ক্যামেরার ফ্রেমে আর মঞ্চের অভিনয়ে শেকৃবিতে সমতার জয়গান

সমাজ বদলের হাতিয়ার হতে পারে শিল্প—এই বার্তারই জোরালো প্রতিধ্বনি মিলল রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি)। লিঙ্গবৈষম্যের শেকল ভাঙার আহ্বান জানিয়ে রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় ভিডিওগ্রাফি প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী। ‘ম্যাজেন্ডা প্রজেক্ট’-এর এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে সহযোগী হিসেবে ছিল শেকৃবি ফটোগ্রাফিক সোসাইটি ও কিষাণ থিয়েটার।


এবারের আসরে অংশ নেয় দেশের ১০টি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৮টি প্রতিভাবান দল। লিঙ্গ সমতার ওপর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন ও চিন্তাজাগানিয়া ভিডিওগুলোর মধ্য থেকে সেরা ৩টি দলকে পুরস্কৃত করা হয়। ২৫ হাজার টাকার প্রথম পুরস্কারসহ মোট ৫০ হাজার টাকার অর্থ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় বিজয়ীদের হাতে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীরা পান যথাক্রমে ১৫ ও ১০ হাজার টাকা। পুরস্কার হাতে উচ্ছ্বসিত বিজয়ী প্রতিযোগী জারিফুল ইসলাম জিম বলেন, "সমাজের বদ্ধমূল ধারণাগুলোকে ক্যামেরার ফ্রেমে প্রশ্নবিদ্ধ করারই চেষ্টা ছিল আমাদের। এই স্বীকৃতি আমাদের ভবিষ্যৎ সৃজনশীল পথচলায় দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে।"


শিল্পের পাশাপাশি কথায় ও প্রশাসনিক পদক্ষেপেও ছিল সমতার স্পষ্ট অঙ্গীকার। শেকৃবি গবেষণা সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. এফ. এম. আমিনুজ্জামানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, "শিক্ষাঙ্গনসহ সমাজের সর্বত্র নারী বা পুরুষ পরিচয়ে নয়, সবাইকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে।" পাশাপাশি তিনি জানান, শেকৃবিতে সমতাভিত্তিক পরিবেশ নিশ্চিতে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি প্রশাসনিক ও একাডেমিক কমিটিতে নারী শিক্ষক-কর্মকর্তাদের উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে শেকৃবির ছাত্র পরিচালক অধ্যাপক আশাবুল হক প্রদর্শিত ২৭টি বাছাইকৃত ভিডিওচিত্রের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দর্শকদের স্মরণ করিয়ে দেন, সমাজের একটি হাত নিষ্ক্রিয় রেখে প্রগতির পথে হাঁটা অসম্ভব; সুন্দর সমাজ গড়তে দুই হাতকেই সমানভাবে কাজে লাগাতে হবে।


পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা শেষে সমকালীন সমাজচিত্র নির্ভর নাটক ‘বহ্নিশিখা’ মঞ্চস্থ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠন 'কিষাণ থিয়েটার'। নিজস্ব রচনা ও নির্দেশনার এই নাটকটি বিপুল সংখ্যক শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শকদের সমতার চেতনায় নতুন করে আলোড়িত করে।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেকৃবির রজতজয়ন্তী উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রজতজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর উড়িয়ে রজতজয়ন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।

কৃষি অনুষদের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি, আবাসিক হল ও বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা কৃষক-কৃষাণী, জেলে-জেলেনী ও পশু চিকিৎসকের সাজে অংশ নেন। নাচ-গানের মাধ্যমে তারা বাংলার কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়।

দিনের পরবর্তী আয়োজনে সকাল ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছরের অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা এবং শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ঐতিহ্য ও অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা শেকৃবির শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

গবেষণায় অবদানের স্বীকৃতি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক-গবেষক পেলেন সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ২ শতাংশ কিউ-ওয়ান জার্নালে গবেষণা প্রকাশের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘টপ শতাংশ ব্র্যাকইউ রিসার্চার’ সম্মাননা দেওয়া হয়।

গত ২৫ আগস্ট রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কোয়ালিটি জার্নাল পাবলিকেশন অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ‘প্রমোটিং রিসার্চ এক্সেলেন্স’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে টানা তৃতীয়বারের মতো এ পুরস্কার দেওয়া হলো।

এ বছর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের প্রকাশিত ২২৮টি কিউ-ওয়ান জার্নালের গবেষণাপত্র পুরস্কারের আওতায় এসেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৫টি। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে কিউ-ওয়ান জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ।

পুরস্কারের আওতায় আসা গবেষণাপত্রগুলোর মধ্যে ১২৪টি নিজ নিজ বিষয়ের বিশ্বব্যাপী শীর্ষ ১০ শতাংশ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ১০৪টি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে কিউ-ওয়ান শ্রেণির অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় জার্নালে।

