মেয়েদের আসনে ছেলেরা, ‘মুক্তি’ বাসে নিয়ম মানা নিয়ে ক্ষোভ

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

রাজধানীর সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য ব্যবহৃত ‘মুক্তি’ বাসে নির্ধারিত আসন ব্যবস্থার নিয়ম না মানার অভিযোগ উঠেছে একদল শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। বাসটির নিচতলা মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলা ছেলেদের জন্য নির্ধারিত থাকলেও নিয়ম উপেক্ষা করে নিচতলার আসনে ছেলেরা বসছেন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘মুক্তি’ বাসে নিচতলায় মেয়েদের এবং দ্বিতীয় তলায় ছেলেদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে অনেক সময় দ্বিতীয় তলায় আসন খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচতলায় বসে থাকেন। এমনকি তাদের নিয়ম মেনে ওপরের তলায় যেতে বললে উল্টো চিৎকার-চেঁচামেচি ও বিরূপ আচরণের অভিযোগও রয়েছে।

শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, আগে ‘মুক্তি’ বাসের এক চালক নিচতলায় ছেলেদের বসতে নিষেধ করতেন এবং কোনো ধরনের অনিয়ম হলে বাধা দিতেন। এ কারণে একটি পক্ষ ওই চালকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে সরিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।

রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইয়াছিন বলেন, ‘আমি নিয়মিত মুক্তি বাসে যাতায়াত না করলেও বাসটির নিয়ম সম্পর্কে জানি। স্পষ্টভাবে বলা আছে, মেয়েরা নিচতলায় এবং ছেলেরা ওপরের তলায় বসবে। কিন্তু একদিন বাসে উঠে দেখি কয়েকজন ছেলে নিচতলায় বসে মেয়েদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরে আমি সরাসরি দ্বিতীয় তলায় চলে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাসে থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানতে পারি, বিষয়টি প্রায়ই ঘটে। কেউ বাধা দিতে গেলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

কলেজের উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জান্নাত ইসলাম আনহা বলেন, ‘অনেক সময় দেখি ওপরের দিকে জায়গা খালি থাকা সত্ত্বেও কিছু ছেলে নিচে বসে থাকে। তাদের ওপরের দিকে যেতে বললে অনেক সময় তারা যায় না, বরং চিৎকার-চেঁচামেচি করে।’

তিনি বলেন, ‘বাসের পেছনের গেটের কাছেও অনেকে দাঁড়িয়ে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। পেছনের গেটে যেন দুইজনের বেশি না দাঁড়ান এবং নিচতলায় যেন কোনো ছেলে না থাকে—এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ একটু দেখলে সবার জন্য পরিবেশ আরও স্বস্তিদায়ক হবে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী জানান, একদিন বাসে উঠে তিনি দেখতে পান, দুই ছাত্রী ও এক ছাত্র পাশাপাশি বসেছেন। পরে ওই ছাত্রকে ওপরের তলায় চলে যেতে বললে তাকে ‘কোন ইয়ারে পড়েন’ ও ‘কোন বিভাগে পড়েন’—এমন প্রশ্ন করা হয়।

ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমি তাদের বলেছি, আমি কোন ইয়ারে বা কোন বিভাগে পড়ি, সেটি বিষয় নয়। বিষয় হলো বাসের নিয়ম মানতে হবে। কিন্তু তারা বিরক্তি প্রকাশ করায় আমি আর কথা বাড়াইনি।’

শিক্ষার্থীদের দাবি, বাসে নারী-পুরুষের জন্য আসন নির্ধারণ করা হয়ে থাকলে তা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে কলেজের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বাস কমিটির আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ বলেন, ‘আমি নতুন এসেছি এবং আমাকে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই বিষয়টি আমার জানা নেই। যে অভিযোগগুলো এসেছে, সেগুলো লিখিতভাবে দিতে হবে। অধ্যক্ষ ম্যাডামের কাছে অভিযোগপত্র দিয়ে আমাকে দিলে তাঁর সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

