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকারে ব্যবস্থা করা উচিৎ?

×