গবেষণায় উঠে এসেছে সমসাময়িক নানা বিষয়

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষকদের এসব গবেষণায় অর্থনীতি, শিল্প, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এর মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের তুলনায় কেন বেশি সুদ নেয়, উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় কীভাবে কমানো যায়—এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গবেষণা রয়েছে।

অনুষ্ঠানে সেন্ট্রাল রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন অফিসের পরিচালক অধ্যাপক মলয় কান্তি মৃধা বলেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত ২১ হাজার ৯১৯টি গবেষণাপত্রের মধ্যে প্রায় ৪ দশমিক ১ শতাংশে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের অবদান রয়েছে।

স্কুল অব জেনারেল এডুকেশনের ডিন অধ্যাপক সামিয়া হক বলেন, তৈরি পোশাক খাত নিয়ে পরিচালিত গবেষণা মজুরি পর্যালোচনার উপযুক্ত সময় নির্ধারণে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি এ খাতে মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনায় কারা কাজ করেন, সে সম্পর্কেও গবেষণাটি গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সাদিয়া হামিদ কাজী বলেন, স্যামসাং আরঅ্যান্ডডি ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের অর্থায়নে ভিডিও প্রসেসিং গবেষণা প্রকল্প এবং ‘স্কিলস ফর ইন্ডাস্ট্রি কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড ইনোভেশন’ কর্মসূচির আওতায় আটটি উন্নত আইসি কোর্স পরিচালনার মাধ্যমে শিল্পখাত ও দেশের সক্ষমতা উন্নয়নে কাজ করছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়।

ব্র্যাক জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের ডিন ড. লরা জে রাইখেনবাখ বলেন, তাদের গবেষণার ফলাফল বর্তমানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অসংক্রামক রোগ পর্যবেক্ষণে ব্যবহার করছে। পাশাপাশি জাতীয় মডেল ফার্মেসি কার্যক্রম চালুতেও এসব গবেষণা ভূমিকা রাখছে।

গবেষণা ও পাঠদান একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. মাসুমা হাবিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণা ও পাঠদানকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। শিক্ষার্থীদের শুধু জ্ঞান অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে নতুন জ্ঞান তৈরির প্রক্রিয়াতেও সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, মানসম্মত গবেষণার মাধ্যমে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় অব্যাহতভাবে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখছে। গবেষণার এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ ফারহাত আনোয়ার বলেন, ‘আমরা অনেক সময় জ্ঞান ও গবেষণার জন্য বাইরের দিকে তাকাই। কিন্তু আমাদের কাছে ব্র্যাক রয়েছে, আর ব্র্যাকের রয়েছে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বিশাল ভাণ্ডার।’

গবেষণালব্ধ জ্ঞান আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে গবেষকদের মধ্যে সহযোগিতা ও সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড। সমাপনী বক্তব্য দেন রিসার্চ মেট্রিকস কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ কে এম আবদুল মালেক আজাদ।

এ সময় ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব ল্যাঙ্গুয়েজেসের উপদেষ্টা লেডি সৈয়দা সারওয়াত আবেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ইমেরিটাস এএফএম ইউসুফ হায়দার এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

এনএসটি ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিলে’, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগে প্রশ্ন

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি (এনএসটি) ফেলোশিপের আওতায় শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য পাওয়া অর্থের ১৫ শতাংশ ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের বিরুদ্ধে। ফেলোশিপের জন্য আবেদন করার সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ বিষয়ে অঙ্গীকারনামাও নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে বিভাগটির দাবি, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই এ অর্থ নেওয়া হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও গবেষণাসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজে ব্যয় করা হয়।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এনএসটি ফেলোশিপের আওতায় প্রতি বছর পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, অনুমোদিত স্নাতকোত্তর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউটের এমএস/এমএসসি, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। গবেষণার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন কাজে ব্যয়ের জন্য শিক্ষার্থীরা এ অর্থ পেয়ে থাকেন।

তিন বছরে ফেলোশিপ পেয়েছেন ৭২ শিক্ষার্থী

নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জবি অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১৯ জন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২৩ জন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০ জন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী এনএসটি ফেলোশিপ পেয়েছেন। তিন বছরে মোট ৭২ জন শিক্ষার্থী জনপ্রতি ৫৪ হাজার টাকা করে ফেলোশিপ পেয়েছেন। এতে মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৮ লাখ ৮৮ হাজার টাকা।

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৮ হাজার ১০০ টাকা করে বিভাগে জমা নেওয়া হয়েছে। সে হিসাবে তিন বছরে ৭২ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’-এর নামে নেওয়া অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ২০২৩-২৪ অর্থবছর থেকে ফেলোশিপপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ফেলোশিপের ১৫ শতাংশ বিভাগে জমা দেওয়ার নিয়ম চালু করা হয়েছে।

‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণেই ব্যয়’