মন্তব্য করুন

‘মতের বৈচিত্র্যই গণতন্ত্রের প্রাণ’: পাবিপ্রবি উপাচার্য

গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমত, মতবিরোধ ও যুক্তিনির্ভর বিতর্কের মধ্যেই নিহিত বলে মন্তব্য করেছেন পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে ৩য় জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপাচার্য বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সমাজের জন্য বিতর্ক সংস্কৃতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সবাই একই কথা বলবে—এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য নয়। বরং ভিন্নমত, মতবিরোধ ও বিতর্ক থাকবে। তবে সেই মতবিরোধ প্রকাশের ভাষা হতে হবে যুক্তি, তথ্য, শালীনতা ও পারস্পরিক সম্মানের।’

বর্তমান সময়ে তথ্যের আধিক্যের কারণে বিতর্কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিদিন অসংখ্য তথ্য, মতামত ও দাবি মানুষের সামনে আসছে। কিন্তু সব তথ্য সত্য নয় এবং সব মতামতও যুক্তিনির্ভর নয়। তাই কোনো তথ্য গ্রহণের আগে তা যাচাই করা এবং যুক্তির মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা জরুরি।

তরুণদের মধ্যে বিতর্কের সংস্কৃতি গড়ে উঠলে তারা ভবিষ্যতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল নেতৃত্ব দিতে পারবে বলে মনে করেন অধ্যাপক শামীম। তিনি বলেন, বিতর্কের চর্চা শুধু মঞ্চে কথা বলার দক্ষতা তৈরি করে না; এটি যুক্তিবোধ, আত্মবিশ্বাস, বিশ্লেষণী ক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাচার্য বলেন, ‘শুধু জেতার জন্য বিতর্ক করো না, শেখার জন্য বিতর্ক করো। প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্য নয়, নিজের চিন্তাকে আরও সমৃদ্ধ করার জন্য বিতর্ক করো।’ তাঁর মতে, আজকের বিতর্কের মঞ্চই আগামী দিনের নেতৃত্ব তৈরির অনুশীলন ক্ষেত্র।

বিচারকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিতার্কিকরা কী বলেছে তার পাশাপাশি তারা কীভাবে চিন্তা করেছে, কীভাবে প্রমাণ ব্যবহার করেছে এবং প্রতিপক্ষের বক্তব্য কতটা বিশ্লেষণ করতে পেরেছে—মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এসব বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তিনি এমন বিতার্কিক তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন, যারা যুক্তিতে দৃঢ় হওয়ার পাশাপাশি ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও আচরণে বিনয়ী।

বিজ্ঞানমনস্কতা ও বিতর্ক সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, বিজ্ঞান যেমন প্রশ্ন করতে, প্রমাণ খুঁজতে এবং প্রচলিত ধারণা যাচাই করতে শেখায়, বিতর্কও একইভাবে যুক্তিনির্ভর চিন্তার বিকাশ ঘটায়। পাবিপ্রবি শুধু প্রযুক্তিবিদ বা পেশাজীবী নয়, যুক্তিবাদী, মানবিক, দায়িত্বশীল ও নেতৃত্বদানে সক্ষম মানুষ তৈরি করতে চায়।

দেশের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে সম্ভব নয় মন্তব্য করে তিনি বলেন, এমন মানুষও প্রয়োজন যারা প্রশ্ন করতে, সত্য অনুসন্ধান করতে, ভিন্নমতকে সম্মান করতে এবং নিজের বিবেক ও যুক্তির কাছে সৎ থাকতে জানে।

শিক্ষার্থীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজব ও উত্তেজনার পরিবর্তে তথ্য ও যুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গুজবকে নয়, তথ্যকে গুরুত্ব দেবে। ব্যক্তিগত আক্রমণকে নয়, বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতিযোগিতাকে গ্রহণ করবে।’

ক্যাম্পাসগুলোতে মতের সংঘাত যেন যুক্তির মাধ্যমে এবং প্রতিযোগিতা যেন মেধার মাধ্যমে হয়—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ ও শক্তিশালী বিতর্ক সংস্কৃতি গড়ে তোলা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান খান। আরও উপস্থিত ছিলেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির উপদেষ্টা ও ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. হাবিবুল্লাহ, মানবিক ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন এবং বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মীর হুমায়ুন কবির।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাস্ট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি আবদুর রউফ। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক মোবাশ্বিরা গালিবা তন্বী। এ সময় আয়োজক কমিটির সদস্য, শিক্ষক, বিচারকমণ্ডলীর সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুল থেকে আগত বিতার্কিক এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

