বর্ণাঢ্য আয়োজনে শেকৃবির রজতজয়ন্তী উদযাপন

উৎসবমুখর পরিবেশ ও নানা বর্ণাঢ্য কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) ২৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও রজতজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়।

সকাল ৯টায় জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।

এরপর উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ রঙিন বেলুন ও শান্তির প্রতীক সাদা কবুতর উড়িয়ে রজতজয়ন্তী উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তাঁর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা বের হয়।

কৃষি অনুষদের সামনে থেকে শুরু হওয়া শোভাযাত্রাটি প্রশাসনিক ভবন, টিএসসি, আবাসিক হল ও বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকরা অংশ নেন।

শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থীরা কৃষক-কৃষাণী, জেলে-জেলেনী ও পশু চিকিৎসকের সাজে অংশ নেন। নাচ-গানের মাধ্যমে তারা বাংলার কৃষি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয় উৎসবের আমেজ।

শোভাযাত্রা শেষে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে বৃক্ষরোপণ এবং পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অংশগ্রহণে কেক কাটা হয়।

দিনের পরবর্তী আয়োজনে সকাল ১১টায় প্রশাসনিক ভবনের কনফারেন্স কক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ বছরের অর্জন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, প্রত্যাশা এবং শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হকের ঐতিহ্য ও অবদান নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় বক্তারা শেকৃবির শিক্ষা, উচ্চতর গবেষণা ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মুহাম্মদ আবুল বাশার, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আরফান আলী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ইনস্টিটিউট ও সেন্টারের পরিচালক, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজে সংঘর্ষ: ৮ শিক্ষার্থী বহিষ্কার, ৫ জনকে সতর্ক

হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৮ শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও পাঁচ শিক্ষার্থীকে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাতে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জাবেদ জিল্লুল বারী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়, গত ১৯ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাস-১-এ শিক্ষার্থীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। তাদের মধ্যে কয়েকজন গুরুতর আহত হন। এক শিক্ষার্থীর একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদ ঢাকার জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরদিন, ২০ আগস্ট, কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের ২১তম জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি গত ২৭ আগস্ট তাদের প্রতিবেদন মেডিকেল কলেজের ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে জমা দেয়।

একই দিন ডিসিপ্লিনারি কমিটির সভায় তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে শনিবার বিকেলে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ২২তম সভায় ওই সুপারিশ অনুমোদন করা হয়।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, ৭ম ব্যাচের শিক্ষার্থী শরীফ উদ্দিন খানকে সাত বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই ব্যাচের রজব সানিকে চার বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

আশীষ চন্দ্র চন্দকে দুই বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ৮ম ব্যাচের আব্দুল্লাহ আবু আফফাজকে ১৮ মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মো. রায়হান আলী ও সাজ্জাদ ইসলাম সম্রাটকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ফারদিন রহমান ইফতিকে ছয় মাসের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে এবং আজীবনের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অন্যদিকে, মো. আকিব মাহমুদকে এক বছরের জন্য ছাত্রাবাস থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অফিস আদেশে আরও বলা হয়, ডি. এম. এ নাঈফ রাজা চৌধুরী, মো. আকিব মাহমুদ, মো. অরণ্য হাসান রিয়ন, মো. ইমতিয়াজ আলম ভূইয়া ও মাহমুদ খানকে মারামারির ইন্ধনদাতা হিসেবে সতর্ক করা হয়েছে।

ভবিষ্যতে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ।

তবে সরকারি মেডিকেল কলেজ পরিচালনা নীতিমালা অনুযায়ী, শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা আদেশ জারির তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে আপিল করতে পারবেন। আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে শাস্তি কমানো, বাড়ানো কিংবা পরিবর্তন করা হতে পারে বলেও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিল্লুল বারী গণমাধ্যমকে বলেন, গত ১৯ আগস্টের মারামারির ঘটনায় একজন শিক্ষার্থীর একটি চোখ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটি ডিসিপ্লিনারি কমিটির কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় দোষী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে একাডেমিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ২৯ আগস্ট থেকেই এসব শাস্তির আদেশ কার্যকর হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট রাতে হবিগঞ্জ শহরের অনন্তপুর আবাসিক এলাকায় অবস্থিত হবিগঞ্জ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত ১৫ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত শিক্ষার্থী শাহ তাফসির আহমেদের একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