বিভাগ-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা দাবি করেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে ‘কল্যাণ তহবিল’ বাবদ নেওয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে চিকিৎসা সহায়তা, ধর্মীয় উৎসব উদযাপন, খেলাধুলার আয়োজন, বিভিন্ন ব্যাচের অনুষ্ঠান ও শিক্ষা সফরসহ শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন খাত রয়েছে।

তবে গবেষণার জন্য বরাদ্দ অর্থের একটি অংশ অন্য খাতে নেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন ফেলোশিপ পাওয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় যে পরিমাণ অর্থ খরচ হয়, তার তুলনায় এই টাকা খুবই কম। তারপরও যদি গবেষণার জন্য পাওয়া টাকা বিভাগের ফান্ডে দিতে হয়, সেটি খুবই দুঃখজনক। গবেষণার টাকা কল্যাণ তহবিলে খরচ করলে বিভাগ গবেষণায় আরও পিছিয়ে পড়বে।’

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘গবেষণায় এমনিতেই দিন দিন শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এভাবে গবেষণার টাকা অন্য ফান্ডে ব্যয় করলে দেখা যাবে, শিক্ষার্থীরা আর এদিকে আগ্রহই দেখাবে না। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিজস্ব ফান্ড থেকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করা উচিত। গবেষণার জন্য পাওয়া ব্যক্তিগত অনুদানের টাকা কল্যাণ তহবিলে দেওয়া অযৌক্তিক।’

‘গবেষণার যন্ত্রপাতির খরচ মেটাতেও অর্থ লাগে’

শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিভাগের সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক। অঙ্গীকারনামা নেওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করে অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আরিফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের গবেষণায় বিভিন্ন রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়। এসবের ব্যয় অনেক বেশি হওয়ায় অনেক সময় বিভাগীয় বরাদ্দ দিয়ে তা সামাল দেওয়া সম্ভব হয় না।

তিনি বলেন, গবেষণার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহারে নষ্ট হলে সেগুলো মেরামত বা প্রতিস্থাপনেও বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায় না। এ কারণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ দিয়ে এসব ব্যয় মেটানো হয়।

বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক শামীমা বেগম বলেন, ‘ল্যাবের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে যে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়, তা দিয়ে সব খরচ মেটানো সম্ভব হয় না। ফেলোশিপ পাওয়া শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনেক সময় অন্য ল্যাবেও কাজ করাতে হয়, যেখানে খরচ অনেক বেশি। একটি জিনোম বিশ্লেষণ বা ডিএনএ পরীক্ষা করাতেই প্রায় ২৫ হাজার টাকা লাগে। এসব কাজে শিক্ষকেরাও অনেক সময় নিজেদের পকেট থেকে টাকা দেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কেন্দ্রীয় বরাদ্দে ল্যাবের খরচ মেটে না। শিক্ষার্থীদের দেওয়া টাকাটা কল্যাণ তহবিলে যোগ হয় এবং ওই অর্থ থেকে ব্যয় নির্বাহ করা হয়। আমিও প্রতি মাসে নিজের পকেট থেকে এ তহবিলে টাকা দিই।’

তবে একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে ফেলোশিপের অর্থ থেকে টাকা নেওয়ার এখতিয়ার বিভাগের আছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, বিভাগ কীভাবে পরিচালিত হবে, সেটি বিভাগের এখতিয়ার।

তাঁর দাবি, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ নেওয়ার ক্ষেত্রে কাউকে চাপ দেওয়া হয় না; বরং অনেকে স্বতঃস্ফূর্তভাবেই অর্থ দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে নেওয়া হয় না ফেলোশিপের অর্থ

এদিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকটি বিভাগ উদ্ভিদবিজ্ঞান থেকেও শিক্ষার্থীরা এনএসটি ফেলোশিপ পেয়ে থাকেন। তবে বিভাগটির চেয়ারম্যান কাজী নাহিদা বেগম জানিয়েছেন, ফেলোশিপের অর্থ থেকে বিভাগ কোনো অংশ নেয় না।

তিনি বলেন, ‘আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীরাও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ফেলোশিপ পেয়ে থাকে। তারা পুরো অর্থই গবেষণার কাজে ব্যয় করে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট তত্ত্বাবধায়ক শিক্ষকও গবেষণার বিভিন্ন ব্যয় বহন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমাদের বিভাগে আলাদা একটি তহবিল রয়েছে, যেখানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অর্থ দেন এবং সেই অর্থ আমরা আনুপাতিকভাবে প্রতি ব্যাচের জন্যই ব্যয় করি।’

ফলে গবেষণার জন্য নির্ধারিত ফেলোশিপের অর্থের একটি অংশ বিভাগীয় ‘কল্যাণ তহবিলে’ নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন উঠলেও অণুজীব বিজ্ঞান বিভাগের দাবি, অর্থটি শেষ পর্যন্ত শিক্ষার্থী ও গবেষণার প্রয়োজনেই ব্যয় করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার মারধর, প্রতিবাদে সেই নেতার রুম ভাঙচুর

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসাররী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান। এসময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।

রুমমানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, শরীফের দাবি—রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন
×