শেকৃবিতে ৯৮ ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স বিতরণ

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন (এএসভিএম) অনুষদের ৯৮ জন শিক্ষার্থীকে সার্জিক্যাল ও অবস্টেট্রিক্যাল বক্স প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের তৃতীয় তলার কনফারেন্স রুমে সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের উদ্যোগে লেভেল-৫, সেমিস্টার-১ এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এই সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়।

‘সার্জিক্যাল অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্যাল বক্স ডিস্ট্রিবিউশন প্রোগ্রাম-২০২৬’ শীর্ষক এই আয়োজনের প্রথম পর্ব সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় পর্ব বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের যৌথ উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের হাতে অত্যাবশ্যকীয় এসব চিকিৎসা সরঞ্জাম তুলে দেওয়া হয়।

এএসভিএম অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. বেলাল হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আবুল বাশার এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসির অ্যাগ্রোভেট ডিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার মো. আরিফুজ্জামান। পুরো অনুষ্ঠানটি সমন্বয় করেন সার্জারি অ্যান্ড থেরিওজেনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মো. রাশেদুল ইসলাম।

শিক্ষার্থীদের হাতে বক্স তুলে দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, "এই সার্জিক্যাল কিট বক্স গ্রহণের মাধ্যমে তোমরা বিশ্বজুড়ে প্রাণিচিকিৎসার জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলে। এই অনুষদের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিশেষ সুদৃষ্টি রয়েছে। আমরা ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের জন্য নতুন নীতিমালা চালু করেছি। পাশাপাশি তোমাদের টিএ/ডিএ (TA/DA) দাবির প্রেক্ষিতেও একটি নীতিমালা করা হয়েছে, যা আসন্ন সিন্ডিকেট সভায় পাস হবে বলে আশা করছি। এটি পাস হলে তহবিলের অভাব দেখিয়ে কেউ আর তোমাদের এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।"

শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে উপাচার্য আরও বলেন, "বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে আমরা একটি থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার (যেমন- চাইনিজ বা জাপানিজ ভাষা) চালুর বিষয়ে কাজ করছি। এর উদ্দেশ্য হলো আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের আন্তর্জাতিক মানের করে তৈরি করা এবং তাদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলী (লিডারশিপ) বিকাশ করা।"

প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম হাতে পেয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস ও সন্তোষ প্রকাশ করেন।

মন্তব্য করুন

রাজনীতি নিষিদ্ধ কুবিতে ছাত্রদলের কর্মশালা, প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকার পরও প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এ কর্মশালা আয়োজন করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভাতেও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।

এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।

ছাত্রদলের কর্মশালায় যা আলোচনা

শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দীন।

এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র‍্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা গেছে।

‘মৌখিকভাবে সবার অনুমতি নিয়েছিলাম’

কর্মশালার আয়োজনের বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, ‘প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। মৌখিকভাবে সবার কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব, সেটা তো সবাই জানে।’

তিনি বলেন, ‘মাদক ও র‍্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে, না আছে, সেটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে—সচেতন শিক্ষার্থীরা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।’

মোস্তাফিজুর রহমান শুভ আরও বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তখনই আমরা তা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছিলাম। আমরা একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি। এটা শুধু আমাদের নয়, সবারই করা উচিত।’

অনুমতির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে আমরা পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, সেই প্রশাসনের একটি নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সঙ্গেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি। আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে তিনি সবার জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন এবং সকলের সহাবস্থানের একটি ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন।’

‘এটা একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল’

রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, ‘এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।’

একই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, ‘আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, প্র্যাকটিক্যালি চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই প্রোগ্রামে মাদক ও র‍্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।’

‘প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না’