নোবিপ্রবিতে ছাত্রদলের সংঘর্ষ, বহিরাগত তাণ্ডব ও সাংবাদিক হেনস্তা, রিপোর্ট রবিবার

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) ছাত্রদলের দুই পক্ষের সংঘর্ষ, সাংবাদিক হেনস্তা এবং বহিরাগতদের তাণ্ডবের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন আগামী রবিবার (৩০ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন।

তদন্ত কমিটি সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী, আহত শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে লিখিত বক্তব্যও গ্রহণ করেছে কমিটি।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পয়েন্টের সিসিটিভি ফুটেজ, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও সংগ্রহ করে সেগুলো পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণ যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এর আগে নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের স্বার্থে কমিটির সময় বাড়ানোর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের সময়সীমা ২৩ আগস্ট থেকে আরও তিন কার্যদিবস বাড়িয়ে ২৭ আগস্ট করা হয়। তবে বর্ধিত সময় শেষে আগামী রবিবার চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কমিটি।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীন বলেন, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি এবং প্রাপ্ত প্রমাণাদি যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। রবিবারেই প্রশাসনের কাছে সম্পূর্ণ তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ১৮ আগস্ট গভীর রাতে নোবিপ্রবির বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হলে সিট পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ওই দিন দুপুরে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হেনস্তার শিকার হন।

ঘটনার পরদিনই অধ্যাপক ড. মো. হাছান উদ্দীনকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবি শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিরসনে উপাচার্যের সাথে ছাত্রশিবিরের বৈঠক

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও ভোগান্তি নিরসনের দাবিতে মাননীয় উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার নেতারা।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যুসহ সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ে এই মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবিগুলো প্রশাসনের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়।

বৈঠকে ক্যাম্পাস ও হলগুলোতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়টি উপাচার্যের নিকট গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ফগার মেশিন ব্যবহার, মশা নিধন স্প্রে ছিটানো এবং মশক নিধনে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করার জোর আহ্বান জানান শিবির নেতারা।

এছাড়া, প্রশাসনিক অটোমেশনের আওতায় পরিচালিত পোস্টগ্র্যাজুয়েট এডমিশন অ্যান্ড অ্যাকাডেমিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে সার্ভার ও লিংকজনিত ত্রুটির কারণে শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তির বিষয়টি উপাচার্যের দৃষ্টিগোচর করা হয়। অনলাইন সিস্টেমটি দ্রুত সচল ও শিক্ষার্থীবান্ধব করার পাশাপাশি নিজ নিজ ডিভাইস থেকেই ফরম পূরণ ও এনরোলমেন্টের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। নেতারা জানান, এতে প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষার্থীদের অহেতুক যাতায়াত ও দাপ্তরিক জটিলতার দ্রুত অবসান ঘটবে।

নতুন এসব দাবির পাশাপাশি পূর্বে প্রদত্ত স্মারকলিপির কয়েকটি বিষয় নিয়েও উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা হয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের ক্লাসরুমগুলোকে আধুনিক ও শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশে সাজানোর বিষয়ে পুনরায় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ছাত্রশিবির।

শিক্ষার্থীদের এসব দাবি ও প্রশাসনের সাথে বৈঠকের বিষয়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, শেকৃবি শাখার সভাপতি মেহেদী হাসান নাইম বলেন, "সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং একটি আধুনিক শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস নিশ্চিত করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। বর্তমানে ক্যাম্পাসে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক সার্ভার জটিলতায় শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা বিষয়গুলো মাননীয় উপাচার্যের কাছে সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরেছি এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিনি এসব সমস্যা সমাধানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের যেকোনো যৌক্তিক দাবি ও প্রয়োজনে ছাত্রশিবির সর্বদা তাদের পাশে থাকবে।"

মন্তব্য করুন
×