মর্গের এক্সহস্ট ফ্যানের দূষিত বাতাস ঢুকছে একাডেমিক ভবনে, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

মর্গের দুর্গন্ধে শেকৃবিতে ক্লাসে বমি, স্বাস্থ্যঝুঁকিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বের হওয়া উৎকট দুর্গন্ধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) শিক্ষার পরিবেশ। তীব্র পচা গন্ধে ব্যাহত হচ্ছে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা। এমনকি দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে শ্রেণিকক্ষেই শিক্ষার্থীদের বমি করা ও অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটছে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গের এক্সহস্ট ফ্যান দিয়ে বের হওয়া দূষিত বাতাস সরাসরি রাস্তার অপর পাশে থাকা শেকৃবির একাডেমিক ভবন ও প্রধান ফটক এলাকায় প্রবেশ করছে। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মাহবুবুজ্জামান ভবনে ক্লাস ও পরীক্ষা করা তিনটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।

ভবনের শ্রেণিকক্ষগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক পরিবেশে ক্লাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় শ্রেণিকক্ষে অবস্থান করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন তারা।

দুর্ভোগের চিত্র দেখা গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকেও। সেখানে দায়িত্ব পালনকারী এক আনসার সদস্য মাস্ক পরে ডিউটি করছেন। তিনি বলেন, ‘পচা গন্ধে সার্বক্ষণিক দাঁড়িয়ে ডিউটি করা দুঃসাধ্য হয়ে উঠেছে।’

মাহবুবুজ্জামান ভবনের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পচা গন্ধে ক্লাসে টেকা যায় না। দুর্গন্ধ সহ্য করতে না পেরে অনেকে ক্লাসের মধ্যেই বমি করে দিয়েছে। এই বিষাক্ত বাতাসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে ক্লাস করা আমাদের ওপর শারীরিক নির্যাতনের শামিল।’

অসুস্থ হচ্ছেন শিক্ষকও

দুর্গন্ধের প্রভাব থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষক-কর্মকর্তারাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন বলেন, ‘মর্গের তীব্র গন্ধের কারণে মাহবুবুজ্জামান ভবনের ক্লাসরুমে অবস্থান করা যাচ্ছে না। আমি নিজেও এই গন্ধ সহ্য করতে না পেরে বমি করেছি। শিক্ষার্থীরাও প্রতিনিয়ত অসুস্থ হচ্ছে। জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে দ্রুততম সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের একটি কার্যকর সমাধান করা দরকার।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা

বিষয়টি নিয়ে শেকৃবি রেজিস্ট্রার মো. নজরুল ইসলাম জানান, সমস্যা সমাধানে তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমস্যাটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে।

‘মর্গ নির্মাণে শুরুতেই স্থাপত্যগত ভুল ছিল’

মর্গের অবকাঠামোগত ও নকশাগত ত্রুটির কথা স্বীকার করেছেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ (ভাইস প্রিন্সিপাল) ডা. সোলায়মান কবীর।

তিনি বলেন, ‘স্থাপত্যগত দিক থেকে শুরুতেই বড় ভুল ছিল। মর্গ কখনোই একদম রাস্তার ওপর হতে পারে না। তাছাড়া অবকাঠামোতেও কিছু ত্রুটি আছে। তবে দুর্ভোগ কমাতে আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দুর্গন্ধ নিয়ন্ত্রণে বিষাক্ত বাতাস পরিশোধনে বিশেষ কেমিক্যাল আনা হচ্ছে। এটি ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে আসবে।’

আশ্বাস নয়, স্থায়ী সমাধান চান শিক্ষার্থীরা

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক সমাধানের আশ্বাসে পুরোপুরি আশ্বস্ত নন শেকৃবির শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, সাময়িকভাবে দুর্গন্ধ কমানোর পরিবর্তে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান করতে হবে।

মর্গের বাতাস নির্গমনের ব্যবস্থা নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর অথবা আধুনিকায়নের মাধ্যমে শেকৃবি ক্যাম্পাসে দূষিত ও দুর্গন্ধযুক্ত বাতাস প্রবেশ বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য করুন

ইবিতে দুই শিক্ষার্থী আটক, অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের উদ্যোগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) দুই শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের একটি নির্জন এলাকা থেকে আটক করেছে স্থানীয়রা। পরে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তর করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বিয়েতে সম্মতি জানিয়েছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে তাদের বিয়ের ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পূর্ব পাশে মাদ্রাসা মসজিদসংলগ্ন একটি কাঁঠালবাগান থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে রাত ৯টার দিকে স্থানীয়রা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করেন।

জানা গেছে, আটক তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং তরুণী ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তরুণী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন একটি মেসে থাকেন।