কর্মশালার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি, এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। তিনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।’

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

মন্তব্য করুন

জুনিয়র শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল নেতার মারধর, প্রতিবাদে সেই নেতার রুম ভাঙচুর

লিফটে ওঠার সময় সিনিয়র শিক্ষার্থীকে ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ সম্বোধন করাকে কেন্দ্র করে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের মাঝে দফায় দফায় কথা-কাটাকাটি ও মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার জেরে ছাত্রদল নেতাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হাতাহাতি, হেনস্তা ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে; এমনকি একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে এক ছাত্রদল নেতাকে ধাওয়া বা দৌড়ানি খাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিজয়-২৪ হলে ঘটনার সূত্রপাত ঘটে এবং রাতে শেরেবাংলা হলের সামনে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে বিজয়-২৪ হলের লিফটে ওঠার সময় ২৩ ব্যাচের রাতুল হাসান রুম্মান নামে এক শিক্ষার্থী ২১ ব্যাচের শরীফকে ‘হেই ব্রো, লিফটটি ধরেন’ বলে ডাকেন। সিনিয়রের পরিচয় না দিয়ে ‘ব্রো’ বলায় শরীফ তার ওপর ক্ষিপ্ত হন এবং লিফটে উঠতে বাধা দেন। পরবর্তীতে তা রুম্মান ও শরীফের মধ্যে হাতাহাতিতে রুপ নেয়।

তথ্যসুত্রে জানা যায়,রুম্মান ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের অনুসাররী। ঘটনার একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং শরীফের সাথে সংঘর্ষ এ জড়ান। এসময় শরীফকে মারধরের ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে শরীফের সহপাঠীরা এসে ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে জিবরাইল শরীফকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাড়া করে। পরবর্তীতে শরীফের সহপাঠীরা ছাত্রদল নেতা জিবরাইল শরীফের রুমে গিয়ে ভাংচুর করে।

রুমমানের দাবি, দুপুরে ক্লাস শেষে ক্লান্ত থাকায় তিনি ‘ভাই’ না বলে ‘ব্রো’ বলেছিলেন, যা নিয়ে তাকে বকাঝকা ও মারধর করা হয়।

অন্যদিকে, শরীফের দাবি—রাতে শেরেবাংলা হলের ক্যান্টিনের সামনে রুম্মানসহ কয়েকজন তার পথরোধ করে হামলা চালায়। আত্মরক্ষা করতে গিয়ে রুম্মানের কপাল কেটে যায়।

শরীফ অভিযোগ করেন, ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ ১৫-২০ জনকে সঙ্গে নিয়ে এসে তার কলার ধরে হলের বাইরে নিয়ে যান, গালাগালি করেন এবং ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়া, পুলিশে দেওয়া ও মামলার হুমকি দেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদল নেতা জিব্রাইল শরীফ বলেন, “হলের ভেতরে হইচই শুনে গিয়ে দেখি আমার ছোট ভাইয়ের সঙ্গে সিনিয়রের সমস্যা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য গেস্টরুমে বসতে চাইলে অনিমেশ রায় নামে ২১ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী অন্যদের খবর দেয়। পরে তারা এসে কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতিতে জড়ায়।”

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী জানান, “প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি ব্যাচভিত্তিক ঝামেলা। আমরা বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি। বুধবার সব পক্ষকে নিয়ে বসে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মন্তব্য করুন

ইবিতে ছাত্রদল-শিবিরের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই নেতার মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসের শান্তি-শৃঙ্খলা ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চার দফা সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রক্টোরিয়াল বডি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, উপাচার্যের নির্দেশে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে ঘটে যাওয়া ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সেলিমকে আহ্বায়ক করে কমিটিতে সদস্য করা হয়েছে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. কাজী মোস্তফা আরীফ এবং ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে।

কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার তদন্ত শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

চার দফা সিদ্ধান্ত

ঘটনার পর অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে জরুরি ভিত্তিতে চার দফা সিদ্ধান্ত নেয় প্রক্টোরিয়াল বডি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সব ছাত্র সংগঠনের সহাবস্থান নিশ্চিত করা এবং হলগুলোতে বিভাগভিত্তিক মেধার ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সিট নিশ্চিত করার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যেভাবে উত্তেজনা ছড়ায়

এর আগে শনিবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে শহিদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমানের বিরুদ্ধে হল শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় মারার অভিযোগ ওঠে।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ও প্রক্টোরিয়াল বডির সদস্যরা আলীনুর রহমানকে উদ্ধার করে প্রক্টর অফিসে নিয়ে যান।

এরপর শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক অবরোধ করে শিবিরবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। দীর্ঘ সময় অবস্থান কর্মসূচির পর ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়কে নেতাকর্মীদের নিয়ে শোডাউনও করেন তারা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ক্যাম্পাসে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। একপর্যায়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়।

মন্তব্য করুন

জাবির উপ-উপাচার্যের বিরুদ্ধে ছাত্র ইউনিয়নের প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ, ৩ দফা দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অসংগতি ও জবাবদিহির ঘাটতির অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ।

এসব অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠনসহ তিন দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। বুধবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাদিয়া ইমরোজ ইলার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব অভিযোগ ও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন মাস পূর্ণ হওয়ার আগেই অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে বলে দাবি সংগঠনটির।

৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফের অভিযোগ

ছাত্র ইউনিয়নের অভিযোগ, সম্প্রতি একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ক্যাম্পেইন আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি প্রশাসনিক ক্ষমতা ব্যবহার করে মওকুফ করা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাঠপর্যায়ের দায়িত্বশীলরা দাবি করেন, ওই অর্থ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাগারে জমা না হয়ে সরাসরি এক ছাত্রনেত্রীর হাতে দেওয়া হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, ভেন্যু ফি মওকুফের অনুমোদন দেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার উপাচার্যের।

এ বিষয়ে উপ-উপাচার্যের বক্তব্যও বিজ্ঞপ্তিতে তুলে ধরেছে ছাত্র ইউনিয়ন। সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি বলেছেন, ‘কোম্পানি লিখিত অভিযোগ দিলে টাকা আদায় করা হবে।’

তবে ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ আদায় ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের। ফলে এ ধরনের বক্তব্য প্রশাসনিক জবাবদিহির ঘাটতির ইঙ্গিত দেয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

পদোন্নতির রেজুলেশনে অনিয়মের অভিযোগ

এ ছাড়া পদোন্নতি বোর্ডের সুপারিশ ছাড়াই একজন কর্মচারীর নাম চূড়ান্ত রেজুলেশনে যুক্ত করার চেষ্টার অভিযোগও তুলেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে সংগঠনটি জানায়, সংশ্লিষ্ট রেজুলেশনে প্রথম স্বাক্ষর করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)। পরে বোর্ডের এক সদস্য বিষয়টিতে অসঙ্গতি শনাক্ত করে আপত্তি জানালে তা সংশোধন করা হয়।

ছাত্র ইউনিয়নের দাবি, ঘটনাটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রচলিত নিয়ম, নীতিমালা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রশাসনে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের অভিযোগ

বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র ইউনিয়ন আরও দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামোয় নিয়ম ও নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সংগঠনটির মতে, প্রাতিষ্ঠানিক নীতিমালার পরিবর্তে ব্যক্তিগত বিবেচনা প্রাধান্য পেলে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।

উপ-উপাচার্য (প্রশাসন)-এর সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে অনিয়মের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছে সংগঠনটি।

তিন দফা দাবি

অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, জাবি সংসদ। দাবিগুলো হলো—

১. বাণিজ্যিক ক্যাম্পেইনের ৬০ হাজার টাকা ভেন্যু ফি মওকুফ ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তদন্তে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিটি গঠন।

২. পদোন্নতি বোর্ডের রেজুলেশন পরিবর্তনের অভিযোগে জড়িত প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।

৩. তদন্ত চলাকালে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা।

সংগঠনটি জানিয়েছে, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার দাবিতে তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। প্রশাসনিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা যত প্রভাবশালীই হোন না কেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার দাবিও অব্যাহত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন
×