পরে তাদের প্রক্টর অফিসে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের কথা জানান এবং বিয়েতে সম্মতি দেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) উভয় পক্ষের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে বিয়ের আয়োজন করার কথা রয়েছে।

আটক শিক্ষার্থীদের একজন বলেন, ‘গত সাত-আট মাস ধরে আমাদের সম্পর্ক। আমি ভুল করেছি। আমি তাকে ভালোবাসি এবং তাকে বিয়ে করতে রাজি আছি।’

স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই শিক্ষার্থী কয়েক মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন নির্জন স্থানে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। বিষয়টি লক্ষ্য করার পর শুক্রবার তাদের আটক করে নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ‘দুই শিক্ষার্থীকে প্রক্টর অফিসে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তারা বিষয়টি স্বীকার করেন এবং বিয়েতে সম্মতি জানান। তাদের বাবা-মাকে ডাকা হবে। এরপর বিয়ের ব্যবস্থা করা হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ওই ছাত্রী যে মেসে থাকেন, সেটির মালিককেও তলব করা হবে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাত সাড়ে ৮টার মধ্যে মেসগুলো বন্ধ রাখার কথা রয়েছে।’

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ৯৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স বিতরণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে লেভেল-৫, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্যাল বক্স ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যাবশ্যকীয় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির অ্যাগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের হাতে বক্স তুলে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "এই সার্জিক্যাল কিট বক্স গ্রহণের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বজুড়ে প্রাণিচিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে। এই অনুষদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুদৃষ্টি রয়েছে। আমরা ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছি। পাশাপাশি তোমাদের টিএ/ডিএ (TA/DA) দাবির প্রেক্ষিতেও একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় পাস হবে বলে আশা করছি। এটি পাস হলে তহবিলের অভাব দেখিয়ে কেউ আর তোমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।"

শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (যেমন- চাইনিজ বা জাপানিজ ভাষা) চালুর বিষয়ে কাজ করছি। এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী (লিডারশিপ) বিকাশ করা।"

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

মেয়েদের আসনে ছেলেরা, ‘মুক্তি’ বাসে নিয়ম মানা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য করুন

শেষ দিনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’, জাকসু ভবনে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা

 

দায়িত্ব পালনের শেষ দিনে দিনব্যাপী নানা আয়োজনে মুখর ছিল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) ভবন। উদ্যোক্তা মেলা, মেহেদি উৎসব ও ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখার আয়োজনের মধ্য দিয়ে দশম জাকসুর এক বছর মেয়াদি দায়িত্বের শেষ দিন উদযাপন করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত জাকসু ভবনে ‘শেষ বিকেলের উৎসব’ শীর্ষক এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের ভাষ্য, দায়িত্বের শেষ দিনটি স্মরণীয় করে রাখতেই এ আয়োজন।

উদ্যোক্তা মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি বিভিন্ন পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করেন। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য মেহেদি উৎসব এবং জাকসুর প্রতি নিজেদের অনুভূতি ও প্রত্যাশা জানাতে ‘জাকসুকে চিঠি’ লেখার আয়োজন রাখা হয়।

‘জাকসুর মাধ্যমে প্রশাসনের কাছে দাবি পৌঁছানো সহজ হয়েছে’

আয়োজন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনামূলক সাহিত্য বিভাগের ৫৩তম আবর্তনের শিক্ষার্থী তনিমা পাটোয়ারী বলেন, গত এক বছরে জাকসু রাজনৈতিক মতাদর্শের ঊর্ধ্বে গিয়ে সব শিক্ষার্থীর জন্য কাজ করার চেষ্টা করেছে। বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও প্রশ্নের মধ্যেও প্রশাসনের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়া আদায়ে তারা ভূমিকা রেখেছে।

তিনি বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা জাকসুর সদস্য ও সম্পাদকদের সহজে কাছে পেয়েছেন এবং তাঁদের মাধ্যমে বিভিন্ন সমস্যা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরতে পেরেছেন। জাকসু না থাকলে প্রশাসনের কাছে এভাবে পৌঁছানো অনেক কঠিন হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তনিমা আরও বলেন, দশম জাকসুর মেয়াদ শেষ হওয়ার পর একাদশ জাকসু নির্বাচনও দ্রুত আয়োজন করা উচিত।

‘ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়েছে’

জাকসুর কার্যকরী নারী সদস্য নাবিলা বিনতে হারুন বলেন, ২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৩ বছর পর জাকসু ভবনের তালা খোলে। এরপর এক বছর ধরে ভিপি-জিএসসহ প্রত্যেক সম্পাদক নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে কাজ করেছেন।

বিভিন্ন বাধা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করাই তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইশতেহারের অধিকাংশ প্রতিশ্রুতিই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তবে বাজেট ও প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু কাজ করা সম্ভব হয়নি।

শেষ দিনের আয়োজন সম্পর্কে নাবিলা বলেন, ‘শেষ বিকেলের উৎসব’-এ নারী প্রতিনিধিরা একসঙ্গে হয়েছেন। পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতেও আয়োজনটি করা হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের কোনো আশ্বাস এখনো পাওয়া যায়নি। তবে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে দ্রুত জাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে তিনি আশাবাদী।

জাকসুর দায়িত্বশীলরা জানান, শেষ দিনের এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটানোর পাশাপাশি এক বছরের কার্যক্রম ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

মন্তব্য করুন

অপ্রতিম হত্যায় উত্তাল কুবি, বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হারিয়ে শোক ও ক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর রোববার জানাজা ও দাফন শেষে হত্যার বিচার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় অবরোধ করেন।

এ সময় শিক্ষার্থীরা চার দফা দাবি জানান। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে শাস্তি নিশ্চিত করা, প্রশাসনের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে কুমিল্লার পুলিশ সুপার, আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) প্রত্যাহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় স্থায়ী পুলিশ ফাঁড়ি স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ। পাশাপাশি নিখোঁজ ব্যক্তিদের নিরাপত্তায় তাৎক্ষণিক রেসপন্স ইউনিট গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তারা।

রোববার সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বজন ও স্থানীয়রা অংশ নেন। জানাজার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম অপ্রতিম হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার এবং শিক্ষার্থী ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

জানাজা শেষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কোটবাড়ি বিশ্বরোডের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ ও ‘অপ্রতিমের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। পরে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফ ভূইয়া বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণই পুলিশ প্রশাসনের ব্যর্থতা। পুলিশ বলে, ক্লু পেয়েছি; কিন্তু কী ক্লু তারা পেয়েছে, সেটা আমরা জানি না। এই ব্যর্থতার দায় যতক্ষণ না তারা নেবে, আমরা ততক্ষণ রাস্তায় আছি।’

ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা আজ কেবল অপ্রতিমের জন্য এখানে আসিনি। কুমিল্লায় এমন ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে। আমরা অপ্রতিমের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

যেভাবে নিখোঁজ হয়েছিল অপ্রতিম

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ওই দিনই তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরে পরিবার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তার সন্ধানে তল্লাশি চালান। নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের কাছের সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

দাফন সম্পন্ন, পরিবারের আহাজারি

প্রথম জানাজার পর গন্ধমতি ঈদগাহে অপ্রতিমের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বাসার পাশের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

দাফনের আগে অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘আমার আর নতুন করে কিছু বলার নেই। আমি কেবল আমার সন্তান হত্যার উপযুক্ত বিচার দেখতে চাই। আমার মাত্র ১৩ বছর বয়সী নিষ্পাপ ছেলেটা কোনো অপরাধ করেনি। তবে কেন তাকে এভাবে প্রাণ দিতে হলো? এই মুহূর্তে আমি শুধু ঘাতকদের কঠোর বিচার চাই।’

অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম বলেন, ‘ও-ই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। আজ ঘরে ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই। আমরা কীভাবে এই শূন্যতা মেনে নেব, জানি না।’

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুবি ক্যাম্পাসে শোকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

মন্তব্য করুন

রাজশাহী রেলস্টেশনে রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ, প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের প্রধান গেট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

আহত শিক্ষার্থীর নাম আইয়ুব আলী। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার সময় রাজশাহী রেলস্টেশনে ইংরেজি বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে আইয়ুব আলী সেখানে এগিয়ে গেলে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডদের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আইয়ুবের বন্ধু নাইমুল ইসলাম অভ্র জানান, মারধরের একপর্যায়ে আইয়ুব মাটিতে পড়ে যান। পরে তার জ্ঞান ছিল না। কয়েকবার বমি করার পাশাপাশি তার নাক দিয়ে রক্তপাতও হয়।

ঘটনার প্রতিবাদে রাবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেললাইন অবরোধ করেন। পরে রাত সাড়ে ১১টার পর তারা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে লং মার্চ করেন।

আহত শিক্ষার্থীকে দেখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রেলের কর্মচারীরা শিক্ষার্থীকে মারধর করেছেন। তিনি জানান, আইয়ুবের চিকিৎসার বিষয়ে নিউরোসার্জনের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে এবং তাকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

উপাচার্য আরও বলেন, আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে রেলের নিরাপত্তারক্ষী, টিটি ও গার্ডসহ সংশ্লিষ্টদের আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে রেল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন
×